ভাঙা শৃঙ্গের গান

বিস্তীর্ণ প্রান্তর আজ বিজন, পর্যদুস্ত।
আমার শৃঙ্গে লেগেছিল যেটুকু আকাশ, আজ ম্রিয়মাণ।
পিঠে বসে আছে এক ধূর্ত ফসলভোগী,
তার চোখেমুখে আমার জিগীষার অপমৃত্যু নিয়ে এক নির্লিপ্ত কৌতুক।
পথের ধারের ডোবার জলে দেখি প্রতিবিম্ব—
এক নিকষ আঁধারে ডুবে থাকা পরাজিত জন্তু;
শৃঙ্গ আছে, স্পৃহা নেই।
যে উন্মত্ততায় ভেঙেছিলাম শিকল,
সেই শক্তি আজ তার হাতের লাগামে বন্দী এক ক্রীতদাস।

অথচ কী এক ক্ষণপ্রভা জ্বলেছিল সেদিন!
আদিম তাড়নায় ভেঙেছিলাম জীর্ণ দরজা।
সামনে ছিল দুটি পথ—
একদিকে অনিন্দ্য এক বাগানের রূপরেখা, অঙ্কুরোদ্গমের শান্ত মন্ত্র;
আর অন্যদিকে এক আপাতরম্য হাতুড়ি, প্রলয়কাণ্ডের প্রতিজ্ঞা।
আমি ধ্বংসের সেই কুহকেই ভুলেছিলাম নিজেকে,
ভাবিনি ভাঙার শব্দ থামলেই নেমে আসে অনন্ত শূন্যতা।
ভেবেছিলাম, গুঁড়িয়ে দিলেই সবকিছুর অবসান;
বুঝিনি, শূন্য মস্তিষ্ক সয়তানের কারখানা।

কিন্তু ভাঙা শৃঙ্গ দিয়েও মাটি চেনা যায়।
রক্তাক্ত ক্ষুর দিয়েও আগাছা উপড়ানো যায়।
আমি আর দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ষাঁড় নই, হব বনমালী।
এই পর্যদুস্ত প্রান্তরেই করব প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর,
অধ্যবসায় দিয়ে সিঞ্চন করব সময়ের বীজ,
আর অসীম তিতিক্ষায় আগলে রাখব শেকড়ের কচি চারা।
একদিন এইখানে মহীরুহ হবে, তার শাশ্বত ছায়ায়
জন্ম নেবে নব কাকলী, আর উঠবে নতুন অংশুমালী।

লিংকন, নিউইয়র্ক
২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ইং

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *