Tag: rabiul hasan lincoln

  • ব্যবসায়ী আলাপ-১

    ব্যবসায়ী আলাপ-১

    ভূমিকা

    স্কুলে মাঝেমধ্যে রচনা লিখতে হতো, “আমি কোটিপতি হইলে কী করিব!” যদি কেউ সৎভাবে মতামত দেয় তাহলে তারা লিখবে বাড়ি করব, গাড়ি করব, তারপর গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেব। বইটি সেই কোটি টাকার ব্যবহার নিয়ে মূলত। পত্রিকায় একবার একটা খবর এসেছিলো। এক আইসক্রিম বিক্রেতা লটারীতে চল্লিশ লাখ টাকা পেয়েছে। সচরাচর এসব খবরের ফলোআপ হয়না। সম্ভবত পরে এমন খবর দেখেছিলাম যে বিজয়ী সব টাকা উড়িয়ে দিয়ে দুই বছরের মাথায় যে কে সেই রয়ে গেছে। আমার পয়েন্ট হলো, আপনি বেশীরভাগ মানুষকে যদি তাদের কল্পনার বাইরে টাকা দেন তারা সেটা উড়িয়ে দেবে। এমনকি সে ছোটখাট ব্যবসায়ী হলেও। আপনি যদি সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা ডিল করে এমন কাউকে দশ কোটি টাকা দেন তাহলে সে বুঝতে পারবেনা কীভাবে এই টাকা খাটিয়ে ব্যবসা করবে। এর কারণ হচ্ছে বেশীরভাগ ব্যবসায়ী একাউন্টিং এর বেসিক নলেজ সম্পর্কে জানেনা।
    আচ্ছা, শুধু কি ব্যবসায়ী? আমরা ব্যবসায়ী শিক্ষার শিক্ষার্থীদের কথা ধরি। তাদের ব্যবসার হিসাব নিকাশের বেসিক জ্ঞান জানার কথা। তাদের যদি আমরা কোটি টাকা দিই তারা কী পারবে সেই টাকার হিসাব কিতাব রাখতে? টাকা খাটিয়ে মুনাফা করতে? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে খুব কম শিক্ষার্থী সফল হবে। কারণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলো এমনভাবে লেখা যেখানে রিয়েল লাইফের সাথে মিলিয়ে কখনো পড়ানো হয়না।
    তাহলে কি ব্যবসায়ী শিক্ষার শিক্ষকদের দিলে তারা পারবে? এখানে আমাদের অবজার্ভেশন বলে যে তারা যদি তা পারতো তবে বেশীরভাগ শিক্ষক গরীব থাকতো না। অন্তত একটা সময়ে গিয়ে বেশ ভাল টাকা তাদের জমে যেত। তারা সৎ, তাদের মোহ নেই, এমন অনেক কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু সৎ হলে যে কম টাকা আয় করতে হবে এমন কথা নেই। বরং যাদের বেশী টাকা তাদের সমাজের সেবা করার সুযোগ বেশী। বেশী টাকা আয়ের জন্য মোটিবেশন যদি সেবা করার মানসিকতা হয় তাহলে আপনার সাথে উদাহরণ হিসেবে বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এদের নাম উল্লেখ করতে পারি। বর্তমান বিশ্বের সেরা দশ ধনীর তালিকায় এনাদের নাম আছে, এবং উনারা প্রচুর টাকা বিভিন্ন সেবা খাতে ব্যয় করে যাচ্ছেন। আমি এই লিখা শুরু করেছি মূলত, ব্যবসায় হিসাব নিকাশের বেসিক নিয়ে। আমি আমার মতো করে কীভাবে এসব হিসাব নিকাশ রাখতে হয়, ব্যবসায় আয় কীভাবে হয়, সেই আয়ের সাথে ট্যাক্সের সম্পর্ক কী, কীভাবে বুঝবেন যে আপনি লাভ করছেন নাকি লস গুনে যাচ্ছেন, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সামান্য আলাপ করে যাবো।

    আমার এক একাউন্টিং নিয়ে পড়ুয়া বন্ধুকে জিজ্ঞেস করছিলাম, এমন কোন খাত আছে যেখানে ১০% এর অধিক লাভ হতে পারে। বন্ধু এক বাক্যে বলে দিয়েছিল স্টক ট্রেডিং করে। তাকে আমার বুঝাতে হয়েছিল স্টক মার্কেট কীভাবে কাজ করে। মূলত স্টক মার্কেট একটা রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যেমন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি। আর এসব মার্কেটে একটা দেশের বিভিন্ন কোম্পানি কিছু নিয়মনীতি মেনে জয়েন করে। কোম্পানির মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজার থেকে মূলধন নেয়া। চাইলে তো ব্যাংক থেকে লোণ নেয়া যায়, কোম্পানি নেয় ও। কিন্তু কোম্পানির কলেবর বাড়ার সাথে সাথে যে পরিমাণ লোণ দরকার হয় সে পরিমাণ লোণ হয়তো ব্যাংক দিতে পারবেনা। আবার ব্যাংকের সুদের হার ও কোম্পানির পক্ষে সুবিধাজনক না ও হতে পারে। এসব কারণে একটা কোম্পানি ব্যাংক লোণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শেয়ার বাজারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। একজন শেয়ার ক্রেতা হিসেবে এজন্য একটা কোম্পানি এনালাইসিস করতে পারা জরুরী, যাতে আপনি কোথায় ইনভেস্ট করছেন সেটা যাতে কোম্পানি উড়িয়ে না দেয়। সুতরাং একবাক্যে আপনি বলে দিতে পারেন না যে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে আপনি নিশ্চিত ১০% এর অধিক আয় করতে পারবেন। যদি এই বাক্যটি আমরা সঠিক ভাবে বলতে যাই তাহলে বলতে হয়, আপনার বিনিয়োগকৃত কোম্পানি যদি ভাল মুনাফা করে তাহলে আপনার ও মুনাফা হবে। আর যদি কোম্পানি লস করে আপনার ও লস হবে।

    একাউন্টিং বেসিক

    মুদি দোকান থেকে শুরু করে আমাজনের ওয়ারহাউস, যত ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান আছে পৃথিবীতে সব একটা সমীকরণ মেনে চলে। বলা যেতে পারে এই সুত্রটি ব্যবসার বেসিক সুত্র। সুত্রটি যদি আমি সহজ করে বলতে যাই, তাহলে বলতে হয়, আপনার প্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ, প্রতিষ্ঠানের দেনা এবং মালিকানা স্বত্বের যোগফল। সমীকরণটি এভাবে লিখে:

    Assets (সম্পদ) = Liabilities (দায়/দেনা) + Owners’ Equity (মালিকানা স্বত্ব)

    Assets বা সম্পত্তি কী?

    একটি প্রতিষ্ঠান যে সকল জিনিস আইনতঃ নিজের বলে দাবি করতে পারে, এবং সে জিনিসের ভবিষ্যত ব্যবহার হতে পারে, এবং জিনিসগুলো পরিমাণ করা যায় সেসব জিনিসকে আমরা সম্পত্তি বলতে পারি। উদাহরণ স্বরূপ, নগদ অর্থ, ফার্নিচার, মালামাল, প্রতিষ্ঠান যদি অগ্রিম ভাড়া প্রদান করে থাকে সেটা, কাস্টমারের কাছ থেকে পাওনা টাকা, এমনকি কোম্পানির ট্রেডমার্ক যদি কপিরাইট করা থাকে সেটা assets বা সম্পত্তির উদাহরণ। কিছু সম্পত্তি এক বছরের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলা যায়, আবার কিছু সম্পত্তি এক বছরের অধিক সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। যেমন নগদ টাকা, মালামাল এসব সম্পত্তি এক বছরের মধ্যে চাইলে ব্যবহার করা যায়। আবার জমি, বিল্ডিং কিংবা ফার্নিচার এক বছরের বেশী সময় ব্যবহার করা যেতে পারে। তো একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির এই দুই ধরণের ক্যাটাগরি আমরা পাচ্ছি, স্বল্পমেয়াদী সম্পত্তি, এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পত্তি। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সব সম্পদ তো আমাদের প্রতিষ্ঠানের, সেগুলো আবার ভাগ করে লাভ কী? এর উত্তর হচ্ছে, একটা প্রতিষ্ঠানকে দৈনিক, মাসিক, চারমাস অন্তর, বাৎসরিক, এরকম বিভিন্ন হিসাব লিপিবদ্ধ করতে হয়। যেমন একটা প্রতিষ্ঠান যখন আয়কর দেয়ার জন্য হিসাব করতে যাবে তখন তাকে নির্দিষ্ট বছরের কী পরিমাণ সম্পত্তি আছে সেটা বের করতে হয়। তখন সম্পত্তি কী স্বল্পমেয়াদী নাকি দীর্ঘমেয়াদী সেটা জানার দরকার পরে। আবার ফার্নিচার অথবা ফ্রিজ একবার কিনলে সেটা দীর্ঘমেয়াদের জন্য কেনা হলেও সেটা চিরস্থায়ী নয়। প্রতি বছর বছর তার ব্যবহার উপযোগিতা কমতে থাকে। আমরা পরবর্তী কোন অধ্যায়ে এই ধরণের উপযোগিতা নির্নয় করব।

    Liabilities বা দায় কী?

    একটা প্রতিষ্ঠানের দায়দেনা হচ্ছে তাই যা কোম্পানি আইনতঃ অন্যকে দিতে বাধ্য থাকে। যেমন ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করলে, কাস্টমারের কাছে কোন পণ্য বা সেবার জন্য অগ্রিম টাকা গ্রহণ করলে, প্রতিষ্ঠানের জন্য বাকিতে মালামাল কিনলে সেসব একটি প্রতিষ্ঠানের দায়। সম্পত্তির মত দায়দেনার স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদ আছে।

    Owners’ Equity বা মালিকানা স্বত্ব কী?

    সম্পত্তি থেকে দায়দেনা বাদ দিলে যা থাকে তাই মালিকানা স্বত্ব। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, দায়দেনা এবং মালিকানা স্বত্বের যোগফল হচ্ছে সম্পত্তি। মালিকানা স্বত্ব কোন বস্তু বা জিনিস নয়, এটি একটি সংখ্যা। আমরা আবার মূল সমীকরণটি দেখি:

    Assets (সম্পদ) = Liabilities (দায়/দেনা) + Owners’ Equity (মালিকানা স্বত্ব)

    এই সমীকরটি আমরা আরো বিস্তৃত করলে পাব:

    Assets (সম্পদ) = Liabilities (দায়/দেনা) + Company Stock or Capital (মূলধন) + retain earning ( মুনাফা)

    Company Stock or Capital (মূলধন) কী?

    একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য মূলধন অথবা ক্যাপিটাল অথবা পুঁজির দরকার হয়। সেই ক্যাপিটাল মালিকের নিজের পকেট থেকে আসতে পারে, অথবা বড় কোম্পানি হলে শেয়ার বিক্রি করে আসতে পারে। হ্যাঁ, এই শেয়ার আমি সেই শেয়ারের কথা বলছি যা আপনারা ধারণা করছেন। মানে শেয়ার বাজারে যে শেয়ার বেচাকেনা হয় সেটা আসলে একটা প্রতিষ্ঠানের ক্যাপিটালের জন্য। আপনি কোন কোম্পানির শেয়ার কিনছেন মানে সেই কোম্পানির সেই শেয়ার পরিমাণ মালিকানা পাচ্ছেন। এভাবে শেয়ার কেনার মাধ্যমে আপনি বেক্সিমো কিংবা মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানির মালিকানা লাভ করতে পারেন। আবার ছোট মুদি দোকান বা মাঝারি আকারের হোটেল, রেস্টুরেন্টের জন্য শেয়ার মার্কেট থেকে স্টক বিক্রয়ের মাধ্যমে পুঁজি জোগাতে হয়না। এটি ব্যক্তি নিজেই নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে জুগিয়ে থাকে।

    retain earning ( মুনাফা) কী?

    একটা প্রতিষ্ঠান যখন চলা শুরু করে, সেটা মুদী দোকান হোক, কিংবা টং দোকান হোক, অথবা হোক স্কয়ার ফার্মাসিউটিকাল এর মতো বড় কোম্পানি, তখন তার কর্মকান্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানে আয় আসতে শুরু করে। একে আমরা retain earning ( মুনাফা) বলি। প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বা রেভিনিউ থেকে খরচ-পাতি বাদ দিলে আমরা retain earning ( মুনাফা) পাই। শেয়ার বাজারে পাবলিক কোম্পানি তার শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণ করে, যা ডিভিডেন্ড নামে পরিচিত। এটিও retain earning ( মুনাফা) থেকে বাদ করতে হবে। যদিও অনেকে ভুল করে ডিভিডেন্ডকে খরচের সাথে গুলিয়ে ফেলে।

    রাজস্ব বা রেভিনিউ কী?

    একটি প্রতিষ্ঠান কোন পণ্য বিক্রি করে বা সেবা প্রদান করে টাকা আয় করে থাকে। একে রাজস্ব বা রেভিনিউ বলে।

  • আমার আমেরিকায় প্রথম হাইকিং

    আমার আমেরিকায় প্রথম হাইকিং

    বেশ ক’বছর ধরে ভেবে রেখেছি হাইকিং করতে যাব। ১২ অগাস্ট, ২০২৩ এ সে সুযোগ এসে গেলো। প্রতিবেশী সান্তোজ জানালো হুক মাউন্টেইন এ হাইকিং করতে যেতে চায়, আমি যাবো কিনা। আমি আমার বন্ধু কামিলাকে জানাতে সে রাজী হয়ে গেলো। আমরা চারজনের টিম মিলে রওয়ানা দিলাম সকাল আটটায়। আধা ঘণ্টার ড্রাইভিং শেষে হুক মাউন্টেইন এর পাদদেশে পৌছালাম। সেখানে গাড়ি রেখে হাঁটা শুরু করতে হয়।

    প্রথমে যে জিনিসটা অবাক করলো সেটা হচ্ছে নায়াক বীচের ভাস্কর্য, গুগল ম্যাপে ছবি দেখে ভেবেছিলাম বেশ বড়সড় কিছু একটা হবে। গিয়ে দেখি প্রমাণ সাইজের। মানে দেড় মানুষ সমান উঁচু। তবে বীচে বালিয়াড়ি নেই তেমন, মানে বসার জন্য বেঞ্চি দেয়া আছে অথবা হাডসন নদী তীরে বসার মতো প্রচুর জায়গা আছে। শুধুমাত্র হাডসন নদীতীরে বসার জন্য যেহেতু এতদূর আসা হয়নি তাই পর্বত আরোহণে মনযোগী হলাম।

    বুনো গাছগাছালি ভেতর দিয়ে আমরা ট্রেইল ধরে উঠতে থাকলাম উপরে। যেকোনো পাহাড়ি ট্রেইলের মতো এই ট্রেইল ও আঁকাবাঁকা। সবদিকে একই রকম দেখতে ট্রেইল, বিশাল পর্বতে কেউ যাতে পথ হারিয়ে না ফেলে এজন্য গাছে সবুজ বর্গাকার মার্কিং দেয়া আছে। এই মার্কিং এর আইডিয়া চমৎকার লেগেছে। শুধুমাত্র এই মার্কিং এর কারণে ৬ মাইল দীর্ঘ ট্রেইলে এক বারের জন্য ও পথ হারাইনি।

    হুক মাউন্টেইনে চেনা অচেনা নানা রকম গাছগাছালির সমাহার হলেও তেমন কোনো বুনো ফলের গাছ চোখে পরেনি। সীতাকুন্ডের ইকোপার্কেও এই ব্যাপারটি চোখে পরেছে। পর্বতে কী বুনো ফলের গাছ ইচ্ছে করেই বাড়তে দেয়া না হয় যাতে করে নতুন একটা খাদ্যশৃঙ্খল গড়ে না উঠে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে? যেমন বুনো ফল খেতে পাখি, কাটবেড়ালী আসবে, আবার পাখি খেতে সাপ, শেয়ালের মতো শ্বাপদ জন্মাবে, সেগুলো খেতে বড় বাঘ সিংহ এধরণের প্রানী আসবে, ব্যাপারটা ঠিক এমন কিনা সিউর না। তবে ট্রেইলের ধারে বুনো বেরির গাছ থাকলে মন্দ হতোনা।

    আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগুতো এগুতে কিছু পুরনো স্থাপনা চোখে পরল। সেগুলো একসময় বরফ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হতো। সেসময়ের কথা বলছি যখন ফ্রিজ আবিষ্কার হয়নি। পুরনো স্থাপনা কত পুরনো? এই ধরুন এখন শুধু পাথুরে দেয়ালগুলো অবশিষ্ট আছে। এরকম বড়ছোট অনেক গুলো দেয়াল আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ট্রেইলকে হাইকারদের জন্য আকর্ষনীয় করে তুলেছে। শুধুমাত্র পাথুরে দেয়াল ছাড়া পথে বেশ কিছু বড় মরা গাছ পরে পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল, যেগুলোতে অনেক ফাঙ্গাস জন্মায়। আগেই বলেছি এখানে বেশকিছু চেনা অচেনা উদ্ভিদের দেখা মিলেছে। তার অনেকগুলোই সেই পুরনো শ্যাওলা ধরা গাছের গুড়ির আশেপাশে। বেশ কিছু হলদে ঘাসফুল দেখেছি, আর ছিল নরম কার্পেটের মতো ভেজা ঘাস। এই দেখতে দেখতে আমরা উঠে গেলাম চুড়ায়।

    চুড়ায় চাতালের মতো স্থানে সবাই চেক-ইন করে, যাদের উচ্চতা নিয়ে ভীতি আছে আমার মতো তারা দুর থেকে চাতালের পাশ দিয়ে নিচে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে একেবারে খাঁড়া ক্লিপের ধার। কোনভাবে পা হড়কালে একেবারে প্রপাত ধরণী তল, কমপক্ষে দশ সেকেন্ড লাগবে নিজেকে হিউম্যান স্মুথি হিসেবে নিচে আবিষ্কার করতে। তবে সেই দশ সেকেন্ড আপনার জীবনের দীর্ঘ দশ সেকেন্ড হবে কিনা সেই অভিজ্ঞতা হয়নি আমার। চাতাল থেকেই দেখা মিলল ঈগল পাখির, পাখির হিসেবে যদি সে আকাশে উড়ছে, কিন্তু চাতাল থেকে দেখলে তাদের বেশ নিচুতে মনে হয়। দেখতে দেখতে অবশ্য ছবি তুলতে পারিনি পাখির, উঠার সময় এবং নাম্বার সময় দুবার হরিণের দেখা মিলেছিল। তার ছবিও তুলতে পারিনি। চাতাল থেকে আশেপাশের পাহাড়, নদী, নদীর ওপাড়ের বিলাসবহুল ম্যানশন দেখতে বেশ লাগে।

    চাতালে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে আমরা নিচে নামা শুরু করলাম। এই ট্রেইলের একটা মজার দিক হচ্ছে, যাওয়ার সময় আবার ফিরতি পথ ধরতে হয়না। ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে চুড়া, আবার চুড়া থেকে নামতে নামতে আপনি যেখান থেকে শুরু করেছেন সেখানে পৌঁছতে পারবেন। প্রায় চারঘন্টা লেগেছিল পুরো পথ শেষ করতে যদিও, পার্ক রেঞ্জার জানিয়েছিল দুই ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব। একেবারে শেষ করছি নায়াক গ্রামের চমৎকার একটি কফিশপের নাম নিয়ে। থরে থরে সাজানো খাবার দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। একটা প্রেস্টি কিনলাম, আর সান্তোজ নিলো গাজরের কেক। প্রেস্ট্রির স্বাদ ছিল মুখে লেগে থাকার মতো।