ভাঙা জানালা – পর্ব ৫

কিছু পুলিশ প্রশাসক এটা স্বীকার করেন যে এমনটা ঘটে, কিন্তু তাদের যুক্তি হলো, গাড়িতে টহল দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তারাও পায়ে হেঁটে টহল দেওয়া কর্মকর্তাদের মতোই কার্যকরভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারেন।কিন্তু অবজার্বেশন অনুযায়ী আমরা এতটা নিশ্চিত নই। তত্ত্ব অনুযায়ী, পুলিশের গাড়িতে থাকা একজন কর্মকর্তা পায়ে হাঁটা কর্মকর্তার মতোই সবকিছু দেখতে পারেন; তিনি পায়ে হাঁটা অফিসারের মতোই অনেকের সাথে কথা বলতে পারেন। কিন্তু গাড়ির কারণে পুলিশ-নাগরিক যোগাযোগের বাস্তবতা অনেকটাই বদলে যায়। পায়ে হাঁটা একজন কর্মকর্তা নিজেকে রাস্তার লোকজন থেকে আলাদা করতে পারেন না; যদি কেউ তার কাছে আসে, তবে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কেবল তার ইউনিফর্ম এবং ব্যক্তিত্বই ভরসা। আর সামনে কী ঘটতে চলেছে, সে সম্পর্কে তিনি কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না—হতে পারে কেউ পথের ঠিকানা জানতে চাইছে, কেউ সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছে, কেউ রেগে গিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছে, কেউ ঠাট্টা করছে, কেউ বা বিভ্রান্ত হয়ে বিড়বিড় করছে, আবার কেউ হয়তো ভয় দেখাচ্ছে।

 গাড়িতে থাকলে একজন কর্মকর্তা সাধারণত জানালা নামিয়ে রাস্তার লোকজনের দিকে তাকিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। গাড়ির দরজা এবং জানালা কাছে আসা নাগরিককে একটা দূরত্বের মধ্যে রাখে; এগুলো এক ধরনের বাধা। কিছু কর্মকর্তা, হয়তো অবচেতনভাবেই, এই বাধার সুযোগ নেন এবং গাড়িতে থাকলে এমন আচরণ করেন যা তারা পায়ে হেঁটে থাকলে করতেন না। আমরা এটা বহুবার দেখেছি।

একটা ঘটনার কথা বলতে পারি। একদিন একটি পুলিশের গাড়ি একটি মোড়ে এসে থামে যেখানে কিছু কিশোর আড্ডা দিচ্ছিল। গাড়ির জানালা নামানো হয়। কর্মকর্তা তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারাও পাল্টা তাকায়। কর্মকর্তা তাদের একজনকে বলেন, “এদিকে আয়।” সে তার বন্ধুদের দিকে একটা স্বাভাবিক ভাব দেখিয়ে এমনভাবে হেলেদুলে এগিয়ে আসে যেন সে বোঝাতে চায় যে কর্তৃপক্ষকে সে পাত্তা দেয় না।

“তোর নাম কী?”

“চাক।”

“পুরো নাম?”

“চাক জোনস।”

“কী করছিস, চাক?”

“কিছু না।”

“তোর কি পি.ও. [প্যারোল অফিসার] আছে?”

“না।”

“ঠিক তো?”

“হ্যাঁ।”

“ঝামেলা থেকে দূরে থাকিস, চাকি।”

এর মধ্যেই, অন্য ছেলেরা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি আর কথা চালাচালি করে, সম্ভবত কর্মকর্তাকে নিয়েই। কর্মকর্তা আরও কড়া চোখে তাকান। কী বলা হচ্ছে তা তিনি ঠিক বুঝতে পারেন না, আবার তাদের সাথে যোগ দিয়ে রাস্তার চলতি রসিকতায় নিজের দক্ষতা দেখিয়ে এটাও প্রমাণ করতে পারেন না যে তাকে দমানো যাবে না। এই পুরো প্রক্রিয়ায়, কর্মকর্তা প্রায় কিছুই জানতে পারেন না, আর ছেলেরা ধরে নেয় যে এই কর্মকর্তা একটা বিচ্ছিন্ন শক্তি যাকে সহজেই উপেক্ষা করা যায়, এমনকি ঠাট্টাও করা যায়।

আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, বেশিরভাগ নাগরিকই একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে ভালোবাসেন। এতে তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, গল্প করার একটা বিষয় খুঁজে পান, এবং কর্তৃপক্ষকে তাদের উদ্বেগের কথা জানানোর সুযোগ পান (যার মাধ্যমে তারা সমস্যাটি নিয়ে ‘কিছু একটা করেছেন’—এই ধরনের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতি পান)। পায়ে হাঁটা একজন মানুষের কাছে আপনি গাড়িতে থাকা মানুষের চেয়ে সহজে যেতে পারেন এবং তার সাথে স্বচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন। তাছাড়া, আপনি যদি কোনো কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত আলাপের জন্য একপাশে ডেকে নেন, তবে আপনার পরিচয় গোপন রাখাও সহজ হয়। ধরুন, আপনি খবর দিতে চান যে কে হাতব্যাগ চুরি করছে, বা কে আপনাকে একটি চোরাই টিভি কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। শহরের ভেতরের এলাকাগুলোতে, অপরাধী সম্ভবত কাছাকাছিই থাকে। পুলিশের একটি চিহ্নিত গাড়ির কাছে হেঁটে গিয়ে জানালার ভেতরে ঝুঁকে কথা বলা মানেই আপনি যে একজন “ইনফর্মার”, তা সবাইকে দেখিয়ে দেওয়া।

শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকার মূল কথা হলো, একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী করা। পুলিশ, বিপুল সম্পদ খরচ না করে, সেই অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প হতে পারে না। অন্যদিকে, সেই স্বাভাবিক শক্তিগুলোকে সমর্থন করতে হলে পুলিশকে অবশ্যই তাদের সাথে মানিয়ে চলতে হবে। আর সমস্যাটা ঠিক এখানেই।

রাস্তায় পুলিশের কার্যকলাপ কি রাষ্ট্রের নিয়মের পরিবর্তে এলাকার সামাজিক রীতি বা মানদণ্ড দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত? গত দুই দশকে, পুলিশের ভূমিকা শৃঙ্খলা-রক্ষা থেকে আইন-প্রয়োগে বদলে যাওয়ায়, তারা ক্রমশ আইনি বিধিনিষেধের আওতায় চলে এসেছে। গণমাধ্যমের অভিযোগ, আদালতের রায় এবং বিভাগীয় আদেশের ফলে এই নিয়মগুলো কার্যকর হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, পুলিশের শৃঙ্খলা-রক্ষার কাজগুলো এখন সেইসব নিয়ম দিয়ে চালানো হচ্ছে, যা মূলত সন্দেহভাজন অপরাধীদের সাথে পুলিশের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। আমরা মনে করি, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা।

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *