চেক এন্ড ব্যালেন্স

যদি প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি কে? সবাই এক বাক্যে উত্তর দেবেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকায় যুদ্ধ ঘোষনা করে কে? এমনকি খোদ আমেরিকানদের অনেকে এই প্রশ্নের ভুল উত্তর দেবেন। অনেকে মনে করে থাকেন যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অন্য দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আসলে এই অনুমানটি পুরোপুরি ভুল। আমেরিকায় যুদ্ধ ঘোষণা করে কংগ্রেস, একই সাথে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য খরচাপাতি এবং মিলিটারি বাজেট ঠিক করে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন কমান্ডার ইন চীফ। আমেরিকায় কোন একটা পদের বা পদবীর সবচেয়ে বেশী ক্ষমতাধর হবার সুযোগ নেই। এই সিস্টেমকে বলা হয় চেক এন্ড ব্যালেন্স। আমেরিকার সংবিধানের এই চেক এন্ড ব্যালেন্স সবচেয়ে সুন্দর জিনিস। একে কেতাবি ভাষায় বলে সেপারেশন অফ পাওয়ার।

আমেরিকায় মোটামুটি তিনটা প্রতিষ্ঠান একে অন্যকে চেক দিয়ে রাখে যাতে কেউ বেশী ক্ষমতা লাভ করে না ফেলে। এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে এক্সিকিউটিভ অথরিটি(প্রেসিডেন্ট, এক্সিকিউটিভ অফিসার, মন্ত্রীবর্গ, সরকারী এজেন্সি), কংগ্রেস/লেজিসলেটিভ (সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ), এবং জুডিশিয়ারী/বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ, ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট)। কংগ্রেস কোনো একটি লেজিসলেশন (আইন খসড়া) সংসদে উত্থাপন করে, কিন্তু সেই বিল আইনে পরিণত হতে প্রেসিডেন্টের সাক্ষর লাগে। প্রেসিডেন্ট চাইলে সেই বিলে ভেটো দিতে পারে। এই ভেটো দেয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্ট চেক দিল। আবার কংগ্রেস চাইলে প্রেসিডেন্টের সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে সিনেটে তিন ভাগের দুই ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই বিলকে আইনে পরিণত করতে পারে। এখানে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে চেক দিলো। যুদ্ধের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রেসিডেন্ট কমান্ডার ইন চীফ হলেও সে নিজে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেনা। এজন্য বাজেট এবং প্রয়োজনীয় ভোট দেয় কংগ্রেস। [এই মুহুর্তে ভাবছেন এই কংগ্রেস আসলে কী? বিস্তারিত আরেক পর্বে আলাপ হবে।]

প্রেসিডেন্ট যেকোনো দেশের সাথে চুক্তি নেগোশিয়েসন করে প্রধান কুটনীতিক হিসেবে , কিন্তু সিনেট থেকে অবশ্যই সে চুক্তি দুই তৃতীয়াংশ ভোটে ভ্যালিডিটি পেতে হয়। তাছাড়াও প্রেসিডেন্ট মন্ত্রী এবং সুপ্রীম কোর্ট জাস্টিস ( সর্বোচ্চ বিচারিক) নিয়োগ দেয়, কিন্তু সেটিও সিনেট থেকে কনফার্ম করার পরে। কংগ্রেস সকল ফেডারেল অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ করে। হাউস চাইলে বিশ্বাসঘাতকতা, অসততা, এবং বড় অপরাধের অভিযোগে জুডিশিয়াল ব্রাঞ্চের কোন অফিসার বা এমনকি প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করতে পারে।

অন্যদিকে জুডিশিয়াল সিস্টেম প্রেসিডেন্টের অর্ডার অথবা কংগ্রেসের প্রনীত আইন সংবিদানবিরোধী ঘোষনা করে তা বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *