মোনালিসা

ল্যুভরের পেট চিরে চুরি যাওয়া আলোয়,
শত প্রহরার ফাঁক গলে চুরি গেলো মোনালিসা!
আহা, মোনালিসা!
আহা, সেই ভূবনমোহিনী হাসি;
লিওর জাদু আঁকা এক অনন্ত বিস্ময়।

চুরি আমার করারই ছিল।
তমালিকাকে পড়াব বলে।
তমালিকা, যে হাতের ছোঁয়ায় পৃথিবী দেখে।
তার চোখের আলো চুরি গেছে জন্ম থেকে।

সেদিন সন্ধ্যায় সে ফ্রেমে হাত বুলিয়ে বুঝছিল।
খোদাই করা কাঠের শক্ত, শীতল সীমানা।
বস্তুত তমার সন্ধ্যা রাত দিন সব সমান,
বাতাসে শুঁকলো আদিম স্মৃতি;
শত বছরের পুরোনো তেল আর বার্নিশের ঘ্রাণ।

তার আঙুলের ডগা প্রথমে পথ খুঁজছিল সেই বিশাল, টানটান শূন্যতায়।
শুধু চোখ বা চিবুক নয়, সে পড়ছিল রঙের প্রতিটি আস্তরণ,
ব্রাশের প্রতিটি টানের শুকনো খাঁজ।
ত্বকের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সময়ের সূক্ষ্ম ফাটল,
যেন শুকিয়ে যাওয়া নদীর মানচিত্র।

​আমি তার ঠোঁটে সে রহস্যময় হাসির অপেক্ষারত।
আপনিও আমার সাথে দেখুন।
দেখুন, তমা, আঙুল ছুঁইয়ে মোনালিসা দেখছে।
দেখছে কারণ তার আলো চুরি গেছে জন্ম থেকে।

ভেবেছিলাম আমার অপরাধ সার্থক হবে,
তমা লিসার হাসি বুঝে ঠোঁট মেলাবে।
আমি দ্বিধায় পড়ব কার হাসি বেশি সুন্দর ভেবে।
​এই তো, এখনই সেটি হবে।

তমার আঙুল পুরোনো তেলরঙের ফাটল ছুঁয়ে
লিসার ঠোঁট বরাবর এগিয়ে নিল।
এই তো, এই তো, আপনিও দেখুন আমার সাথে।

হঠাৎ চাপা কান্না।
চুরমার আমার ভাবনার আয়না।
আপনিও কি দেখছেন?
তমা বলল, “না, এ হাসি নয় স্পষ্ট।
এ গুমোট চেপে আসা কান্না।
কেন আমাকে দেখালে এই কষ্ট?”

তমার ​চোখে জল ছিল না,
কিন্তু কথায় ছিল তীব্র বেদনা।
আমার চুরির মোনালিসা তমার আয়না;
হাসি কই? সে তো কষ্ট ছাড়া কিছু দেয়না।
আমি চেয়েছিলাম তাকে হাসি দিতে উপহার,
আর দিলাম এক যন্ত্রণার অন্ধকার।

লিংকন, নিউ ইয়র্ক
২ নভেম্বর, ২০২৫ ইং

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *