Tag: কবিতা

  • নাইওর

    নাইওর

    আমেনা আসলো রহিম মিয়ার হইয়া নতুন বউ,
    আলতা পায়ে, মুখে হাসি, আনন্দের ঢেউ।
    বিয়ার বাশি থামতে না’ই, মাস গেলো ছয় গুনি,
    রহিম কইলো, “যাই বিদেশ, অভাবে দুই আনি।”
    আমেনা রয় শশুর বাড়ি, ঘোমটা দিয়া মুখে,
    চাইল মাপায়, চুলা ঠ্যালায়, কাইন্দা মরে দুখে।
    মন যে তার পইড়া আছে বাপের বাড়ির পানে,
    ‘নাইওর’ যাইবো কবে সে-ই? আল্লা-তালায় জানে।
    কবে আবার বাপের বাড়ি যাইবো আমেনা?
    মা’য়ের কাছে কইবো কথা, মন যে মানেনা।
    দিন আসে দিন ফুরায় আমেনার ‘নাইওর’ যাওয়ার আশা,
    শুকনা মুখে, কাইন্দা কাইন্দা তার বুকখান ভাসা।

    আর সে রহিম, দূর মুলুকে, ঘামে ভিজায় গা,
    টাকা কামায়, মাটির লাগি পরান যারে যা।
    দেশ মানেই আমেনা তার, দেশ মানেই ঘর,
    রহিমের ও ‘নাইওর’ লাগে, বুকটা থরথর।
    আমেনা চায় বাপের বাড়ি, রহিম যে চায় দেশ,
    দুই জনারই ‘নাইওর’ চাওয়া, দুঃখ নাহি শেষ।
    এক নাইওরের আশা বাঁচে আমেনার ওই চোখে,
    আরেক নাইওর রহিম মিয়া, পরবাসী ওই বুকে।
    আমেনা লেখে, “কবে আসবা?” কাগজ কইরা কালা,
    রহিম লেখে, “টাকা গুছাই, বুকে বড় জ্বালা।”
    দুইটা ‘নাইওর’ আটকা পড়া টাকার সুতার ফাঁসে,
    এক আমেনা, আরেক রহিম, পরান কাইন্দা ভাসে।

    লিংকন, নিউইয়র্ক
    ১৫ই নভেম্বর, ২০২৫ ইং

  • মোনালিসা

    মোনালিসা

    ল্যুভরের পেট চিরে চুরি যাওয়া আলোয়,
    শত প্রহরার ফাঁক গলে চুরি গেলো মোনালিসা!
    আহা, মোনালিসা!
    আহা, সেই ভূবনমোহিনী হাসি;
    লিওর জাদু আঁকা এক অনন্ত বিস্ময়।

    চুরি আমার করারই ছিল।
    তমালিকাকে পড়াব বলে।
    তমালিকা, যে হাতের ছোঁয়ায় পৃথিবী দেখে।
    তার চোখের আলো চুরি গেছে জন্ম থেকে।

    সেদিন সন্ধ্যায় সে ফ্রেমে হাত বুলিয়ে বুঝছিল।
    খোদাই করা কাঠের শক্ত, শীতল সীমানা।
    বস্তুত তমার সন্ধ্যা রাত দিন সব সমান,
    বাতাসে শুঁকলো আদিম স্মৃতি;
    শত বছরের পুরোনো তেল আর বার্নিশের ঘ্রাণ।

    তার আঙুলের ডগা প্রথমে পথ খুঁজছিল সেই বিশাল, টানটান শূন্যতায়।
    শুধু চোখ বা চিবুক নয়, সে পড়ছিল রঙের প্রতিটি আস্তরণ,
    ব্রাশের প্রতিটি টানের শুকনো খাঁজ।
    ত্বকের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সময়ের সূক্ষ্ম ফাটল,
    যেন শুকিয়ে যাওয়া নদীর মানচিত্র।

    ​আমি তার ঠোঁটে সে রহস্যময় হাসির অপেক্ষারত।
    আপনিও আমার সাথে দেখুন।
    দেখুন, তমা, আঙুল ছুঁইয়ে মোনালিসা দেখছে।
    দেখছে কারণ তার আলো চুরি গেছে জন্ম থেকে।

    ভেবেছিলাম আমার অপরাধ সার্থক হবে,
    তমা লিসার হাসি বুঝে ঠোঁট মেলাবে।
    আমি দ্বিধায় পড়ব কার হাসি বেশি সুন্দর ভেবে।
    ​এই তো, এখনই সেটি হবে।

    তমার আঙুল পুরোনো তেলরঙের ফাটল ছুঁয়ে
    লিসার ঠোঁট বরাবর এগিয়ে নিল।
    এই তো, এই তো, আপনিও দেখুন আমার সাথে।

    হঠাৎ চাপা কান্না।
    চুরমার আমার ভাবনার আয়না।
    আপনিও কি দেখছেন?
    তমা বলল, “না, এ হাসি নয় স্পষ্ট।
    এ গুমোট চেপে আসা কান্না।
    কেন আমাকে দেখালে এই কষ্ট?”

    তমার ​চোখে জল ছিল না,
    কিন্তু কথায় ছিল তীব্র বেদনা।
    আমার চুরির মোনালিসা তমার আয়না;
    হাসি কই? সে তো কষ্ট ছাড়া কিছু দেয়না।
    আমি চেয়েছিলাম তাকে হাসি দিতে উপহার,
    আর দিলাম এক যন্ত্রণার অন্ধকার।

    লিংকন, নিউ ইয়র্ক
    ২ নভেম্বর, ২০২৫ ইং

  • কাঠ করাতে সম্মিলিত আসবাব অথবা কয়লা

    কাঠ করাতে সম্মিলিত আসবাব অথবা কয়লা

    আমার টেবিলে পড়ে আছে রাষ্ট্রের সেই যান্ত্রিক বিধান,
    প্রতিটি অক্ষরে তার— হিসাবী জিঘাংসা।
    আমি পড়ি উন্নয়নের আস্ফালন, শুনি যুক্তির বজ্রধ্বনি,
    আর দেখি পাহাড়ের বুকে নেমে আসা এক গানিতিক নিধান।
    তার চোখে বৃক্ষটি শুধু অনাবাদী কাঠ, এক আদিম ভুল,
    তাই লৌহ-ক্ষুধায় ছুটে আসে ইস্পাতের করাত।

    অথচ আমার কানে বাজে সেই নীরব আর্তনাদ,
    যে আর্তনাদ ঢেকে যায় স্বর্নলতার সবুজ চক্রান্তে।
    কী আশ্চর্য স্নেহের শোষণ তার!
    বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে বাড়িয়ে দেয় রেশমি শ্বাসরোধ।

    আমার কলমে জমে ওঠে সময়ের ধ্বংসস্তূপ,
    চোখের সামনে ভাসে হারানো দিনের উপাখ্যান।
    অথচ একদিন এই পাহাড় ছিল এক মহীরুহ,
    তার স্তব্ধ সমাধিতে ধ্যানমগ্ন ছিল অনাদি কাল।
    তারই ছায়ায় বেড়ে উঠেছিল লতা—সহাবস্থানের বিশ্বাসে,
    আর আঁধার নামলে উৎসব হতো আলোর—জোনাকিদের বিন্দু-বিপ্লবে।
    রাষ্ট্রের চোখে যা ছিল শুধু উদ্বৃত্ত ভূমি,
    আমাদের চোখে ছিল এক আত্মার স্থাপত্য।

    নিয়তি দাঁড়ানো এক বিদীর্ণ বিশ্বাসের মোড়ে।
    হয়তো করাতের নকশার ত্রাস জিতে যাবে,
    পাহাড়ের বুকে নেমে আসবে পাথুরে নৈঃশব্দ্য,
    আর পড়ে থাকবে শুধু স্মৃতির শবদেহ।

    অথবা,

    এই মখমলি মৃত্যু ঠেলে জেগে উঠবে বৃক্ষের অন্তিম প্রতিরোধ,
    মাটির গভীরে উচ্চারিত হবে তার শিকড়ের শপথ।
    আঁধারের বুকে তখনও জ্বলবে কোনো একাকী জোনাকির
    ফসফরাসের সাহস—এক আলোর বিদ্রোহ।

    আমার টেবিলে পড়ে থাকে খোলা খাতা,
    আর ইতিহাসের অশ্রু দিয়ে আমি শুধু লিখি
    এক বৃক্ষের জন্য লেখা অসমাপ্ত শোকগাথা।

    নিউইয়র্ক
    ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ইং

  • ফসিল

    ফসিল

    রূপের গুণ আর আগুনে জ্বালানো প্রেম,
    পাঁচ বছরে ফসিল হতে দেখেছি।
    প্রত্নতাত্ত্বিক সন্তানসন্ততি এসে বুক খুঁড়ে দেখার আগে
    বিশ্বাস হয়নি প্রেম মরে ভূত হয়ে গেছে
    সে চার বছর নয়শো নিরানব্বই দিনে।

    ইশ!

    প্রথম সুযোগে বিদেহী আত্মার চক্ষুদান
    ফরজ-এ-কেফায়া হিসেবে
    কোনো প্রেমান্ধকে দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল,
    যাতে জলে ডোবার আগে
    তলের খোঁজটা অন্তত সে পেতে পারে।

  • ভাঙা শৃঙ্গের গান

    ভাঙা শৃঙ্গের গান

    বিস্তীর্ণ প্রান্তর আজ বিজন, পর্যদুস্ত।
    আমার শৃঙ্গে লেগেছিল যেটুকু আকাশ, আজ ম্রিয়মাণ।
    পিঠে বসে আছে এক ধূর্ত ফসলভোগী,
    তার চোখেমুখে আমার জিগীষার অপমৃত্যু নিয়ে এক নির্লিপ্ত কৌতুক।
    পথের ধারের ডোবার জলে দেখি প্রতিবিম্ব—
    এক নিকষ আঁধারে ডুবে থাকা পরাজিত জন্তু;
    শৃঙ্গ আছে, স্পৃহা নেই।
    যে উন্মত্ততায় ভেঙেছিলাম শিকল,
    সেই শক্তি আজ তার হাতের লাগামে বন্দী এক ক্রীতদাস।

    অথচ কী এক ক্ষণপ্রভা জ্বলেছিল সেদিন!
    আদিম তাড়নায় ভেঙেছিলাম জীর্ণ দরজা।
    সামনে ছিল দুটি পথ—
    একদিকে অনিন্দ্য এক বাগানের রূপরেখা, অঙ্কুরোদ্গমের শান্ত মন্ত্র;
    আর অন্যদিকে এক আপাতরম্য হাতুড়ি, প্রলয়কাণ্ডের প্রতিজ্ঞা।
    আমি ধ্বংসের সেই কুহকেই ভুলেছিলাম নিজেকে,
    ভাবিনি ভাঙার শব্দ থামলেই নেমে আসে অনন্ত শূন্যতা।
    ভেবেছিলাম, গুঁড়িয়ে দিলেই সবকিছুর অবসান;
    বুঝিনি, শূন্য মস্তিষ্ক সয়তানের কারখানা।

    কিন্তু ভাঙা শৃঙ্গ দিয়েও মাটি চেনা যায়।
    রক্তাক্ত ক্ষুর দিয়েও আগাছা উপড়ানো যায়।
    আমি আর দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ষাঁড় নই, হব বনমালী।
    এই পর্যদুস্ত প্রান্তরেই করব প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর,
    অধ্যবসায় দিয়ে সিঞ্চন করব সময়ের বীজ,
    আর অসীম তিতিক্ষায় আগলে রাখব শেকড়ের কচি চারা।
    একদিন এইখানে মহীরুহ হবে, তার শাশ্বত ছায়ায়
    জন্ম নেবে নব কাকলী, আর উঠবে নতুন অংশুমালী।

    লিংকন, নিউইয়র্ক
    ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ইং

  • মিথষ্ক্রিয়া

    মিথষ্ক্রিয়া

    বিপাশা, তোমার একটি বিনিদ্র রাত আমাকে দাও।
    হোকনা একটি রাত গল্পে গল্পে ভোর।
    অথবা, তুমি চাইলে চুক্তি নবায়ন করতে পারি
    তোমার হাজার নির্ঘুম রজনীর..
    আমার সঞ্চয়ে আছে পথের গল্প,
    তোমার নামে লিখে দেবো।
    আজ থেকে শত বছর পরে,
    তুমি সঞ্চয় ভেঙে খেয়ো।

  • দৈনিকের আত্মকথা

    দৈনিকের আত্মকথা

    কালো অক্ষরেরা কথা বলে,
    কখনো অভয়, কখনো ঘাতকের ছলে,
    কখনো সাদা সত্যের বেশে,
    কখনো বা বেদনার নীলে মেশে,
    কখনো হলুদে মোড়া কুটিল ইশারা,
    সত্যেরা পথ খুঁজে দিশেহারা।

    বত্রিশ পৃষ্ঠার এক বিশাল ক্যানভাসে,
    কারো স্বপ্ন, কারো দীর্ঘশ্বাসে,
    সাজানো বাগানের গল্প ফোটে,
    জোড়া খুনের গন্ধে পাঠক ছোটে।
    ভালোবাসা আর মনোবিকলন,
    কখনো ছাপা হয় নীরব কথন।

    শব্দেরা প্রতিদিন লাশ হয় এখানে,
    ধর্ষিত হয়, অথবা হলুদ হয় কোন ইশারায়!
    ভাষা পাল্টায় এখানে আদালতের রায়!

    এখানে প্রথম পাতায় কারো জীবনী,
    রাজনীতিকের জবানবন্দী, অথবা সারমেয় ঘেউ ঘেউ,
    অথবা হত্যাকারীর সাজাপ্রাপ্ত আত্মহত্যাকারী কেউ!
    রাত ঘুম শেষে চাকাপ হাতে কারো মৌনতা।
    এটি একটি দৈনিকের আত্মকথা।

  • এ জার্নি বাই ট্রেন বা ভাগের কবিতা

    এক জানালা, দুই মানুষ, চার চোখ।
    আমরা ভাগাভাগি করে দেখছিলাম ট্রেনের জানালায়;
    কখনোবা সে, কখনো আমি,
    কিন্তু দুজন একসাথে কখনোই নয়।

    হয়তো হতে পারতো,
    একসাথে শেষ রাতে রুপালী চাঁদের
    তবক মোড়ানো পাহাড় দেখলাম,
    আবার সোনালী তবক দেওয়া সকাল,
    অথবা তুলোয় ফোলানো মেঘ, কিন্তু না!

    আমরা ভাগাভাগিতে ব্যস্ত থাকলাম,
    আর পরস্পরের চোখে উদাসীনতা;
    হয়তো তাকে বলা যেতো,
    এসো গান শুনি ভাগাভাগি করে;
    অথবা প্রশ্ন করতে পারতাম,
    আপনি কখনো কবিতা লিখেছেন, অথবা আপনাকে নিয়ে কেউ?

    এসব ভাবতে ভাবতে গন্তব্য চলে এলো,
    এবং সে বললো, “আপনার যাত্রা শুভ হোক।”
    প্রত্যুত্তরে হেসে বললাম, “আপনারও।”

    অথচ কল্পনায় আমরা একসাথে মেঘ বিছিয়ে,
    আলোর তবক দেওয়া আইসক্রীম খাচ্ছিলাম।

  • স্টারবাকসের সিনথিয়া পদ্মফুল দেখেনি

    স্টারবাকসের সিনথিয়া পদ্মফুল দেখেনি

    এই শহরের ব্যস্ত স্রোতে সকালটা ফিকে,
    স্টারবাকস ডেকে নিল তার উষ্ণতার দিকে।
    লাইনে দাঁড়ালাম, ভাবলাম নেব চায় লাতে,
    নেমপ্লেটে “সিনথিয়া” দেখে ভাবনা উঠল লাটে।
    সিনথিয়া টুকে নিচ্ছিল নাম, বললাম, “পদ্মফুল”,
    “Can you spell it?”— প্রশ্নে ভাঙলো আমার ধ্যান।
    হেসে বললাম, “You have to smell it!”
    “Sorry?”— তার মুখে ছিল অবাক হওয়ার ভান।

    বললাম, “You may write Lotus”, উত্তরে সে হাসে,
    “Funny name for a boy!”—লেখে কফি কাপের পাশে।
    সেই থেকে ‘লোটাস’ নামেই সে লিখে পরিচয়,
    সপ্তার পর সপ্তাহ চলে মিষ্টি অভিনয়।

    লোটাস গার্ডেনের নীরবতা ভেঙে, এনেছি এক ভেজা কোরক,
    আমার এই ছোট্ট অপরাধের সাক্ষী থাকুক চাঁদ আর এই নিউইয়র্ক।
    ফুলটা দেখে তার দু’চোখে ফুটলো অবাক চাওয়া,
    যেন শহরের বুকে এক ঝলক পূবালী গ্রাম্য হাওয়া।
    একটু পরেই সেই বিস্ময় ঠোঁটের কোণে এসে,
    পরিণত হলো ছোট্ট এক দুষ্টু-মিষ্টি হাসে।

    মনে মনে তখন অন্য ছবি, দূর বহুদূর,
    হাওড়ের বুকে ভাসছে ডিঙি, মিষ্টি কোনো সুর।
    যতদূর চোখ যায়, জলে লাল শাপলার বন,
    সিনথিয়া আনমনে হাত ডুবিয়ে হারায় তার মন।

    [স্টারবাকসের সিনথিয়া পদ্মফুল দেখেনি]

    নিউইয়র্ক

    লিংকন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৫

  • কোমল দহন

    কোমল দহন

    আপনার দিকে যখন দেখি তার চেয়ে বেশী দেখি
    আপনার ভেতরটা, স্বচ্ছ নদী, যদি ডিঙি হতাম, পেতাম
    অন্তত চলার স্রোত, আমৃত্যু।

    বয়স একটা সংখ্যা মাত্র, বস্তুত, আপনি তরুণ, আপনি
    শাদা দাঁতের মুক্তো হাসির মতো, কীভাবে এভাবে হাসেন?
    মরে যেতে ইচ্ছে করে হাসিতে, এভাবে মরিনি আগে,
    এত সুখ, এত সুখ!

    আপনি এত পরিপাটি, সূক্ষ্ম রুচি, অস্থির নন,
    ভালোবাসা টের পাই, তার চেয়ে বেশী পাই নির্ভরতা, ভালোবাসা উপরি পাওয়া।
    আমাকে ভালোবাসবেন? প্লিজ?
    কপালে চুমু দেবেন।
    আমার চঞ্চলতায় শুধু হাত ছুঁয়ে বসে থাকবেন
    কিছুক্ষণ। অনেকক্ষণ।

    লিংকন, নিউইয়র্ক
    ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫