এই শহরের ব্যস্ত স্রোতে সকালটা ফিকে,
স্টারবাকস ডেকে নিল তার উষ্ণতার দিকে।
লাইনে দাঁড়ালাম, ভাবলাম নেব চায় লাতে,
নেমপ্লেটে “সিনথিয়া” দেখে ভাবনা উঠল লাটে।
সিনথিয়া টুকে নিচ্ছিল নাম, বললাম, “পদ্মফুল”,
“Can you spell it?”— প্রশ্নে ভাঙলো আমার ধ্যান।
হেসে বললাম, “You have to smell it!”
“Sorry?”— তার মুখে ছিল অবাক হওয়ার ভান।
বললাম, “You may write Lotus”, উত্তরে সে হাসে,
“Funny name for a boy!”—লেখে কফি কাপের পাশে।
সেই থেকে ‘লোটাস’ নামেই সে লিখে পরিচয়,
সপ্তার পর সপ্তাহ চলে মিষ্টি অভিনয়।
লোটাস গার্ডেনের নীরবতা ভেঙে, এনেছি এক ভেজা কোরক,
আমার এই ছোট্ট অপরাধের সাক্ষী থাকুক চাঁদ আর এই নিউইয়র্ক।
ফুলটা দেখে তার দু’চোখে ফুটলো অবাক চাওয়া,
যেন শহরের বুকে এক ঝলক পূবালী গ্রাম্য হাওয়া।
একটু পরেই সেই বিস্ময় ঠোঁটের কোণে এসে,
পরিণত হলো ছোট্ট এক দুষ্টু-মিষ্টি হাসে।
মনে মনে তখন অন্য ছবি, দূর বহুদূর,
হাওড়ের বুকে ভাসছে ডিঙি, মিষ্টি কোনো সুর।
যতদূর চোখ যায়, জলে লাল শাপলার বন,
সিনথিয়া আনমনে হাত ডুবিয়ে হারায় তার মন।
[স্টারবাকসের সিনথিয়া পদ্মফুল দেখেনি]
নিউইয়র্ক
লিংকন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৫
Leave a Reply