নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

নির্বাচনে জিতে আসার জন্য পৃথিবীর সব দেশ একই রুলস মেনে চলে। আর সেটা হচ্ছে প্রচুর টাকা ঢালো। তো এই টাকা আসবে কোত্থেকে? আপনারা যদি ২০১৬ ইলেকশনের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইনের কথা মনে করতে পারেন, প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল হিলারী ক্লিনটন জিতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী জেব বুশ প্রায় ১১৬ মিলিয়ন ডলার তুলেছে। এদিকে হিলারীও পিছিয়ে নেই। সব রুলস ভেঙ্গেচুরে ট্রাম্প নতুন ভাবে ক্যাম্পেইন দেখিয়ে দিলো। প্রথাগত ফান্ড রেইজের দিকে না গিয়ে সে শুরু করলো ব্যক্তি বা গোত্র আক্রমণ। ল্যাটিনো, আফ্রিকান আমেরিকান, আমেরিকান যুদ্ধবন্দী, মহিলা, ইমিগ্রেন্ট, এমনকি রিপাবলিকান স্টেইটম্যান ও বাদ গেলোনা তার আক্রমণ থেকে। এদিকে সে নিজের দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের ও মক করতে ছাড়লো না কারন তার মতে তারা পর্যাপ্ত মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছেনা। ক্যাম্পেইন শেষে এনালাইস করে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার সমমানের মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে ফ্রিতে, যার অধিকাংশই নেগেটিভ। এরপরও সে প্রাইমারির পর প্রাইমারি জিতে চলল। দলের অন্যান্য সদস্যদের ডিঙিয়ে সে নমিনেশন ও জিতে নিল। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্স-সেও প্রথাগত অনেক নিয়ম ভেঙ্গে প্রায় জিতে যাচ্ছিল ৪৩ ভাগ ভোট নিয়ে। জেনারেল ইলেকশনের আগে এনালাইজ করে দেখা গেলো হিলারী ৫১ ভাগ পপুলার ভোটে এগিয়ে, কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে সবাইকে নির্বাক করে দিয়ে ট্রাম্প জিতে নিলো ইলেকশন। উইস্কনসিন, মিশিগান, এবং পেনসেলভেনিয়া থেকে ৭৮০০০ ভোট (১২ মিলিয়ন ভোটের মধ্যে) আসলে হিলারী জিতে যেত।যাই হোক, আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকায় সবসময় কোন না কোনো ভোট হতেই থাকে। এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যাম্পেইন আসলে সামান্যই প্রভাব ফেলে নির্বাচনে। সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে অর্থনীতি এবং রানিং প্রেসিডেন্টের রেটিং ভূমিকা রাখে কে ইলেকশনে জিততে যাচ্ছে-কোন মিডীয়া হাইপ নয়। তবে ইলেক্ট্রোরাল আউটকামে ক্যাম্পেইন বিশাল ভূমিকা রাখে। ইউএস সিনেটর থেকে জাজ, মিউনিসিপাল ড্রেইন ইনস্পেকটর এরকম হাজারের হাজার ক্যান্ডীডেট নির্বাচনে দাঁড়ায় এখানে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো জাতির তুলনায় আমেরিকায় ভোট হয়। পুরো আমেরিকায় ৫২০,০০০ এর বেশী পদে নির্বাচন হয়। সংখ্যাটা চমকে উঠার মতো, তাইনা? নিচে নিউইয়র্কে যেসব পদ্গুলোর জন্য ভোট হয় তার তালিকা দিলাম।

NATIONAL OFFICIALS

  • ইউ এস প্রেসিডেন্ট (১)
  • ইউ এস সিনেটর (২)
  • ইউএস হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ (২৭)

NEW YORK STATE OFFICIALS

  • গভর্নর
  • লুটেনেন্ট গভর্নর
  • এটর্নি জেনারেল
  • কম্পট্রোলার
  • সেক্রেটারি অফ স্টেইট

NEW YORK CITY OFFICIALS

  • মেয়র
  • বরো প্রেসিডেন্ট (৫)
  • সিটি কাউন্সিল মেম্বার (৫১)

এবার এক পলকে দেখে আসি কীভাবে পলিটিকাল ক্যাম্পেইনে টাকা তোলা হয়। এই যেমন ধরেন অমুক পার্টি অফ বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক শাখা ইত্যাদি। তো, আমেরিকায় ও এরকম ডোনেশন গ্রুপ আছে। নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে অনেকে কমিটি করে চাঁদা তোলেন। এই ধরণের কমিটিকে বলা হয় পলিটিকাল একশন কমিটি বা প্যাক এসব প্যাকে কমপক্ষে ৫০ বা তার বেশি অনুদানকারী থাকে, এবং প্রতিজন ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত অনুদান দিতে পারেন। এর চেয়ে বেশী অনুদান দিতে চাইলে আসে সুপার প্যাক সুপার প্যাক চাইলে যেকোনো এমাউন্ট অনুদান তুলতে পারে। কিন্তু প্যাকের সাথে পার্থক্য হচ্ছে তারা সরাসরি ক্যান্ডিডেটের পক্ষে প্রচারনা চালাতে পারেনা। এর বাইরে ক্যান্ডিডেট বান্ডলিং এর মাধ্যমেও অনুদান পান। বিষয়টা অনেকটা এইরকম, প্রার্থী কোন একটা পার্টি বা সভায় গেলেন। সেখানে তার শুভানুধ্যায়ীরা চেকের মাধ্যমে একটা এমাউন্ট লিখে সেটা বান্ডীল আকারে প্রার্থীর হাতে তুলে দিলেন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে মজার লাগে ৫২৭ গ্রুপের কর্মকান্ড; এটি আইআরএস ৫২৭ সেকশনের আদলে গঠিত বলে এই নাম। এরাও যেকোনো এমাউন্ট তুলতে পারে-এবং ৫২৭ সেকশনের আন্ডারে ট্যাক্স এক্সাম্পট পায়। এদের কাজ মুলত অন্য প্রার্থীকে কৌশলী আক্রমন করা। যেমন একজন বিপক্ষের প্রার্থীকে নিয়ে একটা বিজ্ঞাপন দিলো তারা এভাবে, “সিনেটর জোনস একজন গাছখেকো যে কিনা পরিবেশবাদীদের ঘৃনা করে।“এই প্যাক, সুপার প্যাক, বান্ডোলিং, এবং ৫২৭ গ্রুপের বাইরে আরেক ধরণের উপায় আছে ক্যাম্পেইনে ডোনেশন তোলার, সেটা হচ্ছে পাবলিক ফাইনান্সিং। মানে কেউ যদি ২০টি স্টেইট থেকে ৳২৫০ বা তার কম এমাউন্তের চেক থেকে ৳৫০০০ ডলার তুলতে পারে, সে ফেডারেল ফান্ড থেকে সম-পরিমান এমাউন্ট ফান্ডিং পেতে পারে। কিন্তু এখানে একটা ক্যাচ আছে, কেউ যদি পাবলিক ফাইনান্সিং পায়-সে তার নির্বাচনী ব্যয় লিমিট করে ফেলতে হবে। এই বাধ্যবাদকতার কারণে এখন আর ক্যান্ডিডেটরা পাবলিক ফান্ডীং এ উতসাহিত হয়না।

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *