ভাঙা জানালা – শেষ পর্ব

শৃঙ্খলা রক্ষায় সামাজিক অংশগ্রহণের দ্বিতীয় যে ঐতিহ্যটি রয়েছে, তা হলো “ভিজিলান্টি” বা স্বঘোষিত আইনরক্ষক গোষ্ঠীর। এটি প্রথম ঐতিহ্যের, অর্থাৎ “কমিউনিটি পাহারাদার”-এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলের স্থিতিশীল এবং পুরোনো সম্প্রদায়গুলোতে এই ধরনের গোষ্ঠীর অস্তিত্ব প্রায় ছিলই না। এদের মূলত সেইসব সীমান্ত শহরগুলোতে খুঁজে পাওয়া যেত, যেগুলো সরকারি আইন-কানুন পৌঁছানোর আগেই দ্রুত গড়ে উঠেছিল। ইতিহাসে প্রায় ৩৫০টিরও বেশি ভিজিলান্টি গোষ্ঠীর কথা জানা যায়। তাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তারা আইনকে পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিত। তারা নিজেরাই পুলিশ, বিচারক, জুরি এবং প্রায়শই অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দায়িত্বও পালন করত। যদিও আজকের দিনে নাগরিকরা প্রায়ই ভয় প্রকাশ করে যে পুরোনো শহরগুলো অপরাধের কারণে এক ধরনের “শহুরে সীমান্ত” হয়ে উঠছে, তবুও ভিজিলান্টি আন্দোলন এখন আর তেমন দেখা যায় না। তবে, কিছু কমিউনিটি পাহারাদার গোষ্ঠী এই বিপজ্জনক সীমানার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এবং ভবিষ্যতে অন্যরাও সেই সীমা অতিক্রম করতে পারে। এর একটি অস্পষ্ট কিন্তু চিন্তার উদ্রেককারী উদাহরণ নিউ জার্সির বেলভিল শহরের সিলভার লেক এলাকার একটি নাগরিক টহলদারী দলের ঘটনা। দলের একজন নেতা সাংবাদিকদের জানান, “আমরা মূলত বাইরের লোক খুঁজি।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যদি পাড়ার বাইরের কোনো কিশোর-কিশোরীকে এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়, “আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করি এখানে কী কাজ।” যদি তারা উত্তর দেয় যে তারা রাস্তার ওপারে মিসেস জোনসের বাড়িতে যাচ্ছে, তাহলে তাদের যেতে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। দলটি এরপর তাদের পিছু পিছু গিয়ে নিশ্চিত করে যে তারা আসলেই মিসেস জোনসের বাড়িতে যাচ্ছে কি না। এই আচরণটি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার না হলেও, এটি সন্দেহ, জেরা এবং নজরদারির মাধ্যমে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে, যা ভিজিলান্টি মানসিকতারই একটি প্রাথমিক রূপ।

যদিও সাধারণ নাগরিকরা শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেক ভূমিকা রাখতে পারে, এটা পরিষ্কার যে এই কাজের আসল চাবিকাঠি পুলিশের হাতেই রয়েছে। এর একাধিক কারণ আছে। প্রথমত, রবার্ট টেইলর হোমস-এর মতো কিছু এলাকা এতটাই অপরাধ আর হতাশায় নিমজ্জিত যে, সেখানকার বাসিন্দাদের পক্ষে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, একজন সাধারণ নাগরিক, এমনকি তিনি যদি কোনো সংগঠিত দলের সদস্যও হন, তার পক্ষে পুলিশের ব্যাজ পরার সাথে যে গভীর দায়িত্ববোধ আসে, তা অনুভব করা প্রায় অসম্ভব। মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, কোনো বিপদে পড়া ব্যক্তিকে সাহায্য করার জন্য সাধারণ মানুষ কেন এগিয়ে আসে না। এর কারণ তাদের “উদাসীনতা” বা “স্বার্থপরতা” নয়, বরং এর কারণ হলো, সেই মুহূর্তে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নেওয়ার মতো কোনো জোরালো ভিত্তি তারা খুঁজে পায় না। অদ্ভুতভাবে, যখন চারপাশে অনেক লোক উপস্থিত থাকে, তখন দায়িত্ব এড়ানো আরও সহজ হয়ে যায়, কারণ প্রত্যেকে ভাবে অন্য কেউ হয়তো এগিয়ে আসবে। একে “দায়িত্বের বিভাজন” (diffusion of responsibility) বলা হয়। রাস্তাঘাট বা প্রকাশ্য স্থানে, যেখানে শৃঙ্খলা রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি, সেখানে সাধারণত অনেক মানুষ থাকে। আর এই ভিড়ের কারণেই কোনো একজন ব্যক্তির পক্ষে পুরো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে এগিয়ে আসার সম্ভাবনা কমে যায়। এখানেই পুলিশ অফিসারের ইউনিফর্ম একটি বড় ভূমিকা পালন করে। ওই ইউনিফর্মটি তাকে ভিড়ের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে দেয়, যার উপর দায়িত্ব অর্পিত আছে এবং যাকে সাহায্য করতে বললে তিনি তা করতে বাধ্য। এছাড়া, একজন সাধারণ নাগরিকের তুলনায় একজন প্রশিক্ষিত পুলিশ অফিসার অনেক সহজে আবেগবর্জিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। রাস্তার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কোনটি জরুরি এবং কোনটি কেবল একটি এলাকার জাতিগত অহংকার বা বিশুদ্ধতা রক্ষা করার চেষ্টা—এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করার মতো মানসিকতা তাদের থাকার কথা, যা সিলভার লেকের মতো নাগরিক টহলদারদের নাও থাকতে পারে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমেরিকার পুলিশ বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা বাড়ার বদলে কমছে। অনেক বড় বড় শহরে কর্মরত পুলিশ অফিসারের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এই ঘাটতি পূরণ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে, প্রতিটি পুলিশ বিভাগকে তাদের সীমিত সংখ্যক অফিসারদের অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করতে হচ্ছে। কিছু এলাকা এতটাই অপরাধপ্রবণ এবং সেখানকার বাসিন্দারা এতটাই হতাশ যে, সেখানে পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার মতো সাধারণ পুলিশি ব্যবস্থা একেবারেই অকার্যকর। সীমিত সম্পদ দিয়ে পুলিশ সেখানে বড়জোর একের পর এক আসতে থাকা জরুরি কলের ভিত্তিতে সাড়া দিতে পারে। আবার, অন্য কিছু এলাকা এতটাই শান্ত ও স্থিতিশীল যে সেখানে বাড়তি টহলদারির কোনো প্রয়োজনই নেই। তাই, সফল কৌশল হলো সেইসব এলাকাকে চিহ্নিত করা, যেগুলো “টিপিং পয়েন্ট” বা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। অর্থাৎ, এমন এলাকা যেখানে জনশৃঙ্খলা ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে কিন্তু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি; যেখানে মানুষ ভয়ে ভয়ে রাস্তাঘাট ব্যবহার করে; যেখানে যেকোনো মুহূর্তে একটি জানালা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং যদি পুরো এলাকাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হয়, তবে সেই প্রথম ভাঙা জানালাটি খুব দ্রুত মেরামত করা আবশ্যক। এখানেই একজন পুলিশ অফিসারের উপস্থিতি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

দুর্ভাগ্যবশত, বেশিরভাগ পুলিশ বিভাগের কাছে এই ধরনের “টিপিং পয়েন্ট” এলাকাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার এবং সেখানে বিচক্ষণতার সাথে অফিসার নিয়োগ করার মতো কোনো পদ্ধতিগত ব্যবস্থা নেই। পুলিশ মোতায়েন করা হয় মূলত দুটি ভুল পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। প্রথমত, অপরাধের হারের ভিত্তিতে, যার ফলে একটি মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়: যেসব এলাকা সবেমাত্র খারাপ হতে শুরু করেছে, সেখান থেকে পুলিশ সরিয়ে সেইসব এলাকায় পাঠানো হয়, যেখানে অপরাধ পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অর্থাৎ, যেখানে রোগ প্রতিরোধ করা যেত, সেখান থেকে ডাক্তার সরিয়ে মুমূর্ষু রোগীর কাছে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, পরিষেবা দেওয়ার জন্য আসা কলের সংখ্যার ভিত্তিতে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ, কারণ বেশিরভাগ সাধারণ নাগরিক কেবল ভয় পেলে, বিরক্ত হলে বা কোনো ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা দেখলে পুলিশকে ফোন করে না; তারা ফোন করে যখন কোনো বড় অপরাধ ঘটে যায়। তাই বিচক্ষণতার সাথে টহল ব্যবস্থা সাজাতে হলে, পুলিশ বিভাগকে পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে সরাসরি এলাকাগুলো পরিদর্শন করতে হবে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাদের বুঝতে হবে, ঠিক কোন এলাকায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারের উপস্থিতি মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে পারবে।

পুলিশের এই সীমিত সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার একটি নতুন উপায় কিছু সরকারি আবাসন প্রকল্পে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এইসব প্রকল্পে ভাড়াটিয়াদের সংগঠনগুলো তাদের ভবনে টহলের জন্য ডিউটির বাইরে থাকা পুলিশ অফিসারদের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ করছে। এই ব্যবস্থার একাধিক সুবিধা রয়েছে। জনপ্রতি খরচের পরিমাণ খুব বেশি নয়, ডিউটির বাইরে থাকা অফিসারটি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, বাসিন্দারা নিজেদের অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করে। এই ব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী বা প্রাইভেট গার্ড নিয়োগের চেয়ে সম্ভবত অনেক বেশি সফল। নিউয়ার্কের পরীক্ষাটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, কেন এটি বেশি কার্যকর। একজন প্রাইভেট গার্ড তার উপস্থিতির মাধ্যমে হয়তো অপরাধীদের ভয় দেখাতে পারে বা বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করছে না, অথচ সমাজের বা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুনকে (যেমন, ভবনের ভেতরে গোলমাল করা বা বহিরাগতদের নিয়ে এসে উৎপাত করা) তোয়াক্কা করছে না, তাকে বাধা দেওয়ার বা নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভাবনা তার কম। কারণ তার সেই আইনি বা মানসিক অধিকার নেই। অন্যদিকে, একজন শপথবদ্ধ অফিসার—অর্থাৎ একজন “আসল পুলিশ”—হওয়ার কারণে তার মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস, কর্তব্যের অনুভূতি এবং ক্ষমতার একটি আবহ বা “aura of authority” থাকে, যা এই ধরনের কঠিন কিন্তু জরুরি কাজগুলো করার জন্য অপরিহার্য।

এর পাশাপাশি আরও কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন, টহলরত অফিসারদের তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার সময় বাস বা সাবওয়ের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। গণপরিবহনে থাকাকালীন তারা এর নিয়মকানুন, যেমন—ধূমপান, মদ্যপান বা বিশৃঙ্খল আচরণ করা—ইত্যাদি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। এই নিয়ম প্রয়োগ করার জন্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার মতো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই; কেবল তাকে বাস বা ট্রেন থেকে নামিয়ে দিলেই যথেষ্ট। কারণ এই ধরনের ছোটখাটো অপরাধ নিয়ে পুলিশ স্টেশন বা আদালত মাথা ঘামাতে চায় না। সম্ভবত, বাসে এইভাবে এলোমেলো কিন্তু নিরলসভাবে নিয়মকানুন প্রয়োগ করতে থাকলে গণপরিবহনেও এমন একটি সভ্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা আমরা এখন বিমানে ভ্রমণ করার সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নিই।

তবে, এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হলো মানসিকতার পরিবর্তন। আমাদের সবাইকে—পুলিশ, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ—এটা বুঝতে হবে যে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের একটি অত্যন্ত জরুরি এবং মৌলিক কাজ। পুলিশ বিভাগ জানে যে এটি তাদের দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি। তারা এটাও সঠিকভাবে বিশ্বাস করে যে, অপরাধ তদন্ত করা বা জরুরি কলে সাড়া দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাদ দিয়ে কেবল শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা— অর্থাৎ সমাজ এবং নীতিনির্ধারকরা—গুরুতর এবং সহিংস অপরাধ নিয়ে এত বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছি যে, আমরা হয়তো পরোক্ষভাবে পুলিশকে এটা ভাবতে উৎসাহিত করেছি যে, তাদের কাজের বিচার হবে কেবল বড় বড় অপরাধী ধরার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। এর ফল হয়েছে মারাত্মক। পুলিশ প্রশাসকরা তাদের লোকবল সেইসব এলাকায় পাঠান যেখানে অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি (যদিও সেই এলাকাগুলো অপরাধমূলক আক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ না-ও হতে পারে)। তারা পুলিশি প্রশিক্ষণে আইন এবং অপরাধী ধরার কৌশলের উপর জোর দেন, কিন্তু রাস্তার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কীভাবে শান্তিপূর্ণ রাখা যায়, সেই ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণে জোর দেন না। এবং তারা প্রায়শই “নিরীহ” বলে বিবেচিত আচরণগুলোকে (যেমন, প্রকাশ্য মদ্যপান, রাস্তায় পতিতাবৃত্তি, বা অশ্লীল পোস্টার প্রদর্শন) অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে খুব দ্রুত সায় দেন। অথচ তারা ভুলে যান যে, এই “নিরীহ” আচরণগুলোই একটি পেশাদার চোরের দলের চেয়েও অনেক দ্রুত একটি সুন্দর সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সর্বোপরি, আমাদের সেই পুরোনো কিন্তু এখন প্রায় পরিত্যক্ত একটি ধারণায় ফিরে আসতে হবে: পুলিশের দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিবিশেষকে রক্ষা করা নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়কে রক্ষা করা। আমাদের বর্তমান অপরাধের পরিসংখ্যান বা সমীক্ষাগুলো কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতির হিসাব রাখে—যেমন, কার গাড়ি চুরি হলো বা কার বাড়ি ডাকাতি হলো। কিন্তু এগুলো কখনোই সাম্প্রদায়িক ক্ষতি পরিমাপ করে না—যেমন, একটি পার্ক শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে যাওয়া বা প্রতিবেশীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়া। ঠিক যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন কেবল রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে সামগ্রিক স্বাস্থ্য গড়ে তোলার উপর জোর দিচ্ছে, যা একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা; তেমনি পুলিশ এবং আমাদের সমাজের বাকি সবারও এটা স্বীকার করা উচিত যে, রোগের চিকিৎসার মতো করে অপরাধ দমনের পাশাপাশি, ভাঙা জানালাবিহীন একটি সুস্থ ও অক্ষত সম্প্রদায় বজায় রাখা—যা একটি প্রতিরোধমূলক কৌশল—কতটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *