আমেনা আসলো রহিম মিয়ার হইয়া নতুন বউ,
আলতা পায়ে, মুখে হাসি, আনন্দের ঢেউ।
বিয়ার বাশি থামতে না’ই, মাস গেলো ছয় গুনি,
রহিম কইলো, “যাই বিদেশ, অভাবে দুই আনি।”
আমেনা রয় শশুর বাড়ি, ঘোমটা দিয়া মুখে,
চাইল মাপায়, চুলা ঠ্যালায়, কাইন্দা মরে দুখে।
মন যে তার পইড়া আছে বাপের বাড়ির পানে,
‘নাইওর’ যাইবো কবে সে-ই? আল্লা-তালায় জানে।
কবে আবার বাপের বাড়ি যাইবো আমেনা?
মা’য়ের কাছে কইবো কথা, মন যে মানেনা।
দিন আসে দিন ফুরায় আমেনার ‘নাইওর’ যাওয়ার আশা,
শুকনা মুখে, কাইন্দা কাইন্দা তার বুকখান ভাসা।
আর সে রহিম, দূর মুলুকে, ঘামে ভিজায় গা,
টাকা কামায়, মাটির লাগি পরান যারে যা।
দেশ মানেই আমেনা তার, দেশ মানেই ঘর,
রহিমের ও ‘নাইওর’ লাগে, বুকটা থরথর।
আমেনা চায় বাপের বাড়ি, রহিম যে চায় দেশ,
দুই জনারই ‘নাইওর’ চাওয়া, দুঃখ নাহি শেষ।
এক নাইওরের আশা বাঁচে আমেনার ওই চোখে,
আরেক নাইওর রহিম মিয়া, পরবাসী ওই বুকে।
আমেনা লেখে, “কবে আসবা?” কাগজ কইরা কালা,
রহিম লেখে, “টাকা গুছাই, বুকে বড় জ্বালা।”
দুইটা ‘নাইওর’ আটকা পড়া টাকার সুতার ফাঁসে,
এক আমেনা, আরেক রহিম, পরান কাইন্দা ভাসে।
লিংকন, নিউইয়র্ক
১৫ই নভেম্বর, ২০২৫ ইং




