আমার টেবিলে পড়ে আছে রাষ্ট্রের সেই যান্ত্রিক বিধান,
প্রতিটি অক্ষরে তার— হিসাবী জিঘাংসা।
আমি পড়ি উন্নয়নের আস্ফালন, শুনি যুক্তির বজ্রধ্বনি,
আর দেখি পাহাড়ের বুকে নেমে আসা এক গানিতিক নিধান।
তার চোখে বৃক্ষটি শুধু অনাবাদী কাঠ, এক আদিম ভুল,
তাই লৌহ-ক্ষুধায় ছুটে আসে ইস্পাতের করাত।
অথচ আমার কানে বাজে সেই নীরব আর্তনাদ,
যে আর্তনাদ ঢেকে যায় স্বর্নলতার সবুজ চক্রান্তে।
কী আশ্চর্য স্নেহের শোষণ তার!
বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে বাড়িয়ে দেয় রেশমি শ্বাসরোধ।
আমার কলমে জমে ওঠে সময়ের ধ্বংসস্তূপ,
চোখের সামনে ভাসে হারানো দিনের উপাখ্যান।
অথচ একদিন এই পাহাড় ছিল এক মহীরুহ,
তার স্তব্ধ সমাধিতে ধ্যানমগ্ন ছিল অনাদি কাল।
তারই ছায়ায় বেড়ে উঠেছিল লতা—সহাবস্থানের বিশ্বাসে,
আর আঁধার নামলে উৎসব হতো আলোর—জোনাকিদের বিন্দু-বিপ্লবে।
রাষ্ট্রের চোখে যা ছিল শুধু উদ্বৃত্ত ভূমি,
আমাদের চোখে ছিল এক আত্মার স্থাপত্য।
নিয়তি দাঁড়ানো এক বিদীর্ণ বিশ্বাসের মোড়ে।
হয়তো করাতের নকশার ত্রাস জিতে যাবে,
পাহাড়ের বুকে নেমে আসবে পাথুরে নৈঃশব্দ্য,
আর পড়ে থাকবে শুধু স্মৃতির শবদেহ।
অথবা,
এই মখমলি মৃত্যু ঠেলে জেগে উঠবে বৃক্ষের অন্তিম প্রতিরোধ,
মাটির গভীরে উচ্চারিত হবে তার শিকড়ের শপথ।
আঁধারের বুকে তখনও জ্বলবে কোনো একাকী জোনাকির
ফসফরাসের সাহস—এক আলোর বিদ্রোহ।
আমার টেবিলে পড়ে থাকে খোলা খাতা,
আর ইতিহাসের অশ্রু দিয়ে আমি শুধু লিখি
এক বৃক্ষের জন্য লেখা অসমাপ্ত শোকগাথা।
নিউইয়র্ক
৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ইং
Leave a Reply