Author: Rabiul Hasan

  • যাত্রাপালা

    যাত্রাপালা

    যাত্রাপালা

    কাঁচা আমে, পাকা রাতে, বৈশাখি মেলা
    দূরের মাঠেতে বসে যাত্রাপালা।
    গান বাঁধে, দল বাঁধে গ্রাম দামালেরা,
    দিন বাদে, রাতে নাচে যাত্রাবালা।
    তবলার তাল বাঁজে পাহাড়ে পাহাড়ে,
    কানে বাঁজে ধমাধম হুল্লোর, আহারে!

    দুই মাইল দূরে ভাসে স্বর্গের হাসি,
    খোলা বুকে নাচে গানে উর্বশী রূপসী।
    যাত্রার মঞ্চ কাঁপে সিরাজের হুংকার,
    লর্ড ক্লাইভ ঘষেটি নীল বিষে নীলাকার।
    কোমর দুলিয়ে নাঁচে বেদের মেয়ে,
    এতিম আলাল থাকে দুলালের পথ চেয়ে!
    দিনভর খালিপেটে রাতে মহারাজা,
    যাত্রার প্যান্ডেলে প্রেম তরতাজা।

    পঞ্চাশে বুকখোলে,
    একশতে চুমো মিলে,
    বাঁকা হেসে প্রিন্সেস
    নাঁচে বেনী চুলে! 
    শতকে শতক যায়, দিনে যায় দিন,
    যাত্রার সূর ক্রমে ক্ষয়ে লয় ক্ষীণ।

  • লটারী প্রাপ্তির বিড়ম্বনা

    লটারী প্রাপ্তির বিড়ম্বনা

    গ্রাম্য লটারীতে কালু আংকেল ভাবছেন একটা লটারী কিনবেন। না, আপনি হয়তো ভাবছেন দশ টাকার টিকেটে ত্রিশ লাখ টাকা জিতার মতো একটা ব্যাপার। আসলে এটি নিছক গ্রাম্য একটা লটারী খেলা, প্রথম পুরষ্কার ১৪ ইঞ্চি সাদাকালো টেলিভিশন। আজকাল হাতে হাতে সুপার এমোলেড ক্রিস্প স্ক্রিণের মোবাইল বা বিশাল এলইডি টিভি দেখা জেনারেশন হয়তো ভাবতে পারবেনা শুক্রবারের দুপুরে সাদাকালো টিভিতে বাংলা মুভিতে আলমগীর শাবানার ড্রামা দেখতে কেমন উপভোগ্য হতে পারে। কালু আংকেলের নিজের ভাগ্যের উপর তেমন ভরসা হয়তো ছিলোনা, তিনি আরেকটা জুয়া খেলে ফেললেন লটারি নিয়ে। ধর্মমতে এমনিতে লটারী খেলা পাপের কাজ, তার উপর জুয়া খেলা যেন পাপের উপর শোয়া পাপ। কালু আংকেলের কিছুটা প্রায়শ্চিত তো করতেই হয়। কেমনে কী হলো বিস্তারিত জানাচ্ছি ভণিতা না করে।

    চন্দন কাকু গ্রামের ডাক্তার, বিপদে আপদে সবাই উনাকে পান। উনার ডিসপেনসারিতে গ্রামের মুরব্বীদের সলা-পরামর্শ আলাপ-আলোচনা শালিস-বিচার সব চলে। নাসের আংকেল উনার পাশের চেয়ারে বসে পান খেতে খেতে দাঁত খিলাচ্ছেন। উনি এলাকার মান্যগণ্য ব্যক্তিদের একজন, এলাকার সবাই সমীহ করে চলেন। কালু আংকেল হাসির ছলে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করলেন নাসের কাকুর কাছে। বললেন, ‘ভাই দশ টাকা দ্যান, দেখি লটারীতে কী উঠে!” নাসের কাকু ও আগপিছ না ভেবে হাসতে হাসতে লুঙ্গির কোঁচ খুলে টাকার বান্ডিল বের করলেন। ছেপ দিয়ে গুণে একটা কচকচা দশ টাকা দিলেন কালু আংকেলের হাতে। সেই টাকা দিয়ে কালু আংকেল সেদিনের মতো লটারির টিকেট কিনে বাসায় ফিরলেন।

    দিন গুণে গুণে লটারী ড্র’র দিন এলো। সবাইকে অবাক করে দিয়ে কালু আংকেলের টিকেট প্রথম পুরষ্কার জিতে নিলেন! এরপরের ঘটনার নাটকের চেয়ে কম যায়না। উনি খুশীতে লাফাতে লাফাতে সাদাকালো টিভি কান্দে তুলে নিলেন। এদিকে নাসের কাকু দিলেন আপত্তি জানিয়ে। যেহেতু উনার টাকা দিয়ে টিকেট কেনা তাই এই টিভির দাবিদার নাসের কাকু!! এক পশলা চোটপাট হয়ে গেলো এনিয়ে। বিনাযুদ্ধে কেউ নাহি দেবে সুচাগ্র মেদেনি। চন্দন কাকুর ডিসপেনসারিতে সালিশ বসল টিভির মালিকানা কে হবে এইনিয়ে। এই পর্যায়ে আপনারাও চিন্তা করেন কাকে মালিকানা দেবেন।

    আমার ছোট মাথায় তখন খেলেনি, এখনো খেলছেনা। আর এমনিতে আমরা এইসব বিচার আচারে আমরা বাচ্চারা কখনো মাথা গলাতে পারতাম না, এমন শত বিচার হয়ে গেছে আমাদের মাথার উপর দিয়ে। আক্ষরিক অর্থে মাথার উপর দিয়ে। কেমনে বুঝায় বলি, তাইলে ক্লিয়ার হবে বুঝতে। ধরেন একটা বিচার হচ্ছে, বাজারে সন্ধ্যায় এইটাও বিনোদনের অংশ। সবাই জড়ো হচ্ছে। চন্দন কাকু মাঝচেয়ারে, আশেপাশের চেয়ারগুলোতে মান্যগণ্য ব্যক্তিরা দখল করে বসেছেন। পাশের টুলে সিনিয়রটি অনুযায়ী অন্যারাও বসেছেন। যারা জায়গা পাননি তারা দাঁড়িয়ে বিচার আচার দেখেন। তো আমরা বাচ্চারা তো তো আর মুরব্বি না যে সামনের সাড়িতে গিয়ে বসব, আবার এত ছোটো ও না যে আংকেলদের কোলে গিয়ে বিচার দেখব। অগত্য সবার পিছনে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে যা দেখা যায় আরকি। মোটামুটি পিচ্চি সাইজের হওয়াতে এজন্য সবাই মাথার উপর সাইজের ই হতো। এজন্যই বললাম বিচার আচার মাথার উপর দিয়ে যেত।

    কালু আংকেল ভার্সেস নাসের কাকু দখলস্বত্বে ফেরত আসি। দুপক্ষের বিস্তর গলাগলির পর সিদ্ধান্ত আসলো টিভির মালিকানা কালু কাকুর ই থাকবে। তবে উনি মুরব্বীদের বাসায় দাওয়াত খাওয়াতে হবে। উনিও রাজী হলেন। খুশী মনে সাদাকালো টিভি কান্দে নিয়ে বাসার দিকে রওয়ানা দিলেন। অবশ্য উনি উনার কথা রেখেছেন। টিভি জয়ের খুশীতে গ্রামের মুরব্বীদের দাওয়াত খাইয়েছেন। কতটাকা গেছে সেইটা জিজ্ঞেস করছেন তো আমাকে? মিয়া মস্কারী পাইছেন? আমি কী এখন উনার ঘরের খবর ও আপনাকে জানাব?!

  • নিমপ্যাথি

    নিমপ্যাথি

    মারামারি, চুরিচামারি, হল্লাপানা করার ফাঁকে যতটুকু সময় পাওয়া যায় তাহা পড়ালেখার খাতে ব্যয় করিবার জন্য বরাদ্ধ থাকে কানাইদের! আর দশটা গ্রাম্য ছাত্রের মতন কানাই ইস্কুল ফাঁকি দিতে পছন্দ করে। ইচ্ছা করিয়া যে ফাঁকি দে তাহা নয়, যেইদিন পন্ডিত মশাই কঠিন পাঠ মুখস্থ করিতে দেন সেইদিন এই ব্যামোটা তীব্র হইয়া দেখা দেয়! বলা যাইতে পারে, ইস্কুল ফাঁকি দেওয়াটা অভ্যাসবশত ইচ্ছায় পরিনত হইয়াছে! আজ এইরূপ একটা ব্যামো দিবস!

    কানাইয়ের বাবা রঘু কানাইয়ের এই স্বভাব বিগত দিনগুলো ফলো করিয়া আসিতেছিল, তাছাড়া এইরূপ দিবস একদা রঘুরাও কাটাইয়া ছিল। কানাইয়ের ব্যামোর সুত্রপাত আজিকে প্যাটে ব্যথা দিয়া শুরু হইল। ভোর হইতে মটকা মারিয়া প্যাটের ব্যথায় কোকাইতে লাগিল কানাই। পন্ডিত মশাইয়ের কঠিন পাঠ হইতে রক্ষা পাইতে ইহা ছাড়া আর গতি ছিলনা, তাহা ছাড়াও উত্তর পাড়ার রমাদের সহিত বিকালে ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহন করতঃ গ্রামের মান রক্ষার আশু দ্বায়িত্ব কাঁধে নেয়ার প্রয়োজন কানাইয়ের।

    সূর্যটা দশ ঘটিকা পর্যন্ত উদিত হইতেই রঘু ধীরে ধীরে কানাইয়ের বিছানার পাশে গিয়া বসিল, আশু বিপদ আর ভয়ের কথা চিন্তা করিয়া কানাইয়ের কোকানি দ্বিগুন হইতে তিনগুন হইয়া উত্তরোত্তর বাড়িতে লাগিল!

    রঘু জিজ্ঞেস করিল, “এখন কিরূপ বোধ করিতেছ বাপধন?” কানাই কোকানি মিশ্রিত স্বরে যাহা বলিল, তাহার মর্মোদ্ধার করিলে যাহা হয় তাহা হইল আজ কানাইয়ের শেষ দিবস উপস্থিত হইয়াছে। রঘু মনে মনে কি ভাবিতেছিল তাহা ঠাহর করা গ্যালোনা। তারপর বলিয়া উঠিল, “চল বাপধন! বিমার কঠিন হইবার পূর্বেই তাহার সমূলে বিনাশ করিতে হয়। অদ্য তোমাকে হারু ডাক্তারের নিকট হইতে দেখাইয়া আনি। হারু ডাক্তার বহু পুরাতন রোগী ও জটিল রোগ সারাইয়া দিয়াছেন, চল হারু ডাক্তারের কাছে চল!”

    কানাই মনে মনে কহিল, “খাইছে আমারে!” হারু ডাক্তারের মটো যে হয় রোগী নয় রোগ, এই দুইটার যেকোন একটাকে এই তল্লাট ভাগিতে হইবে! কানাইয়ের প্যাটে ব্যথা ক্রমশ ঘামের সহিত কাপুনিতে রূপান্তরিত হইল! আর কহিল, “বাবা, বোধহয় আমার ব্যথা সারিয়া যাইতেছে!” রঘু কহিল, “আজ সারিয়া যাইলেও আগামীকল্য যে আসিবে না তাহা কে বলিতে পারে। বিলম্ব না করিয়া আজিকে একবার দেখাইয়া আসি।” তারপর কানাইকে লইয়া হারুর চেম্বারে রওনা দিল।

    কানাই মনে মনে প্যাট ব্যথার সাপান্ত করিতে লাগিল। আর নিজের পূর্ব কর্মফলের দোষারোপ করিতে লাগিল। চেম্বারে গমন করিবার কিছুদুর পূর্ব হইতে একখান রোগীর মরনপন চিত্‍কার শুনা যাইতেছিল; হারু ডাক্তার রোগীকে ইঞ্জেকশন ফুটাইতেছে। কোবতে,হারু ডাক্তার, ইঞ্জেকশন এই তিনটা সমার্থক শব্দ; যত ব্যথা তত আরোগ্য,ইহা হারুর দর্শন! চিত্‍কার শুনিয়া কানাইয়ের প্রান গলা দিয়া আসিয়া পড়িতে চাহিল, কানাই ঢোক গিলিয়া তাহা নিন্মস্ত করিল। কোন কুক্ষনে যে আজিকে প্যাট ব্যামোর প্ল্যান মাথাই আসিয়াছিল।

    রঘু কানাই সমেত চেম্বার প্রবেশ করতঃ হাতল ভাঙা টুল খানায় বসিয়া পরিল। হারু আজ কোবতের মুডে যে নাই তাহা বিলক্ষন মালুম করা যাইতেছে, কারন প্রতিবারের মতন কোবতে পাঠ খাতার বদলে হাতে শোভা পাইতেছে এলুপ্যাথিক চিকিত্‍সা টুকিটাকি বইখানি! নিশ্চয় কোন পুরাতন রোগী জটিল রোগে ধরাশায়ী হইয়া আসিয়াছেন। হারু রঘুকে সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করিল প্রতিবারের নিয়ম ভঙ্গ করিয়া। রঘু কহিল, “ইস্কুল গমন পূর্বে প্যাটে ব্যামো,মাথা ব্যথা ইত্যাদি নানা প্রকারের ব্যামো কানাইয়ের শরীলে ভর করে। আর ছুটি হইবার পর মুহুর্তে তাহা ছাড়িয়া যায়!”

    হারু ডাক্তার মাথা নাড়িল, এই রোগ তাহার হাড়ে হাড়ে চেনা। হারু ডাক্তার কানাইয়ের চোখের সামনে একটা সিরিঞ্জ রাখিল, আর একটা নির্দোষ ভাইটামিনের এম্পুল ভাঙিয়া তাহা সিরিঞ্জে ভরাইয়া লইল। সকল চিকিত্‍সার বড় চিকিত্‍সা ইঞ্জেকশন, বলিতে বলিতে উহা কানাইয়ের বাম পাশের পাছার উপর খোচাইয়া প্রবেশ করাইয়া দিল। কানাই মাগোওওওও করিয়া একটা চিত্‍কার দিয়াই পরক্ষনে দাঁতে দাঁত চাপিয়া সহ্য করিয়া রইল। হারু ডাক্তার অল্প্ক্ষন পরে সিরিঞ্জখানা পাছা হইতে বাহির করিল। কানাইয়ের মনে হইতে লাগিল তাহার পাছার উপর নরক ভাঙিয়া পড়িয়াছে, একশ ঢেইয়ো পিপীলিকা পাছায় কামড়াইয়া বেড়াইতেছে! অতঃপর রঘু হারুকে জিজ্ঞেস করিল কোন পথ্য দেয়া হইবে কিনা। হারু কহিল, “এলুপেথি,হোমিপথি এইরোগ সমুলে বিনাশ করিতে পারিবে না। এরিজন্য প্রয়োজন নিমপ্যাথি! কানাইকে তিনবেলা নিমপাতা সেদ্ধ করিয়া পথ্য রূপে প্রতিদিন খাওয়াইতে হইবে যতদিন এইরোগের প্রাদূর্ভাব ঘটে! চিকিত্‍সা চলাকালীন সময়ে আহার নিষিদ্ধ,শুধু নিমপাতা খাইয়া প্যাট ভড়াইতে হইবে!”

    অতঃপর তাহারা হারুর চেম্বার হইতে বাড়িতে ফিরিয়া গ্যালো।।

    পুনশ্চঃ সেইবারের পর হইতে পরবর্তীতে কানাই আর এরূপ ব্যামোতে আক্রান্ত হয়নাই!

  • দ্বৈরথ

    দ্বৈরথ

    পড়ালেখায় পাঁঠা শ্রেণীর হওয়াতে আমাকে কালী কাকার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হল। কালী কাকা বাবার দূর সম্পর্কের আত্মীয়, থাকেন শহরের মস্ত ফ্ল্যাটে! অবশ্য গ্রাম থেকে যাওয়ার কারণে শহরের ফ্ল্যাট গুলো আমার মস্ত মস্ত ই লাগে। এর আগেও কালী কাকার বাসায় বেড়াতে গিয়েছি, কিন্তু তল্পিতল্পা গুছিয়ে এই প্রথম। কালী কাকার চৌদ্দপুরুষ জমিদার ছিলেন, জমিদারী রক্ত, চালচলনে জমিদারী ঠাটবাট।

    পাশের ফ্ল্যাট অবিনাশ কাকার, তিনি জমিদার বংশের কেউ না হলেও একেবারে ফেলনা নন, প্রচুর কাঁচা পয়সার মালিক! তিনিও ঠাটবাট নিয়ে ঘোরেন। অবিনাশ কাকার সাথে কালী কাকার সাপে নেউলে সম্পর্ক, কিন্তু কালী কাকা অবিনাশ কাকার সাথে তেমন একটা যুত করতে পারেন না!

    সেবার অবিনাশ কাকা একটি স্কুলের গোড়াপত্তন করে ফেললেন। দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানে গড়ে ঊঠতে লাগল, “অক্সফোর্ড স্কুল এন্ড কলেজ”, প্রাচ্যের নতুন অক্সফোর্ড বলা যায়। পত্রিকায় নতুন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞাপন যায়। আমি দক্ষিন জানালায় বসে বসে অক্সফোর্ডের ঘ্রাণ নিই। ঘ্রানেই অর্ধ ভোজন কিনা, অক্সফোর্ডের ঘ্রাণ পেয়ে আমার বিদ্যাক্ষুদা চাগার দিয়ে উঠে।

    এদিকে কালী কাকা থেমে নেই। মনে মনে দমে গেলেও অবিনাশ কাকাকে টেক্কা দেয়ার জন্য ফন্দি আঁটেন। সামনে মনসা পূজা, শহরের সবচেয়ে বড় পাঁঠা বলি দিয়ে তিনি অবিনাশ কাকাকে টেক্কা দেবেন! অবিনাশ কাকা যদি অক্সফোর্ড দিয়ে ইহকাল নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে কালী কাকা পাঁঠা দিয়ে ইহকাল পরকাল দুই ই সুনিশ্চিত করতে চান! তবে কালী কাকার পাঁঠা হতে হবে মস্ত বড় আর গায়ের রঙ কুচকুচে কালো।

    টাকায় টাক আনে। কালী কাকার টাকায় নিজের মাথায় টাক না আনলেও টাকার ঘ্রানে কালী কাকার চারপাশে টাক মাথারা মাথা চুলকে ভিড় করেন। কালী কাকা এমনি এক টাক মাথাকে এসিস্ট্যান্ট বানিয়ে নিয়েছিলেন! পাঁঠার ঢাক ঢাক ঢোল রব পেয়ে টাক মাথা বিচলিত হন। খোঁজ খোঁজ রব রব, কিন্তু অতবড় কুচকুচে কালো পাঁঠা মিলবে কোথায়?

    চারিদিক থেকে খবর আসে, কালী কাকা পাঁঠা দেখতে বের হন, কিন্তু পছন্দসই পাঁঠা মিলেনা, সবকটি দেখতে প্রমান সাইজের, কিন্তু উনার চাই ডাবল কিংবা ট্রিপল প্রমান সাইজ! খুঁজতে খুঁজতে নিরাশ কাকু হাল ছেড়ে দেবেন কিনা ভাবেন, মাথা চুলকে এসিস্ট্যান্ট বলেন, কামরুপ থেকে একটি পাঁঠা আনা যেতে পারে, কিন্তু দাম পড়বে মেলা! কাকুর চোখ চকচক করে! দামের ভাবনা কাকুর নেই, কাকুর টাকার অভাব নেই। অবিনাশকে এবার দেখিয়ে দেয়া যাবে!

    দুইদিনের মাথায় গায়ে বোটকা গন্ধ নিয়ে বিশাল কুচকুচে কালো পাঁঠা হাজির। শহরের সবচেয়ে বড় পাঁঠা এবং পাঠার মালিক হিসেবে পত্রিকায় অক্সফোর্ডের বিজ্ঞাপনের পাশে কালী কাকার ছবি যায়। অক্সফোর্ডের বিজ্ঞাপনের পাশে কালী কাকার ছবি পাঁঠা সমেত হাসতে থাকে!

    পাঁঠার জন্য খোঁয়াড় তৈরি হতে থাকে আমার জানালার পাশেই। অক্সফোর্ড আর আমার মাঝখানে ঢুকে যায় পাঁঠার খোঁয়াড়, আর অক্সফোর্ডের ঘ্রাণ ঠেলে আমার নাকে আসতে থাকে পাঁঠার বোটকা গন্ধ। আমি জানালা বন্ধ করে দিই, অক্সফোর্ডের সব ঘ্রাণ এবারের মতো পাঁঠায় নিক!

    শহরের এমাথা ওমাথা থেকে বড় পাঁঠা দেখতে মানুষের ভিড় বাড়ে। পাঁঠা সর্বভুক, কোন কিছুতেই অরুচি নেই। কাঠালপাতা, খড় ভুষি, কাপড় যা পায় তাই খাবার চেষ্টা করে। দর্শনার্থী দূর থেকে দেখে কালী কাকাকে বাহবা দেয়। একদিন এক দর্শনার্থী পাঁঠার খুব কাছ থেকে পাঠাকে পরখ করতে যায়, আর পাঁঠা উনার ধুতি মুখের কাছে পেয়ে উপাদেয় খাদ্য মনে করে কাছা ধরে টান দেয়! ভেজাল অক্সফোর্ডের ঘ্রাণ পেতে পেতে পাঁঠার অর্ধ শিক্ষায় ভেজাল প্রবেশ করে, দর্শনার্থী কে ধর্ষণ আর্তি মনে করে ইজ্জতের কাছা ধরে টান মারে পাঁঠা! দর্শনার্থী ধ্রুপদির মতো কাছার একপ্রান্ত ধরে টানাটানি করে কোনরকমে কাছাখানা হ্যাঁচকা টানে উদ্ধার করেন, যদিও ইজ্জতের কিছু অংশ পাঁঠার মুখে রয়ে যায়, আর পাঁঠা সেই অংশটি বিরস মনে জাবড়াতে থাকে!

    পুজোর আর সপ্তাখানেক বাকি, সকালে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে চারিদিকে একটা চনমনে ভাব। আমি বাইরে বের হই, হাটতে হাটতে পাঁঠার খোঁয়াড়ের দিকে এগিয়ে যাই। পাঁঠার গায়ে সামান্য বৃষ্টির ছাঁট মতো লেগেছে মনে হয়, হঠাত ছাঁট লাগা অংশে আমার চোখ যায়। সেখানে কুচকুচে কালো রঙয়ের বদলে ধূসর রঙ প্রতিভাত হয়! আর পায়ের নিচে একটা কালো পানির ধারা! কালী কাকা খবর শুনে দৌড়ে আসেন। পাঠাকে ভাল করে দলাই মলাই দিয়ে স্নান করানো হয়, ইতিমধ্যে পাঁঠার গায়ে জায়গায় জায়গায় ভারত ভূখণ্ডের ম্যাপের মতো ধূসর রঙ প্রতিভাত হতে থাকে! আমাদের সকলের বুঝতে বাকি থাকেনা, টাক মাথার এজেন্ট কামাক্ষার পাঁঠার গায়ে ভেজাল কলপের প্রলেপ লাগিয়েছে! বিমর্ষ কালী কাকা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন।

  • আমার আমেরিকায় প্রথম হাইকিং

    আমার আমেরিকায় প্রথম হাইকিং

    বেশ ক’বছর ধরে ভেবে রেখেছি হাইকিং করতে যাব। ১২ অগাস্ট, ২০২৩ এ সে সুযোগ এসে গেলো। প্রতিবেশী সান্তোজ জানালো হুক মাউন্টেইন এ হাইকিং করতে যেতে চায়, আমি যাবো কিনা। আমি আমার বন্ধু কামিলাকে জানাতে সে রাজী হয়ে গেলো। আমরা চারজনের টিম মিলে রওয়ানা দিলাম সকাল আটটায়। আধা ঘণ্টার ড্রাইভিং শেষে হুক মাউন্টেইন এর পাদদেশে পৌছালাম। সেখানে গাড়ি রেখে হাঁটা শুরু করতে হয়।

    প্রথমে যে জিনিসটা অবাক করলো সেটা হচ্ছে নায়াক বীচের ভাস্কর্য, গুগল ম্যাপে ছবি দেখে ভেবেছিলাম বেশ বড়সড় কিছু একটা হবে। গিয়ে দেখি প্রমাণ সাইজের। মানে দেড় মানুষ সমান উঁচু। তবে বীচে বালিয়াড়ি নেই তেমন, মানে বসার জন্য বেঞ্চি দেয়া আছে অথবা হাডসন নদী তীরে বসার মতো প্রচুর জায়গা আছে। শুধুমাত্র হাডসন নদীতীরে বসার জন্য যেহেতু এতদূর আসা হয়নি তাই পর্বত আরোহণে মনযোগী হলাম।

    বুনো গাছগাছালি ভেতর দিয়ে আমরা ট্রেইল ধরে উঠতে থাকলাম উপরে। যেকোনো পাহাড়ি ট্রেইলের মতো এই ট্রেইল ও আঁকাবাঁকা। সবদিকে একই রকম দেখতে ট্রেইল, বিশাল পর্বতে কেউ যাতে পথ হারিয়ে না ফেলে এজন্য গাছে সবুজ বর্গাকার মার্কিং দেয়া আছে। এই মার্কিং এর আইডিয়া চমৎকার লেগেছে। শুধুমাত্র এই মার্কিং এর কারণে ৬ মাইল দীর্ঘ ট্রেইলে এক বারের জন্য ও পথ হারাইনি।

    হুক মাউন্টেইনে চেনা অচেনা নানা রকম গাছগাছালির সমাহার হলেও তেমন কোনো বুনো ফলের গাছ চোখে পরেনি। সীতাকুন্ডের ইকোপার্কেও এই ব্যাপারটি চোখে পরেছে। পর্বতে কী বুনো ফলের গাছ ইচ্ছে করেই বাড়তে দেয়া না হয় যাতে করে নতুন একটা খাদ্যশৃঙ্খল গড়ে না উঠে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে? যেমন বুনো ফল খেতে পাখি, কাটবেড়ালী আসবে, আবার পাখি খেতে সাপ, শেয়ালের মতো শ্বাপদ জন্মাবে, সেগুলো খেতে বড় বাঘ সিংহ এধরণের প্রানী আসবে, ব্যাপারটা ঠিক এমন কিনা সিউর না। তবে ট্রেইলের ধারে বুনো বেরির গাছ থাকলে মন্দ হতোনা।

    আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগুতো এগুতে কিছু পুরনো স্থাপনা চোখে পরল। সেগুলো একসময় বরফ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হতো। সেসময়ের কথা বলছি যখন ফ্রিজ আবিষ্কার হয়নি। পুরনো স্থাপনা কত পুরনো? এই ধরুন এখন শুধু পাথুরে দেয়ালগুলো অবশিষ্ট আছে। এরকম বড়ছোট অনেক গুলো দেয়াল আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ট্রেইলকে হাইকারদের জন্য আকর্ষনীয় করে তুলেছে। শুধুমাত্র পাথুরে দেয়াল ছাড়া পথে বেশ কিছু বড় মরা গাছ পরে পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল, যেগুলোতে অনেক ফাঙ্গাস জন্মায়। আগেই বলেছি এখানে বেশকিছু চেনা অচেনা উদ্ভিদের দেখা মিলেছে। তার অনেকগুলোই সেই পুরনো শ্যাওলা ধরা গাছের গুড়ির আশেপাশে। বেশ কিছু হলদে ঘাসফুল দেখেছি, আর ছিল নরম কার্পেটের মতো ভেজা ঘাস। এই দেখতে দেখতে আমরা উঠে গেলাম চুড়ায়।

    চুড়ায় চাতালের মতো স্থানে সবাই চেক-ইন করে, যাদের উচ্চতা নিয়ে ভীতি আছে আমার মতো তারা দুর থেকে চাতালের পাশ দিয়ে নিচে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে একেবারে খাঁড়া ক্লিপের ধার। কোনভাবে পা হড়কালে একেবারে প্রপাত ধরণী তল, কমপক্ষে দশ সেকেন্ড লাগবে নিজেকে হিউম্যান স্মুথি হিসেবে নিচে আবিষ্কার করতে। তবে সেই দশ সেকেন্ড আপনার জীবনের দীর্ঘ দশ সেকেন্ড হবে কিনা সেই অভিজ্ঞতা হয়নি আমার। চাতাল থেকেই দেখা মিলল ঈগল পাখির, পাখির হিসেবে যদি সে আকাশে উড়ছে, কিন্তু চাতাল থেকে দেখলে তাদের বেশ নিচুতে মনে হয়। দেখতে দেখতে অবশ্য ছবি তুলতে পারিনি পাখির, উঠার সময় এবং নাম্বার সময় দুবার হরিণের দেখা মিলেছিল। তার ছবিও তুলতে পারিনি। চাতাল থেকে আশেপাশের পাহাড়, নদী, নদীর ওপাড়ের বিলাসবহুল ম্যানশন দেখতে বেশ লাগে।

    চাতালে বেশ কিছুক্ষণ কাটিয়ে আমরা নিচে নামা শুরু করলাম। এই ট্রেইলের একটা মজার দিক হচ্ছে, যাওয়ার সময় আবার ফিরতি পথ ধরতে হয়না। ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে চুড়া, আবার চুড়া থেকে নামতে নামতে আপনি যেখান থেকে শুরু করেছেন সেখানে পৌঁছতে পারবেন। প্রায় চারঘন্টা লেগেছিল পুরো পথ শেষ করতে যদিও, পার্ক রেঞ্জার জানিয়েছিল দুই ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব। একেবারে শেষ করছি নায়াক গ্রামের চমৎকার একটি কফিশপের নাম নিয়ে। থরে থরে সাজানো খাবার দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। একটা প্রেস্টি কিনলাম, আর সান্তোজ নিলো গাজরের কেক। প্রেস্ট্রির স্বাদ ছিল মুখে লেগে থাকার মতো।

  • STOP, THINK, REACT

    STOP, THINK, REACT

    থামুন, চিন্তা করুন, প্রতিক্রিয়া জানান।

    খেয়াল করেছেন কখনো অনলাইনে কারো সাথে কথা কাটাকাটির পর মেজাজ কেমন থাকে? কতক্ষণ পর পর সে কথা মনে হয়? তার প্রোফাইলে কয়বার ঘুরে আসেন, সে কী করে জানার চেষ্টা করেন? এরপর তাকে মার্ক করে রাখেন এবং মনে মনে একটা শত্রু তৈরি করেন? আমি কিছু ফ্যাক্ট বলি, এসব হয়তো আপনাকে ভবিষ্যতে সাবধানী করে তুলবে।

    সচরাচর আমরা যখন আশেপাশের কারো সাথে মেলামেশা করি তার সাথে এক কথাতেই খারাপ ব্যবহার করিনা। আপনার প্রতিবেশীদের কথা ধরুন, অন্তত দেখা হলে হাই হ্যালো করি। অনেক দিন দেখা সাক্ষাৎ হলে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এমনকি খেয়াল করুন, খারাপ ঘটনা ঘটে গেলেও সহজে মিটমাট করে ফেলতে পারি। এর কারণ হচ্ছে আমাদের এমন অনেক ভালো স্মৃতি তৈরি হয় যা দিয়ে আমরা খুব সহজে খারাপ স্মৃতি ভুলে যেতে পারি।

    অন্যদিকে ফেসবুকে দেখুন। দ্বিমত দেখলেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পরতে দ্বিধা করছিনা। এমনকি গায়ে পরে ঝগড়া করছি, নিজের বিষয় না হলেও অযথা মন্তব্য করছি। আপনি ভাবতে পারেন, ফেসবুকে তো আমরা জাস্ট এঞ্জয় করতে আসছি, একটু ভিডিও দেখব, মজা করব, তারপর নিজের লাইফে ফিরে যাব। কিন্তু ফেসবুকের এলগরিদম এভাবে কাজ করেনা।

    যারা এলগরিদম কী সেটা জানেন না, এলগরিদম হচ্ছে একটা জিনিসের পর্যায়ক্রমিক কাজের ধারা। মানে ফেসবুক কীভাবে কাজ করে সেটা। ফেসবুকের এই নীল রঙের কালার চয়েস, ইউজার রিয়েকশন সব খুব চিন্তাশীল ভাবে মেনটেন করা হয়। আপাতত ডিটেইলস আলাপ থাক। মোদ্দাকথা হচ্ছে ফেসবুক চায় মানুষের ঝগড়া জিইয়ে থাকুক।

    যেটাই চলুক ভেতরে ভেতরে, আমরা যখন কারো সাথে ফেসবুকে ঝগড়া করি এবং সেটা ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত চলে যায়, এর রেশ আর কখনো শেষ হয়না। এটি আপনি যতদিন ফেসবুকে থাকবেন, যতদিন ঐ প্রতিপক্ষ কে দেখবেন ততদিন আপনার পুরোনো ঝগড়া মনে পরে যাবে। এর কারণ হচ্ছে আপনার ব্রেইনে প্রতিপক্ষ ব্যক্তিটির সম্পর্কে আর কোন স্মৃতি তৈরি হয়নি ঝগড়ার সময়টি ছাড়া, যেমন আপনার রিয়েল লাইফে হয়। মানে আপনি রিয়েল লাইফে যেমন ভাল খারাপ মিলিয়ে একটা মানুষের স্মৃতি তৈরি করছেন, ফেসবুকে সেটা পারছেন না। তাহলে এখন কী করবেন?

    STOP (থামুন): যখন দেখবেন রেগে যাচ্ছেন।

    Think (ভাবুন): রাগের কারণ ভেবে বের করুন। কমেন্ট করার আগে দেখুন এইটার আসলে দরকার আছে কিনা। এই শিক্ষাটা তাকে দিতেই হবে কিনা। দরকার হলে ফেসবুক থেকে বের হয়ে যান। একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসুন।

    React (প্রতিক্রিয়া জানান): বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর ও যদি মনে হয় হ্যাঁ এইটা নিয়ে আলাপের দরকার আছে। তখন মন্তব্য জানান। তবে সবসময় মাথায় রাখুন আপনার আরেকজনের সাথে রিএকশন যতটা না অন্যের মনে ছাপ ফেলবে তারচেয়ে বেশী ছাপ ফেলবে নিজের উপর। আমি প্রায়শই ভুলে যাই কে আমাকে কী বললো, কিন্তু কখনোই ভুলিনা আমি কাকে কটু কথা বললাম। সাথে আরো যুক্ত করি, এমন ও হতে পারে আজকে যাকে হেয় করছেন দুদিন পর তার সাথে সরাসরি দেখা হয়ে যেতে পারে এবং এমন ও হতে পারে তাকে আপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এদেশে ল্যাটিনোদের দেখুন। ছুটির দিনে মাস্তি করছে। কখনো ঝগড়া করতে দেখিনি। কলেজে বলুন, কাজে বলুন, সবসময় একজন আরেকজনকে হেল্প করছে। আর (যে রেইসের কথা মুখে আনতে নেই) তাদের দেখুন, এমনকি প্রমানিত অপরাধী হলেও তারা অপরাধীর পক্ষ নেবে! 🤪 আর আমরা… থাক বহুত কথা বলে ফেললাম।

    একটা উদাহরণ বলে আমার লেখা শেষ করছি। একজন ২০১৬ সালে আমার এক পোস্টের সূত্র ধরে আমার ফ্রেন্ডলিস্টে এড হয়। আমি খেয়াল করে দেখেছি শুধুমাত্র ঝগড়ার স্কোপ হলেই সে কমেন্ট করতো। তারপর একদিন সরাসরি সে ২০১৬ সালের সে পোস্ট এর কথা উল্লেখ করেই আমাকে ব্যক্তি আক্রমণ করে বসে। অথচ খেয়াল করে দেখলাম আমি নিজেই সেটা মনে রাখিনি। কিন্তু তার ঠিকই সেটা মনে আছে। যাই হোক পরে জানিয়ে আনফ্রেন্ড করে দিই। নিশ্চয়ই তার ২০১৬ সাল থেকে রাগ ভেতরে পুষে ছিল। জানিনা আনফ্রেন্ড করার পর ও রাগ পরেছে কিনা! 😁, কী মনে হয় আপনার??

  • নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

    নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

    নির্বাচনে জিতে আসার জন্য পৃথিবীর সব দেশ একই রুলস মেনে চলে। আর সেটা হচ্ছে প্রচুর টাকা ঢালো। তো এই টাকা আসবে কোত্থেকে? আপনারা যদি ২০১৬ ইলেকশনের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইনের কথা মনে করতে পারেন, প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল হিলারী ক্লিনটন জিতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী জেব বুশ প্রায় ১১৬ মিলিয়ন ডলার তুলেছে। এদিকে হিলারীও পিছিয়ে নেই। সব রুলস ভেঙ্গেচুরে ট্রাম্প নতুন ভাবে ক্যাম্পেইন দেখিয়ে দিলো। প্রথাগত ফান্ড রেইজের দিকে না গিয়ে সে শুরু করলো ব্যক্তি বা গোত্র আক্রমণ। ল্যাটিনো, আফ্রিকান আমেরিকান, আমেরিকান যুদ্ধবন্দী, মহিলা, ইমিগ্রেন্ট, এমনকি রিপাবলিকান স্টেইটম্যান ও বাদ গেলোনা তার আক্রমণ থেকে। এদিকে সে নিজের দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের ও মক করতে ছাড়লো না কারন তার মতে তারা পর্যাপ্ত মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছেনা। ক্যাম্পেইন শেষে এনালাইস করে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার সমমানের মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে ফ্রিতে, যার অধিকাংশই নেগেটিভ। এরপরও সে প্রাইমারির পর প্রাইমারি জিতে চলল। দলের অন্যান্য সদস্যদের ডিঙিয়ে সে নমিনেশন ও জিতে নিল। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্স-সেও প্রথাগত অনেক নিয়ম ভেঙ্গে প্রায় জিতে যাচ্ছিল ৪৩ ভাগ ভোট নিয়ে। জেনারেল ইলেকশনের আগে এনালাইজ করে দেখা গেলো হিলারী ৫১ ভাগ পপুলার ভোটে এগিয়ে, কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে সবাইকে নির্বাক করে দিয়ে ট্রাম্প জিতে নিলো ইলেকশন। উইস্কনসিন, মিশিগান, এবং পেনসেলভেনিয়া থেকে ৭৮০০০ ভোট (১২ মিলিয়ন ভোটের মধ্যে) আসলে হিলারী জিতে যেত।যাই হোক, আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকায় সবসময় কোন না কোনো ভোট হতেই থাকে। এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যাম্পেইন আসলে সামান্যই প্রভাব ফেলে নির্বাচনে। সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে অর্থনীতি এবং রানিং প্রেসিডেন্টের রেটিং ভূমিকা রাখে কে ইলেকশনে জিততে যাচ্ছে-কোন মিডীয়া হাইপ নয়। তবে ইলেক্ট্রোরাল আউটকামে ক্যাম্পেইন বিশাল ভূমিকা রাখে। ইউএস সিনেটর থেকে জাজ, মিউনিসিপাল ড্রেইন ইনস্পেকটর এরকম হাজারের হাজার ক্যান্ডীডেট নির্বাচনে দাঁড়ায় এখানে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো জাতির তুলনায় আমেরিকায় ভোট হয়। পুরো আমেরিকায় ৫২০,০০০ এর বেশী পদে নির্বাচন হয়। সংখ্যাটা চমকে উঠার মতো, তাইনা? নিচে নিউইয়র্কে যেসব পদ্গুলোর জন্য ভোট হয় তার তালিকা দিলাম।

    NATIONAL OFFICIALS

    • ইউ এস প্রেসিডেন্ট (১)
    • ইউ এস সিনেটর (২)
    • ইউএস হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ (২৭)

    NEW YORK STATE OFFICIALS

    • গভর্নর
    • লুটেনেন্ট গভর্নর
    • এটর্নি জেনারেল
    • কম্পট্রোলার
    • সেক্রেটারি অফ স্টেইট

    NEW YORK CITY OFFICIALS

    • মেয়র
    • বরো প্রেসিডেন্ট (৫)
    • সিটি কাউন্সিল মেম্বার (৫১)

    এবার এক পলকে দেখে আসি কীভাবে পলিটিকাল ক্যাম্পেইনে টাকা তোলা হয়। এই যেমন ধরেন অমুক পার্টি অফ বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক শাখা ইত্যাদি। তো, আমেরিকায় ও এরকম ডোনেশন গ্রুপ আছে। নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে অনেকে কমিটি করে চাঁদা তোলেন। এই ধরণের কমিটিকে বলা হয় পলিটিকাল একশন কমিটি বা প্যাক এসব প্যাকে কমপক্ষে ৫০ বা তার বেশি অনুদানকারী থাকে, এবং প্রতিজন ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত অনুদান দিতে পারেন। এর চেয়ে বেশী অনুদান দিতে চাইলে আসে সুপার প্যাক সুপার প্যাক চাইলে যেকোনো এমাউন্ট অনুদান তুলতে পারে। কিন্তু প্যাকের সাথে পার্থক্য হচ্ছে তারা সরাসরি ক্যান্ডিডেটের পক্ষে প্রচারনা চালাতে পারেনা। এর বাইরে ক্যান্ডিডেট বান্ডলিং এর মাধ্যমেও অনুদান পান। বিষয়টা অনেকটা এইরকম, প্রার্থী কোন একটা পার্টি বা সভায় গেলেন। সেখানে তার শুভানুধ্যায়ীরা চেকের মাধ্যমে একটা এমাউন্ট লিখে সেটা বান্ডীল আকারে প্রার্থীর হাতে তুলে দিলেন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে মজার লাগে ৫২৭ গ্রুপের কর্মকান্ড; এটি আইআরএস ৫২৭ সেকশনের আদলে গঠিত বলে এই নাম। এরাও যেকোনো এমাউন্ট তুলতে পারে-এবং ৫২৭ সেকশনের আন্ডারে ট্যাক্স এক্সাম্পট পায়। এদের কাজ মুলত অন্য প্রার্থীকে কৌশলী আক্রমন করা। যেমন একজন বিপক্ষের প্রার্থীকে নিয়ে একটা বিজ্ঞাপন দিলো তারা এভাবে, “সিনেটর জোনস একজন গাছখেকো যে কিনা পরিবেশবাদীদের ঘৃনা করে।“এই প্যাক, সুপার প্যাক, বান্ডোলিং, এবং ৫২৭ গ্রুপের বাইরে আরেক ধরণের উপায় আছে ক্যাম্পেইনে ডোনেশন তোলার, সেটা হচ্ছে পাবলিক ফাইনান্সিং। মানে কেউ যদি ২০টি স্টেইট থেকে ৳২৫০ বা তার কম এমাউন্তের চেক থেকে ৳৫০০০ ডলার তুলতে পারে, সে ফেডারেল ফান্ড থেকে সম-পরিমান এমাউন্ট ফান্ডিং পেতে পারে। কিন্তু এখানে একটা ক্যাচ আছে, কেউ যদি পাবলিক ফাইনান্সিং পায়-সে তার নির্বাচনী ব্যয় লিমিট করে ফেলতে হবে। এই বাধ্যবাদকতার কারণে এখন আর ক্যান্ডিডেটরা পাবলিক ফান্ডীং এ উতসাহিত হয়না।

  • কনগ্রেশনাল কমিটি

    কনগ্রেশনাল কমিটি

    সিনেট লিডারশীপ নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বলার নাই। তবে এই মুহুর্তে সিনেট প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। মুলত যদি এমন হয় যে ভোটাভুটিতে টাইব্রেকার লাগে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট দিয়ে সেই কাজটি করে থাকেন। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন সিনেট ১০০ মেম্বার নিয়ে গঠিত। এরমধ্যে সবচেয়ে লম্বা সময়ের জন্য সিনেটে যে সদস্য সার্ভিস দেয় তিনি প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোরা বলে বিবেচিত হন। নির্বাচনের কথা বলতে গেলে হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ ২ বছর পর পর, প্রেসিডেন্ট ৪ বছরের জন্য, সিনেট ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। তবে এই ৬ বছরের সব সিনেট একসাথে নির্বাচিত হন না, বরং এক তৃতীয়াংশ সিনেট ২ বছর পর পর নির্বাচনে নামেন। বলে রাখি, সিনেটের কর্মপদ্ধতি হাউজের চেয়ে চারগুণ বেশী কঠিন।

    তবে আমার আজকের আলোচ্য বিষয় কংগ্রেসনাল কমিটি। কমিটির কাজ মুলত আইন তৈরি করা। কমিটি তিন ধরণের-

    স্ট্যান্ডিং কমিটি-বা স্থায়ী কমিটি। এদের জুরিশডিকশন ফিক্সড। স্ট্যান্ডিং কমিটি আবার অনেকগুলো সাব-কমিটিতে বিভক্ত থাকে।

    সিলেক্ট কমিটি-কোন একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে গঠিত হয়, এবং তা সচরাচর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এই কমিটিকে স্পেশাল কমিটিও বলা হয়ে থাকে। উদাহরন দেয়া যেতে পারে লিবিয়ার বেনগাজির ইউএস এম্বেসিতে সন্ত্রাসী হামলায় তদন্তের জন্য করা কমিটি।

    জয়েন্ট কমিটি-হাউজ এবং সিন্টে দু-পক্ষ থেকে মিলে যে কমিটি গঠিত হয় তা জয়েন্ট কমিটি। এই ধরণের কমিটি এমনকি যুগ ধরে চলতে পারে, যেমন জয়েন্ট কমিটি অফ ট্যাক্সেশন ১৯৭১ সাল থেকে এখনো চলছে।

    এখানে কংগ্রেসের কমিটিগুলো দেখতে পাবেন Committees of the U.S. Congress | Congress.gov | Library of Congress

    কমিটি রিফর্ম করার জন্য যুগ যুগ ধরে প্রেশার থাকা স্বত্তেও নিজস্ব ইউনিক পথে এসব কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। এমনিতে কংগ্রসেরর কর্মপদ্ধতি যথেষ্ঠ জটিল, তবে কমিটি কিন্তু এখন পর্যন্ত সফল ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কমিটি পদ্ধতি কংগ্রেসের ব্যস্ত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা স্থানে এক্সপার্ট করে গড়ে তোলে। কমিটি সিস্টেম আমেরিকান আরেকধরনের চেক এন্ড ব্যালেন্স সিস্টেম। মানে এর লেজিসলেটিভ প্রসেস ধীর এবং সাধারণের পাবলিকের বুঝার তুলনায় কঠিন, এমনকি মিডিয়ার জন্যও। আমি ছবিতে ফরেন রিলেশনের একটি রেজুলেশন তুলে ধরেছি।

    এস রেস মানে সিনেট রেজুলেশন, পাশে নাম্বারটি সিরিয়াল অনুযায়ী দেয়া হয়, এবং ১১৮তম কংগ্রেসে এটি উত্থাপিত হয়েছে।

    নিচে সংক্ষেপে রেজুলেশনের বিবরন দেয়া হয়। স্পনসর হচ্ছেন কংগ্রেসের সে সদস্য এই রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন। এটি একজন সদস্যের জন্য বেশ মর্যাদার, কারণ বিলটি আইনে পরিনত হলে তখন সেটির পাশে সে স্পনসরের নাম ও উচ্চারিত হবে। তারপর কমিটির ঘরে উল্লেখ আছে এটি কোন কমিটি থেকে হচ্ছে। লেটেস্ট একশন এবং ট্রেকার সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই।

    এই কমিটি সিস্টেম কংগ্রেসঅকে অনেক এফিসিয়েন্ট করে। কিন্তু আমাদের তিতা সত্য ও মেনে নিতে হবে। এই কমিটির অনেক কর্মকান্ড যেহেতু পাবলিকের অন্তরালে হয়, যারা টাকা ঢালে তাদের পক্ষে কমিটি ম্যানুপুলেশন সহজ হয়। উদাহরন দেয়া যেতে পারে ট্যাক্স ব্রেক পাওয়া, কিংবা লবি করে গান কন্ট্রোলের উপর আইন আনতে না দেয়া।

  • হাউজ লিডারশীপ

    হাউজ লিডারশীপ

    আজকের পর্বে থাকবে হাউজ লিডারশীপ নিয়ে। হাউজে যে পার্টি বেশী ভোট পায় তারা মেজোরিটি পার্টি, অন্যদল মাইনোরিটি পার্টির ভুমিকায় অবতীর্ন হয়।

    ১৯৫০ সালে লিন্ডন জনসন সিনেট মেজোরিটি লিডার হলেন তখন তিনি তাঁদের তিমি “whales,” এবং পুটিমাছ “minnows,” দুটি গ্রুপে ভাগ করলেন, তিমি যাঁদের কাজ প্রধানত ল্যান্ডমার্ক লেজিসলেশনে প্রভাবিত করা, আর মাছের পোনাদের কাজ অন্যদের ফলো করা। তিমি বা পার্টির রাঘব বোয়ালেরা কমিটির গুরুত্বপুর্ন পদে বসে থাকে (তা আর বলতে?) সিনেট এবং হাউজ দু-পক্ষ একে অন্যের চেয়ে আলাদা ভাবে পরিচালিত হয়।

    নিজেদের মধ্য থেকে র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান দুদলেই তাঁদের পার্টি লিডার নির্বাচিত করে। যখন একটি নতুন কংগ্রেস শুরু হয় নির্বাচনের পরে (বেজোড় সালের জানুয়ারী মাসে), মেজোরিটি পার্টি ভোটের মাধ্যমে হাউজ স্পিকার নির্বাচিত করে। সর্বশেষ ৫ হাউজ স্পিকারের তালিকা দিলাম নিচে-

    Kevin McCarthy (117th Congress) – January 3, 2021 – present

    Nancy Pelosi (117th Congress) – January 3, 2019 – January 3, 2021

    Paul Ryan (115th Congress) – October 29, 2015 – January 3, 2019

    John Boehner (112th Congress) – January 5, 2011 – October 29, 2015

    Nancy Pelosi (110th Congress) – January 4, 2007 – January 3, 2011

    স্পিকার হাউসের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সে একই সাথে একজন প্রশাসনিক কর্মী, একজন রাজনৈতিক বক্তা, এবং একজন দলীয় নেতা। একজন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সে কমিটি মেম্বার ঠিক করে [কমিটি নিয়ে আরেক পর্বে আলাপের ইচ্ছে আছে], কমিটিতে লেজিসলেসন এসাইন করে। স্পিকার হাউজের এজেন্ডা ঠিক করে, এবং একই সাথে ঠিক করে কোন বিল আমলে নেয়া হবে। সে সিনেট এবং এক্সিকিউটিভ ব্র্যাঞ্চের মধ্যস্থতা করে।

    একজন মেজোরিটি পার্টির দলনেতা হিসেবে, পার্টি বিবেচনায় রেখে সে ইস্যু ঠিক করে। এসব দেখতে গিয়ে সে অপোজিশন পার্টির রোশানলেও পরে। বলা যেতে পারে স্পিকারের রোলটি বেশ কঠিন একটা কাজ।

    স্পিকারের পর পরই সেকেন্ড ইন কমান্ড হচ্ছে হাউজ মেজোরিটি লিডার। সে মেজোরিটি পার্টির ফ্লোর ম্যানেজার, এবং মধ্যস্থতাকারী । সে একই সাথে স্পিকার চোখ ও কান হিসেবে কাজ করে। মানে পার্টির মধ্যে কে কী আলাপ করছে তা সে স্পিকারকে জানায়।

    মেজোরিটি লিডারের পরবর্তী পদ হচ্ছে মেজোরিটি হুইপ। হুইপ শব্দের অর্থ হচ্ছে চাবুক। মানে পার্টিকে লাইনে রাখতে সে চাবুক চালায়। আক্ষরিক অর্থে তো কেউ কাউকে চাবকায় না, তবে সে যেটা করে, পার্টির এজেন্ডা সব সদস্যকে মানতে বাধ্য করে। তাদের অবশ্য উপায় নেই না মেনে, অন্যথায় নির্বাচনে ক্যাম্পেইনে পার্টি থেকে সাপোর্ট পাওয়া যাবেনা [নির্বাচনে ক্যাম্পেইন নিয়ে আরেক পর্বে লেখব]।

    মাইনোরিটি পার্টির ও একই স্ট্রাকচার, শুধু পার্থক্য হচ্ছে তাদের মধ্যে কোন স্পিকার নেই।

  • কংগ্রেস

    কংগ্রেস

    এর আগের পর্বে আমি আলোচনা করেছিলাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। আজকে আমি যে শাখাটি নিয়ে আলাপ করবো তা গুরুত্বপুর্ন। আর তা হচ্ছে কংগ্রেস। সামন্তরিকভাবে যে শাখাটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে তা হচ্ছে কংগ্রেস। অনেকের কাছে কংগ্রেসের ধারণা পরিষ্কার নয়। আশা করছি এই লিখাটি পড়ে আপনার কংগ্রেস সম্পর্কে একটা ক্লিয়ার ধারণা হবে। এরপরেও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোন মন্তব্য থাকে সেটা লিখতে ভুলবেন না।

    কোনো একটি বিল উত্থাপণ, পাস করে তা আইনে পরিণত করার কাজটি প্রধাণত কংগ্রেস করে থাকে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝামেলা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত তা আইনে পরিণত হবে কিনা তা নিয়ে। তবে কংগ্রেসে বেশ মজার মজার কান্ড ও ঘটে। আমি যথাসম্ভব কাঠখোট্টা বিষয়াদি বাদ দিয়ে মজার বিষয় নিয়ে কথা বলব।

    প্রথমে কংগ্রেস কী ধরণের ক্ষমতা রাখে বা চর্চা করে তা সংক্ষেপে-

    সংবিধানে কংগ্রেস হচ্ছে একেবারে মধ্যমনি এবং এতে চার ধরণের ক্ষমতা কংগ্রেসকে দেয়ার কথা উল্লেখ আছে।

    ফাইনান্সিয়াল পাওয়ার-এ জাতীয় দায়দেনা শোধ এবং সাধারণ ব্যয়ভার বহনের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসকে ট্যাক্স ধার্য এবং ডলার ধার করার ক্ষমতা দেয়া আছে। এছাড়া দুটি স্টেইটের মধ্যে অথবা অন্য দেশের সাথে আমেরিকার বানিজ্য কীভাবে সম্পাদিত হবে তা নির্ধারণ করে কংগ্রেস।

    লিগ্যাল পাওয়ার- এর মাধ্যমে সিটিজেনশিপ আইন বলবত করা, দেউলিয়া আইন নির্ধারন, ডলার ছাপানো, এবং জালনোট ছাপালে তার শাস্তির বিধান, প্যাটেন্ট সিস্টেম নির্ধারণ, ওজন এবং পরিমাপের মাপকাঠি নির্ধারন (কেজি না করে পাউন্ড করছে কে এইবার জেনে নেন), প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ভিত্তিতে আইন প্রবর্তন চর্চা করে থাকে।

    ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ার-জুডিশিয়াল এবং এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ অর্গানাইজ করা, পোস্টাল সিস্টেম নির্ধারণ করা, রাজধানী কোথায় হবে সেটা ঠিক করা এবং কন্ট্রোল করা কংগ্রেসের ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ারের মধ্যে চর্চিত হয়।

    ন্যাশনাল ডিফেন্স-আগেই বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছি কোন একটি দেশের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণার কাজটি কংগ্রেস করে থাকে। এছাড়া যুদ্ধবন্দীদের সাথে কেমন আচরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা ও তাদের কাজ। সেই সাথে ইউএস আর্মি, নেভি সহ সব ডিভেন্স ফোর্সের বেতন ভাতা দেখাশুনা করে থাকে কংগ্রেস।

    এই হচ্ছে মোটাদাগে কংগ্রেসের পাওয়ার। তবে এর পাওয়ার সবচেয়ে বেশী টের পেয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। যখন সে ওবামা কেয়ার এক্ট করতে যাচ্ছিল তাকে কংগ্রেস বুঝিয়ে দেয় কত ধানে কত চাল। যাই হোক, এবার এর কলেবর নিয়ে আলাপে আসি। কংগ্রেস দুই চেম্বার বিশিষ্ট-হাউজ অফ রিপ্রেসেন্টেটিভ (৪৩৫ জন) এবং ১০০ জনের ছোট দল নিয়ে সিনেট। এই দুই চেম্বার নিয়ে আরেক পর্বে বিস্তারিত আলাপ করার ইচ্ছে আছে। তবে বলেছিলাম মজার কিছু কথা বলব তা এখানে বলে ফেলি। এই হাউজ মেম্বারের মধ্যে আবার সিনিয়র জুনিয়র আছে। সবচেয়ে জুনিয়র মেম্বার ও চাইলে একটি বিল পাশ হওয়া থেকে প্রলম্বিত বা দেরী করিয়ে দিতে পারে। একে বলে লেজিসলেটিভ হোল্ড, ব্যাপারটা কিছুইনা, সে বলবে এই বিলটা অনেক বড়, আমাকে বাসায় গিয়ে গভীর ভাবে পড়তে হবে বিলটা সম্পর্কে। শুধু যে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দেরী করায় তা নয়। এমনকি পার্লামেন্টের মধ্যেও তারা মসকারি করে, এমন এক মসকারির নাম হচ্ছে ফিলিবাস্টার। সিনেটরদের অনেকে বিল পাশ করাতে না চাইলে বাইক্যা টাইম নষ্ট করার জন্য কবিতা, এমনকি বোরিং নোবেল পড়া শুরু করে দেয়। চিন্তা করেন ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে কেউ ইয়েলো পেইজ পড়ছে। এই থেকে পরিত্রানের জন্য আবার উপায় রাখা আছে। মেজরিটি সিনেট জোর করে বসিয়ে দিতে বাধ্য করতে পারে।