Tag: কবিতা

  • বুকমার্ক

    চিবুকের তিন হাজার তিপ্পান্ন পৃষ্ঠায়
    গিয়ে খুঁজে পেলাম তিল,
    আবেগে থরথর কেঁপে এঁকে দিলাম ঠোঁট ছোঁয়া বুকমার্ক।
    সূচীপত্রেই ছিল আশেপাশেই কোথাও
    কমলার কোয়ার মতো,
    দুটো ঠোঁট পাবো।
    অথচ আমি তিলের মোহে এক জীবন কাটিয়ে দেয়া পাঠক।

    এদিকে কেউ কেউ উপসংহারে চলে গেছে
    তেত্রিশ লাখ পাতায়,
    চষে বেড়াচ্ছে উরুতে উরুতে।
    আমি সে রকম প্রেমিক কখনোই ছিলাম না।

  • সময়ানুবর্তিতা

    ক্লান্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে,
    ঘুম ঢুলু চোখে চেয়ে,
    সূচের ফোড়ে বুনে যায় নকশীকাথা।

    ক্লান্তি আমায় করো ক্ষমা হে!
    সকালে মিঠে তাজা রোদে,
    কিছু কাজ বাকি,
    ফলে, নকশীকাথা বুননে বাধা!

    আবার অলস দুপুরে আলসেমিতে
    খেয়ে ভাত ঘুমের মাতলামিতে!
    যেন পার হবে শরত্‍, হেমন্ত,
    তাই ভোরের বুননে বুনি নকশী কাথা,
    যাক রোদ সকাল,অলস দুপুর
    সময়ের শীতে প্রশান্তি,
    পাবো শীত শেষে সুখী বসন্ত।।

  • যেভাবে তুমি

    যেভাবে তুমি নেমে আসো বৃষ্টি হয়ে,
    অবিরাম ফসলের ক্ষেতে
    আকাশ মাটির সমান্তরাল পথে আর মেঘের রথে,
    যেভাবে তুমি মাটি ফুড়ে বের হও ফসল হয়ে
    বৃষ্টির মতো তারাতারি নও, অনেকটা ধীরলয়ে।
    যেভাবে তুমি উড়ে যাও পাখি হয়ে,
    ক্ষতিকর পোকাটিকে ধরে খেয়ে,
    যারা ফসলের অবনতি করে রয়ে সয়ে!
    যেভাবে তুমি খসে পড়া তারা,
    ছুটে যাও লহমায় বাঁধন হারা।
    যেভাবে তারা হও,
    অথবা বৃষ্টি হও,
    অথবা পাখি হও,
    অথবা ফসল হও,
    সেভাবে, সেবার সুযোগে আমাকে সুখ নিতে দাও।

  • আইজউদ্দিনের ধ্বজভঙ্গ

    আরে রা রা রা রা…
    বাজারের থলে হাতে আইজউদ্দিন অস্থির,
    শুনে কবিরাজের আহ্বান,
    মেলা মাঠ পাশে নিষিদ্ধ ভীড়।

    আবারও আহ্বান,
    পোকা যেন আগুনের দিকে করে গমন।
    ছোট মাঠ, বড় ভিড়,
    অভাগার ভিড়ে বাড়ে আরো একজন।

    হাতে গুজে দেয়া লিপলেটে আত্মজিজ্ঞাসা,
    “রোগীর বয়স কত?
    বিবাহিত কি অবিবাহিত?”
    সাথে হাজারো ‘ইতং বিতং’
    কবিরাজ বাণীতে বিদ্ধস্ত মন।

    মৈথুনে ক্লান্ত শরীর
    মনের ধ্বজভঙ্গে রুগ্ন আইজুদ্দিন
    যৌবন শতদল, আরব বিচ্ছুর তেল
    যদি মেলে উপশম কোনোদিন!

  • যাত্রাপালা

    যাত্রাপালা

    যাত্রাপালা

    কাঁচা আমে, পাকা রাতে, বৈশাখি মেলা
    দূরের মাঠেতে বসে যাত্রাপালা।
    গান বাঁধে, দল বাঁধে গ্রাম দামালেরা,
    দিন বাদে, রাতে নাচে যাত্রাবালা।
    তবলার তাল বাঁজে পাহাড়ে পাহাড়ে,
    কানে বাঁজে ধমাধম হুল্লোর, আহারে!

    দুই মাইল দূরে ভাসে স্বর্গের হাসি,
    খোলা বুকে নাচে গানে উর্বশী রূপসী।
    যাত্রার মঞ্চ কাঁপে সিরাজের হুংকার,
    লর্ড ক্লাইভ ঘষেটি নীল বিষে নীলাকার।
    কোমর দুলিয়ে নাঁচে বেদের মেয়ে,
    এতিম আলাল থাকে দুলালের পথ চেয়ে!
    দিনভর খালিপেটে রাতে মহারাজা,
    যাত্রার প্যান্ডেলে প্রেম তরতাজা।

    পঞ্চাশে বুকখোলে,
    একশতে চুমো মিলে,
    বাঁকা হেসে প্রিন্সেস
    নাঁচে বেনী চুলে! 
    শতকে শতক যায়, দিনে যায় দিন,
    যাত্রার সূর ক্রমে ক্ষয়ে লয় ক্ষীণ।