এর আগের পর্বে আমি আলোচনা করেছিলাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। আজকে আমি যে শাখাটি নিয়ে আলাপ করবো তা গুরুত্বপুর্ন। আর তা হচ্ছে কংগ্রেস। সামন্তরিকভাবে যে শাখাটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে তা হচ্ছে কংগ্রেস। অনেকের কাছে কংগ্রেসের ধারণা পরিষ্কার নয়। আশা করছি এই লিখাটি পড়ে আপনার কংগ্রেস সম্পর্কে একটা ক্লিয়ার ধারণা হবে। এরপরেও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোন মন্তব্য থাকে সেটা লিখতে ভুলবেন না।
কোনো একটি বিল উত্থাপণ, পাস করে তা আইনে পরিণত করার কাজটি প্রধাণত কংগ্রেস করে থাকে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝামেলা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত তা আইনে পরিণত হবে কিনা তা নিয়ে। তবে কংগ্রেসে বেশ মজার মজার কান্ড ও ঘটে। আমি যথাসম্ভব কাঠখোট্টা বিষয়াদি বাদ দিয়ে মজার বিষয় নিয়ে কথা বলব।
প্রথমে কংগ্রেস কী ধরণের ক্ষমতা রাখে বা চর্চা করে তা সংক্ষেপে-
সংবিধানে কংগ্রেস হচ্ছে একেবারে মধ্যমনি এবং এতে চার ধরণের ক্ষমতা কংগ্রেসকে দেয়ার কথা উল্লেখ আছে।
ফাইনান্সিয়াল পাওয়ার-এ জাতীয় দায়দেনা শোধ এবং সাধারণ ব্যয়ভার বহনের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসকে ট্যাক্স ধার্য এবং ডলার ধার করার ক্ষমতা দেয়া আছে। এছাড়া দুটি স্টেইটের মধ্যে অথবা অন্য দেশের সাথে আমেরিকার বানিজ্য কীভাবে সম্পাদিত হবে তা নির্ধারণ করে কংগ্রেস।
লিগ্যাল পাওয়ার- এর মাধ্যমে সিটিজেনশিপ আইন বলবত করা, দেউলিয়া আইন নির্ধারন, ডলার ছাপানো, এবং জালনোট ছাপালে তার শাস্তির বিধান, প্যাটেন্ট সিস্টেম নির্ধারণ, ওজন এবং পরিমাপের মাপকাঠি নির্ধারন (কেজি না করে পাউন্ড করছে কে এইবার জেনে নেন), প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ভিত্তিতে আইন প্রবর্তন চর্চা করে থাকে।
ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ার-জুডিশিয়াল এবং এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ অর্গানাইজ করা, পোস্টাল সিস্টেম নির্ধারণ করা, রাজধানী কোথায় হবে সেটা ঠিক করা এবং কন্ট্রোল করা কংগ্রেসের ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ারের মধ্যে চর্চিত হয়।
ন্যাশনাল ডিফেন্স-আগেই বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছি কোন একটি দেশের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণার কাজটি কংগ্রেস করে থাকে। এছাড়া যুদ্ধবন্দীদের সাথে কেমন আচরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা ও তাদের কাজ। সেই সাথে ইউএস আর্মি, নেভি সহ সব ডিভেন্স ফোর্সের বেতন ভাতা দেখাশুনা করে থাকে কংগ্রেস।
এই হচ্ছে মোটাদাগে কংগ্রেসের পাওয়ার। তবে এর পাওয়ার সবচেয়ে বেশী টের পেয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। যখন সে ওবামা কেয়ার এক্ট করতে যাচ্ছিল তাকে কংগ্রেস বুঝিয়ে দেয় কত ধানে কত চাল। যাই হোক, এবার এর কলেবর নিয়ে আলাপে আসি। কংগ্রেস দুই চেম্বার বিশিষ্ট-হাউজ অফ রিপ্রেসেন্টেটিভ (৪৩৫ জন) এবং ১০০ জনের ছোট দল নিয়ে সিনেট। এই দুই চেম্বার নিয়ে আরেক পর্বে বিস্তারিত আলাপ করার ইচ্ছে আছে। তবে বলেছিলাম মজার কিছু কথা বলব তা এখানে বলে ফেলি। এই হাউজ মেম্বারের মধ্যে আবার সিনিয়র জুনিয়র আছে। সবচেয়ে জুনিয়র মেম্বার ও চাইলে একটি বিল পাশ হওয়া থেকে প্রলম্বিত বা দেরী করিয়ে দিতে পারে। একে বলে লেজিসলেটিভ হোল্ড, ব্যাপারটা কিছুইনা, সে বলবে এই বিলটা অনেক বড়, আমাকে বাসায় গিয়ে গভীর ভাবে পড়তে হবে বিলটা সম্পর্কে। শুধু যে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দেরী করায় তা নয়। এমনকি পার্লামেন্টের মধ্যেও তারা মসকারি করে, এমন এক মসকারির নাম হচ্ছে ফিলিবাস্টার। সিনেটরদের অনেকে বিল পাশ করাতে না চাইলে বাইক্যা টাইম নষ্ট করার জন্য কবিতা, এমনকি বোরিং নোবেল পড়া শুরু করে দেয়। চিন্তা করেন ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে কেউ ইয়েলো পেইজ পড়ছে। এই থেকে পরিত্রানের জন্য আবার উপায় রাখা আছে। মেজরিটি সিনেট জোর করে বসিয়ে দিতে বাধ্য করতে পারে।
Leave a Reply