Author: Rabiul Hasan

  • জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট: একজন প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকের কথা – পর্ব ৪


    অধ্যায় ৯

    পৃষ্ঠপোষকতায় পারস্পরিক সহযোগিতা

    যখনই ট্যামানি ভোটে পরাজিত হয়, তখন মানুষ ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুরু করে যে সংগঠনটা ভেঙে যাবে। তারা বলে যে আমরা সরকারি পদ ছাড়া চলতে পারব না এবং ডিস্ট্রিক্ট নেতারা দল থেকে বেরিয়ে যাবে। ১৯৯৪ এবং ২০০১ সালে যখন আমরা হেরেছিলাম, তখনও একই কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা কি হয়েছিল? না। একজনও বড় মাপের ট্যামানি লোক দল ছাড়েনি, আর আজ সংগঠন আগের চেয়েও শক্তিশালী।

    এটা কীভাবে সম্ভব হলো? এর কারণ হলো ট্যামানির কাছে একটির বেশি পথ খোলা থাকে।

    আমি স্বীকার করি যে পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো সংগঠনকে একসাথে ধরে রাখা যায় না। মানুষ বিনা কারণে রাজনীতিতে আসে না। তারা এর থেকে কিছু পেতে চায়।

    কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা তো এক ধরনের নয়। ২০০১ সালে আমরা বেশিরভাগ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়েছিলাম, কিন্তু ট্যামানির কাছে বিশাল ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতা আছে, যা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরেও সবকিছু সচল রাখে।

    আমাকে ধরো। যখন লো ক্ষমতায় এসেছিল, আমার কিছু লোক সরকারি চাকরি হারিয়েছিল, কিন্তু আমি তাদের সবার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। আমি জানি না রেলওয়ে এবং এলিভেটেড রেলরোডে তাদের জন্য কতগুলো চাকরি জোগাড় করে দিয়েছিলাম—কয়েকশ’ তো হবেই।

    আমি ঠিকাদারদের দ্বারা পরিচালিত সরকারি কাজগুলোতে আরও অনেককে চাকরি দিয়েছিলাম, আর আমার ডিস্ট্রিক্টে কোনো ট্যামানি লোক না খেয়ে থাকে না। চাকরির আবেদনের ওপর প্লাঙ্কিটের ‘ওকে’ কখনোই বাতিল হয় না, কারণ তারা সবাই জানে যে প্লাঙ্কিট আর ট্যামানি বেশি দিন ক্ষমতার বাইরে থাকে না। বুঝতে পারছ?

    আমাকে এটাও বলতে দাও যে আমি সরকারি অফিসে থাকা রিপাবলিকানদের কাছ থেকেও চাকরি পেয়েছি—কেন্দ্রীয় এবং অন্য জায়গা থেকে। যখন ট্যামানি ক্ষমতায় থাকে, তখন আমি রিপাবলিকানদের জন্য ভালো কাজ করি। যখন তারা ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা আমাকে ভোলে না।

    আমি আর রিপাবলিকানরা বছরের মাত্র একদিনের জন্য শত্রু—নির্বাচনের দিন। তখন আমরা দাঁতে দাঁত দিয়ে লড়াই করি। বাকি সময়টা আমরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে চলি।

    নির্বাচনের দিন আমি জর্জ ওয়ানমেকারের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব বেশি ভোট পাওয়ার চেষ্টা করি, যে ফিফটিন্থের রিপাবলিকান নেতা। অন্য দিনগুলোতে জর্জ আর আমি সেরা বন্ধু। আমি তার কাছে গিয়ে বলতে পারি: “জর্জ, আমি চাই তুমি আমার এই বন্ধুটির জন্য একটা ব্যবস্থা করে দাও।” সে বলে: “ঠিক আছে, সিনেটর।” অথবা উল্টোটাও হয়।

    দেখো, আমরা শুল্ক আর মুদ্রা এবং এমন সব বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করি, কিন্তু আমরা এই মূল প্রস্তাবে একমত যে যখন একজন মানুষ রাজনীতিতে কাজ করে, তখন তার এর থেকে কিছু পাওয়া উচিত।

    এইভাবে রাজনীতিকদের একসাথে থাকতে হয়, না হলে অল্প সময়ের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না। সিভিল সার্ভিস সবকিছু গ্রাস করে ফেলবে, রাজনীতিকরা বেকার হয়ে যাবে, প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়বে আর খুব শিগগিরই “রাজার জয় হোক” (Vevey le roil) বলে চিৎকার শোনা যাবে।

    এই সিভিল সার্ভিসের রাক্ষসের কথা ভাবলেই আমার রক্ত টগবগ করে ফোটে। আমি ইতিমধ্যেই এ সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছি, কিন্তু এর ভয়ংকর কাজের আরও একটা উদাহরণ এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে।

    আমাকে একটা দুঃখজনক কিন্তু সত্য গল্প বলতে দাও। গত বুধবার ক্যাভালরি সিমেট্রিতে গাড়ির একটা সারি যাচ্ছিল। আমিও সেগুলোর একটাতে ছিলাম। এটা ছিল আমার ডিস্ট্রিক্টের একজন তরুণের শেষকৃত্য—একটা উজ্জ্বল ছেলে, যার ওপর আমার অনেক আশা ছিল।

    যখন সে স্কুলে যেত, তখন সে ছিল ডিস্ট্রিক্টের সবচেয়ে দেশপ্রেমিক ছেলে। তার মতো করে কেউ “দ্য স্টার-স্প্যাঙ্গলড ব্যানার” গাইতে পারত না, কেউ তার মতো পতাকা ওড়াতে পছন্দ করত না, আর কেউ ফোর্থ জুলাইয়ে এত বেশি পটকা ফোটাত না। আর যখন সে বড় হলো, তখন সে শহরের যেকোনো একটা দপ্তরে কাজ করে তার দেশকে সেবা করার সিদ্ধান্ত নিল। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাস করা ছাড়া সেখানে পৌঁছানোর কোনো উপায় ছিল না। যাই হোক, সে সিভিল সার্ভিস অফিসে গেল এবং সেইসব বোকা প্রশ্নের মুখোমুখি হলো। পরের দিন আমি তাকে দেখলাম—সেটা ছিল মেমোরিয়াল ডে, আর সৈন্যরা মার্চ করছিল, পতাকা উড়ছিল আর মানুষজন উল্লাস করছিল।

    আমার সেই তরুণ কোথায় ছিল? রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে, পুরো দৃশ্যটার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাচ্ছিল। যখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন সে এত চুপচাপ, তখন সে এক ধরনের বন্য হাসি হেসে বলল: “এসব কী ফালতু ব্যাপার!”

    ঠিক তখন একটা ব্যান্ড “লিবার্টি” বাজাচ্ছিল। সে আবার বন্যভাবে হাসল এবং বলল: “স্বাধীনতা? ধ্যাত!”

    আমার মনে হয় না এটা নিয়ে আর বেশি কিছু বলার দরকার আছে।

    সেই তরুণ যখন থেকে সিভিল সার্ভিস অফিস থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তখন থেকেই তার সব দেশপ্রেম হারিয়ে গিয়েছিল। সে আর তার দেশের জন্য কোনো কিছু চিন্তা করত না। সে উচ্ছন্নে গিয়েছিল।

    সে শুধু একা নয়। ওইসব জঘন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রতিটি উজ্জ্বল তরুণের মাথার ওপর একটা করে সমাধিশিলা রয়েছে। তারা জাতির পৌরুষকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে একটা প্রহসনে পরিণত করছে। আমাদের একটি নতুন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন, পুরো বোকা সিভিল সার্ভিস ব্যবসা থেকে স্বাধীনতা।

    আমি এখন এসব কিছু এই জন্য বলছি যাতে বোঝানো যায় কেন দুই বড় দলের রাজনীতিকরা একে অপরকে সাহায্য করে, এবং কেন ট্যামানির লোকেরা শহরে ক্ষমতায় না থাকলেও মোটামুটি খুশি থাকে। যখন আমরা জিতব, তখন আমি আমার এলাকার কোনো যোগ্য রিপাবলিকানকে ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় কষ্ট পেতে দেব না, যদিও অবশ্যই আমি প্রথমে আমার নিজের লোকদের দেখাশোনা করি।

    আমি কখনোই অদলীয় ব্যবসার পক্ষে যাইনি, কিন্তু আমি সত্যিই মনে করি যে দুই দলের সব নেতার একসাথে আসা উচিত এবং সিভিল সার্ভিস, তাদের সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে একটি খোলাখুলি, অদলীয় লড়াই করা উচিত। তারা তাদের সাম্রাজ্যবাদ এবং মুক্ত রৌপ্য এবং উচ্চ শুল্ক নিয়ে ঝগড়া চালিয়ে যেতে পারে। সিভিল সার্ভিসের পাশে ওগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই, যা সরাসরি সরকারের মূলে আঘাত করে। সেই সময় দ্রুত আসছে যখন হয় সিভিল সার্ভিসকে না হলে রাজনীতিকদের সরে যেতে হবে। আর রাজনীতিকরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হয়, ওইসব ছোটখাটো বিষয়গুলো কিছু সময়ের জন্য বাদ দিয়ে সিভিল সার্ভিসের বন্যার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায় যা পশ্চিমাঞ্চলের বন্যার মতো দেশকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাহলে এটা তারা যা আশা করে তার থেকেও দ্রুত আসবে।


    অধ্যায় ১০

    ব্রুকলিনের বাসিন্দারা জন্মগতভাবে ‘হেসিড’

    কিছু মানুষ অবাক হয় যে ব্রুকলিনের ডেমোক্র্যাটরা ডেভিড বি. হিল এবং আপস্টেট এলাকার লোকজনের পক্ষ নিচ্ছে কেন। অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি একজন ব্রুকলিনের বাসিন্দাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, আর আমি তোমাকে এর কারণ বলতে পারি। এর কারণ হলো একজন ব্রুকলিনের বাসিন্দা জন্মগতভাবে একজন গ্রাম্য বা ‘হেসিড’, এবং সে কখনোই একজন সত্যিকারের নিউ ইয়র্কার হতে পারে না। তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েও তা বানানো যাবে না। একত্রীকরণও তাকে নিউ ইয়র্কার বানাতে পারেনি, আর পৃথিবীর কোনো কিছুই পারবে না। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ এখানে স্থায়ী হয়ে একজন ভালো নিউ ইয়র্কার হতে পারে। একজন আইরিশম্যানও পারে; আসলে, আয়ারল্যান্ডে একজন আইরিশ ছেলে যে প্রথম শব্দটি শেখে, তা হলো “নিউ ইয়র্ক,” আর যখন সে বড় হয়ে এখানে আসে, তখন সে সাথে সাথেই এখানে নিজেকে আপন মনে করে। এমনকি একজন জাপানি বা চাইনিজও একজন নিউ ইয়র্কার হতে পারে, কিন্তু একজন ব্রুকলিনের বাসিন্দা কখনোই পারবে না।

    আর কেন? কারণ ব্রুকলিন পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গার মতো মনে হয় না। একজন মানুষ যখন ব্রুকলিনের পাথুরে রাস্তায় বড় হয়, আর নিউটন ক্রিক এবং গোয়ানাস খালের গন্ধ সবসময় তার নাকে লেগে থাকে, তখন ব্রুকলিন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গা তার জন্য নয়। আর যদি সে সেখানে বড় নাও হয়; যদি সে সেখানে শুধু তার ছেলেবেলায় জন্ম নেয় আর বাস করে এবং তারপর চলে যায়, তবুও সে আর শুধরে যাওয়ার যোগ্য থাকে না। আইনসভায় আমার একটা বক্তৃতায় আমি এর একটা উদাহরণ দিয়েছিলাম, আর এটা এখন আবার বলার মতো। প্রায় পঁচিশ বছর আগে আমি যখন ওয়েস্ট সাইডে একজন নেতা হলাম, তখন আমি সাত বছর বয়সী একজন উজ্জ্বল ছেলেকে দেখেছিলাম, যাকে তার বাবা-মা ব্রুকলিন থেকে এখানে নিয়ে এসেছিল। আমি ছেলেটার প্রতি আগ্রহী হলাম, আর যখন সে বড় হলো, আমি তাকে রাজনীতিতে নিয়ে এলাম। শেষ পর্যন্ত, আমি তাকে আমার ডিস্ট্রিক্ট থেকে অ্যাসেম্বলিতে পাঠালাম। মনে রেখো, ছেলেটা ব্রুকলিন ছেড়েছিল মাত্র সাত বছর বয়সে, আর যখন সে অ্যাসেম্বলিতে গিয়েছিল, তখন তার বয়স ছিল তেইশ। তুমি কি ভাববে না যে সে ব্রুকলিন সম্পর্কে সব ভুলে গিয়েছিল? আমিও তাই ভেবেছিলাম, কিন্তু আমি পুরোপুরি ভুল ছিলাম। যখন সেই তরুণ অ্যাসেম্বলিতে গেল, তখন সে নিউ ইয়র্ক সিটি নিয়ে কোনো বিল বা বিতর্কের দিকে মনোযোগ দিত না। এমনকি সে তার নিজের ডিস্ট্রিক্ট নিয়েও কোনো আগ্রহ দেখাত না। কিন্তু যখনই ব্রুকলিনের নাম উচ্চারিত হতো, বা গোয়ানাস খাল বা লং আইল্যান্ড রেলরোড নিয়ে কোনো বিল উত্থাপন করা হতো, তখন সে পুরোপুরি মনোযোগী হয়ে উঠত। পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুতে তার আগ্রহ ছিল না।

    শেষে আমি তাকে ধরে ফেললাম—তুমি কি মনে করো আমি তাকে কী করতে গিয়ে ধরেছিলাম? একদিন সকালে আমি সিনেট থেকে অ্যাসেম্বলি কক্ষে গেলাম, আর সেখানে আমি আমার সেই তরুণকে দেখতে পেলাম—সে আসলে একটা ব্রুকলিনের সংবাদপত্র পড়ছিল! যখন সে আমাকে আসতে দেখল, তখন সে কাগজটা লুকানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি তাকে হাতে-নাতে ধরলাম, আর আমি তাকে বললাম: “জিমি, আমার ভয় হচ্ছে নিউ ইয়র্ক তোমার জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয় নয়। তোমার বর্তমান মেয়াদের পর তোমার ব্রুকলিনে ফিরে যাওয়া উচিত।” আর সে তাই-ই করল। আমি সেদিন তাকে ব্রুকলিন ব্রিজ পার হতে দেখলাম, এক হাতে একটা শৌখিন ঘোড়া আর অন্য হাতে একটা পুতুলের গাড়ি নিয়ে, আর তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে পুরোপুরি খুশি।

    ম্যাককারেন এবং তার লোকজনও একই রকম। তারা তাদের মাথায় ঢোকাতে পারে না যে তারা নিউ ইয়র্কার, আর স্বাভাবিকভাবেই তারা মারফির বিরুদ্ধে হিল এবং তার গ্রাম্য লোকদের সমর্থন করার দিকে ঝুঁকে পড়ে। ম্যাককারেনকে নিয়ে আমার আশা ছিল, যদিও সম্প্রতি তা চলে গেছে। সে এখানে এত বেশি সময় কাটায় এবং এত বেশি পৃথিবী দেখেছে যে আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো এর ব্যতিক্রম হবে এবং তার ব্রুকলিনের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসবে, কিন্তু আলবানিতে তার কার্যকলাপ দেখায় যে এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম নেই। শোনো, একজন ব্রুকলিনের বাসিন্দাকে ভালো নিউ ইয়র্কার হিসেবে গড়ে তোলার চেয়ে একজন হটেন্টটকে (আফ্রিকার এক আদিবাসী গোষ্ঠী) হাতে নেওয়া আমি পছন্দ করব। সত্যি বলছি, তাই করব।

    আর হ্যাঁ, ভাবতে গেলে, আপস্টেট ডেমোক্র্যাট কি সত্যিই আর আছে? আমার কাছে এটা কখনোই সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয়নি যে তাদের অস্তিত্ব আছে। আমি জানি রাজ্য কমিটির কিছু আপস্টেট সদস্য নিজেদের ডেমোক্র্যাট বলে। এ ছাড়াও, আমি ব্রঙ্কসের ওপারে আরও অন্তত ছয়জন লোককে জানি যারা নিজেদের ডেমোক্র্যাট বলে পেশা চালায়, আর আমি আরও কয়েকজনের কথা সম্প্রতি শুনেছি। কিন্তু যদি রাজ্যে কোনো সত্যিকারের ডেমোক্র্যাট থাকে, তাহলে নির্বাচনের দিন তাদের কী হয়? তারা নিশ্চয়ই বুথের কাছেও যায় না অথবা রিপাবলিকান টিকিটে ভোট দেয়। গত তিনটি রাজ্য নির্বাচন দেখো! রুজভেল্ট ব্রঙ্কসের ওপরে ১,০০,০০০ এর বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিল; ওডেল প্রথমবার যখন লড়েছিল, তখন সে ১,৬০,০০০ ভোটের কাছাকাছি ব্যবধানে জিতেছিল আর দ্বিতীয়বার ১,৩১,০০০ ভোটে। ডেমোক্র্যাটদের প্রায় সব ভোটই নিউ ইয়র্ক সিটিতে পড়েছে। রিপাবলিকানরা রাজ্যে যত ভোট চায়, তত ভোট পায়। এমনকি যখন আমরা ২০০২ সালে শহরে কোলারের জন্য ১,২৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলাম, রিপাবলিকানরা ব্রঙ্কসের ওপরে ৮,০০০ ভোটে আরও এগিয়ে গিয়েছিল।

    এই কারণেই যখন আমি শুনি যে আপস্টেট ডেমোক্র্যাটরা আমাদের রাজ্য সম্মেলন নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বলছে আমরা কাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেব, তখন আমি ক্ষিপ্ত হয়ে যাই। এটা অনেকটা এমন যে স্টেটেন আইল্যান্ড নিউ ইয়র্ক সিটি কনভেনশনে নির্দেশ দিতে চাইছে। আমার মনে আছে একবার সাইরাকিউসের একজন লোক ডেমোক্র্যাটিক ক্লাবে রিচার্ড ক্রোকারের কাছে এসে একটা পরিচিতিমূলক চিঠি দিয়েছিল এবং বলেছিল: “আমি স্ট্রিট ক্লিনিং ডিপার্টমেন্টে একটা চাকরি খুঁজছি; আমার পেছনে একশো আপস্টেট ডেমোক্র্যাট আছে।” ক্রোকার লোকটার দিকে এক মিনিট ধরে শক্তভাবে তাকিয়ে রইল আর তারপর বলল: “আপস্টেট ডেমোক্র্যাট! আপস্টেট ডেমোক্র্যাট! আমি জানতামই না যে কোনো আপস্টেট ডেমোক্র্যাট আছে। একটু এদিক-ওদিক হাঁটো যাতে আমি দেখতে পারি একজন আপস্টেট ডেমোক্র্যাট দেখতে কেমন হয়।”

    আরেকটা জিনিস। যখন কোনো প্রচারণা চলে, তখন কি তুমি কখনো কোনো আপস্টেট ডেমোক্র্যাটের চাঁদা দেওয়ার কথা শুনেছ? তেমন না। ট্যামানিকেই পুরো বিলের খরচ বহন করতে হয়েছে, আর যখন হিলের কোনো লোক প্রচারণায় তাকে সাহায্য করার জন্য নিউ ইয়র্কে এসেছিল, তখন আমাদের তাদের থাকার খরচও দিতে হয়েছে। যখনই টাকা তোলার দরকার হয়, তখন রাজ্যের ওপরে কোনো কাজ হয় না। সেখানকার ডেমোক্র্যাটরা—অবশ্যই যদি সেখানে কোনো ডেমোক্র্যাট থাকে—তখন জঙ্গলে চলে যায়। যদি ট্যামানি হিলের লোকদের হাতে প্রচারণা ছেড়ে দিত আর তারপর দূরে সরে যেত, তাহলে কী হতো? তখন তাদের আলবানির শহরতলিতে একটা শেড ভাড়া করতে হতো সদর দপ্তরের জন্য, যদি না ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি প্রচারণার খরচ দিত। ট্যামানির কাছে ভোট আর নগদ টাকা দুটোই আছে। হিলের দলের কাছে আছে শুধু ফাঁকা বুলি।


    অধ্যায় ১১

    ট্যামানি নেতারা বইয়ের পোকা নয়

    তোমরা ট্যামানির ডিস্ট্রিক্ট নেতাদের অশিক্ষিত বলা অনেক কথা শোনো। যদি অশিক্ষিত মানে সাধারণ জ্ঞান থাকা বোঝানো হয়, তাহলে আমরা দোষ স্বীকার করি। কিন্তু যদি এর মানে হয় যে ট্যামানি নেতাদের কোনো শিক্ষা নেই এবং তারা ভদ্রলোক নয়, তাহলে তারা আসলে জানে না তারা কী নিয়ে কথা বলছে। অবশ্যই, আমরা সবাই বইয়ের পোকা বা কলেজের অধ্যাপক নই। যদি আমরা তা-ই হতাম, তাহলে ট্যামানি হয়তো চার হাজার বছরে একবার নির্বাচনে জিতত। বেশিরভাগ নেতাই সাধারণ আমেরিকান নাগরিক, যারা মানুষের মধ্য থেকে উঠে এসেছে এবং মানুষের কাছাকাছি থাকে। আর ভদ্রলোক যারা নিজেদের নামের মাঝখানে ড্যাশ দিয়ে সাজায়, তাদের পরাজিত করতে এবং শহরের সরকার চালাতে তাদের যেটুকু শিক্ষা দরকার, তা আছে। আমাদের সংগঠনে বইয়ের পোকাও আছে। কিন্তু আমরা তাদের ডিস্ট্রিক্ট নেতা বানাই না। আমরা তাদের প্যারেডের দিনে সাজসজ্জার জন্য রাখি।

    ট্যামানি হল একটা বিশাল বড় যন্ত্র, যার প্রতিটি অংশ তার নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য সূক্ষ্মভাবে সাজানো। এটা এত মসৃণভাবে চলে যে তোমার মনে হবে না এটা একটা জটিল ব্যাপার, কিন্তু আসলে তা-ই। প্রতিটি ডিস্ট্রিক্ট নেতা তার নিজের ডিস্ট্রিক্টের জন্য উপযুক্ত, আর সে অন্য কোনো ডিস্ট্রিক্টে পুরোপুরি মানিয়ে যাবে না। এই কারণেই ট্যামানি কখনোই সেই ভুলটা করে না, যা ফিউশন দল সবসময় করে—তারা এমন লোকদের ডিস্ট্রিক্টে পাঠায় যারা সেখানকার মানুষকে চেনে না এবং তাদের স্বতন্ত্রতার প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই। আমরা বাউয়েরিতে (Bowery) কোনো অভিজাত ব্যক্তিকে পাঠাই না, আবার এমন কাউকে ২৯তম ডিস্ট্রিক্টের নেতা করি না, যে হাতে ভালো লড়াই করতে পারে। ফিউশনপন্থীরা অনেকটা সেই ভুলটাই করে যা কয়েক বছর আগে আলবানির একটা নির্বাচনে একজন নকল ভোটার করেছিল। তাকে ভাড়া করা হয়েছিল যাতে সে এক ডজন নির্বাচনী এলাকায় তাড়াতাড়ি গিয়ে অন্যদের নামে ভোট দিতে পারে, যাতে সেই লোকেরা বুথে পৌঁছানোর আগেই তার কাজ শেষ হয়ে যায়। একটা জায়গায়, যখন তাকে তার নাম জিজ্ঞেস করা হলো, তখন সে সাহস করে উত্তর দিল “উইলিয়াম ক্রসওয়েল ডোন।”

    “ভণ্ডামি করো না। তুমি বিশপ ডোন নও,” পোল ক্লার্ক বলল।

    “শালা, আমি বিশপ নই!”—নকল ভোটারটি চিৎকার করে বলল।

    এখন, এই ধরনের ভুল বিচারের জন্য ফিউশনপন্থীরা দোষী। তারা যে কাজটা করতে যাচ্ছে, তার জন্য উপযুক্ত মানুষ বাছাই করে না।

    যেমন আমাকে ধরো। আমার ডিস্ট্রিক্ট, ফিফটিন্থ, সব ধরনের মানুষ দিয়ে গঠিত, আর এটা সফলভাবে চালানোর জন্য একজন ‘কসমোপলিটান’ (বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ) দরকার। আমি একজন কসমোপলিটান। যখন আমি ডিস্ট্রিক্টের অভিজাত অংশে যাই, তখন আমি তাদের সবার সাথে ব্যাকরণ এবং অন্য সব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি। আমি যখন ছেলে ছিলাম, তখন তিন শীতকাল স্কুলে গিয়েছিলাম, আর আমি অনেক ভালো ভালো জিনিস শিখেছিলাম যা আমি বিশেষ কিছু মুহূর্তের জন্য জমিয়ে রাখি। ডিস্ট্রিক্টের এমন কোনো অভিজাত ব্যক্তি নেই যে জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিটের সাথে কথা বলতে গর্বিত নয়, আর হয়তো তারা আমার সাথে কথা বলে এক-দু’টা জিনিস শেখে। ডিস্ট্রিক্টে একজন বড় ব্যাংকার আছেন, যিনি একদিন আমাকে বলেছিলেন: “জর্জ, তুমি সবচেয়ে জোরালো ইংরেজি বলতে পারো যা আমি কখনো শুনিনি। তুমি আমাকে সিনেটর হোয়ার অফ ম্যাসাচুসেটস-এর কথা মনে করিয়ে দাও।” অবশ্যই, এটা অতিরিক্ত প্রশংসা ছিল; কিন্তু শোনো, সত্যি বলছি, আমি সিনেটর হোয়ারের বক্তৃতা পছন্দ করি। তিনি একবার ইউনাইটেড স্টেটস সিনেটে সিভিল সার্ভিসের অভিশাপ নিয়ে আমার কিছু মন্তব্য তুলে ধরেছিলেন, আর যদিও তিনি আমার সাথে পুরোপুরি একমত ছিলেন না, আমি লক্ষ্য করেছি যে আমাদের ধারণা কিছু কিছু বিষয়ে একই রকম, আর আমাদের দুজনেরই জিনিসগুলোকে জোরালোভাবে বলার একটা দক্ষতা আছে, শুধু তিনি তার শ্রোতাদের জন্য একটু বেশি অলঙ্কার যোগ করতেন।

    ডিস্ট্রিক্টের সাধারণ মানুষের জন্য, আমি তাদের সাথে সবসময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যখন আমি তাদের মাঝে যাই, তখন আমি আমার ব্যাকরণ দেখানোর চেষ্টা করি না, বা সংবিধান নিয়ে কথা বলি না, বা বিদ্যুতে কত ভোল্ট আছে তা নিয়ে বলি না, বা কোনোভাবেই এমন ভাব দেখাই না যে আমি তাদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত। তারা এমন ধরনের আচরণ মেনে নেবে না। না; আমি সব ভণ্ডামি বাদ দিই। সুতরাং তুমি দেখতে পাচ্ছ, আমাকে একদিনে বিভিন্ন ধরনের মানুষ হতে হয়, বলা যায় একজন বাজিকর, যে দ্রুত চরিত্র বদলায়। কিন্তু আমি একটি দিক থেকে সবসময় একই ধরনের মানুষ: আমি আমার বন্ধুদের প্রতি অনুগত থাকি, উচ্চ এবং নীচ সবার প্রতি, যখনই সুযোগ পাই তাদের উপকার করি, আর আমার ভোটারদের জন্য যত চাকরি আছে, সব খুঁজে বের করি। নিউ ইয়র্কে এমন কোনো মানুষ নেই যার আমার মতো রাজনৈতিক চাকরির খোঁজ করার ক্ষমতা আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে আমি প্রায় সবসময় বলতে পারি যে রাতে কোনো চাকরি খালি হয়েছে কি না, আর সেটা কোন দপ্তরে, আর আমিই প্রথম মানুষ যে সেখানে গিয়ে চাকরিটা পায়। শুধু গত সপ্তাহে আমি সকাল ৯টায় ওয়াটার রেজিস্ট্রার স্যাভেজের অফিসে এসে তাকে বলেছিলাম যে আমি আমার একজন ভোটারের জন্য তার অফিসে একটা খালি জায়গা চাই। “ও’ব্রায়েন চলে গেছে তা তুমি কীভাবে জানলে?” তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। “আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি বাতাসে এর গন্ধ পেয়েছিলাম,” আমি উত্তর দিলাম। আসলে এটা সত্যি ছিল। আমি জানতাম না যে দপ্তরে ও’ব্রায়েন নামে একজন লোক ছিল, আর সে যে চলে গেছে, তাও জানতাম না, কিন্তু আমার ঘ্রাণ আমাকে ওয়াটার রেজিস্ট্রারের অফিসে নিয়ে গিয়েছিল, আর এটা আমাকে খুব কমই ভুল পথে চালিত করে।

    সব ডিস্ট্রিক্টে একজন ‘কসমোপলিটান’-এর দরকার হয় না, কিন্তু আমাদের লোকেরা শাসন করার জন্য ঠিক উপযুক্ত ধরনের। ব্যাটারি ডিস্ট্রিক্টে আছে ড্যান ফিন, যিনি এখন বিচারক। হয়তো তুমি ভাববে একজন আদালত বিচারক এমন একটি ডিস্ট্রিক্ট ধরে রাখার জন্য সঠিক লোক নন, কিন্তু তুমি ভুল করছ। ডিস্ট্রিক্টের বেশিরভাগ ভোটার হলো লোয়ার ব্রডওয়ের বড় বড় অফিসের দারোয়ান এবং তাদের সহকারীরা। এই দারোয়ানরা সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং অহংকারী মানুষ। এমনকি আমারও তাদের ধরে রাখতে কষ্ট হবে। একজন বিচারক ছাড়া অন্য কেউ তাদের জন্য যথেষ্ট ভালো নয়। ড্যান দারোয়ানদের সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করে, আর যখন সে ছেলেদের সাথে থাকে, তখন সে বিচারকের সম্মান আলমারিতে রেখে একজন প্রাণবন্ত ভালো বন্ধু হয়ে যায়।

    দ্বিতীয় ডিস্ট্রিক্টের নেতা, বড় টম ফোলি,ও ঠিকমতো মানিয়ে যায়। টম হুইস্কি বিক্রি করে, আর ভালো হুইস্কি, আর চেরি হিল বা চ্যাথাম স্কোয়ারে যদি সে ছয়জন গুন্ডার মুখোমুখি হয়, সে নিজের খেয়াল রাখতে পারে। তৃতীয় এবং চতুর্থ ডিস্ট্রিক্টের প্যাট রাইডার এবং জনি আহের্নও সেই জায়গাগুলোর জন্য ঠিক মানুষ। আহের্নের ভোটারদের প্রায় অর্ধেক আইরিশম্যান এবং অর্ধেক ইহুদি। সে এক জাতিতে যতটা জনপ্রিয়, অন্য জাতিতেও ততটাই জনপ্রিয়। সে একইভাবে গরুর মাংস এবং ‘কোশের’ (ইহুদিদের আইনসম্মত খাদ্য) মাংস খায়, আর তার কাছে চার্চে টুপি খোলা বা সিনাগগে কান পর্যন্ত টুপি টেনে নেওয়া একই ব্যাপার।

    অন্যান্য ডাউনটাউনের নেতারা, ফিফথের বার্নি মার্টিন, সিক্সথের টিম সুলিভান, সেভেন্থের প্যাট কেহন, এইট্থের ফ্লরি সুলিভান, নাইনথের ফ্র্যাঙ্ক গুডউইন, টেন্থের জুলিয়াস হারবার্গার, ইলেভেন্থের পিট ডুলিং, টুয়েলফথের জো সুলি, ফোরটিন্থের জনি ওকলি, এবং সিক্সটিন্থের প্যাট কিয়ানানও ঠিক সেই ধরনের মানুষ যা তাদের ভোটারদের জন্য দরকার। ডাউনটাউনের এই লোকেরা সাহিত্য নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামায় না, কিন্তু এই মানুষগুলো সবাই সত্যিকারের ভদ্রলোক, আর এটাই মানুষ চায়—এমনকি সবচেয়ে দরিদ্র বস্তিবাসীরাও। যত উপরে যাবে, তত অন্য ধরনের ডিস্ট্রিক্ট লিডার পাবে। চব্বিশতম ডিস্ট্রিক্টের নেতা ছিলেন ভিক্টর ডাওলিং, যিনি সম্প্রতি চলে গেছেন। সে একজন দারুণ লোক। সে লাতিন ব্যাকরণ উল্টো দিক থেকেও জানে। অদ্ভুত হলেও সে একজন বুদ্ধিমান তরুণও। ট্যামানির রাজনীতিতে আমরা প্রায় একশ বছরে একবার এমন একজন পাই। সাতাশতম ডিস্ট্রিক্টের নেতা জেমস জে. মার্টিনও একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এবং একটি আইন বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেন, আর ঊনত্রিশতম ডিস্ট্রিক্টের টমাস ই. রাশ একজন আইনজীবী, এবং একত্রিশতম ডিস্ট্রিক্টের আইজ্যাক হপার একজন বড় ঠিকাদার। ডাউনটাউনের নেতারা আপটাউনের জন্য উপযুক্ত নয়, আর উল্টোটাও সত্যি। সুতরাং, তোমরা দেখতে পাচ্ছ, এই বোকা সমালোচকরা যখন ট্যামানি হলের সমালোচনা করে, তখন তারা আসলে কী নিয়ে কথা বলছে, তা জানে না। ট্যামানি হল পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত রাজনৈতিক যন্ত্র।

  • জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট: একজন প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকের কথা – পর্ব ৩


    অধ্যায় ৫

    নিউ ইয়র্ক সিটি হলো ‘হেসিড’দের জন্য একটা কেকের টুকরা

    এই শহরটা সম্পূর্ণরূপে অ্যালবানির ‘হেসিড’ (গ্রাম্য, আনাড়ি) আইনপ্রণেতাদের দ্বারা শাসিত হয়। আমি আমার দীর্ঘ আইনসভা জীবনে একজনও এমন আপস্টেট রিপাবলিকানকে দেখিনি যে এখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি। এই গ্রাম্য লোকেরা ভাবে আমরা যেন জাতীয় সরকারের কাছে থাকা আমেরিকান আদিবাসীদের মতো—অর্থাৎ, রাজ্যের এক ধরনের আশ্রিত যারা নিজেদের খেয়াল রাখতে পারে না এবং সেন্ট লরেন্স, অন্টারিও এবং অন্যান্য গ্রামের কাউন্টিগুলোর রিপাবলিকানদের দ্বারা তাদের খেয়াল রাখা উচিত। প্রাক্তন গভর্নর ওডেল কেন এখানে এসে রিপাবলিকান মেশিন পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে কেন কেউ অবাক হবে? নিউবার্গ তার জন্য যথেষ্ট বড় নয়। সে অন্য সব আপস্টেট রিপাবলিকানের মতোই নিউ ইয়র্ক সিটি দখল করতে চায়। নিউ ইয়র্ক হলো তাদের কেকের টুকরা।

    শোনো, তোমরা আয়ারল্যান্ডের নিপীড়িত জনগণ, রাশিয়ার কৃষক এবং অত্যাচারিত বোয়ারদের সম্পর্কে অনেক কথা শোনো। এবার আমি তোমাকে বলি যে এই মহান ও রাজকীয় শহরের মানুষের চেয়ে তাদের সত্যিকারের স্বাধীনতা এবং স্ব-শাসন অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যান্ডে তারা আইরিশদের কিছু স্ব-শাসন দেওয়ার ভান করে। এই রাজ্যে রিপাবলিকান সরকার কোনো ভানই করে না। তারা সরাসরি বলে: “নিউ ইয়র্ক সিটি একটা সুন্দর, বড়, মোটাতাজা রাজহাঁস। তোমাদের ছুরি নিয়ে এসো আর একটা টুকরা কেটে নাও।” তারা রাজহাঁসের সম্মতি নেওয়ার ভানটুকুও করে না।

    আমাদের নিজস্ব রাস্তা, ডক, জলসীমা বা অন্য কোনো কিছুই আমাদের নিজেদের নয়। রিপাবলিকান আইনসভা এবং গভর্নর পুরো ব্যাপারটাই চালান। তারা আমাদের যা খেতে এবং পান করতে বলে, আমাদের তা-ই খেতে ও পান করতে হয়। এমনকি আমাদের নিজেদের খাওয়া এবং পান করার সময়টাও তাদের সুবিধার জন্য ঠিক করতে হয়। যদি তাদের রবিবার বিয়ার পান করতে ভালো না লাগে, তাহলে আমাদেরকেও বিরত থাকতে হবে। যদি তাদের গ্রামে কোনো বিনোদন না থাকে, তাহলে আমাদেরও কোনো বিনোদন থাকতে পারবে না। আমাদের পুরো জীবন তাদের সুবিধার জন্য নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আর এর ওপর আমাদের তাদের করও দিতে হয়।

    তুমি কি কখনো আইনসভার কাছ থেকে কিছু চাইতে প্রতিনিধি দল নিয়ে এই শহর থেকে আলবানিতে গিয়েছিলে? না? তাহলে যেও না। যে গ্রাম্য লোকেরা সব কমিটি চালায়, তারা তোমাকে এমনভাবে দেখবে যেন তুমি একটা শিশু, যে জানে না সে কী চায়। আর তারা তোমাকে অনেক কথায় বলবে যে বাড়ি যাও আর ভালো ছেলে হয়ে থাকো, আইনসভা তোমার জন্য যা ভালো মনে করে, তা-ই দেবে। তারা এক ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার ভাব দেখায়, যেন বলছে, “এই ছেলেমেয়েরা খুব ঝামেলা করে। তারা সবসময় লজেন্স চায়, আর তারা জানে যে সেটা খেলে তাদের শরীর খারাপ হবে। তাদের ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত যে আমরা তাদের খেয়াল রাখার জন্য আছি।” আর যদি তুমি তাদের সাথে তর্ক করার চেষ্টা করো, তারা করুণার হাসি হেসে এমনভাবে দেখাবে যেন তারা একটা নষ্ট হওয়া শিশুকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

    কিন্তু কেমুং, ওয়েন বা টায়োগা থেকে একজন রিপাবলিকান কৃষককে ক্যাপিটলে আসতে দাও। রিপাবলিকান আইনসভা তার দিকে ছুটে যাবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করবে সে কী চায় আর বলবে যদি সে যা চায় তা দেখতে না পায়, তাহলে যেন চেয়ে নেয়। যদি সে বলে তার কর খুব বেশি, তারা তাকে উত্তর দেবে: “ঠিক আছে, বুড়ো, এটা নিয়ে চিন্তা করো না। আমরা তোমার কতটুকু ছাড় দেব?”

    “আমার মনে হয় আপাতত প্রায় ৫০ শতাংশ হলেই হবে,” লোকটি বলল। “এটা কি করে দিতে পারবেন?”

    “অবশ্যই,” আইনসভা রাজি হয়। “আমাদের আরও কিছু দাও, ‘নিউ ইয়র্ক সিটি গ্রাম্যদের জন্য কেকের টুকরা’, আরও চেষ্টা করো, লজ্জা পেও না। তুমি চাইলে আমরা ৬০ শতাংশও ছাড় দেব। আমরা এই জন্যই এখানে এসেছি।”

    এরপর আইনসভা নিউ ইয়র্ক সিটিতে মদের ওপর কর বা অন্য কোনো কর বাড়ানোর আইন পাস করে, আয়ের অর্ধেক রাজ্য কোষাগারের জন্য নেয় এবং কৃষকদের কর তাদের ইচ্ছেমতো কমিয়ে দেয়। এটা একটা গাছের গুঁড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ার মতোই সহজ—যখন তোমার কাছে একটা ভালো কার্যকরী সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে আর বিবেকের কোনো বালাই থাকে না।

    আমাকে তোমাকে আরেকটা উদাহরণ দিতে দাও। এটা আমাকে প্রচণ্ড রাগান্বিত করে। গত বছর হাডসন নদীর ধারে কিছু গ্রাম্য লোক, বেশিরভাগই ওডেলের আশেপাশের এলাকার, তাদের ডকগুলো নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়েছিল, যেখানে তারা তাদের সবজি, ইট এবং তাদের উৎপাদিত অন্যান্য জিনিসপত্র তুলত। তারা একসাথে হয়ে বলল: “চলো নিউ ইয়র্কে একটা ট্রিপ দিই আর সবচেয়ে ভালো ডকটা বেছে নিই। বাকিটা ওডেল আর আইনসভা করে দেবে।” তারা সত্যিই এখানে এসেছিল, আর কী মনে করো তারা বেছে নিয়েছিল? আমার ডিস্ট্রিক্টের সবচেয়ে ভালো ডকটা! জর্জ ডব্লিউ. প্লাঙ্কিটের ডিস্ট্রিক্টে অনুমতি না নিয়েই ঢুকে পড়ল। এরপর তারা ওডেলকে একটি বিল পাস করিয়ে দিতে বলল, যাতে সেই ডকটা তাদের দেওয়া হয়, আর সে তা-ই করল।

    যখন বিলটি মেয়র লো-এর সামনে এল, তখন আমি আমার জীবনের সেরা বক্তৃতাটি দিয়েছিলাম। আমি তুলে ধরেছিলাম কীভাবে আইনসভা ডক কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে পুরো জলসীমাটা গ্রাম্য লোকদের দিয়ে দিতে পারে, এবং মেয়রকে সতর্ক করে বলেছিলাম যে জাতিগুলো এর চেয়ে কম কারণেও তাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। ওডেল আর লো ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর—যাই হোক, আমার ডকটা চুরি হয়ে গেল।

    রাজ্যের প্রচারণায় তোমরা ওডেলের রাজ্য কর প্রায় কিছুই না করে দেওয়ার মহান কাজ সম্পর্কে অনেক শুনেছ, আর আগামী বছরের প্রচারণায় আরও অনেক কিছু শুনবে। সে কীভাবে এটা করল? রাজ্যের সরকারের খরচ কমিয়ে? ওহ, না! খরচ বরং বেড়েছিল। সে শুধু নিউ ইয়র্ক সিটিকে শোষণ করার পুরোনো রিপাবলিকান কাজটি করেছিল। পার্থক্য শুধু এই ছিল যে সে প্রায় শহরটাকে একদম শুকিয়ে ফেলেছিল। সে কেবল মদের করই বাড়ায়নি, বরং কর্পোরেশন, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি এবং তার চোখে যা কিছু ছিল, তার উপর সব ধরনের কর বসিয়েছিল। অবশ্যই, প্রায় পুরো করটাই শহরের ওপর পড়েছিল। এরপর ওডেল গ্রামের ডিস্ট্রিক্টগুলোতে গিয়ে বলল: “দেখো আমি তোমাদের জন্য কী করেছি। তোমাদের আর রাজ্যের কোনো কর দিতে হবে না। আমি কি একজন ভালো মানুষ নই?”

    একবার অরেঞ্জ কাউন্টির একজন কৃষক তাকে জিজ্ঞেস করল: “বেন, তুমি এটা কীভাবে করলে?”

    “একদম সহজ,” সে উত্তর দিল। “যখনই আমার রাজ্য কোষাগারের জন্য টাকার দরকার হয়, আমি জানি কোথায় তা পাব,” আর সে নিউ ইয়র্ক সিটির দিকে আঙুল দেখাল।

    আর তারপর নিউ ইয়র্ক সিটির সনদ নিয়ে সব রিপাবলিকানদের tinkering। কেউ এর সাথে তাল মেলাতে পারে না। যখন একজন রিপাবলিকান মেয়র থাকে, তখন তারা তাকে সব ধরনের ক্ষমতা দেয়। যদি আগামী শরৎকালে একজন ট্যামানি মেয়র নির্বাচিত হয়, আমি অবাক হব না যদি তারা পুরো ব্যবস্থাটাই বদলে দেয় এবং এমনভাবে সাজায় যেন প্রতিটি শহরের দপ্তরের চারজন প্রধান থাকে, যাদের মধ্যে দুজন হবে রিপাবলিকান। যদি আমরা প্রতিবাদ করি, তারা বলবে: “তোমরা জানো না তোমাদের জন্য কী ভালো। আমাদের উপর ছেড়ে দাও। এটা আমাদের কাজ।”


    অধ্যায় ৬

    তোমার ডিস্ট্রিক্ট ধরে রাখার উপায়: মানুষের প্রকৃতি বোঝো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করো

    একটা ডিস্ট্রিক্ট ধরে রাখার একটাই উপায় আছে: তোমাকে মানুষের প্রকৃতি বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তুমি বই পড়ে মানুষের প্রকৃতি শিখতে পারবে না। বই বরং একটা বাধা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি তুমি কলেজে গিয়ে থাকো, তাহলে সেটা তোমার জন্য আরও খারাপ। মানুষের প্রকৃতি সঠিকভাবে বোঝার আগে তোমাকে যা শিখেছ, তার সবই ভুলে যেতে হবে, আর ভুলে যেতে অনেক সময় লাগে। কিছু মানুষ যা কলেজে শিখেছে, তা কখনোই ভুলতে পারে না। এমন মানুষরা হয়তো কোনো কারণে ডিস্ট্রিক্ট লিডার হতে পারে, কিন্তু তারা কখনোই টিকে থাকে না।

    প্রকৃত মানুষের প্রকৃতি শিখতে হলে তোমাকে মানুষের মাঝে যেতে হবে, তাদের দেখতে হবে এবং তাদের কাছে নিজেকে দেখাতে হবে। ফিফটিন্থ ডিস্ট্রিক্টের প্রতিটি পুরুষ, মহিলা এবং শিশুকে আমি চিনি, শুধু যারা এই গরমে জন্মেছে তারা বাদে—আর আমি তাদের কয়েকটাকেও চিনি। আমি জানি তারা কী পছন্দ করে আর কী করে না, তারা কীসে পারদর্শী আর কীসে দুর্বল, আর আমি তাদের সঠিক দিক থেকে কাছে আসার চেষ্টা করি।

    উদাহরণস্বরূপ, আমি কীভাবে তরুণদের জড়ো করি, তা বলছি। আমি শুনি যে একজন তরুণ তার কণ্ঠস্বর নিয়ে গর্বিত, ভাবে যে সে ভালো গান গাইতে পারে। আমি তাকে ওয়াশিংটন হলে এসে আমাদের গ্লি ক্লাবে যোগ দিতে বলি। সে আসে এবং গান গায়, আর সে সারা জীবনের জন্য প্লাঙ্কিটের অনুসারী হয়ে যায়। আরেকজন তরুণ একটা খালি জমিতে বেসবল খেলোয়াড় হিসেবে সুনাম অর্জন করে। আমি তাকে আমাদের বেসবল ক্লাবে নিয়ে আসি। এতেই তার কাজ হয়ে যায়। তুমি দেখবে, আগামী নির্বাচনের দিন সে আমার টিকিটের জন্য বুথে কাজ করছে। এরপর আরও আছে যে নদীতে নৌকা চালাতে পছন্দ করে, যে তরুণ তার ব্লকে ওয়াল্টজ নাচে সুনাম অর্জন করে, যে তরুণ হাতে খুব শক্তিশালী—আমি তাদের সবাইকে তাদের নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ দিয়ে আমার দলে টেনে নিই। আমি তাদের রাজনৈতিক যুক্তি দিয়ে বিরক্ত করি না। আমি শুধু মানুষের প্রকৃতি বুঝি আর সেই অনুযায়ী কাজ করি।

    কিন্তু তুমি হয়তো বলবে যে এই খেলাটা ‘হাই-টোনড’ লোকগুলোর সাথে কাজ করবে না, যারা কলেজ থেকে পাশ করে আর সিটিজেনস ইউনিয়নে যোগ দেয়। অবশ্যই তাদের সাথে এটা কাজ করবে না। তাদের জন্য আমার আলাদা চিকিৎসা আছে। আমি সেই পেটেন্ট ওষুধের বিক্রেতার মতো নই যে সব রোগের জন্য একই ওষুধ দেয়। সিটিজেনস ইউনিয়নের মতো তরুণ! আমি তাকে ভালোবাসি! সে হলো সবচেয়ে লোভনীয় খাবার, আর সে সহজে আমার হাত থেকে পালায় না।

    আমি তাকে কীভাবে ধরি, তা বলার আগে আমাকে বলতে দাও যে গত বছরের নির্বাচনের আগে সিটিজেনস ইউনিয়ন বলেছিল যে আমার ডিস্ট্রিক্টে তাদের চারশো বা পাঁচশো নিবন্ধিত ভোটার আছে। তাদের একটা সুন্দর সদর দপ্তরও ছিল, সুন্দর রো-টপ ডেস্ক আর পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কার্পেট ছিল। যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে আমি তাদের জন্য সেই বাসা তৈরি করতে সাহায্য করেছি, তাহলে আমি শপথ করে সেটা অস্বীকার করব না। আমি এর মাধ্যমে কী বলতে চাই? কিছু মনে করো না। যদি তুমি চালাক হও, তাহলে পরের ঘটনা থেকে অনুমান করতে পারবে।

    যাই হোক, নির্বাচনের দিন এল। সিনেটর পদের জন্য সিটিজেনস ইউনিয়নের যে প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে লড়েছিল, সে এই ডিস্ট্রিক্টে মাত্র পাঁচটি ভোট পেয়েছিল, আর আমি পেয়েছিলাম ১৪,০০০-এর বেশি ভোট। আমার ডিস্ট্রিক্টে সেই চারশো বা পাঁচশো সিটিজেনস ইউনিয়নের নিবন্ধিত ভোটারদের কী হয়েছিল? কিছু মানুষ অনুমান করে যে তাদের মধ্যে অনেকেই আসলে শুরু থেকেই ভালো প্লাঙ্কিট লোক ছিল এবং তারা সিটিজেনস ইউনিয়নের সাথে শুধু এই কারণে কাজ করেছিল, যাতে নির্বাচনের দিনের মধ্যে তাদের প্লাঙ্কিটের দলে নিয়ে আসা যায়। তুমিও চাইলে এই ধরনের অনুমান করতে পারো। আমি আমার সম্পর্কে কোনো গল্পে বাধা দিই না, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়। আমি শুধু তোমার মনোযোগ এই তথ্যের দিকে আকর্ষণ করছি যে গত নির্বাচনের দিন আমার ডিস্ট্রিক্টে ৩৯৫ জন সিটিজেনস ইউনিয়নের নিবন্ধিত ভোটার নিখোঁজ ছিল আর তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    তবে আমি তোমাকে সত্যি সত্যি বলছি, আমি কীভাবে সিটিজেনস ইউনিয়নের কিছু তরুণকে কব্জা করেছি। আমার একটা পরিকল্পনা আছে যা কখনো ব্যর্থ হয় না। আমি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বিজ্ঞাপন দেখার জন্য সিটি রেকর্ড খেয়াল করি। এরপর আমি আমার তরুণ ‘সিট’কে (Cit) হাতে নিই, তাকে ভালো জিনিসগুলো সম্পর্কে সব বলি এবং তাকে উত্তেজিত করি যতক্ষণ না সে গিয়ে পরীক্ষা দেয়। এরপর আমি আর তাকে নিয়ে মাথা ঘামাই না। এটা নিশ্চিত যে সে কয়েক দিনের মধ্যে আমার কাছে ফিরে আসে এবং ট্যামানি হলে যোগ দিতে চায়। কোনো এক রাতে ওয়াশিংটন হলে এসো, আমি তোমাকে আমাদের তালিকায় থাকা এমন সব নামের একটি তালিকা দেখাব, যেখানে “সি.এস.” (C.S.) লেখা আছে, যার অর্থ, “সিভিল সার্ভিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে গেছে।”

    বয়স্ক ভোটারদেরও আমি কাছে টানি। না, আমি তাদের প্রচারণার সাহিত্য পাঠাই না। ওটা বাজে জিনিস। মানুষ কাগজে যথেষ্ট রাজনৈতিক জিনিসপত্র পায়—আর তার চেয়েও বেশি—পড়তে পারে। আজকাল কে-ই বা বক্তৃতা পড়ে? সেগুলো শোনাটাই যথেষ্ট খারাপ। প্রচারণার কাগজপত্র দিয়ে লেটার বক্স ভরে তুমি কোনো ভোট পাবে না। বরং এতে করে তুমি ভোট হারাতেও পারো, কারণ একজন মানুষ তার লেটার বক্সের ঘণ্টা বাজতে শুনে যতটা চিঠি পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে, ততটা আর কিছুতে ঘৃণা করে না, আর সেখানে শুধু একগাদা ছাপানো রাজনৈতিক কাগজ পায়। আমি আজ সকালেই এমন একজনের সাথে দেখা করেছি যে আমাকে বলল যে সে গত বছর ডেমোক্র্যাট স্টেট টিকিটে ভোট দিয়েছে, কারণ রিপাবলিকানরা তার লেটার বক্স প্রচারণার কাগজপত্রে ভরে রেখেছিল।

    তোমার ডিস্ট্রিক্টে তোমার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে হলে দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে সরাসরি যেতে হবে এবং তাদের বিভিন্ন উপায়ে সাহায্য করতে হবে। এর জন্য আমার একটা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি নবম, দশম বা একাদশ অ্যাভিনিউতে দিনের বা রাতের যেকোনো সময় আগুন লাগে, আমি সাধারণত আমার কিছু নির্বাচনী এলাকার ক্যাপটেনদের নিয়ে ফায়ার ইঞ্জিনের মতোই দ্রুত সেখানে পৌঁছে যাই। যদি কোনো পরিবার আগুনে পুড়ে গৃহহীন হয়, আমি জিজ্ঞেস করি না তারা রিপাবলিকান নাকি ডেমোক্র্যাট। আমি তাদের দাতব্য সংস্থায় যেতেও বলি না, যারা এক-দু মাসে তাদের বিষয় তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা সাহায্যের যোগ্য কি না, আর ততক্ষণে হয়তো তারা অনাহারে মারা যাবে। আমি শুধু তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিই, যদি তাদের জামাকাপড় পুড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কিনে দিই এবং তারা আবার নিজেদের সামলে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য সব ব্যবস্থা করে দিই। এটা মানবপ্রেম, তবে এটাও রাজনীতি—খুবই ভালো রাজনীতি। কে বলতে পারে, এমন একটা আগুন আমাকে কত ভোট এনে দেয়? দরিদ্ররা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে কৃতজ্ঞ মানুষ, আর আমাকে বলতে দাও, তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে যত বন্ধু আছে, ধনীদের তত বন্ধু নেই।

    যদি আমার ডিস্ট্রিক্টে কোনো পরিবার অভাবে থাকে, আমি দাতব্য সংস্থাগুলোর আগেই তা জানতে পারি এবং আমার লোকজন নিয়ে সবার আগে সেখানে পৌঁছে যাই। এমন ঘটনাগুলো খুঁজে বের করার জন্য আমার একটি বিশেষ দল আছে। এর ফলস্বরূপ, দরিদ্ররা জর্জ ডব্লিউ. প্লাঙ্কিটকে একজন পিতার মতো দেখে, বিপদে তার কাছে আসে—আর নির্বাচনের দিন তাকে ভোলে না।

    আরেকটা বিষয়, আমি সবসময় একজন যোগ্য মানুষের জন্য চাকরি জোগাড় করতে পারি। আমি চাকরির খোঁজ রাখার জন্য সবসময় সতর্ক থাকি, আর এমন খুব কমই হয় যে আমার হাতে ব্যবহারের জন্য কিছু থাকে না। আমি ডিস্ট্রিক্টের এবং পুরো শহরের সব বড় বড় নিয়োগকর্তাকে চিনি, আর যখন আমি তাদের কাছে কোনো চাকরির জন্য বলি, তখন তারা সাধারণত ‘না’ বলে না।

    আর শিশুরা—ডিস্ট্রিক্টের ছোট ছোট গোলাপগুলো! আমি কি তাদের ভুলে যাই? ওহ, না! তারা সবাই আমাকে চেনে, আর তারা জানে যে আঙ্কল জর্জকে দেখা আর ক্যান্ডি পাওয়া একই জিনিস। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেরা ভোট সংগ্রাহক। তোমাকে একটা ঘটনা বলি। গত বছর একাদশ অ্যাভিনিউর একটা ছোট্ট গোলাপ, যার বাবা একজন রিপাবলিকান, নির্বাচনের দিন তার বাবার দাড়ি ধরে বলেছিল যে সে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়বে না, যতক্ষণ না তিনি আমাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আর সে ছাড়েনিও।


    অধ্যায় ৭

    শহরের লজ্জা নিয়ে

    আমি লিঙ্কন স্টেফেন্সের একটা বই পড়ছিলাম, যার নাম ‘দ্য শেইম অফ দ্য সিটিস’। স্টেফেন্সের উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু সব সংস্কারকের মতো সে পার্থক্য করতে পারে না। সে সৎ চুরি আর অসৎ চুরির মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পায় না এবং ফলস্বরূপ, সবকিছুকে গুলিয়ে ফেলে। রাজনৈতিক লুটেরা আর সেইসব রাজনীতিকদের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য আছে, যারা চোখ খোলা রেখে রাজনীতি থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। লুটেরা কেবল নিজের জন্য কাজ করে, তার সংগঠন বা শহরের কথা ভাবে না। একজন রাজনীতিক একই সাথে নিজের স্বার্থ, সংগঠনের স্বার্থ এবং শহরের স্বার্থ দেখেন। পার্থক্যটা ধরতে পারছ? উদাহরণস্বরূপ, আমি কোনো লুটেরা নই। লুটেরা সবকিছু একা হজম করে। আমি কখনোই তা করিনি। আমি রাজনীতি থেকে টাকা কামিয়েছি, কিন্তু একই সাথে আমি সংগঠনকে সেবা দিয়েছি এবং অন্য যে কোনো জীবিত মানুষের চেয়ে নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য বেশি বড় উন্নতি এনেছি। আর আমি কখনোই কোনো ফৌজদারি আইন ভঙ্গ করিনি।

    একজন লুটেরা আর একজন প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকের মধ্যে পার্থক্যটা হলো ফিলাডেলফিয়ার রিপাবলিকান গ্যাং আর ট্যামানি হলের মধ্যেকার পার্থক্যের মতো। স্টেফেন্স মনে করে তারা প্রায় একই; কিন্তু সে পুরোপুরি ভুল। ফিলাডেলফিয়ার দলটা ফৌজদারি আইনের বিরুদ্ধে যায়। ট্যামানি তা করে না। ফিলাডেলফিয়ানরা শুধু ব্যাংক থেকে সব সোনা আর কাগজের টাকা চুরি করেই সন্তুষ্ট নয়। তারা সেখানে থেকে নিকি আর পেনিসও কুড়াতে থাকে, আর পুলিশ এসে তাদের ধরে ফেলে। ট্যামানি এমন বোকা নয়। আরে, আমার মনে আছে, প্রায় পনের বা বিশ বছর আগে, ফিলাডেলফিয়ার এ্যালমহাউসের (গরিবদের আশ্রয়কেন্দ্র) একজন রিপাবলিকান সুপারিনটেনডেন্ট বিল্ডিংয়ের জিঙ্কের ছাদ চুরি করে স্ক্র্যাপ হিসাবে বিক্রি করে দিয়েছিল। এটা বাড়াবাড়ি ছিল। সবকিছুরই একটা সীমা থাকে, আর ফিলাডেলফিয়ার রিপাবলিকানরা সেই সীমা পার করে ফেলে। মনে হয় তারা সত্যিকারের রাজনীতিকদের মতো শান্ত এবং সংযত হতে পারে না। তাই, ট্যামানি দলীয় লোকদের ফিলাডেলফিয়ার গ্যাং-এর সাথে একই কাতারে ফেলা ঠিক নয়। যে কোনো মানুষ যে রাজনৈতিক বই লেখার উদ্যোগ নেয়, তার কখনোই সৎ চুরি আর অসৎ চুরির মধ্যেকার পার্থক্যটা ভুলে যাওয়া উচিত নয়, যা আমি অন্য একটা আলাপে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করেছি। যদি সে সব ধরনের চুরিকে একই স্তরে রাখে, তাহলে সে স্টেফেন্সের মতো মারাত্মক ভুল করবে এবং তার বইটি নষ্ট করে ফেলবে।

    নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া বা শিকাগোর মতো একটা বড় শহরকে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এক ধরনের ইডেন গার্ডেনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এটা সুন্দর আপেল গাছে ভরা একটি বাগান। গাছগুলোর একটিতে বড় করে একটা সাইন লাগানো আছে, যেখানে লেখা: “ফৌজদারি আইনের গাছ—বিষ।” অন্য গাছগুলোতে সবার জন্য প্রচুর আপেল আছে। তবুও বোকারা ফৌজদারি আইনের গাছের দিকে যায়। কেন? আমার মনে হয় এর কারণ হলো, একটা খামখেয়ালি শিশু যেমন ভালো খাবার খেতে চায় না, কিন্তু আগ্রহ নিয়ে ম্যাচের বাক্স চিবায়, তেমন। ফৌজদারি আইনের গাছে হাত দেওয়ার লোভ আমার কখনোই হয়নি। অন্য আপেলগুলো আমার জন্য যথেষ্ট ভালো, আর হে ভগবান! একটা বড় শহরে কত আপেলই না আছে!

    স্টেফেন্স তার বইয়ে একটা ভালো পয়েন্ট তুলে ধরেছিল। সে বলেছিল যে সে দেখেছে ফিলাডেলফিয়া, যেখানে প্রায় সবাই আমেরিকান, তা নিউ ইয়র্কের চেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত, যেখানে আইরিশরা প্রায় পুরো শাসনকার্য পরিচালনা করে। সে কোনো তদন্ত করার আগেই যদি আমার কাছে আসত, আমি তাকে এটা বলতে পারতাম। আইরিশরা শাসন করার জন্য জন্ম নিয়েছে, আর তারা পৃথিবীর সবচেয়ে সৎ মানুষ। আমাকে এমন একজন আইরিশম্যান দেখাও যে একটি এ্যালমহাউসের ছাদ চুরি করবে! তার কোনো অস্তিত্ব নেই। অবশ্যই, যদি একজন আইরিশম্যানের রাজনৈতিক প্রভাব থাকে আর ছাদটা খুব পুরোনো হয়, তাহলে সে শহর কর্তৃপক্ষকে একটি নতুন ছাদ লাগানোর জন্য রাজি করাতে পারে এবং সেই কাজের চুক্তি নিজে পেতে পারে, আর পুরোনো ছাদটা কম দামে কিনে নিতে পারে—কিন্তু সেটা সৎ চুরি। এটা একজন ভদ্রলোকের মতো কাজ করা, আর এতে পুরোনো ছাদ ভেঙে স্ক্র্যাপম্যানের কাছে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আছে—বেশি টাকা আর কোনো ফৌজদারি আইন ভঙ্গের ভয় নেই।

    আইরিশম্যানরা কেন অনেক ‘সন্স অব দ্য রেভল্যুশন’-এর চেয়ে রাজনীতিতে বেশি সৎ, তার একটা কারণ হলো, যখন তাদের নিপীড়নের কারণে পান্না দ্বীপ (আয়ারল্যান্ড) থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন এই দেশ আর এই শহর তাদের আশ্রয় ও সমৃদ্ধি দিয়েছিল, আর তারা এর প্রতি কৃতজ্ঞ। শোনো, এই বাক্যটা দারুণ, তাই না? আমি কোনো সাহিত্যিককে দিয়ে এটা পরের সেন্ট প্যাট্রিক’স ডে-এর ডিনারের জন্য কবিতায় রূপান্তর করাব।

    হ্যাঁ, আইরিশম্যান কৃতজ্ঞ। তার একমাত্র চিন্তা হলো সেই শহরকে সেবা করা, যা তাকে একটি বাড়ি দিয়েছে। এই চিন্তা তার নিউ ইয়র্কে নামার আগেও থাকে, কারণ তার এখানকার বন্ধুরা প্রায়শই তার জন্য শহরের কোনো একটা দপ্তরে ভালো একটা জায়গা ঠিক করে রাখে, যখন সে এখনো পুরোনো দেশে থাকে। সে নিউ ইয়র্কে নামার পরের দিনই যখন এর বেতনভোগীর তালিকায় থাকে, তখন তার হৃদয়ে পুরোনো নিউ ইয়র্কের জন্য একটা কোমল জায়গা থাকবে—এতে কি কোনো অবাক হওয়ার কিছু আছে?

    এবার তথাকথিত ‘শহরের লজ্জা’র সাধারণ বিষয়টা নিয়ে কিছু কথা বলি। আমি বিশ্বাস করি না যে আমাদের শহরগুলোর সরকার পঞ্চাশ বছর আগের চেয়ে সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী কোনো অংশে খারাপ। “সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী” বলতে আমি কী বোঝাতে চেয়েছি, তা আমি ব্যাখ্যা করব। অর্ধ শতাব্দী আগে, আমাদের শহরগুলো ছিল ছোট এবং গরিব। রাজনীতিকদের জন্য তেমন কোনো লোভনীয় জিনিস ছিল না। চুরি করার মতো কিছুই ছিল না, এমনকি সৎ চুরিরও তেমন কোনো সুযোগ ছিল না। একটি শহর ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন রাতে তার টাকা গুনতে পারত, আর যদি তিন সেন্টও কম থাকত, তাহলে সব ফায়ার বেল বাজানো হতো। সেই পরিস্থিতিতে সৎ হওয়ার কী কৃতিত্ব ছিল? আমি যখন শুনি যে ত্রিশ বা চল্লিশের দশকের পুরোনো বুড়োরা গর্ব করে বলে যে তারা তাদের পেশা বা ব্যবসা থেকে যা উপার্জন করেছে, তা ছাড়া এক ডলারও না নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছে, তখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। যদি তারা আজ বেঁচে থাকত, বর্তমানের সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, তাহলে তারাও বিংশ শতাব্দীর রাজনীতিকদের মতোই হত। এখনকার দিনে সিঙ্গ সিংয়ের (Sing Sing) বন্দিদের চেয়ে বেশি সৎ মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ নেই। তাদের মধ্যে একজনও কিছু চুরি করে না। কেন? কারণ তারা পারে না। ব্যাপারটা বুঝতে পারছ?

    বুঝতে পারো, আমি আজকের সেইসব রাজনীতিকদের পক্ষে কথা বলছি না যারা চুরি করে। যে রাজনীতিক চুরি করে, সে একজন চোরের চেয়েও খারাপ। সে একজন বোকা। একজন রাজনৈতিক প্রভাব আছে এমন মানুষের জন্য চারপাশে এত চমৎকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, একটি সেন্টও চুরি করার কোনো অজুহাত নেই। আমি যে কথাটা বলতে চাই, তা হলো, যদি রাজনীতিতে কিছু চুরি হয়ে থাকে, তার মানে এই নয় যে ১৯০৫ সালের রাজনীতিকরা, একটা শ্রেণি হিসেবে, ১৮৩৫ সালের রাজনীতিকদের চেয়ে খারাপ। এর মানে শুধু এই যে, পুরোনোদের চুরি করার মতো কিছুই ছিল না, যখন বর্তমানের রাজনীতিকরা সব ধরনের প্রলোভনে ঘেরা, আর তাদের মধ্যে কিছু—বোকাগুলো—স্বাভাবিকভাবেই ফৌজদারি আইনের বিরুদ্ধে যায়।


    অধ্যায় ৮

    রাজনীতিতে অকৃতজ্ঞতা

    রাজনীতিতে অকৃতজ্ঞতার চেয়ে জঘন্য অপরাধ আর কিছু নেই, কিন্তু পৃথিবীর শুরু থেকে সব মহান রাজনীতিককে এর মুখোমুখি হতে হয়েছে। সিজারের ছিল তার ব্রুটাস; শেক্সপিয়ারের সেই রাজা—আমার মনে হয় তোমরা তাকে লিয়ারি বলো—তার নিজের মেয়েরাই তার বিরুদ্ধে গিয়েছিল; প্লাটের ছিল তার ওডেল, আর আমার আছে আমার “দ্য” ম্যাকম্যানাস। এটা একটা সত্যিকারের প্রমাণ যে একজন মানুষ মহান যখন সে রাজনৈতিক অকৃতজ্ঞতার শিকার হয়। মহান মানুষেরা কোমল, বিশ্বাসী প্রকৃতির হয়। আমারও তাই, ঠিকাদারি আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার বাইরে। রাজনীতিতে আমি সেইসব মানুষকে বিশ্বাস করেছি যারা আমাকে বলেছে তারা আমার বন্ধু। আর যদি আমার শিবিরে বিশ্বাসঘাতকেরা এসে থাকে—যাই হোক, আমার একই অভিজ্ঞতা হয়েছে যা সিজার, লিয়ারি এবং অন্যদের হয়েছিল।

    আমার ব্রুটাস সম্পর্কে বলি। ম্যাকম্যানাসের, তুমি তো জানো, সাত ভাই আছে আর তারা তাকে “দ্য” বলে ডাকে কারণ সে তাদের সবার নেতা, আর তাকে অন্য সব ম্যাকম্যানাসের থেকে আলাদা করার জন্য। কয়েক বছর ধরে সে একজন রাজনৈতিক গুপ্তচর ছিল। প্রচারাভিযানে সে কখনো নিরপেক্ষ থাকত, কখনো দুই দলের পক্ষে থাকত, আর কখনো নিরপেক্ষতার আড়ালে থাকত। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে তাকে কোথায় পাওয়া যাবে, তা কেউ জানত না, আর কেউই তাকে বিশ্বাস করত না—অর্থাৎ, আমি ছাড়া কেউই না। আমি ভেবেছিলাম তার মধ্যে ভালো কিছু আছে এবং আমি যদি তাকে হাতে ধরি, তাহলে আমি তাকে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

    আমি তাকে কয়েক বছর আগে হাতে ধরেছিলাম। আমার বন্ধুরা আমাকে বলেছিল এটা আবার ব্রুটাস-লিয়ারি ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে, কিন্তু আমি তাদের কথা বিশ্বাস করিনি। আমি “দ্য”-এর ওপর ভরসা রেখেছিলাম। আমি তাকে অ্যাসেম্বলির জন্য মনোনীত করেছিলাম, এবং সে নির্বাচিত হয়েছিল। এক বছর পর, যখন আমি সিনেটর হিসেবে পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছিলাম, আমি তাকে আমার টিকিটে আবার অ্যাসেম্বলির জন্য মনোনীত করেছিলাম। তুমি কী মনে করো, কী ঘটল? আমরা দুজনেই ফিফটিন্থ অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে জিতেছিলাম, কিন্তু সে আমার চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছিল। শুধু ভেবে দেখো! আমার নিজের ডিস্ট্রিক্টে আমার চেয়ে এগিয়ে! আমি তো হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যখন আমি কিছুটা সামলে উঠলাম, তখন আমার নির্বাচনী এলাকার ক্যাপটেনরা আমার কাছে এসে বলল যে ম্যাকম্যানাস আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে যাতে আমাকে সিনেটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, আর তারপর সে ডিস্ট্রিক্টের নেতৃত্ব দখল করার চেষ্টা করবে। আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার বিশ্বাসী প্রকৃতি এমন বিশ্বাসঘাতকতা কল্পনা করতে পারছিল না।

    আমি ম্যাকম্যানাসকে ডেকে পাঠালাম আর আমার গলা আবেগে কাঁপছিল: “তারা বলছে তুমি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ, ‘দ্য’। এটা সত্যি হতে পারে না। আমাকে বলো এটা সত্যি নয়।”

    “দ্য” প্রায় কেঁদে ফেলল যখন সে বলল যে সে নির্দোষ।

    “আমি তোমার সাথে কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, জর্জ,” সে বলল। “কিছু দুষ্ট বিশ্বাসঘাতক তোমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। আমি এখনো জানি না তারা ঠিক কারা, কিন্তু আমি তাদের পিছু নিয়েছি, আর আমি তাদের খুঁজে বের করব, না হলে ‘দ্য’ ম্যাকম্যানাস নাম ত্যাগ করব। আমি এখনই তাদের খুঁজতে যাচ্ছি।”

    যাই হোক, বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করার ব্যাপারে “দ্য” তার কথা রেখেছিল। সে তাদের ঠিকই খুঁজে বের করেছিল—এবং তাদের নেতৃত্ব নিজেই হাতে নিয়েছিল। ওহ, না! তাকে তাদের খুঁজতে বেশি দূরে যেতে হয়নি। সে তাদের এখন তার ক্লাবরুমে জড়ো করেছে, আর সে সেই মানুষটার কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে, যে মানুষটা তাকে তৈরি করেছিল। সুতরাং তুমি দেখছ যে সিজার আর লিয়ারি আর আমি একই নৌকায় আছি, শুধু পার্থক্য হলো আমি সফল হয়েছি, আর সিজার ও লিয়ারি হেরে গিয়েছিল।

    এখন আমাকে বলতে দাও যে রাজনীতিতে অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি বেশিদিন উন্নতি করতে পারে না। আমি তোমাকে অনেক উদাহরণ দিতে পারি। সেইসব লোকদের দিকে তাকাও যারা রসকো কনক্লিংকে পরাজিত করেছিল, যখন সে ইউনাইটেড স্টেটস সিনেট থেকে পদত্যাগ করে পুনর্নির্বাচনের জন্য আলবানিতে গিয়েছিল! তাদের কী হয়েছে? চলন্ত ছবির মতো তারা অদৃশ্য হয়ে গেছে। কে কনক্লিংয়ের জায়গা নিয়েছিল সিনেটে? বিশ ডলার বাজি ধরতে পারো যে তুমি পঞ্জিকা না দেখে তার নাম মনে করতে পারবে না। আর বেচারা পুরোনো প্ল্যাট! সে এখন ক্ষমতা থেকে নেমে গেছে আর ওডেল ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে সে সবসময়ই ক্ষমতায় থাকবে। তার শত্রুরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সবসময় কঠোর পরিশ্রম করছে, আর আমি একটুও অবাক হব না যদি সে পরের রাজ্য প্রচারণার আগেই সরে যায়।

    যেসব রাজনীতিক রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সফলতা অর্জন করে, তারা হলো সেইসব মানুষ যারা সবসময় তাদের বন্ধুদের প্রতি অনুগত থাকে, প্রয়োজনে এমনকি স্টেট প্রিজন পর্যন্ত; যেসব মানুষ তাদের প্রতিশ্রুতি রাখে এবং কখনোই মিথ্যা বলে না। রিচার্ড ক্রোকার বলতেন যে সত্য কথা বলা এবং বন্ধুদের পাশে থাকা একজন রাজনৈতিক নেতার প্রধান সম্পদ। এর চেয়ে সত্যি কথা আর কেউ বলেনি, আর ক্রোকারের চেয়ে ভালো করে কেউই এর চর্চা করেনি। এই কারণেই সে যতদিন চেয়েছিল, ততদিন ট্যামানি হলের নেতা হিসেবে ছিল। সংগঠনের প্রতিটি মানুষ তাকে বিশ্বাস করত। কখনও কখনও সে এমন ভুল করত যা প্রচারণায় ক্ষতি করত, কিন্তু সেগুলো সবসময়ই তার বন্ধুদের সেবা করার পক্ষেই থাকত।

    চার্লস এফ. মারফির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সে সবসময় তার বন্ধুদের পাশে থেকেছে, এমনকি যখন মনে হয়েছে যে এটা করার জন্য সে ক্ষমতা হারাবে। মনে আছে কীভাবে সে ২০০৩ সালে ম্যাকক্লেলানের পাশে ছিল যখন ব্রুকলিনের সব নেতা তার বিরুদ্ধে ছিল, আর মনে হচ্ছিল যেন ট্যামানির একটা বড় পরাজয় আসন্ন! ক্রোকার এবং মারফির মতো লোকেরাই যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিন নেতা হিসেবে থাকে; ব্রুটাস আর ম্যাকম্যানাসের মতো লোক নয়।

    এখন আমি তোমাকে বলতে চাই, কেন রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকদের, বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক সিটিতে, দ্রুত শাস্তি দেওয়া হয়। এর কারণ হলো এখানে আইরিশরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আইরিশরা, পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে, একজন বিশ্বাসঘাতককে ঘৃণা করে। যখন কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতক তাদের সামনে আসে, তখন তুমি তাদের আটকে রাখতে পারবে না, আর পুরোনো আয়ারল্যান্ডের কথা মনে করে, তারা একজন রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতককে পরাজিত করতে বিশেষ আনন্দ পায়। আমার ডিস্ট্রিক্টের বেশিরভাগ ভোটারই আইরিশ বা আইরিশ বংশোদ্ভূত; তারা “দ্য” ম্যাকম্যানাসকে চিনে ফেলেছে, আর পরের বার যখন তারা তাকে ভোটে সুযোগ পাবে, তখন তারা তাকে উচিত শিক্ষা দেবে।

    একটা প্রশ্ন করা হয়েছে: একজন রাজনীতিক কি কখনো তার ডিস্ট্রিক্ট লিডারের বিরুদ্ধে যেতে পারেন? আমি উত্তর দিই: “না; যতক্ষণ পর্যন্ত নেতা তার ভোটারদের জন্য সম্ভব সব চাকরি জোগাড় করার জন্য ছোটাছুটি করে।” যখন ভোটাররা একজন লোককে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, তখন তারা তার সাথে এক ধরনের চুক্তি করে। যদিও এটা লেখা থাকে না, তারা বলে: “আমরা তোমাকে আমাদের স্বার্থ দেখার জন্য এখানে বসিয়েছি। তুমি দেখবে এই ডিস্ট্রিক্ট যেন সব চাকরি পায় যা তার প্রাপ্য। তুমি আমাদের প্রতি অনুগত থেকো, আর আমরা তোমার প্রতি অনুগত থাকব।”

    ডিস্ট্রিক্ট লিডার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এটা একটা গুরুতর চুক্তি হয়ে যায়। যদি সে সেই চুক্তি মেনে চলে, তার বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন দপ্তরের চাকরির পেছনে ছোটাছুটি করে, তার অনুসারীদের জন্য রেলপথ এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাকরি জোগাড় করে, এবং সব দিক থেকে নিজেকে একজন সত্যিকারের রাজনীতিক হিসেবে প্রমাণ করে, তাহলে তার অনুসারীরা তাকে সম্মান করে সমর্থন করতে বাধ্য, ঠিক যেমন তারা ইউনাইটেড স্টেটস সংবিধানকে সমর্থন করতে বাধ্য। কিন্তু যদি সে শুধু নিজের স্বার্থ দেখে বা চাকরি খুঁজে বের করার প্রতিভা না দেখায় বা ভালো কিছু পাওয়ার জন্য দাবি করার এবং আদায় করার সাহস না থাকে, তাহলে তার অনুসারীদের তার প্রতি আনুগত্য থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে এবং তারা তাকে আঘাত করতে পারে, আর তাতে তাদের রাজনৈতিক অকৃতজ্ঞ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

  • জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট: একজন প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকের কথা – পর্ব ২

    অধ্যায় ৩

    সিভিল সার্ভিস সংস্কারের অভিশাপ

    এই সিভিল সার্ভিস আইন হলো যুগের সবচেয়ে বড় প্রতারণা। এটা জাতির জন্য একটা অভিশাপ। এটা যতদিন থাকবে, ততদিন প্রকৃত দেশপ্রেম থাকতে পারে না। তুমি কীভাবে আমাদের তরুণদের দেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে, যদি তাদের দলের জন্য কাজ করার পর তাদের কোনো পদ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা না থাকে? আজ এই শহরেই সবকিছু দেখো। এখানে দশ হাজার ভালো পদ আছে, কিন্তু আমরা এর মধ্যে মাত্র কয়েকশ’ পদ পেতে পারি। ট্যামানি টিকিটের জন্য যে হাজার হাজার লোক কাজ করেছে, তাদের জন্য আমরা কীভাবে ব্যবস্থা করব? এটা সম্ভব নয়। এই লোকগুলো কিছুদিন আগেও দেশপ্রেমে ভরপুর ছিল। তারা তাদের শহরকে সেবা করার আশা করেছিল, কিন্তু যখন আমরা তাদের বলি যে তাদের কোনো কাজ দিতে পারছি না, তখন কি তোমার মনে হয় তাদের দেশপ্রেম টিকে থাকবে? মোটেও না। তারা বলে: “যাই হোক, দেশের জন্য কাজ করে কী লাভ? এই খেলায় কোনো প্রাপ্তি নেই।” আর তারা কী করতে পারে? আমি জানি না, কিন্তু আমি তোমাকে বলি আমি কী জানি। আমি জানি যে বিগত বছরগুলোতে একাধিক তরুণ টিকিটের জন্য কাজ করে দেশপ্রেমে উদ্বেলিত ছিল, কিন্তু যখন সিভিল সার্ভিসের এই প্রতারণার কারণে তারা ছিটকে পড়ল, তখন তারা তাদের দেশকে ঘৃণা করতে শুরু করল এবং নৈরাজ্যবাদী (Anarchist) হয়ে গেল।

    এটা কোনো অতিরঞ্জিত কথা নয়। আমার কাছে যথেষ্ট কারণ আছে এটা বলার যে এই শহরের বেশিরভাগ নৈরাজ্যবাদী হলো সেইসব মানুষ, যারা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। যখন একজন মানুষ তার দেশকে সেবা করতে চায় কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হয় না, যতক্ষণ না সে আটলান্টিক মহাসাগরে কত ঘন ইঞ্চি জল আছে বা সাহারা মরুভূমির বালির মান কেমন, এমন সব বোকা বোকা প্রশ্নের উত্তর দেয়, তখন কি তার দেশের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মাবে না? একবার আমার ডিস্ট্রিক্টে একজন উজ্জ্বল তরুণ ছিল, যে এই পরীক্ষাগুলোর একটিতে অংশ নিয়েছিল। এরপর আমি তার সম্পর্কে যা শুনেছি তা হলো, সে হের মোস্টের স্যালুনে সারাদিন ধূমপান করে, বিয়ার খায় এবং সমাজতন্ত্র নিয়ে কথা বলে। এর আগে সে শুধু হুইস্কি খেত। আমি জানতাম কী ঘটতে চলেছে যখন একজন তরুণ আইরিশম্যান হুইস্কি ছেড়ে জার্মান স্যালুনে বিয়ার এবং লম্বা পাইপে অভ্যস্ত হয়। সেই তরুণ আজ এই শহরের সবচেয়ে উগ্র নৈরাজ্যবাদীদের একজন। আর শুধু ভেবে দেখো! এই অভিশপ্ত সিভিল সার্ভিস না থাকলে সে একজন দেশপ্রেমিক হতে পারত।

    শুনলে নাকি! সিভিল সার্ভিস রিফর্ম অ্যাসোসিয়েশন কীভাবে শোরগোল করছে, কারণ ট্যাক্স কমিশনাররা তাদের ৫৫ জন ডেপুটি পদকে ‘ছাড়প্রাপ্ত’ (exempt) তালিকায় রাখতে চায় এবং লো দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্তদের বরখাস্ত করতে চায়? এটাই তোমাদের সিভিল সার্ভিস। ভেবে দেখো! ১৫৫৫ জন ভালো ট্যামানি লোক যখন ৪০০০ থেকে ৮০০০ বা ৫০০০ ডলারের চাকরি নিতে ইচ্ছুক এবং প্রস্তুত, তখন ৫৫ জন রিপাবলিকান আর মুগওয়াম্প (দলত্যাগী) ট্যাক্স বিভাগে চাকরি ধরে রেখেছে! এটা একটা নির্লজ্জ কাজ! মানুষ যখন ট্যামানিকে ভোট দিয়েছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার মানেই বা কী? এটা কি পুরোটাই একটা ভুয়া কথা যে এটা জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য গঠিত সরকার? যদি এটা ভুয়া না হয়, তাহলে কেন জনগণের কথা শোনা হচ্ছে না এবং ট্যামানি দলের লোকদের সব পদে বসানো হচ্ছে না?

    যখন জনগণ ট্যামানিকে নির্বাচিত করেছিল, তখন তারা ঠিক কী করছে তা জানত। আমরা কোনো মিথ্যা ভান করিনি। আমরা কোনো ভুয়া সিভিল সার্ভিস আর এই ধরনের সব আবর্জনার দিকে যাইনি। আমরা যেমন সবসময় করেছি, বিজয়ী লোকদের পুরস্কৃত করার পক্ষে ছিলাম। তারা এটাকে ‘স্পয়েলস সিস্টেম’ (Spoils System) বলে। ঠিক আছে; ট্যামানি স্পয়েলস সিস্টেমের পক্ষে, আর যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, তখন আইন অনুযায়ী যতজন ট্যামানি-বিরোধী লোককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যায়, আমরা করি। এটা এক ধরনের নমনীয় আইন, আর তুমি বাজি ধরতে পারো যে এটাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করা হবে। অবশ্যই রিপাবলিকান স্টেট সিভিল সার্ভিস বোর্ড আমাদের স্থানীয় সিভিল সার্ভিস কমিশনের পথে যতটা পারে বাধা দেবে; কিন্তু শোনো!—ধরে নাও, আমরা যদি কোনো এক সময় রাজ্য দখল করি, তখন কি আমরা দূরের বোর্ডকে বরখাস্ত করব না? অথবা আমরা সেগুলোকে স্থানীয় বোর্ডের সাথে একযোগে কাজ করতে বাধ্য করব, আর এর মানে হলো ট্যামানি সবকিছু হাতে পেয়ে যাবে। আমি জানি সিভিল সার্ভিসের এই প্রতারণা সংবিধানেও আছে, কিন্তু টিম ক্যাম্পবেল যেমন বলেছিল: “বন্ধুদের মধ্যে সংবিধান আবার কী?”

    শোনো, জনগণের কণ্ঠস্বর অভিশপ্ত সিভিল সার্ভিস আইনের কারণে চাপা পড়ে গেছে; এটাই আমাদের সরকারের সব খারাপের মূল। তুমি যখন জাতি, রাজ্য বা শহরে ভুল কিছু ঘটতে দেখো, তখন পৃষ্ঠদেশের নিচে তাকাও আর দেখবে সবকিছু সিভিল সার্ভিসের কারণে হচ্ছে। আমি এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করেছি আর আমি জানি। সিভিল সার্ভিসের প্রতারণা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে আর যদি খুব শিগগিরই একে থামানো না হয়, তাহলে এই মহান প্রজাতন্ত্র পার্ক অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির মতো ভেঙে পড়বে যখন তারা পাতাল রেল বানাচ্ছিল, আর এর ধ্বংসাবশেষের ওপর অন্য একটি রাশিয়ান সরকার উঠে আসবে।

    এটা একটা ভয়াবহ সিরিয়াস বিষয়। এর তুলনায় ‘মুক্ত রৌপ্য’, শুল্ক, সাম্রাজ্যবাদ এবং পানামা খাল কিছুই নয়। আমরা এসব ছাড়াই কোনোমতে চলতে পারতাম, কিন্তু সিভিল সার্ভিস পুরো ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে, আমাকে তোমাকে এটা বুঝিয়ে বলতে দাও। আমি যুক্তিবিজ্ঞানের বিষয়গুলো তেমন জানি না, কিন্তু আমি তোমাকে এমন কিছু যুক্তি দিতে পারি যার উত্তর কেউ দিতে পারবে না।

    প্রথমত, এই মহান এবং গৌরবময় দেশটি রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা গড়ে উঠেছে; দ্বিতীয়ত, দলগুলো টিকে থাকতে পারে না যদি তাদের কর্মীরা বিজয়ী হওয়ার পর পদ না পায়; তৃতীয়ত, যদি দলগুলো ভেঙে যায়, তাহলে যে সরকার তারা গড়ে তুলেছে, সেটাও ভেঙে যাবে; চতুর্থত, তখন সবকিছু নরকে পরিণত হবে।

    এর চেয়ে পরিষ্কার আর কিছু হতে পারে? শোনো, সত্যি করে বলো তো; তুমি কি এই যুক্তির উত্তর দিতে পারবে? অবশ্যই তুমি অস্বীকার করবে না যে সরকার মহান দলগুলোর দ্বারা গড়ে উঠেছে। এটা ইতিহাস, আর তুমি এর বিরুদ্ধে যেতে পারবে না। আমার দ্বিতীয় প্রস্তাবটিও তুমি অস্বীকার করতে পারবে না। যখন দলগুলো পদ পায় না, তখন তারা ভেঙে যায়। এই সিভিল সার্ভিসের কারণে বেশিরভাগ ভালো জিনিস তাদের কাছ থেকে দূরে থাকায় তারা এখন ভাঙনের খুব কাছাকাছি। এই জিনিসটা চলতে থাকলে তুমি কীভাবে দেশপ্রেম টিকিয়ে রাখবে? তুমি পারবে না। আমাকে বলতে দাও যে গত বিশ বছর ধরে দেশপ্রেম দ্রুত মরে যাচ্ছে। তার আগে যখন একটা দল জিতত, তখন তার কর্মীরা সবকিছু পেত। সেটা মানুষকে দেশপ্রেমিক বানানোর একটা কারণ ছিল। এখন যখন একটা দল জেতে আর তার লোকেরা পুরস্কারের জন্য সামনে আসে, তখন উত্তর আসে, “কিছুই হবে না, যদি না তুমি মিসরের মমি আর একটা পাখি প্রতি শতকে একবার করে পৃথিবীর সমান একটা লোহার স্তূপের ওপর পা রাখলে সেটা ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে—এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারো।”

    আমি পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে রাজনীতি এবং মানুষ নিয়ে পড়াশোনা করেছি, আর আমি দেখছি যে সবকিছু কোন দিকে যাচ্ছে। এমনকি আমার ডিস্ট্রিক্টে, যেখানে আমি ট্যামানি ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, আমার ভোটারদের জন্য প্রচুর চাকরি জোগাড় করে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা করি, সেখানেও তরুণদের মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে, তা খুবই দুঃখজনক। ছেলেমেয়েরা আর এখন আমেরিকার পতাকা দেখে বা “দ্য স্টার-স্প্যাঙ্গলড ব্যানার” শুনে উত্তেজিত হয় না। তারা আর চতুর্থ জুলাইয়ে পটকার জন্য মাথা ঘামায় না। আর কেনই বা করবে? এতে তাদের জন্য কী আছে? তারা জানে যে প্রচারাভিযানে তারা দেশের জন্য যত কঠোর পরিশ্রমই করুক না কেন, চাকরি সেইসব লোকেদের কাছে যাবে যারা মমি আর লোহার ওপর পা রাখা পাখির কথা বলতে পারে। তাহলে কি তুমি অবাক হবে যে দেশের তরুণরা পতাকার দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে এবং পটকার জন্য এক নিকিলেও খরচ করতে চায় না?

    স্যান জুয়ান হিলের যুদ্ধের পর, আমেরিকানরা একজন মৃত লোককে খুঁজে পেয়েছিল যার গায়ের রঙ উজ্জ্বল, লাল চুল এবং নীল চোখ ছিল। তারা বুঝতে পারছিল যে সে একজন স্প্যানিশ নয়, যদিও তার গায়ে স্প্যানিশ পোশাক ছিল। বেশ কয়েকজন অফিসার তাকে দেখলেন, আর তখন সেভেন্টি-ফার্স্ট রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক তাকে দেখে চিৎকার করে উঠল, “হে ভগবান, এটা তো ফ্লাহের্টি।” এই লোকটি আমার ডিস্ট্রিক্টে বড় হয়েছিল এবং একসময় ওয়েস্ট সাইডের সবচেয়ে দেশপ্রেমিক আমেরিকান বালক ছিল। সে একটা পতাকা দেখলে চিৎকার করে গলা ভেঙে ফেলত।

    এখন, সে কেন স্প্যানিশ পোশাক পরে মৃত অবস্থায় পড়েছিল? আমি এর পেছনের সব খবর বের করেছি, আর আমি গল্পের সত্যতা নিশ্চিত করছি। ১৮৯৭ সালের পৌরসভা নির্বাচনে সেই তরুণ, দেশপ্রেমে ভরপুর হয়ে ট্যামানি টিকিটের জন্য দিনরাত কাজ করেছিল। ট্যামানি জিতে গিয়েছিল, আর সেই তরুণ তার জীবন শহরের সেবায় উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিল। সে তার জন্য উপযুক্ত একটা জায়গা বেছে নিল এবং দপ্তরের প্রধানের কাছে আবেদন পাঠাল। সে একটি উত্তর পেল যে সেই পদ পেতে হলে তাকে একটি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হবে। সে এই পরীক্ষাগুলো সম্পর্কে জানত না, তাই সে নিশ্চিন্ত মনে সিভিল সার্ভিস বোর্ডের কাছে গেল। সে মমি, লোহার ওপর পাখি এবং অন্য সব বোকা বোকা প্রশ্নগুলো পড়ল—আর সে সেই অফিস থেকে এমন এক দেশের শত্রু হয়ে বেরিয়ে এলো যাকে সে এত ভালোবাসত। মমি আর পাখি তার দেশপ্রেমকে নষ্ট করে দিয়েছিল। সে কিউবায় গেল, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্প্যানিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিল এবং তার দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেল।

    এটা সেই কুখ্যাত সিভিল সার্ভিসের কেবল একটি শিকার। যদি সেই তরুণ সিভিল পরীক্ষার মুখোমুখি না হতো, বরং তাকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী দেশকে সেবা করার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে সে আজ একটি ভালো পদে থাকত, আর ভালো বেতন পেত। আহ, কত তরুণই না এই একই ভাবে তাদের দেশপ্রেম নষ্ট করে ফেলেছে!

    এখন, যখন সিভিল সার্ভিস দেশপ্রেমকে পিষে ফেলবে, তখন কী ঘটবে? কেবল একটি জিনিস ঘটতে পারে: প্রজাতন্ত্র ভেঙে যাবে। তারপর একজন জার বা সুলতানের আবির্ভাব হবে, যা আমাকে আমার যুক্তির চতুর্থ ধাপে নিয়ে আসে—অর্থাৎ, সবকিছু নরকে পরিণত হবে। আর এটা কোনো মিথ্যা কথা নয়।


    অধ্যায় ৪

    সংস্কারকরা হলো শুধু ‘মর্নিং গ্লোরিস’

    কলেজের অধ্যাপক এবং দার্শনিকরা যারা বেলুনে চড়ে চিন্তা করেন, তারা সবসময় এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা করেন: “কেন সংস্কারপন্থী প্রশাসনগুলো দ্বিতীয়বার জিততে পারে না?” এর কারণ যে কোনো মানুষের কাছে স্পষ্ট, যে রাজনীতির অ, আ, ক, খ জানে।

    আমি রাজনীতিতে আমার চল্লিশ বছরের জীবনে নিউ ইয়র্কে ঠিক কতগুলো এমন আন্দোলন শুরু হতে দেখেছি, তা আমি বলতে পারি না, কিন্তু কতগুলো আন্দোলন এক-দু বছরের বেশি টিকেছে, তা আমি বলতে পারি—একটাও না। সংস্কার কমিটিগুলোর সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, একশো এবং সব ধরনের সংখ্যা ছিল, যারা নিয়মিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে ভেঙে দিতে নেমেছিল। তারা ছিল সকালের সুন্দর ফুল বা ‘মর্নিং গ্লোরিস’—সকালে দেখতে খুব সুন্দর লাগত আর অল্প সময়ের মধ্যেই শুকিয়ে যেত, অন্যদিকে নিয়মিত দলগুলো যেন শক্তিশালী পুরোনো ওক গাছের মতো চিরকাল বেড়ে চলে। শোনো, এটা আমার লেখা প্রথম কবিতা। দারুণ না?

    শুধু কয়েক বছর পেছনে তাকাও। তোমার ১৮৯০ সালে মেয়র পদে ফ্র্যাঙ্ক স্কটকে মনোনয়ন দেওয়া ‘পিপলস মিউনিসিপ্যাল লীগ’-এর কথা মনে আছে? সেই লীগ গঠন করা সংস্কারকদের কথা মনে আছে? এরপর থেকে তাদের কথা কি কখনো শুনেছ? আমি শুনিনি। স্কট নিজে টিকে ছিলেন কারণ তিনি সবসময় একজন প্রথম-সারির রাজনীতিক ছিলেন। কিন্তু পিপলস মিউনিসিপ্যাল লীগ-এর সদস্যরা কে কে ছিল, তা খুঁজে বের করতে তোমাকে ১৮৯১ সালের সংবাদপত্রের পঞ্জিকা দেখতে হবে। হ্যাঁ, একটা নাম মনে আছে: অলি টিল; প্রিয়, সুন্দর অলি আর তার বড় কুকুর। ওই লীগে শুধু তারাই বেঁচে আছে।

    এবার ১৮৯৪ সালের সংস্কার আন্দোলনটা দেখো। অনেক ভালো রাজনীতিক তাতে যোগ দিয়েছিল—রিপাবলিকানরা, স্টেট ডেমোক্র্যাটরা, স্টেক্লেরাইটরা এবং ও’ব্রায়েনাইটরা—আর তারা আমাদের পরাজিত করেছিল, কিন্তু সেই আন্দোলনের আসল সংস্কারপন্থী অংশ, যে ‘কমিটি অব সেভেনটি’ সবকিছু শুরু করেছিল, সেই সংস্কারকদের কী হলো? চার্লস স্টুয়ার্ট স্মিথের কী হয়েছে? ব্যাংগস কোথায়? কর্নেল, সেই ‘লোহার মানুষ’, এখন কি রাজনীতিতে তার কথা কখনো শোনো? একটা অনুসন্ধান দল কি আর. ডব্লিউ. জি. ওয়েলিংকে খুঁজে পাবে? ফালটন ম্যাকম্যাহন বা ম্যাকম্যাহন ফালটনের নাম কি সম্প্রতি কোনো কাগজে দেখেছ—আমি নিশ্চিত নই—? অথবা প্রেবল টাকার? অথবা—কিন্তু যারা ১৮৯৪ সালে ট্যামানির বিদায়ের ঘণ্টা বাজিয়েছিল বলে দাবি করেছিল, তাদের সবার তালিকা ধরে যাওয়া কোনো লাভ নেই। তারা চিরকালের জন্য চলে গেছে, আর ট্যামানি বেশ ভালো আছে, ধন্যবাদ। তারা শুধু কথা আর পোজ দিয়েছিল, আর সেই আন্দোলনের রাজনীতিকরা সব সুবিধা লুটে নিয়েছিল। এমনটাই সবসময় হয়।

    ‘সিটিজেনস ইউনিয়ন’ তাদের আগের সংস্কার দলগুলোর চেয়ে একটু বেশি দিন টিকেছে, কারণ তারা আমাদের কাছ থেকে কিছু জিনিস শিখেছে। তারা বেশ ভালো ভান করতে শিখেছে—আর রাজনীতিতে ভান অনেক কাজে লাগে। মাত্র কয়েক হাজার সদস্য নিয়ে, তারা পুরো ‘ফিউশন মুভমেন্ট’ চালানোর সাহস দেখিয়েছিল, রিপাবলিকান ও অন্য সংগঠনগুলোকে তাদের সদর দপ্তরে এসে প্রার্থী তালিকা নির্বাচন করতে এবং প্রত্যেক প্রার্থীকে কী করতে হবে বা কী করা যাবে না, তা নির্দেশ করতে বাধ্য করেছিল। আমি সাহসকে ভালোবাসি, আর তাই ইদানীং আমি সিটিজেনস ইউনিয়নের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা পোষণ করি, কিন্তু ইউনিয়ন বেশিদিন টিকতে পারবে না। এর লোকেরা রাজনীতির জন্য প্রশিক্ষিত নয়, আর যখনই ট্যামানি তাদের ভান ধরে ফেলে, তারা সাথে সাথে ভেঙে পড়ে। এক-দু বছর পর তুমি আর ইউনিয়নের কথা শুনতে পাবে না।

    আর হ্যাঁ, কয়েক বছর আগের ‘গুড গভর্নমেন্ট ক্লাব’গুলোর কী হয়েছে?

    তুমি কি এখন আর গুড গভর্নমেন্ট ক্লাব ডি, পি, কিউ এবং জেড-এর কথা শোনো? সেইসব শিশুদের কী হয়েছে যারা বড় হয়ে আমাদের শহর কীভাবে চালাতে হয় তা দেখানোর কথা ছিল? আমি জানি আমার ডিস্ট্রিক্টে যে ‘নার্সারি’টা শুরু হয়েছিল, সেটার কী হয়েছে। তুমি প্রায় পুরো দলটাকে আমার সদর দপ্তর, ওয়াশিংটন হলে খুঁজে পাবে।

    আসলে, একজন সংস্কারক রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারে না। সে হয়তো কিছু সময়ের জন্য একটা শো দেখাতে পারে, কিন্তু সে সবসময়েই একটা রকেটের মতো নেমে আসে। রাজনীতি মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান বা ওষুধের দোকানের মতোই একটা নিয়মিত ব্যবসা। তোমাকে এর জন্য প্রশিক্ষিত হতে হবে, না হলে তুমি নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে। ধরো, একজন মানুষ যে মুদি ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানে না, সে হঠাৎ করে এই ব্যবসায় এসে তার নিজের ধারণা অনুযায়ী দোকান চালানোর চেষ্টা করল। সে কি একটা গোলমাল করবে না? তার টাকা যতদিন থাকবে, ততদিন হয়তো সে কিছু লোক দেখানো কাজ করতে পারবে, কিন্তু তার দোকান শিগগিরই খালি হয়ে যাবে। সংস্কারকদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। সে রাজনীতির এই কঠিন ব্যবসার মধ্যে বড় হয়নি, আর তাই সে প্রতিবারই একটা গোলমাল করে বসে।

    আমি পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে রাজনৈতিক খেলাটা নিয়ে পড়াশোনা করছি, আর এখনো সবটা জানি না। আমি সবসময় কিছু না কিছু শিখছি। তাহলে তুমি কীভাবে আশা করতে পারো যে যাকে তারা “ব্যবসায়ী” বলে, তারা হঠাৎ করে রাজনীতিতে এসে সফল হবে? এটা অনেকটা এমন যে আমি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে গ্রিক শেখাতে শুরু করলাম। তারা রাজনীতিতে সাধারণত ততটুকুই টিকে থাকে, যতটুকু আমি কলম্বিয়াতে টিকতে পারতাম।

    এই খেলায় সফল হতে চাইলে তুমি রাজনীতিতে খুব আগে থেকে শুরু করতে পারো। আমি ভোট দেওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে শুরু করেছিলাম, আর ট্যামানি হলের প্রত্যেক সফল নেতাও তাই করেছে। যখন আমার বয়স বারো, তখন আমি ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্সের আশেপাশে নিজেকে কাজে লাগাতাম আর নির্বাচনের দিন সব বুথে কাজ করতাম। পরে, যারা নেশা করে থাকত বা ভোট দিতে যেতে অলসতা করত, তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমি ছোটাছুটি করতাম। ছেলেদের সাহায্য করার শত শত উপায় আছে, আর তারা যে অভিজ্ঞতা পায়, সেটাই রাজনীতিবিদের হওয়ার প্রথম সত্যিকারের ধাপ। আমাকে এমন একটা ছেলে দেখাও যে নির্বাচনের দিন সংগঠনের জন্য ছোটাছুটি করে, আর আমি তোমাকে একজন ভবিষ্যৎ রাজনীতিক দেখাব।

    এটা রাজনীতির অ, আ, ক, খ। ‘ক’ আর ‘খ’ থেকে ‘ল’ আর ‘ম’-এ পৌঁছানো সহজ কাজ নয়। এর জন্য তোমাকে প্রায় সব সময় এবং মনোযোগ দিতে হবে। অবশ্যই, এর পাশাপাশি তোমার অন্য কোনো ব্যবসা বা পেশা থাকতে পারে, কিন্তু যদি তুমি রাজনীতিতে সফল হতে চাও, তাহলে তোমার জীবনের প্রধান ব্যবসা রাজনীতিই হতে হবে। কয়েক বছর আগে ট্যামানি প্রত্যেক ডিস্ট্রিক্টের জন্য দুজন নেতা রেখে রাজনীতি আর ব্যবসাকে সমানভাবে মেশানোর চেষ্টা করেছিল—একজন রাজনীতিক এবং একজন ব্যবসায়ী। তারা মিশতে পারল না। তারা ছিল তেল আর জলের মতো। রাজনীতিক তার ডিস্ট্রিক্টের রাজনীতি দেখত; ব্যবসায়ী তার মুদি দোকান বা দুধের রুট দেখত, এবং যখনই সে কোনো কার্যনির্বাহী সভায় আসত, তখনই কেবল ঝামেলা তৈরি করত। পুরো পরিকল্পনাটা একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছিল আর খুব দ্রুতই তা বাতিল করা হয়।

    তুমি কি এখন বুঝতে পারছ, কেন একজন সংস্কারক প্রথম বা দ্বিতীয় রাউন্ডেই হেরে যায়, আর একজন রাজনীতিক সবসময় ঘণ্টার শব্দ শুনে উত্তর দেয়? কারণ একজন কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই লড়াইয়ে নেমেছে, আর অন্যজন সবসময় প্রশিক্ষণ নেয় এবং খেলার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় জানে।

  • জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট: একজন প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকের কথা – পর্ব ১

    জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট: একজন প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকের কথা – পর্ব ১

    অনুবাদকের কথা

    অনেক দিন আগে, নিউইয়র্কের এক অনালোকিত অধ্যায় নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। আজ যে নিউইয়র্ককে আমরা আলো ঝলমলে শহর হিসেবে চিনি, তার পেছনে রয়েছে এক অন্ধকার ইতিহাস। সেই ইতিহাস জানা না থাকলে এই মহানগরীর গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। নিউইয়র্কের সেই সময়টা ছিল দুর্নীতিতে ভরপুর। ট্যামানী হলের মাধ্যমে সেখানে যে রাজনৈতিক দুর্নীতির জাল ছড়িয়েছিল, তা আজও অনেক দেশের শাসনব্যবস্থায় দেখা যায়। সেই কদর্য ইতিহাসকে সামনে আনতেই এই লেখাটি অনুবাদ করেছি।

    এই লেখাটি হলো সেই সময়ের এক কুখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জর্জ উইলিয়াম প্লাঙ্কিটের নিজের মুখ থেকে বলা কথা। তার কথাগুলো লিখেছিলেন বিখ্যাত লেখক উইলিয়াম রাইয়ার্ডন। বইটি পরিচিত ‘প্লাঙ্কিট অব ট্যামানী হল’ নামে। আসুন, তাহলে ট্যামানী হলের সেই সাধু জর্জ উইলিয়াম প্লাঙ্কিটের মুখে শোনা ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করা যাক।

    রবিউল হাসান [লিংকন]

    ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ইং

    ভূমিকা

    এই বইটিতে সেই সময়ের সবচেয়ে প্র্যাকটিক্যাল বা বাস্তববাদী রাজনীতিক জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিটের মনের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি ট্যামানি হল (Tammany Hall)-এর ১৫তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টের নেতা, ট্যামানি সোসাইটির ‘স্যাকাম’ এবং ট্যামানি হলের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি স্টেট সিনেটর, অ্যাসেম্বলিম্যান, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট, কাউন্টি সুপারভাইজার এবং অ্যালডারম্যানের মতো অনেক পদে ছিলেন। তিনি গর্ব করে বলেন যে এক বছরে চারটি সরকারি পদে থেকেছেন এবং তার মধ্যে তিনটির বেতন একসাথে তুলেছেন।

    বইটিতে সংকলিত কথাগুলো গত ছয় বছরে তিনি তার বক্তৃতা মঞ্চ অর্থাৎ কাউন্টি কোর্ট-হাউসের বুটশাইন স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। তার অকপট সততা এবং চিন্তাভাবনার বাঁধনছাড়া ভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্লাঙ্কিট সব প্র্যাকটিক্যাল রাজনীতিকদের মনের কথা সরাসরি বলে দিয়েছেন, যা অন্যরা বলতে ভয় পায়। তার কিছু কথা আমি ‘নিউ ইয়র্ক ইভনিং পোস্ট’, ‘নিউ ইয়র্ক সান’, ‘নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘বস্টন ট্রান্সক্রিপ্ট’-এর মতো পত্রিকায় সাক্ষাৎকার হিসেবে প্রকাশ করেছিলাম। সেগুলো সারা দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল। বিশেষ করে “সিভিল সার্ভিস সংস্কারের অভিশাপ” এবং “সৎ ও অসৎ চুরি” (Honest Graft and Dishonest Graft) নিয়ে তার কথাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট এবং কলেজের বক্তৃতাতেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই প্লাঙ্কিটকে একজন ব্যতিক্রমী এবং বাস্তববাদী রাজনীতিক হিসেবে চিনতে পেরেছিল, যিনি প্রকাশ্যে এমন কথা বলার সাহস রাখতেন যা তার সহকর্মীরা সিটি হলের করিডোর বা হোটেলের লবিতে ফিসফিস করে বলত।

    আমি ভেবেছিলাম প্লাঙ্কিটের এই ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তিগুলো—যা অনেকটাই রুশোর স্বীকারোক্তির মতো অকপট—পত্রিকার ফাইলের মধ্যে হারিয়ে যেতে দেওয়া ঠিক হবে না। তাই, আমি আমার প্রকাশিত লেখাগুলো সংগ্রহ করে, তার সঙ্গে আরও কিছু নতুন বিষয় যোগ করে এই বইটি তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে আমি বিশ্বকে এমন এক রাজনৈতিক দর্শন উপহার দিচ্ছি যা যেমন অনন্য, তেমনই সতেজ।

    নিউ ইয়র্কের মানুষদের কাছে জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট কে, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে অন্যদের জানার জন্য তার জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো। তিনি গর্ব করে বলেন, তার জন্ম সেন্ট্রাল পার্কে, অর্থাৎ বর্তমান পার্কের অন্তর্ভুক্ত এলাকায়। তিনি প্রথমে ঠেলাগাড়ির চালক ছিলেন, তারপর কসাইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করেন এবং পরে নিজেই মাংসের ব্যবসা শুরু করেন। কীভাবে তিনি রাজনীতিতে এলেন, তা তিনি তার বক্তৃতায় ব্যাখ্যা করেছেন। রাজনীতিতে তার উন্নতি ছিল দ্রুত। প্রথম ভোট দেওয়ার পর পরই তিনি অ্যাসেম্বলিতে যোগ দেন এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পদে ছিলেন।

    ১৮৭০ সালে তিনি এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একাই অ্যাসেম্বলিম্যান, অ্যালডারম্যান, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট এবং কাউন্টি সুপারভাইজারের পদ ধরে রেখেছিলেন এবং তিনটির বেতন একসাথে তুলেছিলেন—যা নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে এক বিরল ঘটনা।

    প্লাঙ্কিট এখন একজন কোটিপতি। তার এই বিশাল সম্পদের মূল উৎস তার রাজনৈতিক প্রভাব, যা তিনি তার “সৎ ও অসৎ চুরি” বিষয়ক বক্তব্যে নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি ঠিকাদারি, পরিবহন, রিয়েল এস্টেট এবং অন্য সব ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, যেখান থেকে তিনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বর্তমানে তার কোনো সরকারি পদ নেই। তার প্রধান কার্যালয় হলো কাউন্টি কোর্ট-হাউসের বুটশাইন স্ট্যান্ড। সেখানেই তিনি তার ভোটারদের সাথে দেখা করেন, নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং তার রাজনৈতিক দর্শন শোনান।

    প্লাঙ্কিট প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্যামানি হলের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। অ্যাসেম্বলি এবং স্টেট সিনেটে থাকার সময় তিনি সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্যদের একজন ছিলেন এবং নিউ ইয়র্ক সিটির বাইরের পার্ক, হারলেম রিভার স্পিডওয়ে, ওয়াশিংটন ব্রিজ, ১৫৫তম স্ট্রিট ভায়াডাক্ট, ফিফটি-সেভেনথ স্ট্রিটের উত্তরে এইটথ অ্যাভিনিউয়ের উন্নয়ন, মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরিতে নতুন সংযোজন, ওয়েস্ট সাইড কোর্ট এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ জনহিতকর কাজের বিল পাস করিয়েছিলেন। তিনি ট্যামানি হলের নেতা চার্লস এফ. মারফির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অন্যতম মূল্যবান উপদেষ্টা।


    উইলিয়াম এল. রিওর্ডন
    [Plunkett died in 1924, Riordan wrote this account in 1963]

    অধ্যায় ১

    সৎ চুরি ও অসৎ চুরি

    আজকাল সবাই ট্যামানি হলের লোকজন কীভাবে চুরি করে ধনী হচ্ছে, তা নিয়ে কথা বলে। কিন্তু সৎ চুরি আর অসৎ চুরির মধ্যে যে একটা পার্থক্য আছে, তা কেউ ভাবে না। এই দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। হ্যাঁ, আমাদের অনেকে রাজনীতি করে ধনী হয়েছে। আমিও হয়েছি। এই খেলা থেকে আমি প্রচুর অর্থ কামিয়েছি এবং প্রতিদিন আরও ধনী হচ্ছি। তবে আমি অসৎ চুরির পথে যাইনি—যেমন জুয়াড়ি, মদের দোকানের মালিক বা খারাপ লোকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা—আর যারা রাজনীতি করে বড়লোক হয়েছে, তাদের কেউই এই কাজ করেনি।

    সৎ চুরি বলে একটা জিনিস আছে, আর আমিই তার একটা উদাহরণ। আমি পুরো ব্যাপারটা একটা কথায় বলতে পারি: “আমি সুযোগ দেখেছি এবং সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছি।”

    আমাকে কিছু উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে দাও। ধরো, আমার দল এখন ক্ষমতায় আছে এবং তারা অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ হাতে নেবে। তখন আমি গোপন খবর পেলাম, ধরো, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নতুন একটা পার্ক তৈরি করা হবে।

    আমি সুযোগটা দেখি এবং কাজে লাগাই। আমি সেই জায়গায় গিয়ে আশেপাশের যতটা জমি পারি, কিনে ফেলি। এরপর যখন বোর্ড তাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করে, তখন সবাই আমার জমি কেনার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে, যে জমিগুলোর কোনো মূল্যই আগে ছিল না।

    আমার বিনিয়োগ আর দূরদর্শিতার জন্য ভালো দামে বিক্রি করে লাভ করাটা কি পুরোপুরি সৎ কাজ নয়? অবশ্যই, এটা সৎ চুরি।

    অথবা ধরো, একটা নতুন সেতু তৈরি করা হবে। আমি খবর পাই এবং সেতুর অ্যাপ্রোচের জন্য যে জমিগুলো দরকার, তার যতটা পারি, কিনে ফেলি। পরে আমি আমার নিজের দামে সেগুলো বিক্রি করে আরও কিছু টাকা ব্যাংকে রাখি।

    তুমি কি এটা করতে না? এটা ঠিক যেমন ওয়াল স্ট্রিট বা কফি, তুলার বাজারে আগে থেকে দেখে শুনে বিনিয়োগ করা। এটাই সৎ চুরি, আর আমি সারা বছর এই সুযোগের অপেক্ষায় থাকি। আমি তোমাকে সত্যি বলছি, আমি এই উপায়ে অনেক টাকা কামিয়েছি।

    তোমাকে একটা ঘটনা বলি। তারা একটা বড় পার্ক তৈরি করতে যাচ্ছিল, কোথায় সেটা ব্যাপার না। আমি খবরটা পেলাম, আর আশেপাশে জমি খুঁজতে লাগলাম।

    ভালো দামে কোনো জমি পাচ্ছিলাম না, শুধু একটা বড় জলাভূমি ছাড়া। আমি দেরি না করে সেটা কিনে নিলাম আর ধরে রাখলাম। যা ভেবেছিলাম, ঠিক সেটাই ঘটল। আমার জলাভূমি ছাড়া পার্কটা সম্পূর্ণ হচ্ছিল না, আর তাই তাদের ভালো দাম দিয়ে সেটা কিনতে হলো। এর মধ্যে কি কোনো অসততা আছে?

    জলাধার প্রকল্পেও আমি কিছু টাকা কামিয়েছি। কয়েক বছর আগে আমি সেখানে কিছু জমি কিনেছিলাম আর আন্দাজ করেছিলাম যে পরে শহর কর্তৃপক্ষ সেগুলো পানির প্রকল্পের জন্য কিনবে।

    যেকোনোভাবেই হোক, আমার আন্দাজ সবসময়ই ঠিক হতো। আমার দূরদর্শিতার জন্য আমি কি লাভ উপভোগ করব না? এটা বেশ মজার ছিল যখন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তারা এসে দেখেন, একটার পর একটা জমি নিউ ইয়র্ক সিটির ফিফটি অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টের জর্জ প্লাঙ্কিটের নামে আছে। তারা অবাক হয়ে গিয়েছিল যে আমি কীভাবে জানলাম কোন জমিটা কিনতে হবে। উত্তরটা হলো—আমি সুযোগ দেখেছি এবং সেটাকে কাজে লাগিয়েছি। আমি শুধু জমি কেনাবেচার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি; যে কোনো লাভজনক কাজই আমার তালিকায় ছিল।

    উদাহরণস্বরূপ, শহর যখন একটা রাস্তা নতুন করে তৈরি করে, তখন কয়েক লক্ষ পুরোনো গ্রানাইট ব্লক বিক্রির জন্য থাকে। আমি সেগুলো কেনার জন্য প্রস্তুত থাকি এবং আমি জানি সেগুলোর সঠিক দাম কত।

    কীভাবে জানি? সেটা বড় কথা নয়। কিছু সময়ের জন্য এই ব্যবসার ওপর আমার একচেটিয়া আধিপত্য ছিল, কিন্তু একবার একটা সংবাদপত্র আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করল। তারা ব্রুকলিন এবং নিউ জার্সি থেকে কিছু বাইরের লোককে নিয়ে এসে আমার বিরুদ্ধে নিলামে নামাল।

    আমি কি হেরে গিয়েছিলাম? একদমই না। আমি সেই লোকগুলোর প্রত্যেকের কাছে গিয়ে বললাম: “তোমাদের মধ্যে কে কতগুলো ব্লক চাও?” একজন বলল ২০,০০০, আরেকজন ১৫,০০০ এবং আরেকজন ১০,০০০ চায়। আমি বললাম: “ঠিক আছে, আমাকে সবগুলো ব্লকের জন্য নিলামে ডাকতে দাও, আর তোমরা যা যা চাও, আমি তোমাদেরকে বিনামূল্যে দিয়ে দেব।”

    অবশ্যই তারা রাজি হলো। এরপর নিলামকারী চিৎকার করে বলল: “এই ২,৫০,০০০টি সুন্দর পেভিং স্টোনের জন্য কে কত দাম দেবেন?”

    আমি বললাম, “আড়াই ডলার পঞ্চাশ সেন্ট।”

    “আড়াই ডলার পঞ্চাশ সেন্ট!” নিলামকারী চিৎকার করে উঠল। “আরে, এটা তো একটা ঠাট্টা! আসল দাম বলো।”

    সে বুঝল যে আমার দামটা সত্যি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি ২.৫০ ডলার দিয়ে পুরো লটটা কিনে নিলাম এবং তাদের প্রত্যেকের ভাগ তাদের দিয়ে দিলাম। এভাবেই প্লাঙ্কিটকে হারানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, আর এভাবেই এমন সব চেষ্টা শেষ হয়।

    আমি তোমাকে সৎ চুরির মাধ্যমে কীভাবে ধনী হয়েছি, তা বলেছি। এখন, আমি তোমাকে বলি, যে সব রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে শহরকে লুট করার অভিযোগ ওঠে, তারাও এভাবেই ধনী হয়।

    তারা শহরের কোষাগার থেকে এক ডলারও চুরি করেনি। তারা শুধু তাদের সুযোগ দেখেছে এবং সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছে। এই কারণেই যখন কোনো সংস্কারপন্থী প্রশাসন ক্ষমতায় আসে এবং প্রচারণার সময় যেসব সরকারি চুরির কথা বলেছিল, সেগুলো খুঁজে বের করার জন্য পাঁচ লক্ষ ডলার খরচ করে, তখন তারা কিছুই খুঁজে পায় না।

    হিসাবের খাতা সবসময়ই ঠিক থাকে। শহরের কোষাগারে টাকা ঠিকঠাক থাকে। সবকিছুই ঠিক আছে। তারা কেবল এটাই দেখাতে পারে যে ট্যামানি হলের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা তাদের বন্ধুদের আইনের মধ্যে থেকে যতটুকু সুযোগ দিতে পেরেছে, দিয়েছে, যাতে তারা সৎ চুরি করতে পারে। এখন আমি তোমাকে বলি, এই কাজ কখনোই ট্যামানি হলের জনপ্রিয়তা জনগণের কাছে কমাবে না। প্রত্যেক ভালো মানুষই তার বন্ধুদের খেয়াল রাখে, আর যে এটা করে না, তার জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা কম। ব্যক্তিগত জীবনে যদি আমার কাছে কোনো ভালো কিছু থাকে, আমি সেটা আমার বন্ধুকে দিই—তাহলে কেন আমি সরকারি জীবনেও একই কাজ করব না?

    আরও এক ধরনের সৎ চুরি আছে। ট্যামানি অনেক কর্মীর বেতন বাড়িয়েছে। সংস্কারপন্থীরা এর বিরুদ্ধে অনেক শোরগোল করেছিল, কিন্তু তুমি কি জানো, বেতন বাড়ানোর জন্য ট্যামানি যত ভোট হারিয়েছে, তার থেকে দশ গুণ বেশি ভোট পেয়েছে?

    ওয়াল স্ট্রিটের একজন ব্যাংকার মনে করে একজন বিভাগীয় কেরানির বেতন বছরে ১৫০০ ডলার থেকে ১৮০০ ডলারে বাড়ানো লজ্জাজনক, কিন্তু যে কোনো বেতনভুক্ত কর্মী নিজেই বলে: “এটা ঠিক আছে। আমার যদি এমন হতো।” আর সে সহানুভূতিবশত হলেও নির্বাচনের দিন ট্যামানির টিকিটে ভোট দেওয়ার কথা ভাবে।

    ১৯০১ সালে ট্যামানি হেরে গিয়েছিল কারণ মানুষজন এটা বিশ্বাস করতে প্রতারিত হয়েছিল যে তারা অসৎ চুরি করে। তারা অসৎ চুরি আর সৎ চুরির মধ্যে পার্থক্যটা বোঝেনি, কিন্তু তারা দেখেছে যে ট্যামানির কিছু লোক ধনী হয়েছে এবং তারা ধরে নিয়েছিল যে তারা শহরের কোষাগার লুট করেছে বা অবৈধ জুয়ার আড্ডা থেকে চাঁদা তুলেছে অথবা জুয়াড়ি ও আইন লঙ্ঘনকারীদের সঙ্গে কাজ করেছে।

    অন্য কিছু না হোক, নীতির দিক থেকে বিবেচনা করলে, যখন ট্যামানি নেতারা ক্ষমতায় থাকে, তখন চারপাশে এত সৎ চুরির সুযোগ থাকতেও তারা কেন এমন নোংরা ব্যবসার মধ্যে যাবে? তুমি কি কখনো এটা ভেবে দেখেছ?

    এখন, শেষ করতে গিয়ে আমি বলতে চাই যে আমার কাছে একটিও অসৎ পথে অর্জিত ডলার নেই। যখন আমি থাকব না, তখন আমার সবচেয়ে বড় শত্রুকে যদি আমার সমাধিলিপি লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়, সে এর চেয়ে বেশি কিছু লিখতে পারবে না:

    “জর্জ ডব্লিউ. প্লাঙ্কিট। সে তার সুযোগগুলো দেখেছিল এবং সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছিল।”


    অধ্যায় ২

    রাজনীতিবিদ হওয়ার উপায়

    এই শহরে হাজার হাজার যুবক আছে, যারা আগামী নভেম্বরে প্রথমবার ভোট দিতে যাবে। তাদের মধ্যে অনেকে রাজনীতিতে সফল মানুষদের জীবন দেখেছে এবং তারাও এই খেলায় নাম আর অর্থ কামাতে চায়। আমি এই তরুণদের কিছু পরামর্শ দিতে চাই। প্রথমে, আমাকে বলতে দাও যে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কথা বলার যোগ্যতা আমার আছে। আমার চেয়ে রাজনীতিতে সফল হওয়ার ভালো উদাহরণ তুমি সহজে খুঁজে পাবে না। চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতার পর আমি—হ্যাঁ, আমিই জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট। পৃথিবীতে সেরা রাজনৈতিক সংগঠনে আমার কী ভূমিকা, তা সবাই জানে। আর যদি তুমি শোনো যে ওয়াশিংটন মার্কেটে কসাইয়ের সহকারী থাকার পর থেকে আমি প্রায় দশ লাখ ডলার কামিয়েছি, তাহলে আমাকে মিথ্যাবাদী বলার দরকার নেই। আমি ভালোই আছি, ধন্যবাদ।

    আইনজীবীরা যেমন বলে, “একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ্য হওয়ার পর,” আমি এখন যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে এবং রাজনৈতিক খ্যাতি ও প্রচুর টাকা কামানোর স্বপ্ন দেখছে, তাদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিতে যাচ্ছি। কিছু তরুণ মনে করে বই পড়ে রাজনীতিতে সফল হওয়া যায় এবং তারা তাদের মাথা সব ধরনের কলেজী কথাবার্তা দিয়ে ভরে ফেলে। এর চেয়ে বড় ভুল আর কিছু হতে পারে না। আমাকে ভুল বুঝো না, আমি কলেজের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। আমার মনে হয় যতক্ষণ বইয়ের পোকা আছে, ততক্ষণ কলেজও থাকবে, আর আমি মনে করি তারা কোনো না কোনোভাবে ভালো কাজ করে, কিন্তু রাজনীতিতে তাদের কোনো গুরুত্ব নেই। আসলে, যে তরুণ কলেজ থেকে পাশ করে এসেছে, সে শুরুতেই পিছিয়ে থাকে। সে হয়তো রাজনীতিতে সফল হতে পারে, কিন্তু তার সম্ভাবনা ১০০-তে ১।

    আরেকটা ভুল: কিছু তরুণ মনে করে রাজনীতিতে সফল হওয়ার সেরা উপায় হলো বক্তৃতা দেওয়া এবং বাগ্মী হওয়া। এটা সম্পূর্ণ ভুল। ট্যামানি হলে আমাদের কিছু বাগ্মী আছে, কিন্তু তারা মূলত শোভার জন্য। চার্লি মারফি, বা রিচার্ড ক্রোকার, বা জন কেলি, বা এই সংগঠনের অন্য কোনো প্রভাবশালী নেতাকে কি তুমি কখনো বক্তৃতা দিতে শুনেছ? আজকের ট্যামানি হলের ৩৬ জন ডিস্ট্রিক্ট লিডারকে দেখো। তাদের মধ্যে কতজন শুধু কথার জোরে চলে? হয়তো একজন বা দুজন, কিন্তু ট্যামানি হলে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়, তখন তাদের কোনো গুরুত্ব থাকে না। যারা শাসন করে, তারা তাদের জিহ্বা সংযত রাখার অনুশীলন করে, ব্যবহার করার নয়। তাই তুমি যদি শুধু লোক দেখানোর জন্য রাজনীতিতে আসতে চাও, তাহলে বাগ্মী হওয়ার চিন্তা বাদ দাও।

    আমি তোমাকে কী করা উচিত নয়, তা বলেছি; এবার রাজনীতিতে সফল হওয়ার জন্য কী করতে হবে, তা আমার নিজের কাজের উদাহরণ দিয়ে ভালোভাবে বোঝাতে পারব। ছেলেবেলায় আমি ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্সের আশেপাশে কাজ করে এবং নির্বাচনের দিন বুথের আশেপাশে ছোটাছুটি করে এই ব্যবসার প্রাথমিক কাজগুলো শিখেছিলাম। এরপর যখন আমি প্রথম ভোট দিলাম, তখন থেকেই আমি নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে খ্যাতি ও অর্থ উপার্জনের জন্য নেমে পড়লাম। আমি কি ডিস্ট্রিক্ট লিডারকে একজন বক্তা হিসেবে আমার সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম? একদম না। বক্তা দিয়ে বন সবসময়ই ভরা থাকে। আমি কি পৌরসভা নিয়ে একটা বই লিখে নেতাকে দেখিয়েছিলাম? আমি অত বোকা ছিলাম না। আমি যা করেছিলাম তা হলো, নেতাদের কাছে যাওয়ার আগে কিছু ‘বিক্রয়যোগ্য পণ্য’ জোগাড় করা। ‘বিক্রয়যোগ্য পণ্য’ বলতে আমি কী বোঝাচ্ছি? আমাকে বলতে দাও: আমার একজন কাজিন ছিল, যে রাজনীতিতে তেমন আগ্রহী ছিল না। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম: “টমি, আমি একজন রাজনীতিক হতে যাচ্ছি, আর আমি একটা ‘ফলোয়িং’ বা অনুসারী পেতে চাই; আমি কি তোমার উপর ভরসা করতে পারি?” সে বলল: “অবশ্যই, জর্জ।” এভাবেই আমার ব্যবসা শুরু হয়েছিল। আমি একটা বিক্রয়যোগ্য জিনিস পেয়েছিলাম—একটা ভোট। এরপর আমি ডিস্ট্রিক্ট লিডারের কাছে গেলাম এবং তাকে বললাম যে নির্বাচনের দিন আমি দুটো ভোট নিশ্চিত করতে পারি, টমিরটা আর আমার নিজেরটা। তিনি আমার দিকে হাসিমুখে তাকালেন এবং আমাকে এগিয়ে যেতে বললেন। যদি আমি তাকে একটা বক্তৃতা বা একগাদা বিদ্যার কথা বলতাম, তাহলে তিনি বলতেন, “আরে, ওসব ভুলে যাও!”

    এভাবেই ছোট করে ব্যবসা শুরু হয়েছিল, তাই না? কিন্তু এটাই একজন সত্যিকারের এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনীতিবিদ হওয়ার একমাত্র উপায়। খুব তাড়াতাড়িই আমি আমার পরিধি বাড়ালাম। আমার পাশের ফ্ল্যাটের দুজন যুবক আমার স্কুল বন্ধু ছিল—আমি টমির কাছে যেভাবে গিয়েছিলাম, তাদের কাছেও সেভাবেই গেলাম, এবং তারা আমাকে সমর্থন করতে রাজি হলো। তখন আমার অনুসারীর সংখ্যা হলো তিনজন এবং আমি একটু সাহসী হয়ে উঠলাম। যখনই আমি ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্সে যেতাম, সবাই আমার সাথে হাত মেলাত, আর একদিন নেতা আমার সিগারেট ধরানোর জন্য দেশলাই জ্বালিয়ে আমাকে সম্মান জানালেন। এভাবেই ব্যাপারটা একটা ঢাল থেকে গড়িয়ে যাওয়া তুষারগোলের মতো বাড়তে থাকল। আমি যে ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকতাম, তার বেসমেন্ট থেকে উপরের তলা পর্যন্ত সবাইকে আমার পক্ষে নিয়ে এলাম, আর প্রায় ডজনখানেক যুবককে আমার অনুসারী করলাম। এরপর আমি পাশের বাড়িতে গেলাম এবং এভাবেই পুরো ব্লক এবং মোড়ের সবকিছু আমার আয়ত্তে চলে এল। অল্প দিনের মধ্যেই আমার পেছনে ৬০ জন মানুষ চলে এল, আর আমি ‘জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করলাম।

    তখন আমি যখন হেডকোয়ার্টার্সে গেলাম, ডিস্ট্রিক্ট লিডার কী বলেছিলেন? আমাকে আর হেডকোয়ার্টার্সে যেতে হয়নি। তিনি নিজেই আমার কাছে এসে বলেছিলেন: “জর্জ, তুমি কী চাও? যদি তোমার চোখে যা চাও তা দেখতে না পাও, তাহলে চেয়ে নাও। তোমার বন্ধুদের জন্য কি কিছু সরকারি চাকরি দরকার?” আমি বললাম: “আমি ভেবে দেখব; আগামী প্রচারাভিযানে জর্জ ওয়াশিংটন প্লাঙ্কিট অ্যাসোসিয়েশন কী করবে, তা আমি এখনো ঠিক করিনি।” তখন প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের নেতারা কীভাবে আমাকে তোষামোদ আর তোল্লাত, তা তোমার দেখা উচিত ছিল। আমার কাছে বিক্রি করার মতো জিনিস ছিল এবং সব দিক থেকে সেগুলোর জন্য দর কষাকষি হচ্ছিল। আমি তখন রাজনীতিতে একজন উদীয়মান ব্যক্তি। সময়ের সাথে সাথে আমার অ্যাসোসিয়েশন বড় হতে থাকলে, আমি অ্যাসেম্বলিতে যেতে চাইলাম। আমি শুধু আমার চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, আর তিনটি ভিন্ন সংগঠন আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দিল। এরপর আমি বোর্ড অব অ্যালডারমেন, তারপর স্টেট সিনেটে গেলাম, তারপর ডিস্ট্রিক্টের নেতা হলাম এবং এভাবেই ধাপে ধাপে একজন রাজনীতিবিদ হলাম।

    এটাই রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী সফলতা পাওয়ার একমাত্র উপায়। যদি তুমি আগামী নভেম্বরে প্রথম ভোট দিতে যাও এবং রাজনীতিতে নামতে চাও, তাহলে আমি যা করেছি, তা-ই করো। একজন অনুসারী জোগাড় করো, যদি সেটা মাত্র একজনও হয়, আর তারপর ডিস্ট্রিক্ট লিডারের কাছে গিয়ে বলো: “আমি সংগঠনে যোগ দিতে চাই। আমার একজন লোক আছে যে আমাকে সব বিপদে-আপদে অনুসরণ করবে।” নেতা তোমার একজন অনুসারী দেখে হাসবেন না। তিনি উষ্ণভাবে তোমার সঙ্গে হাত মেলাবেন, তার ক্লাবে সদস্য হিসেবে তোমাকে প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলবেন, তোমাকে রাস্তার মোড়ের একটা দোকানে নিয়ে গিয়ে পানীয়র প্রস্তাব দেবেন এবং আবার আসতে বলবেন। কিন্তু তার কাছে গিয়ে যদি তুমি বলো: “আমি কলেজে অ্যারিস্টটলে প্রথম পুরস্কার পেয়েছি; আমি শেক্সপিয়ারের সব লেখা মুখস্ত বলতে পারি; বিজ্ঞানের কোনো কিছুই আমার কাছে এলিভেটেড রোডের ব্লকেডের চেয়ে অপরিচিত নয়, আর আমি একজন প্রকৃত ‘রুপালি-জিহ্বা’ বাগ্মী,” তাহলে তিনি কী উত্তর দেবেন? তিনি সম্ভবত বলবেন: “আমি মনে করি তোমার এই দুর্ভাগ্যের জন্য তুমি দায়ী নও, কিন্তু আমাদের এখানে তোমার কোনো প্রয়োজন নেই।”


    সংখ্যক বোকা থাকে আর একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক থাকে যারা তাদের ফাঁসানোর সুযোগ খোঁজে, আর বোকারা নিশ্চিতভাবেই কোনো না কোনোভাবে ধরা পড়ে। এটা হলো চাহিদা এবং সরবরাহের চিরন্তন আইন।


  • গোলাপী যখন ট্রেনে, হাতুড়ে তখন আমিরিকায়

    গোলাপী যখন ট্রেনে, হাতুড়ে তখন আমিরিকায়

    ​গ্রামে চিকিৎসা করিতে করিতে হাতুড়ে ডাক্তার রিক্ত হইয়াছে, হয় রোগ নতুবা রোগী, উভয়েই তল্লাট ছাড়িয়াছে। অবশ্য সে পশুপালের চিকিৎসা আরম্ভ করিতে চাহিয়াছিল, কিন্তু মর্ম না বুঝিয়া এক গোমাতা তাঁহার কর্ম সমাধা করিয়া দিয়াছে।

    ​আর এই গ্রাম নহে, এইবার বিশ্ব-ধরণীকে হাতুড়ে চিকিৎসা কী বস্তু, তাহা বুঝাইতে মনস্থির করিয়া সে একটি ভূগোলক তুলিয়া লইল। সিদ্ধান্ত এই যে, ভূগোলক ঘুরাইয়া অনুমানে যে দেশে অঙ্গুলি পতিত হইবে, হাতুড়ে সেই দেশেই প্রস্থান করিবে। দুই হস্তে ভূগোলকটি আঁকড়াইয়া ধরিয়া এক ঘূর্ণি দিল, আর মনে মনে জপিতে লাগিল—চায়না, উগান্ডা, হনুলুলু। অঙ্গুলি তাক করিয়া লইল এই ভাবিয়া যে, অঙ্গুলি যে দেশে অবতরণ করিবে, সেই স্থানেই অবতরণ করিব। কয়েক ঘূর্ণি খাইয়া ভূগোলক থামিল; অঙ্গুলি যে দেশের নাম ইঙ্গিত করিল, বহু কষ্টে হাতুড়ে উচ্চারণ করিল—উচা।

    ​এত দেশ থাকিতে এই ‘উচা’ আবার কোনো দেশ? নিদেনপক্ষে চীন হইত, নতুবা ভারত। এই দুইটি দেশ ইতিমধ্যেই চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত; তথায় তাঁহার অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, নিমপ্যাথি উত্তমরূপেই চলিত। কিন্তু ‘উচা’ দেশে এই সকল কি চলিবে? কিন্তু হাতুড়ের এক বাক্য, অঙ্গুলি যেখানে পতিত হইয়াছে, সেই স্থানেই অবতরণ। তল্পিতল্পা গুটাইয়া সে প্ল্যানে বসিয়া গেল। উড়োজাহাজ নহে, স্বীয় পরিকল্পনা।

    ভূগোলক অনুসারে ‘উচা’ দেশে যাইতে হইলে সাগর, বন, জঙ্গল পাড়ি দিয়া যাইতে হইবে। অথবা উড়োজাহাজে চড়িয়া যাওয়া যায়। গ্রামে মুরুব্বিস্থানীয়দের সহিত সলা পরামিশে বসিয়া জানা গেল যে, উত্তর পাড়ার মাকু ঐ দেশে থাকে। আরও জানা গেল, দেশটি আসলে ‘উচা’ নহে, উহা আমিরিকা। তবে মাকুর কথা মনে পড়ায় হাতুড়ে মনে মনে কিঞ্চিৎ দমিয়া গেল। এই মাকুকেই সে সেই শৈশবে ইঞ্জেকশন দিয়াছিল!

    ​যেহেতু যাওয়াই মনস্থির, অগত্যা কিছু সলা পরামিশ কাজে লাগাইবার নিমিত্ত মাকুর গৃহে যাওয়াই স্থির হইল। অপরাহ্ণে কোবতের পুস্তক রাখিয়া ছাতা বগলে চাপিয়া হাতুড়ে মাকুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল।

    ​মাকুর প্রাঙ্গণে বৈঠক জমিয়া থাকে। মাকুর পিতা আলিসান কেদারায় বসিয়া বিভিন্ন বিষয়ে বক্তিমা দেন। আর কেমন করিয়া যেন তিনি সকল বিষয়েই আমিরিকা টানিয়া আনিতে পারেন। কোনো বিষয় না থাকিলেও আমিরিকা, প্রসঙ্গ না থাকিলেও আমিরিকা। বেশ জবরদোস্ত ব্যাপার। আমিরিকার প্রধান খাদ্য বার্গার, রাস্তায় ফেলিয়া ভাত খাওয়া যায়, আর বাতাসে কেবল ডলার উড়িতে থাকে। সপ্তাহে মাত্র পাঁচ দিন কার্য করিলে চলে, এদেশের ন্যায় ত্রিশ দিন নহে— ইত্যাকার নানা আলাপ চলিতে চলিতে রাত্রি হয়। হাতুড়ে আমিরিকা যাইতে ইচ্ছুক, এবং মাকুর পিতার মতে ইহা কোনো ব্যাপারই নহে।

    প্রাত্যহিক নিয়ম ভঙ্গ করিয়া হাতুড়ে আরও তথ্য পাইবার আশায় মাকুর বাসাতেই রাত্রিযাপন করিবার সিদ্ধান্ত লইল। সে আরও জানিতে পারিল যে, পাসপোর্ট ও ভিসা আবশ্যক। মাকুর পিতা পান চর্বণ করিতে করিতে একে একে নানা প্রকার ভিসার ব্যাখ্যা দিতে লাগিলেন—আঁচল ভিসা, পেটিকোট ভিসা, টারজান ভিসা—ইত্যাকার নানা প্রকার ভিসায় যে আমিরিকা যাওয়া যায়, তাহার বিরাম নাই। তবে টারজান ভিসাটি তাহার মনে ধরিল। এই ভিসা তুলনামূলক সহজ বলিয়া মনে হইতেছিল। বস্তুত, ইহা ব্যতীত তাহার আর কোনো উপায় খোলা ছিল না। কিন্তু ইহা করিতে হইলে তাহার পাসপোর্ট থাকা লাগিবে, যাহা ইতিমধ্যে তাহার ছিল না। আর পাসপোর্ট বানাইতে হইলে তাহাকে গঞ্জে যাইতে হইবে। তবে মাকুর পিতার একজনের সহিত কিঞ্চিৎ পরিচয় আছে। একটি চুক্তি করিলে হাতুড়ের কোনো কিছুই করিতে হইবে না, সে গৃহে বসিয়াই পাসপোর্ট হস্তে পাইবে। শৈশবে গলাকাটা পাসপোর্ট পাওয়া যাইত, এখন নাকি এসকল আর পাওয়া যায় না। যাহা হউক, হাতুড়ের কিছু জমিজিরাত ছিল, তাহা বিক্রয় করিবার মনস্থির করিল, আমিরিকা তাহাকে যাইতেই হইবে।

    নানা বৃত্তান্তের পর অবশেষে সে পাসপোর্ট হস্তে পাইল। আপনারা বিদ্যান ব্যক্তি, পাসপোর্ট পাওয়া যে সহজ, তাহা আপনারা জানেনই, তাই আর বৃত্তান্ত লিখিলাম না। দশজনের যে গতি, হাতুড়েরও সেই গতি। চাহিলে সে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, দুর্বাল আন্দোলন করিয়া কঠিনভাবে পাসপোর্ট লাভ করিতে পারিত, কিন্তু সেই তেজ সে আমিরিকা যাইবার পশ্চাতে ব্যয় করিবে বলিয়া মনস্থির করিয়াছিল বলিয়াই সহজ পথে পাসপোর্ট হস্তে পাইল। ছবিতে ইঞ্জেকশন হস্তে তুলিতে পারিলে যে সে চিকিৎসা করিতে পারে, ইহা বুঝানো সহজ হইত, কিন্তু কোনোমতেই তাহা দফতরে বুঝানো গেল না।

    হাতুড়ের দুর্বার মনোবল দেখিয়া মাকুর পিতার ইচ্ছা হইল যে, সে-ও তাহার সহিত যাত্রা করিবে। মাকুর মুখ হইতে আমিরিকার কেচ্ছা শুনিয়া সেই ইচ্ছা তীব্র হইতে তীব্রতর হইয়াছে মাত্র। তদ্ব্যতীত, বাতাসে টাকা উড়া দেখিতে কেমন, তাহাও একটি দর্শনীয় বস্তু বটে। মাকু যেহেতু বহু পূর্বে টারজান ভিসায় চলিয়া গিয়াছে, মাকুর বাপও সিদ্ধান্ত লইল যে, সে আর হাতুড়ে মিলিয়া একই পদ্ধতি অবলম্বন করিয়া যাইবে, জীবনে আর কী আছে! সে সবিস্তারে হাতুড়ের নিকট পরিকল্পনা বর্ণনা করিল, যাহা শুনিয়া হাতুড়ে পাসপোর্ট বানাইবার পেছনে এতগুলো পয়সা ব্যয় করিয়াছে ভাবিয়া আফসোস করিল।

    পরদিন দুইজন মিলিয়া টেকনাফ চলিয়া গেল এবং ‘সামুদ্রিক অভিজ্ঞতা অর্জনে আগ্রহী শিক্ষানবিশ’ হিসাবে মাঝিদের সহিত যোগ দিল। দিনভর জাল নিক্ষেপ ও নৌকা বাহিবার কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে তাহাদের রাত্রির আহার জুটিত সমুদ্রের টাটকা মৎস্যের ঝোল আর গরম ভাত। উদ্দেশ্য ছিল ভংভাং দিয়া মাঝিদের বার্মা-থাইল্যান্ড উপকূল পর্যন্ত লইয়া যাওয়া। যদিও তাহাদের আলাপের ঢং শুনিয়া কানের নিচে দুইটা দিতে কেবল বাকি রাখিয়াছিল মাঝিরা।

    ট্রলার সাগরবক্ষে দুলিতে আরম্ভ করিবার অর্ধ ঘণ্টার মধ্যেই মাকুর বাপের বদনমণ্ডল সবুজ বর্ণ ধারণ করিল এবং সে ট্রলারের এক কোণে গিয়া আশ্রয় লইল। তাহার একমাত্র কার্য ছিল, মস্তক ঘূর্ণনপূর্বক ভূপতিত হইবার পূর্বেই বমন করা। অন্যদিকে, হাতুড়ে প্রবল উৎসাহে কার্যে নামিয়া পড়িল। কিন্তু “টাটকা মৎস্যের ঘ্রাণ” আর “মৎস্যের আঁশটে গন্ধের” মধ্যে যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ, তাহা সে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করিল। দিবসের অন্তে তাহার সর্বাঙ্গ হইতে এমন এক গন্ধ নির্গত হইতেছিল যে, তাহার নিজেরই বমনোদ্রেক হইবার উপক্রম হইল!

    ​হাতুড়ে অবশ্য মাকুর বাপকে সান্ত্বনা প্রদান করিবার চেষ্টা করিল। কিন্তু মাকুর বাপের অবস্থা তখন শোচনীয়। সে কেবল কোনোমতে উত্তর দিল যে, তাহার আত্মা দেহত্যাগ করিবার উপক্রম হইয়াছে এবং সে স্থলে অবতরণ করিতে চায়। তাহাদের “টাটকা মৎস্যের ঝোল” পাইবার স্বপ্নও ভগ্ন হইল, কারণ নাবিকদের আহার্য ছিল কেবল লবণ সহযোগে সিদ্ধ মৎস্য ও ভাত।

    ​ট্রলারের মাঝি হাতুড়ের অতিরিক্ত উৎসাহ এবং মাকুর বাপের পীড়ায় বিরক্ত হইয়া তাহাদিগকে থাইল্যান্ডের এক অপরিচিত জেলেপাড়ায় নামাইয়া দিল। আগেই বলিয়াছিলাম মাঝি কানের নিচে দুইটা দিতে বাকি রেখেছে, তবে পারিশ্রমিকস্বরূপ তাহাদের হস্তে দুইটি মাঝারি আকারের রুপচাঁদা মৎস্য ধরাইয়া দেওয়া হইল।

    ​হাতুড়ে কিঞ্চিৎও হতাশ হইল না। সে মাকুর বাপকে বুঝাইল যে, ইহাই হইল বিনিময় প্রথা এবং তাহারা মৎস্যের বিনিময়ে তণ্ডুল-ডাল সংগ্রহ করিয়া ফেলিবে। কিন্তু মাকুর বাপ তাহার এই উদ্ভট পরিকল্পনায় সায় দিতে পারিল না। সে স্মরণ করাইয়া দিল যে, জেলেপাড়ায় কেহ মৎস্য ক্রয় করিতে আসিবে না। মাকুর বাপের কথাই সত্য বলিয়া প্রমাণিত হইল।

    ​কয়েক ঘণ্টা পর, এক দয়ালু বৃদ্ধা তাহাদের দুরবস্থা দেখিয়া এক বাটি টম ইয়াম স্যুপ ও ভাত দিয়া গেল। সুরুয়ার প্রথম চামচ মুখে দিতেই মাকুর বাপের কর্ণ দিয়ে ধুঁয়া নির্গত হইবার উপক্রম হইল। অগ্নিবৎ ঝাল সেই স্যুপ খাইতে খাইতে তাহার মনে হইতেছিল, ইহার অপেক্ষা সাগরের লবণাক্ত জলও শ্রেয় ছিল। কিন্তু হাতুড়ে সগর্বে ঘোষণা করিল যে, তাহাদের মৎস্য বিক্রয়ের পরিকল্পনা সফল হইয়াছে এবং এই স্যুপ হইল তাহাদের লভ্যাংশ! তাছাড়া নোনা মাছ খাইতে খাইতে জিব পঁচিয়া গিয়াছে প্রায়।

    ​তাহারা উপকূল ধরিয়া উত্তর দিকে হাঁটিতে শুরু করিলে পথে এক বিশাল ফলের উদ্যান পড়িল। হাতুড়ের মাথায় তৎক্ষণাৎ নূতন চাকুরির বুদ্ধি খেলিয়া গেল। সে একটি পেঁপে বাগানের মালিকের নিকট গিয়া ইঙ্গিতে বুঝাইবার চেষ্টা করিল যে, তাহারা দুইজন উদ্যানে দণ্ডায়মান থাকিলে কোনো পক্ষী আসিবে না। হাতুড়ে হস্তদ্বয় পক্ষীর ডানার ন্যায় ঝাপটাইয়া “কা কা” শব্দ করিতে লাগিল, আর মাকুর বাপ বিষণ্ণবদনে একটি বৃক্ষের ন্যায় দাঁড়াইয়া রহিল। উদ্যানের মালিক তাহাদের অদ্ভুত কাণ্ড দেখিয়া এতই আমোদ পাইলেন যে, তিনি তাহাদিগকে তাড়াইয়া না দিয়া উদরপূর্তি করিয়া পেঁপে ও কলা খাইতে দিলেন। পেঁপে খাইতে খাইতে হাতুড়ে মাকুর বাপকে বলিল যে, তাহাদের মেধা মোটেও নষ্ট হইতেছে না।

    ​তাহার কিছুদিন পর তাহারা দেখিল, এক কৃষক তাহার পুরাতন পিকআপ ট্রাকে বাঁধাকপি ও লাউ বোঝাই করিতেছে। হাতুড়ে ছুটিয়া গিয়া কৃষককে ইঙ্গিতে বুঝাইল যে, তাহারা এই সবজির ট্রাকের উপরে বসিয়া মালামাল পাহারা দিবে। ইহার পর আরম্ভ হইল তাহাদের জীবনের সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় যাত্রা। পথের ঝাঁকুনিতে তাহারা একবার বাঁধাকপির স্তূপের উপর উঠিয়া যায়, তো পরক্ষণেই লাউয়ের উপর গিয়া আছড়াইয়া পড়ে। মাকুর বাপ দৃঢ়ভাবে একটি লাউ জড়াইয়া ধরিয়া চক্ষু মুদিত করিয়া বসিয়া রহিল।

    ​ট্রাকটি তাহাদিগকে একটি বৃহৎ শহরের নিকটে নামাইয়া দিয়া গেল। ধূলি ও সবজির রসে সর্বাঙ্গ শিক্ত অবস্থায় অবতরণের পর মাকুর বাপের মনে হইতেছিল, যেন তাহার শরীরের সকল অস্থি সবজিতে পরিণত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু তাহারা সফলভাবে এশিয়ার উপকূল পাড়ি দিয়াছে। এক্ষণে সম্মুখে চীনের সীমান্ত।

  • নিউইয়র্কে রোড টেস্ট পাস করার টিপস

    নিউইয়র্কে রোড টেস্ট পাস করার টিপস

    Before Starting the Car

    • Enter the car from the front.
    • Put on your seatbelt.
    • Adjust your seat to fit comfortably.
    • Start the car, then adjust your mirrors.
    • Make sure the instructor or examiner sees you doing it.

    Pulling Off

    • Ensure the car is in drive.
    • Indicate left.
    • Check left mirror and left blind spot.
    • Turn the wheel one full rotation to the left and pull off.

    Broken U-Turn

    1. Indicate left.
    2. Check left mirror and left blind spot.
    3. Turn the wheel fully left, bringing the car across the street.
    4. Indicate right, check right mirror, and right blind spot.
    5. Put car in reverse, turn wheel fully right, and back up for 4–5 seconds.
    6. Indicate left, turn wheel three full turns to the left.
    7. Check left mirror and left blind spot.
    8. Put the car in drive and move off, staying on your side of the road.

    Parallel Parking

    1. Slow down and indicate right.
    2. Check right mirror and right blind spot, pulling parallel to the other car.
    3. Turn on hazard lights.
    4. Put car in reverse, turn wheel one full rotation to the right.
    5. Check left mirror and left blind spot before moving.
    6. Back up using your judgment, then lock wheel left to straighten with the sidewalk.
    7. Ensure the wheel is straight, put car in park, and turn off hazard lights.

    Stop Sign (All-Way)

    • Stop at the first white line.
    • Check all corners.
    • First-come, first-serve rule applies; be observant.

    Regular Stop

    1. Stop at the first white line.
    2. Make a second stop at the last white line.

    Speed Bumps & School Zones

    • Approach speed bumps at the posted speed limit.
    • In school zones, maintain a speed of 15–20 mph.

    General Tips

    • Always check blind spots, indicate, and check mirrors.
    • Take your time; don’t rush.
    • Use your best judgment.

    সফলভাবে রোড টেস্ট পাস করার জন্য চাই প্রস্তুতি। মনে রাখবেন, সিট ও আয়না ঠিক করা, ব্লাইন্ড স্পট দেখা এবং ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূল কৌশলগুলো হলো মসৃণভাবে গাড়ি চালানো শুরু করা, নিরাপদে ভাঙা ইউ-টার্ন নেওয়া এবং নিখুঁত প্যারালাল পার্কিং করা। সবসময় ট্র্যাফিক সাইন এবং নিয়ম মেনে চলুন, যেমন স্টপ সাইনে থামার পদ্ধতি এবং স্কুল জোনে গতিসীমা। নিয়মিত অনুশীলন আর আত্মবিশ্বাসই আপনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।


    রোড টেস্টে সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ

    1. গাড়ি শুরু করার আগে
      • সামনের দিক দিয়ে গাড়িতে উঠুন।
      • সিটবেল্ট পরুন।
      • আরাম করে বসার জন্য সিটটি অ্যাডজাস্ট করে নিন।
      • গাড়ি চালু করার পর আয়নাগুলো ঠিক করুন।
      • খেয়াল রাখবেন যেন পরীক্ষক আপনাকে এই কাজগুলো করতে দেখেন।
    2. গাড়ি চালানো শুরু করার কৌশল
      • গাড়িটি ড্রাইভিং মোডে (drive) আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
      • বাঁদিকে ইন্ডিকেটর দিন।
      • বাঁদিকের আয়না এবং ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • স্টিয়ারিং হুইল এক পাক বাঁদিকে ঘুরিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করুন।
    3. ভাঙা ইউ-টার্ন (Broken U-Turn)
      • বাঁদিকে ইন্ডিকেটর দিন।
      • বাঁদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • স্টিয়ারিং হুইল পুরোপুরি বাঁদিকে ঘুরিয়ে গাড়িটি রাস্তার অন্যপাশে নিয়ে যান।
      • ডানদিকে ইন্ডিকেটর দিন, ডানদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • গাড়ি রিভার্স মোডে দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল পুরোপুরি ডানদিকে ঘুরিয়ে ৪-৫ সেকেন্ড পেছান।
      • বাঁদিকে ইন্ডিকেটর দিন, স্টিয়ারিং হুইল তিন পাক বাঁদিকে ঘুরিয়ে নিন।
      • বাঁদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • গাড়ি ড্রাইভিং মোডে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান এবং রাস্তার আপনার পাশেই থাকুন।
    4. প্যারালাল পার্কিং (Parallel Parking)
      • গতি কমিয়ে ডানদিকে ইন্ডিকেটর দিন।
      • ডানদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে অন্য গাড়ির সমান্তরালে চলে আসুন।
      • হ্যাজার্ড লাইট চালু করুন।
      • গাড়ি রিভার্স মোডে দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল এক পাক ডানদিকে ঘুরিয়ে নিন।
      • গাড়ি পেছানোর আগে বাঁদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • আপনার বিচার অনুযায়ী গাড়ি পেছাতে থাকুন, তারপর ফুটপাথের সঙ্গে সমান্তরাল করতে স্টিয়ারিং হুইল বাঁদিকে ঘুরিয়ে লক করুন।
      • স্টিয়ারিং হুইল সোজা আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে গাড়ি পার্কিং মোডে দিন এবং হ্যাজার্ড লাইট বন্ধ করুন।
    5. স্টপ সাইন (All-Way)
      • প্রথম সাদা লাইনে এসে পুরোপুরি থামুন।
      • সবদিক ভালো করে দেখে নিন।
      • “ফার্স্ট-কাম, ফার্স্ট-সার্ভ” (আগে যে আসবে সে আগে যাবে) নিয়ম মেনে সতর্ক থাকুন।
    6. সাধারণ স্টপ
      • প্রথম সাদা লাইনে এসে থামুন।
      • এরপর শেষ সাদা লাইনে এসে দ্বিতীয়বার থামুন।
    7. স্পিড বাম্প ও স্কুল জোন
      • স্পিড বাম্পের কাছে নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চলুন।
      • স্কুল জোনে ১৫-২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে গাড়ি চালান।
    8. কিছু সাধারণ টিপস
      • সর্বদা ব্লাইন্ড স্পট, ইন্ডিকেটর এবং আয়না চেক করার অভ্যাস করুন।
      • তাড়াহুড়ো করবেন না, যথেষ্ট সময় নিন।
      • নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করুন।
  • কেন আমি বই পড়াকে বেছে নিলাম

    কেন আমি বই পড়াকে বেছে নিলাম

    বই পড়া, আমার জন্য শুধুমাত্র একটি বিনোদন নয়, বরং এটি জ্ঞান আহরণের একটি অমূল্য মাধ্যম। যখন আমি একটি বই পড়ি, তখন আমি সরাসরি লেখকের মনোভাব, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে অনুভব করি। একটি বই হলো এক ধরনের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা, যা লেখকের চিন্তাভাবনা এবং জ্ঞানকে পাঠকের সামনে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে আমি এমন মানুষদের চিন্তা জানতে পারি যাদের সাথে আমি বাস্তব জীবনে কখনোই আলাপ করতে পারতাম না, যেমন বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা মার্ক কিউবান। যদিও আমি তাকে ইমেল করতে পারি, তার ভিডিও দেখতে পারি, তবে তার ব্যবসায়িক উপদেশের নির্যাস আসলে আমি তার লেখা বই থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে পেতে পারি।

    বইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি লেখকের মনের গভীর থেকে উঠে আসা চিন্তাগুলোকে সাজিয়ে উপস্থাপন করে। একজন লেখক যখন একটি বই লিখেন, তিনি তার ভেতরের সবচেয়ে মূল্যবান জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, এবং বিশ্লেষণকে সাজিয়ে আমাদের সামনে তুলে ধরেন, যা অন্য মাধ্যমের তুলনায় অনেক বেশি গভীর। আমি যখন একশটি বই পড়ি, আমি একশজন বিশেষজ্ঞের মতামত এবং চিন্তাভাবনা জানতে পারি। এটি আমার চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করে, জ্ঞানকে বিস্তৃত করে এবং আমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ করে তোলে।

    এটি সত্যি যে এখন বিভিন্ন জ্ঞান আহরণের মাধ্যম রয়েছে, যেমন ইউটিউব ভিডিও বা ফেসবুক পোস্ট। তবে, আমি কেন বইকে প্রাধান্য দিচ্ছি তা ব্যাখ্যা করতে চাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে, যেমন ফেসবুক বা টুইটারে, অনেক তথ্য একই সঙ্গে এসে পড়ে। ফেসবুকের “ডুম স্ক্রলিং” প্রক্রিয়া – ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করে যাওয়া – একদিকে যেমন মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে, অন্যদিকে এটি তথ্যের উপর পূর্ণ মনোযোগ দেওয়াও কঠিন করে তোলে। অধিকাংশ সময়, ফেসবুকের সবচেয়ে লম্বা পোস্টটিও একটি বইয়ের এক অধ্যায়ের চেয়ে ছোট। ফলে, ফেসবুকের পোস্ট পড়ে আপনি যেটুকু জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন, তা বইয়ের তুলনায় অনেকটাই সীমিত।

    আরেকটি সমস্যা হলো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তথ্যের অতিরিক্ততা। একসঙ্গে অনেক রকমের তথ্য পাওয়া যায়, যার ফলে আসলে কোন বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যুক্তি দিতে পারেন যে এক প্যারাগ্রাফের মধ্যেই অনেক তথ্য থাকতে পারে, তবে বইয়ের মতো গভীর ও বিস্তৃত লেখার মধ্যে থেকে আপনি যে গভীর জ্ঞান পাবেন, তা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে এতটা বিস্তৃতভাবে পাওয়া কঠিন।

    ইউটিউব, অবশ্যই, একটি চমৎকার ভিজ্যুয়াল স্টিমুলেন্ট হতে পারে। তবে এর সাথেও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে হয়তো ভিডিওটি আপনাকে সহায়তা করবে, কিন্তু সেই সাথে এটি আপনাকে একাধিক ডিসট্রাকশনে ফেলে দিতে পারে। বড় বড় কোম্পানির উদ্দেশ্য হলো আপনাকে যত বেশি সম্ভব সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা, যেন তারা বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ফেসবুকে প্রতি দুইটি অর্গানিক পোস্টের পর একটি বিজ্ঞাপন দেখা যায়। ইউটিউব ভিডিও দেখার সময়ও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু, বই পড়ার সময়, আপনি এমন কোনো বিজ্ঞাপনের বিরক্তির সম্মুখীন হন না।

    বই পড়া আপনাকে সম্পূর্ণভাবে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। আপনি যদি একটি বই পড়েন বা অডিও বুক শুনতে শুরু করেন, আপনার মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে সেই বিষয়ের উপর থাকে এবং আপনাকে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞান আহরণের সুযোগ দেয়। এটি আপনাকে বিজ্ঞাপনের ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখে এবং দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিষয়ে গভীরভাবে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা অন্য মাধ্যমগুলোতে প্রায়ই পাওয়া যায় না।

    এ কারণেই, আমি বইকে প্রাধান্য দেই। এটি কেবল জ্ঞান আহরণের একটি উপায় নয়, এটি আমার মনোযোগ ধরে রাখতে, চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করতে এবং বিজ্ঞাপনের ঝামেলা থেকে মুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে একটি বিষয়ে গভীরভাবে জানার একটি চমৎকার মাধ্যম। বই পড়ার গুরুত্ব এতটাই যে, আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, প্রায় সব বিশেষজ্ঞই উপদেশ দেন বই পড়তে, এবং তারা নিজেরাও সময় বের করে বই পড়েন। উদাহরণস্বরূপ, বিল গেটস বছরে ৫০টিরও বেশি বই পড়েন, যা তার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারের একটি প্রধান উৎস। তাই, বই পড়া শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং সাফল্যের পথে একটি অপরিহার্য উপায়।

  • সেজির জীবনচরিত

    সেজির জীবনচরিত

    আমি একটি কুকুর পালি, যার নাম সেজি। তার আগে আমার কাছে আরো অনেক কুকুর ছিল—কিছু মারা গেছে, কিছু অন্যের কাছে এডপশনে দিতে হয়েছে। প্রতিটি কুকুরের সাথে আমার সম্পর্ক আমাকে শিখিয়েছে যে, এদের মানসিকতা, আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি জটিল, যেমনটি আমরা অনেক সময় সাধারণভাবে ধরে নিই।

    আমরা সাধারণত কুকুরদের নিয়ে একটি সহজ ধারণা রাখি—তাদেরকে একভাবে চালানো যায়, একরকম প্রশিক্ষণ দেয়া যায়, এবং তাদের আচরণগুলো অনেকটা স্বাভাবিক এবং পূর্বাভাসযোগ্য। কিন্তু বাস্তবে কুকুরদের সাইকোলজি এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্য অনেকটাই মানবসুলভ। যেমন আমাদের মতোই, প্রতিটি কুকুরের নিজস্ব স্বতন্ত্র পারসোনালিটি থাকে। আমি যত কুকুর দেখেছি, প্রত্যেকেই ছিল আলাদা। কারো মধ্যে ছিল অতি উত্সাহী আচরণ, কারো মধ্যে ছিল শান্ত স্বভাব, আবার কেউ ছিল বেশ সংবেদনশীল ।

    সেজি, আমার বর্তমান সঙ্গী, তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমার জীবনে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছে। সে সহজে বিশ্বাস করে না, নিজের এলাকা বা আশেপাশের যে কোনো অদ্ভুত ব্যাপার বা মানুষের ওপর কৌতূহলী দৃষ্টি রাখে। তাদের মধ্যে এই ভিন্নতা আমাকে বুঝিয়েছে যে কুকুরের মানসিকতা এবং আচরণ কেবল প্রজাতি বা প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরিবেশ এবং তাঁদের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করা হয়, তার ওপরও নির্ভরশীল।

    এই সিরিজটি মূলত এই সমস্ত পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে, যেখানে সেজি থাকবে কেন্দ্রে, তবে মাঝেমধ্যে আমার অন্যান্য কুকুরদের কথা তুলে আনব, যারা আমার জীবনের অংশ ছিল এবং তাঁদের ব্যক্তিত্বগুলোও আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।

    প্রতিটি কুকুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখার পর আমি আর কখনোই কুকুরদের সাধারণ চোখে দেখি না। তাঁদেরকে এখন আমি একটি সংবেদনশীল প্রাণী হিসেবে দেখি, যারা আমাদের থেকে অনেক কিছু আশা করে এবং একইসাথে আমাদের নিজেদের ভালোবাসা ও যত্নও ফিরিয়ে দেয়।সেজি (Sezi) আমার বর্তমান কুকুর, যার সাথে আমার সম্পর্ক অনেক গভীর এবং বিশেষ। সেজি আসলে একটি রেস্কিউড ডগ, তাকে আমরা বাংলাদেশের চুয়েট (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) ক্যাম্পাস থেকে রেস্কিউ করি। সে তখন পাহাড়ে একটি দলের সাথে মিলে শিকার করে বেড়াতো এবং ক্যাম্পাসের চা দোকানে ছাত্রদের দেয়া চা বিস্কুট খেতো। ক্যাম্পাসের এক ছাত্র আমাদের জানায় যে, সেজি খোড়া হয়ে গেছে, সম্ভবত কোনো এক্সিডেন্ট করেছে, তাই তাকে রেস্কিউ করা দরকার।

    যখন আমরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি, তখন সে বেশ ক্ষুব্ধ ছিল। এই উদ্ধারকাজ সেজি মেনে নিতে পারেনি। তার শরীরে তখন অনেক ক্ষত ছিল—গায়ে খোস-পাচড়া, আর সেগুলো থেকে ভীষণ দুর্গন্ধ আসছিল। তার অবস্থা দেখে আমরা দ্রুত সিভাসু’তে (চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এবং এনিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি) নিয়ে যাই, যেখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। দীর্ঘ চিকিতসা এবং পরিচর্যার পর সেজি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে, এবং আজও সে আমাদের সাথে রয়েছে।

    তবে এই সময়কালে সেজির সাথে আমাদের অভিজ্ঞতাগুলো একেবারেই সহজ ছিল না। তার ক্ষোভ, তার শিকারি স্বভাব, এবং নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। সেজি ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, তার পারসোনালিটি এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো আমাকে কুকুরের মনস্তত্ত্ব নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তার সাথে কাটানো প্রতিটি দিন যেন নতুন কিছু শেখার সুযোগ দেয়।

    এই সিরিজের প্রথম লেখাটি মূলত সেজির পরিচয় তুলে ধরার জন্য। এরপরের লেখাগুলোতে আমি সেজিকে ঘিরে আরো অনেক ঘটনার কথা শেয়ার করব—তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম, আমাদের সাথে তার মানসিকভাবে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা, এবং তার বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যা আমাদের জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।

  • কেন আমেরিকার রাজনীতি আপনার মূল ফোকাস হওয়া উচিত

    কেন আমেরিকার রাজনীতি আপনার মূল ফোকাস হওয়া উচিত

    আপনি যদি প্রবাসে থাকেন এবং বিশেষত যদি আপনি সিটিজেন হন, তাহলে সেই দেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবা উচিত যেখানে আপনি বর্তমানে বসবাস করছেন। যেমন, আপনি যদি আমেরিকার নাগরিক হন, তবে আপনার উচিত আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, কারণ সেই দেশের রাজনীতি সরাসরি আপনার জীবনযাত্রা, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু যদি আপনি সারাক্ষণ বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে এর পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক কারণ থাকতে পারে।

    প্রথম কারণ হতে পারে আমেরিকার রাজনীতি বুঝতে কিছুটা কঠিন বলে মনে হওয়া। আমেরিকার রাজনীতি অত্যন্ত জটিল, বহুস্তরীয়, এবং নানা বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন ফেডারেল এবং স্টেট পর্যায়ের আইন, নানা ধরনের কমিটি ও সংস্থা, এবং নানা রাজনৈতিক দল ও আদর্শ। অনেক সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ ধরনের সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত না হওয়ায় এটি বুঝতে একটু সময় এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, আমেরিকার রাজনীতি অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং তর্ক-বিতর্কপূর্ণ, যেখানে প্রতিটি ইস্যু নিয়ে বিতর্ক হয় এবং অনেক সিদ্ধান্তের পিছনে জটিল প্রক্রিয়া কাজ করে।

    দ্বিতীয়ত, আমেরিকার রাজনীতি অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত এবং পরিপক্ক। এই ধরনের প্রতিষ্ঠিত সিস্টেমে ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র পরিসরের পরিবর্তন করা অনেক কঠিন। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা হয়তো মনে করেন যে তাদের মতামত বা অবদান এই বড় সিস্টেমে খুব কম প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতি অনেকটাই অস্থিতিশীল এবং পরিবর্তনশীল, যেখানে মাঝে মাঝে খুব সহজে নতুন নেতা উঠে আসে এবং পরিবর্তন ঘটে।

    বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করা অনেক প্রবাসীর কাছে সহজ হতে পারে কারণ তারা মনে করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিস্টেম তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং এতে খুব দ্রুত ও সহজে পরিবর্তন আনা সম্ভব। যেমন, বাংলাদেশে কখনও কখনও নতুন নেতা বা সংগঠক খুব অল্প সময়ের মধ্যে খ্যাতি পায় এবং নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা হয়তো এই ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা গতিশীলতার দিকে আকৃষ্ট হতে পারেন, যেখানে তারা মনে করেন যে পরিবর্তন বা প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা বেশি।

    যেমন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা, যেখানে নাহিদ কিংবা আসিফ ৫ই আগস্টের আগে অজানা ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ তারা উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এই ধরনের দ্রুত উত্থান এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্রুত পরিবর্তন অনেকের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কারণ এটি অনেকের মনে আশার সঞ্চার করে যে তারা দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারেন।

    এর মানে হচ্ছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেক সময় মনে করেন যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করা এবং এতে অংশ নেওয়া সহজ এবং কার্যকর হতে পারে, কারণ এটি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং এতে তাদের নিজস্ব পরিচিতি বা মতামতের মূল্য আছে। অন্যদিকে, আমেরিকার রাজনীতি স্থিতিশীল এবং ধীরে পরিবর্তিত হওয়ায় এটি তাদের কাছে কম আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।

    এটি প্রায়ই ঘটতে পারে কারণ বাংলাদেশের মিডিয়া রাজনীতিবিদদের প্রচার করে এবং তাদের নিয়ে প্রচুর আলোচনা করে। এই কারণে, রাজনীতিবিদরা নিজেদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, এবং তাদের কথাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে, প্রবাসীদের মনেও এদের নিয়ে এক ধরনের চিন্তা বা আকর্ষণ তৈরি হয়, এবং তারা বাংলাদেশি রাজনীতির দিকে বেশি মনোনিবেশ করেন। তবে, বাংলাদেশের রাজনীতির বাইরেও অনেক স্টেকহোল্ডার রয়েছে, যেমন সিন্ডিকেট যারা দ্রব্যমূল্যের কারসাজি করে, বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যারা দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন স্তর নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যারা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন। এদের প্রভাব রাজনীতিবিদদের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কিন্তু এদের সম্পর্কে অনেকেই খুব কম জানেন বা বোঝেন।

    এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে যদি কেউ কেবলমাত্র রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয় না। রাজনীতিবিদরা দেশের একটি মাত্র অংশ, কিন্তু অর্থনীতি, সমাজ, এবং প্রশাসনের উপর নির্ভর করে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবা যতটা সহজ বা আকর্ষণীয় মনে হোক না কেন, এর বাইরের স্টেকহোল্ডারদের প্রভাব অনেক বড়, এবং এদের বোঝা সমানভাবে জরুরি।

    আমেরিকার রাজনীতি জটিল হলেও এতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি নিজের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন। আমেরিকার রাজনীতি অনেক বেশি খোলামেলা এবং সেখানে সবকিছু তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। আপনি চাইলে সরকারী নথি, আইন, এবং বিভিন্ন নীতিমালার রিপোর্ট খুব সহজেই পেতে পারেন। যদিও আপনাকে শুরুতে মনে হতে পারে যে আপনি একজন ক্ষুদ্র নাগরিক, এবং আপনার অবদান তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না, কিন্তু সত্য হলো আমেরিকায় প্রচুর বাংলাদেশি রয়েছেন যারা ঠিক আপনার মতোই ভাবছেন। তারা নিজেদের অবস্থানকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন না কারণ তারা মনে করছেন যে তাদের মতামত বা অবদান অপ্রাসঙ্গিক।

    কিন্তু আপনি যদি এই ধারণা বদলান এবং সক্রিয়ভাবে নিজেকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন, তাহলে আপনি এবং অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে বড় একটি শক্তি হয়ে উঠতে পারেন। যেমন, স্থানীয় নির্বাচনে বা নীতিনির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা, কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা করা এবং আরও অনেককে এই প্রক্রিয়ার অংশ করতে উদ্বুদ্ধ করা। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে আমেরিকার রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

    উদাহরণস্বরূপ, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি এমন একটি শক্তি হিসেবে গড়ে উঠছে যার প্রভাব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারী কর্মকাণ্ডে। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, সরকারি নথিপত্র এবং লিফলেটগুলোতে প্রায়শই বাংলায় অনুবাদ করা হয়। তবে সমস্যা হলো, এই অনুবাদগুলো প্রায়শই গুগল অনুবাদকের সাহায্যে করা হয়, যা আক্ষরিক অনুবাদের মাধ্যমে অনেক সময় ভুল বোঝার সৃষ্টি করে। এতে করে অনেক বাংলাদেশি সঠিকভাবে নীতিমালা বা সরকারি নির্দেশনা বুঝতে পারেন না, এবং তাদের সুবিধাগুলোও ঠিকভাবে নিতে পারেন না। এটি একটি ছোট সমস্যা মনে হলেও, এর সমাধান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে।

    এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য, আপনি এবং আপনার কমিউনিটির অন্যান্য সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করতে পারেন। আপনারা একসঙ্গে একটি দল তৈরি করে এই ধরনের অনুবাদের মান উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারেন। এটি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আলোচনা সভা, ওয়ার্কশপ, এবং বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে তাদের চাহিদা এবং সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলবেন।

    এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আপনি যেমন আমেরিকার রাজনীতির সম্পর্কে সচেতন হবেন, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও কার্যকর পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারেন। আপনার অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি, বড় ধরনের পরিবর্তনেরও সূচনা করতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তুলবে এবং আমেরিকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অবদানকে দৃঢ় করবে।

  • Upbringing বা বেড়ে উঠা

    Upbringing বা বেড়ে উঠা

    একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, এবং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে নির্ভর করে তার বেড়ে ওঠার পরিবেশের উপর। পরিবারে যে ধরনের শিক্ষা, আদর্শ, এবং সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়, তা একজন মানুষের সারাজীবনের পথচলায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ‘জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভাল’ — এই লাইনটি আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, কিন্তু যে বাস্তবতা আমরা প্রায়ই অস্বীকার করি, তা হলো—পরিবারের ভিত্তি যদি শক্ত না হয়, তাহলে জীবনের প্রতিটি ধাপে সেই দুর্বলতার মাশুল গুনতে হয়।

    শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং মানসিক বিকাশ

    শৈশবের পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতা একটি শিশুর মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সময় তার পরিবার তাকে যে ধরনের শিক্ষা এবং স্নেহ দেয়, তা তার আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। একটি সুরক্ষিত এবং উৎসাহমূলক পরিবেশ শিশুকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিক শক্তি তৈরি করে। অন্যদিকে, পরিবারের মধ্যে যদি সহানুভূতি ও সহমর্মিতার অভাব থাকে, তাহলে তা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    পারিবারিক সম্প্রীতি এবং যোগাযোগ

    পরিবারের মধ্যে সুস্থ ও খোলামেলা যোগাযোগ একজন মানুষের আবেগীয় স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে যদি সন্তানের চিন্তা, অনুভূতি, এবং সমস্যাগুলো শোনার সুযোগ না থাকে, তাহলে সে নিজের ভাবনা প্রকাশের জায়গা খুঁজে পায় না। এটি তার ব্যক্তিগত জীবন এবং ভবিষ্যতের অন্যান্য সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি খোলামেলা পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের আবেগীয় ভারসাম্য বজায় থাকে এবং তারা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়।

    প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতি এবং পারিবারিক ভূমিকা

    প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিযোগিতার জন্য শিশুকে ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু অনেক অভিভাবক নিজের সন্তানকে প্রতিযোগিতায় না যেতে বলার ভুল করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের ক্ষতি করতে পারে। বাস্তবতা হলো, প্রতিযোগিতা এড়ানো সম্ভব নয়; বরং সন্তানের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। যদি মা-বাবা এই দিকটি না বোঝেন, তাহলে সন্তানকে পরবর্তী জীবনে চরম মূল্য দিয়ে শিখতে হয়।

    অর্থনৈতিক শিক্ষা এবং স্বাধীনতা

    একটি পরিবারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সন্তানকে অর্থের মূল্য শেখানো। সঠিক অর্থনৈতিক শিক্ষা না পেলে সন্তান ভবিষ্যতে অর্থ পরিচালনায় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। শৈশব থেকেই সন্তানের মধ্যে সঞ্চয়, ব্যয়ের পরিকল্পনা, এবং দায়িত্বশীলতা গড়ে তোলা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারে অর্থের অভাবে শিশুকে পেটের দায়ে অল্প বয়সেই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এটি তার শিক্ষাজীবন এবং শারীরিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঠিক সময়ে শিক্ষা এবং পুষ্টি না পেলে জীবনে সাফল্যের পথে অনেক বাধা তৈরি হয়।

    আত্মপরিচয় এবং মূল্যবোধের বিকাশ

    পরিবারের আদর্শ এবং মূল্যবোধ একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে। পরিবারে যে ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া হয়, তা একজন মানুষের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নৈতিক অবস্থান গড়ে তোলে। একটি সুস্থ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশু তার শেকড় এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে। এটি তাকে জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে তার মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

    মানসিক চাপ মোকাবেলা

    পরিবারের পরিবেশে যদি শিশুকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়, তাহলে সে ভবিষ্যতে মানসিক চাপ মোকাবেলায় অক্ষম হতে পারে। অনেক পরিবারে দেখা যায়, সন্তানের উপর অত্যধিক চাপ দেওয়া হয়, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবারের উচিত সন্তানকে চাপ সামলানোর সঠিক পদ্ধতি শেখানো, যাতে সে জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলা করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

    শিক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ

    শুধু একাডেমিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে পরিবারের উচিত সন্তানের সৃজনশীলতা এবং কৌতূহলকেও উৎসাহিত করা। সৃজনশীলতা মানুষের চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে, যা তার পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শিশুরা জীবনে নতুন নতুন জিনিস শিখতে আগ্রহী হয় এবং তা থেকে সাফল্য অর্জন করতে পারে।

    আদর্শ এবং নেতৃত্বের প্রভাব

    শিশুদের প্রথম এবং প্রধান আদর্শ হলো তাদের মা-বাবা। পরিবারের দায়িত্বশীলতা, পরিশ্রম, এবং সততা সন্তানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সন্তানরা পরিবার থেকে যে আদর্শ শিখে তা তাদের ভবিষ্যতের জীবনে নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক হয়। মা-বাবার সঠিক দিকনির্দেশনা সন্তানের আত্মবিশ্বাস এবং মূল্যবোধ গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    পরিশেষ

    সুতরাং, একজন মানুষের জীবন গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি তার পরিবার এবং তার বেড়ে ওঠার পরিবেশে নিহিত। পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষা, মূল্যবোধ এবং স্নেহ একজন মানুষকে তার জীবনের প্রতিটি ধাপে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। পরিবারের এই অবদানই একজন মানুষের ভবিষ্যত সাফল্য এবং মানসিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।