STOP, THINK, REACT

থামুন, চিন্তা করুন, প্রতিক্রিয়া জানান।

খেয়াল করেছেন কখনো অনলাইনে কারো সাথে কথা কাটাকাটির পর মেজাজ কেমন থাকে? কতক্ষণ পর পর সে কথা মনে হয়? তার প্রোফাইলে কয়বার ঘুরে আসেন, সে কী করে জানার চেষ্টা করেন? এরপর তাকে মার্ক করে রাখেন এবং মনে মনে একটা শত্রু তৈরি করেন? আমি কিছু ফ্যাক্ট বলি, এসব হয়তো আপনাকে ভবিষ্যতে সাবধানী করে তুলবে।

সচরাচর আমরা যখন আশেপাশের কারো সাথে মেলামেশা করি তার সাথে এক কথাতেই খারাপ ব্যবহার করিনা। আপনার প্রতিবেশীদের কথা ধরুন, অন্তত দেখা হলে হাই হ্যালো করি। অনেক দিন দেখা সাক্ষাৎ হলে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। এমনকি খেয়াল করুন, খারাপ ঘটনা ঘটে গেলেও সহজে মিটমাট করে ফেলতে পারি। এর কারণ হচ্ছে আমাদের এমন অনেক ভালো স্মৃতি তৈরি হয় যা দিয়ে আমরা খুব সহজে খারাপ স্মৃতি ভুলে যেতে পারি।

অন্যদিকে ফেসবুকে দেখুন। দ্বিমত দেখলেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পরতে দ্বিধা করছিনা। এমনকি গায়ে পরে ঝগড়া করছি, নিজের বিষয় না হলেও অযথা মন্তব্য করছি। আপনি ভাবতে পারেন, ফেসবুকে তো আমরা জাস্ট এঞ্জয় করতে আসছি, একটু ভিডিও দেখব, মজা করব, তারপর নিজের লাইফে ফিরে যাব। কিন্তু ফেসবুকের এলগরিদম এভাবে কাজ করেনা।

যারা এলগরিদম কী সেটা জানেন না, এলগরিদম হচ্ছে একটা জিনিসের পর্যায়ক্রমিক কাজের ধারা। মানে ফেসবুক কীভাবে কাজ করে সেটা। ফেসবুকের এই নীল রঙের কালার চয়েস, ইউজার রিয়েকশন সব খুব চিন্তাশীল ভাবে মেনটেন করা হয়। আপাতত ডিটেইলস আলাপ থাক। মোদ্দাকথা হচ্ছে ফেসবুক চায় মানুষের ঝগড়া জিইয়ে থাকুক।

যেটাই চলুক ভেতরে ভেতরে, আমরা যখন কারো সাথে ফেসবুকে ঝগড়া করি এবং সেটা ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত চলে যায়, এর রেশ আর কখনো শেষ হয়না। এটি আপনি যতদিন ফেসবুকে থাকবেন, যতদিন ঐ প্রতিপক্ষ কে দেখবেন ততদিন আপনার পুরোনো ঝগড়া মনে পরে যাবে। এর কারণ হচ্ছে আপনার ব্রেইনে প্রতিপক্ষ ব্যক্তিটির সম্পর্কে আর কোন স্মৃতি তৈরি হয়নি ঝগড়ার সময়টি ছাড়া, যেমন আপনার রিয়েল লাইফে হয়। মানে আপনি রিয়েল লাইফে যেমন ভাল খারাপ মিলিয়ে একটা মানুষের স্মৃতি তৈরি করছেন, ফেসবুকে সেটা পারছেন না। তাহলে এখন কী করবেন?

STOP (থামুন): যখন দেখবেন রেগে যাচ্ছেন।

Think (ভাবুন): রাগের কারণ ভেবে বের করুন। কমেন্ট করার আগে দেখুন এইটার আসলে দরকার আছে কিনা। এই শিক্ষাটা তাকে দিতেই হবে কিনা। দরকার হলে ফেসবুক থেকে বের হয়ে যান। একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসুন।

React (প্রতিক্রিয়া জানান): বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর ও যদি মনে হয় হ্যাঁ এইটা নিয়ে আলাপের দরকার আছে। তখন মন্তব্য জানান। তবে সবসময় মাথায় রাখুন আপনার আরেকজনের সাথে রিএকশন যতটা না অন্যের মনে ছাপ ফেলবে তারচেয়ে বেশী ছাপ ফেলবে নিজের উপর। আমি প্রায়শই ভুলে যাই কে আমাকে কী বললো, কিন্তু কখনোই ভুলিনা আমি কাকে কটু কথা বললাম। সাথে আরো যুক্ত করি, এমন ও হতে পারে আজকে যাকে হেয় করছেন দুদিন পর তার সাথে সরাসরি দেখা হয়ে যেতে পারে এবং এমন ও হতে পারে তাকে আপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

এদেশে ল্যাটিনোদের দেখুন। ছুটির দিনে মাস্তি করছে। কখনো ঝগড়া করতে দেখিনি। কলেজে বলুন, কাজে বলুন, সবসময় একজন আরেকজনকে হেল্প করছে। আর (যে রেইসের কথা মুখে আনতে নেই) তাদের দেখুন, এমনকি প্রমানিত অপরাধী হলেও তারা অপরাধীর পক্ষ নেবে! 🤪 আর আমরা… থাক বহুত কথা বলে ফেললাম।

একটা উদাহরণ বলে আমার লেখা শেষ করছি। একজন ২০১৬ সালে আমার এক পোস্টের সূত্র ধরে আমার ফ্রেন্ডলিস্টে এড হয়। আমি খেয়াল করে দেখেছি শুধুমাত্র ঝগড়ার স্কোপ হলেই সে কমেন্ট করতো। তারপর একদিন সরাসরি সে ২০১৬ সালের সে পোস্ট এর কথা উল্লেখ করেই আমাকে ব্যক্তি আক্রমণ করে বসে। অথচ খেয়াল করে দেখলাম আমি নিজেই সেটা মনে রাখিনি। কিন্তু তার ঠিকই সেটা মনে আছে। যাই হোক পরে জানিয়ে আনফ্রেন্ড করে দিই। নিশ্চয়ই তার ২০১৬ সাল থেকে রাগ ভেতরে পুষে ছিল। জানিনা আনফ্রেন্ড করার পর ও রাগ পরেছে কিনা! 😁, কী মনে হয় আপনার??

Spread the love

accounting Broken Window Brooklyn Bridge economics george william plunkitt lincoln luminous rabiul hasan lincoln translation travel USA Politics কবিতা রম্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *