শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, পুলিশের ‘প্রহরী’ হিসেবে ভূমিকাটি যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে করা হলো কি না, সেই নিরিখে বিচার করা হতো না; বরং বিচার করা হতো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না, তার ভিত্তিতে। সেই লক্ষ্য ছিল শৃঙ্খলা, যা আসলে একটি অস্পষ্ট ধারণা, কিন্তু কোনো একটি এলাকার মানুষ সেই পরিস্থিতি দেখলে ঠিকই চিনতে পারত। এই শৃঙ্খলা আনার জন্য সেইসব উপায়ই ব্যবহার করা হতো, যা সেই এলাকার লোকেরাই ব্যবহার করত, যদি তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংকল্প, সাহস এবং কর্তৃত্ব থাকত। এর বিপরীতে, অপরাধী শনাক্ত করা এবং গ্রেপ্তার করা ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্যের একটি উপায়, নিজে কোনো লক্ষ্য ছিল না; আইন প্রয়োগের চূড়ান্ত ফল হিসেবে আশা করা হতো একটি বিচার বিভাগীয় রায়। প্রথম থেকেই, পুলিশের কাছে আশা করা হতো যে তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবে, যদিও সেই নিয়মগুলো কতটা কঠোর হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ভিন্নমত ছিল। এটা সবসময়ই বোঝা যেত যে, অপরাধী গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ার সাথে ব্যক্তিগত অধিকার জড়িত, যা লঙ্ঘন করা অগ্রহণযোগ্য। কারণ তার মানে দাঁড়াবে, নিয়ম লঙ্ঘনকারী পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই বিচারক এবং জুরির ভূমিকা পালন করছেন—যা তার কাজ নয়। দোষী বা নির্দোষ নির্ধারিত হবে বিশেষ পদ্ধতির অধীনে, সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়মকানুন অনুসারে।
সাধারণত, এলাকার শৃঙ্খলা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিরা কোনো বিচারক বা জুরির সামনে আসেন না। এর কারণ শুধু এই নয় যে বেশিরভাগ মামলাই রাস্তার মধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়, বরং এর আরেকটি কারণ হলো, বিশৃঙ্খলা নিয়ে তর্ক নিষ্পত্তির জন্য কোনো সার্বজনিন বা সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম নেই, এবং তাই একজন বিচারক এক্ষেত্রে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি জ্ঞানী বা কার্যকর নাও হতে পারেন। অনেক রাজ্যে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত, এবং কিছু জায়গায় আজও, পুলিশ “সন্দেহভাজন ব্যক্তি” বা “ভবঘুরে” বা “প্রকাশ্যে মদ্যপান” করার মতো অভিযোগে গ্রেপ্তার করে—এই অভিযোগগুলোর আইনি তাৎপর্য প্রায় নেই বললেই চলে। এই অভিযোগগুলো থাকার কারণ এটা নয় যে সমাজ চায় বিচারকরা ভবঘুরে বা মাতালদের শাস্তি দিক, বরং সমাজ চায় যে, রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনানুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, একজন কর্মকর্তার হাতে যেন এলাকা থেকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়ার আইনি হাতিয়ার থাকে।
যখনই আমরা পুলিশের সব কাজকে বিশেষ পদ্ধতির অধীনে সার্বজনিন নিয়ম প্রয়োগের বিষয় হিসেবে ভাবতে শুরু করি, তখনই আমরা অনিবার্যভাবে প্রশ্ন তুলি যে, একজন ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ বলতে কী বোঝায় এবং কেন আমরা ভবঘুরেবৃত্তি বা মদ্যপানকে “অপরাধ” হিসেবে গণ্য করব। মানুষের সাথে যেন ন্যায্য আচরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী এবং প্রশংসনীয় আকাঙ্ক্ষা আমাদের চিন্তায় ফেলে দেয় যে, পুলিশকে কোনো অস্পষ্ট বা সংকীর্ণ স্থানীয় মানদণ্ডের ভিত্তিতে মাতাল এলাকাছাড়া করার অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে কি না। আবার, এক ধরনের ক্রমবর্ধমান উপযোগবাদ—যা ততটা প্রশংসনীয় নয়—আমাদের মনে এই সন্দেহ তৈরি করে যে, যে আচরণ অন্য কারো ‘ক্ষতি’ করে না, তাকে আদৌ বেআইনি করা উচিত কি না। আর এভাবেই, আমরা যারা পুলিশের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করি, তাদের অনেকেই পুলিশকে সেই কাজটি করতে দিতে দ্বিধা বোধ করি, যা প্রতিটি এলাকা প্রবলভাবে চায় যে তারা করুক, কিন্তু যা পুলিশ কেবল তাদের নিজস্ব ভঙ্গিতেই করতে পারে।
এই ধরনের সম্মানহানিকর আচরণ, যা ‘কারো ক্ষতি করে না’, তাকে “অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার” ইচ্ছা—এবং এর মাধ্যমে এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশের হাতে থাকা চূড়ান্ত ব্যবস্থাটি সরিয়ে ফেলার প্রবণতা—আমাদের মতে, একটি ভুল। একজন মাতাল বা একজন ভবঘুরেকে গ্রেপ্তার করা, যিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করেননি, তা অন্যায্য বলে মনে হয়, এবং এক অর্থে তা ঠিকও। কিন্তু কুড়িজন মাতাল বা একশোজন ভবঘুরের ব্যাপারে কিছুই না করাটা হয়তো পুরো একটি কমিউনিটিকেই ধ্বংস করে দিতে পারে। একটি নির্দিষ্ট নিয়ম যা একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যৌক্তিক মনে হয়, সেটি যখন একটি সার্বজনিন নিয়মে পরিণত হয় এবং সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। এটি অর্থহীন কারণ এটি একটি ভাঙা জানালা ফেলে রাখলে যে হাজারটা জানালা ভাঙা হয়, সেই সংযোগটি বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়। অবশ্যই, মাতাল বা মানসিকভাবে অসুস্থদের নিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধানে পুলিশ ছাড়া অন্য সংস্থাও কাজ করতে পারত, কিন্তু বেশিরভাগ কমিউনিটিতে—বিশেষ করে যেখানে “ডি-ইনস্টিটিউশনালাইজেশন” (সামাজিক প্রতিষ্ঠানে রাখার বদলে কমিউনিটিতে রেখে চিকিৎসা) আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে—তারা তা করে না।
ন্যায্যতার প্রশ্নটি আরও গুরুতর। আমরা হয়তো একমত হতে পারি যে, কিছু আচরণের কারণে একজন ব্যক্তি অন্যের চেয়ে বেশি অবাঞ্ছিত হয়ে ওঠে, কিন্তু আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে বয়স বা গায়ের রঙ বা জাতীয় উৎস বা নিরীহ হাবভাব অবাঞ্ছিতদের থেকে অন্যদের আলাদা করার ভিত্তি হয়ে উঠবে না? সংক্ষেপে, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব যে, পুলিশ এলাকার মানুষের গোঁড়ামি বা বিদ্বেষের প্রতিনিধি হয়ে উঠবে না?
Leave a Reply