Category: Knowledge

  • নিউইয়র্কে রোড টেস্ট পাস করার টিপস

    নিউইয়র্কে রোড টেস্ট পাস করার টিপস

    Before Starting the Car

    • Enter the car from the front.
    • Put on your seatbelt.
    • Adjust your seat to fit comfortably.
    • Start the car, then adjust your mirrors.
    • Make sure the instructor or examiner sees you doing it.

    Pulling Off

    • Ensure the car is in drive.
    • Indicate left.
    • Check left mirror and left blind spot.
    • Turn the wheel one full rotation to the left and pull off.

    Broken U-Turn

    1. Indicate left.
    2. Check left mirror and left blind spot.
    3. Turn the wheel fully left, bringing the car across the street.
    4. Indicate right, check right mirror, and right blind spot.
    5. Put car in reverse, turn wheel fully right, and back up for 4–5 seconds.
    6. Indicate left, turn wheel three full turns to the left.
    7. Check left mirror and left blind spot.
    8. Put the car in drive and move off, staying on your side of the road.

    Parallel Parking

    1. Slow down and indicate right.
    2. Check right mirror and right blind spot, pulling parallel to the other car.
    3. Turn on hazard lights.
    4. Put car in reverse, turn wheel one full rotation to the right.
    5. Check left mirror and left blind spot before moving.
    6. Back up using your judgment, then lock wheel left to straighten with the sidewalk.
    7. Ensure the wheel is straight, put car in park, and turn off hazard lights.

    Stop Sign (All-Way)

    • Stop at the first white line.
    • Check all corners.
    • First-come, first-serve rule applies; be observant.

    Regular Stop

    1. Stop at the first white line.
    2. Make a second stop at the last white line.

    Speed Bumps & School Zones

    • Approach speed bumps at the posted speed limit.
    • In school zones, maintain a speed of 15–20 mph.

    General Tips

    • Always check blind spots, indicate, and check mirrors.
    • Take your time; don’t rush.
    • Use your best judgment.

    সফলভাবে রোড টেস্ট পাস করার জন্য চাই প্রস্তুতি। মনে রাখবেন, সিট ও আয়না ঠিক করা, ব্লাইন্ড স্পট দেখা এবং ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূল কৌশলগুলো হলো মসৃণভাবে গাড়ি চালানো শুরু করা, নিরাপদে ভাঙা ইউ-টার্ন নেওয়া এবং নিখুঁত প্যারালাল পার্কিং করা। সবসময় ট্র্যাফিক সাইন এবং নিয়ম মেনে চলুন, যেমন স্টপ সাইনে থামার পদ্ধতি এবং স্কুল জোনে গতিসীমা। নিয়মিত অনুশীলন আর আত্মবিশ্বাসই আপনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।


    রোড টেস্টে সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ

    1. গাড়ি শুরু করার আগে
      • সামনের দিক দিয়ে গাড়িতে উঠুন।
      • সিটবেল্ট পরুন।
      • আরাম করে বসার জন্য সিটটি অ্যাডজাস্ট করে নিন।
      • গাড়ি চালু করার পর আয়নাগুলো ঠিক করুন।
      • খেয়াল রাখবেন যেন পরীক্ষক আপনাকে এই কাজগুলো করতে দেখেন।
    2. গাড়ি চালানো শুরু করার কৌশল
      • গাড়িটি ড্রাইভিং মোডে (drive) আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
      • বাঁদিকে ইন্ডিকেটর দিন।
      • বাঁদিকের আয়না এবং ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • স্টিয়ারিং হুইল এক পাক বাঁদিকে ঘুরিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করুন।
    3. ভাঙা ইউ-টার্ন (Broken U-Turn)
      • বাঁদিকে ইন্ডিকেটর দিন।
      • বাঁদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • স্টিয়ারিং হুইল পুরোপুরি বাঁদিকে ঘুরিয়ে গাড়িটি রাস্তার অন্যপাশে নিয়ে যান।
      • ডানদিকে ইন্ডিকেটর দিন, ডানদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • গাড়ি রিভার্স মোডে দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল পুরোপুরি ডানদিকে ঘুরিয়ে ৪-৫ সেকেন্ড পেছান।
      • বাঁদিকে ইন্ডিকেটর দিন, স্টিয়ারিং হুইল তিন পাক বাঁদিকে ঘুরিয়ে নিন।
      • বাঁদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • গাড়ি ড্রাইভিং মোডে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান এবং রাস্তার আপনার পাশেই থাকুন।
    4. প্যারালাল পার্কিং (Parallel Parking)
      • গতি কমিয়ে ডানদিকে ইন্ডিকেটর দিন।
      • ডানদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে অন্য গাড়ির সমান্তরালে চলে আসুন।
      • হ্যাজার্ড লাইট চালু করুন।
      • গাড়ি রিভার্স মোডে দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল এক পাক ডানদিকে ঘুরিয়ে নিন।
      • গাড়ি পেছানোর আগে বাঁদিকের আয়না ও ব্লাইন্ড স্পট দেখে নিন।
      • আপনার বিচার অনুযায়ী গাড়ি পেছাতে থাকুন, তারপর ফুটপাথের সঙ্গে সমান্তরাল করতে স্টিয়ারিং হুইল বাঁদিকে ঘুরিয়ে লক করুন।
      • স্টিয়ারিং হুইল সোজা আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে গাড়ি পার্কিং মোডে দিন এবং হ্যাজার্ড লাইট বন্ধ করুন।
    5. স্টপ সাইন (All-Way)
      • প্রথম সাদা লাইনে এসে পুরোপুরি থামুন।
      • সবদিক ভালো করে দেখে নিন।
      • “ফার্স্ট-কাম, ফার্স্ট-সার্ভ” (আগে যে আসবে সে আগে যাবে) নিয়ম মেনে সতর্ক থাকুন।
    6. সাধারণ স্টপ
      • প্রথম সাদা লাইনে এসে থামুন।
      • এরপর শেষ সাদা লাইনে এসে দ্বিতীয়বার থামুন।
    7. স্পিড বাম্প ও স্কুল জোন
      • স্পিড বাম্পের কাছে নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চলুন।
      • স্কুল জোনে ১৫-২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে গাড়ি চালান।
    8. কিছু সাধারণ টিপস
      • সর্বদা ব্লাইন্ড স্পট, ইন্ডিকেটর এবং আয়না চেক করার অভ্যাস করুন।
      • তাড়াহুড়ো করবেন না, যথেষ্ট সময় নিন।
      • নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করুন।
  • ব্যবসায়ী আলাপ-১

    ব্যবসায়ী আলাপ-১

    ভূমিকা

    স্কুলে মাঝেমধ্যে রচনা লিখতে হতো, “আমি কোটিপতি হইলে কী করিব!” যদি কেউ সৎভাবে মতামত দেয় তাহলে তারা লিখবে বাড়ি করব, গাড়ি করব, তারপর গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেব। বইটি সেই কোটি টাকার ব্যবহার নিয়ে মূলত। পত্রিকায় একবার একটা খবর এসেছিলো। এক আইসক্রিম বিক্রেতা লটারীতে চল্লিশ লাখ টাকা পেয়েছে। সচরাচর এসব খবরের ফলোআপ হয়না। সম্ভবত পরে এমন খবর দেখেছিলাম যে বিজয়ী সব টাকা উড়িয়ে দিয়ে দুই বছরের মাথায় যে কে সেই রয়ে গেছে। আমার পয়েন্ট হলো, আপনি বেশীরভাগ মানুষকে যদি তাদের কল্পনার বাইরে টাকা দেন তারা সেটা উড়িয়ে দেবে। এমনকি সে ছোটখাট ব্যবসায়ী হলেও। আপনি যদি সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা ডিল করে এমন কাউকে দশ কোটি টাকা দেন তাহলে সে বুঝতে পারবেনা কীভাবে এই টাকা খাটিয়ে ব্যবসা করবে। এর কারণ হচ্ছে বেশীরভাগ ব্যবসায়ী একাউন্টিং এর বেসিক নলেজ সম্পর্কে জানেনা।
    আচ্ছা, শুধু কি ব্যবসায়ী? আমরা ব্যবসায়ী শিক্ষার শিক্ষার্থীদের কথা ধরি। তাদের ব্যবসার হিসাব নিকাশের বেসিক জ্ঞান জানার কথা। তাদের যদি আমরা কোটি টাকা দিই তারা কী পারবে সেই টাকার হিসাব কিতাব রাখতে? টাকা খাটিয়ে মুনাফা করতে? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে খুব কম শিক্ষার্থী সফল হবে। কারণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলো এমনভাবে লেখা যেখানে রিয়েল লাইফের সাথে মিলিয়ে কখনো পড়ানো হয়না।
    তাহলে কি ব্যবসায়ী শিক্ষার শিক্ষকদের দিলে তারা পারবে? এখানে আমাদের অবজার্ভেশন বলে যে তারা যদি তা পারতো তবে বেশীরভাগ শিক্ষক গরীব থাকতো না। অন্তত একটা সময়ে গিয়ে বেশ ভাল টাকা তাদের জমে যেত। তারা সৎ, তাদের মোহ নেই, এমন অনেক কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু সৎ হলে যে কম টাকা আয় করতে হবে এমন কথা নেই। বরং যাদের বেশী টাকা তাদের সমাজের সেবা করার সুযোগ বেশী। বেশী টাকা আয়ের জন্য মোটিবেশন যদি সেবা করার মানসিকতা হয় তাহলে আপনার সাথে উদাহরণ হিসেবে বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট এদের নাম উল্লেখ করতে পারি। বর্তমান বিশ্বের সেরা দশ ধনীর তালিকায় এনাদের নাম আছে, এবং উনারা প্রচুর টাকা বিভিন্ন সেবা খাতে ব্যয় করে যাচ্ছেন। আমি এই লিখা শুরু করেছি মূলত, ব্যবসায় হিসাব নিকাশের বেসিক নিয়ে। আমি আমার মতো করে কীভাবে এসব হিসাব নিকাশ রাখতে হয়, ব্যবসায় আয় কীভাবে হয়, সেই আয়ের সাথে ট্যাক্সের সম্পর্ক কী, কীভাবে বুঝবেন যে আপনি লাভ করছেন নাকি লস গুনে যাচ্ছেন, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সামান্য আলাপ করে যাবো।

    আমার এক একাউন্টিং নিয়ে পড়ুয়া বন্ধুকে জিজ্ঞেস করছিলাম, এমন কোন খাত আছে যেখানে ১০% এর অধিক লাভ হতে পারে। বন্ধু এক বাক্যে বলে দিয়েছিল স্টক ট্রেডিং করে। তাকে আমার বুঝাতে হয়েছিল স্টক মার্কেট কীভাবে কাজ করে। মূলত স্টক মার্কেট একটা রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যেমন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি। আর এসব মার্কেটে একটা দেশের বিভিন্ন কোম্পানি কিছু নিয়মনীতি মেনে জয়েন করে। কোম্পানির মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজার থেকে মূলধন নেয়া। চাইলে তো ব্যাংক থেকে লোণ নেয়া যায়, কোম্পানি নেয় ও। কিন্তু কোম্পানির কলেবর বাড়ার সাথে সাথে যে পরিমাণ লোণ দরকার হয় সে পরিমাণ লোণ হয়তো ব্যাংক দিতে পারবেনা। আবার ব্যাংকের সুদের হার ও কোম্পানির পক্ষে সুবিধাজনক না ও হতে পারে। এসব কারণে একটা কোম্পানি ব্যাংক লোণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শেয়ার বাজারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। একজন শেয়ার ক্রেতা হিসেবে এজন্য একটা কোম্পানি এনালাইসিস করতে পারা জরুরী, যাতে আপনি কোথায় ইনভেস্ট করছেন সেটা যাতে কোম্পানি উড়িয়ে না দেয়। সুতরাং একবাক্যে আপনি বলে দিতে পারেন না যে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করে আপনি নিশ্চিত ১০% এর অধিক আয় করতে পারবেন। যদি এই বাক্যটি আমরা সঠিক ভাবে বলতে যাই তাহলে বলতে হয়, আপনার বিনিয়োগকৃত কোম্পানি যদি ভাল মুনাফা করে তাহলে আপনার ও মুনাফা হবে। আর যদি কোম্পানি লস করে আপনার ও লস হবে।

    একাউন্টিং বেসিক

    মুদি দোকান থেকে শুরু করে আমাজনের ওয়ারহাউস, যত ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান আছে পৃথিবীতে সব একটা সমীকরণ মেনে চলে। বলা যেতে পারে এই সুত্রটি ব্যবসার বেসিক সুত্র। সুত্রটি যদি আমি সহজ করে বলতে যাই, তাহলে বলতে হয়, আপনার প্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ, প্রতিষ্ঠানের দেনা এবং মালিকানা স্বত্বের যোগফল। সমীকরণটি এভাবে লিখে:

    Assets (সম্পদ) = Liabilities (দায়/দেনা) + Owners’ Equity (মালিকানা স্বত্ব)

    Assets বা সম্পত্তি কী?

    একটি প্রতিষ্ঠান যে সকল জিনিস আইনতঃ নিজের বলে দাবি করতে পারে, এবং সে জিনিসের ভবিষ্যত ব্যবহার হতে পারে, এবং জিনিসগুলো পরিমাণ করা যায় সেসব জিনিসকে আমরা সম্পত্তি বলতে পারি। উদাহরণ স্বরূপ, নগদ অর্থ, ফার্নিচার, মালামাল, প্রতিষ্ঠান যদি অগ্রিম ভাড়া প্রদান করে থাকে সেটা, কাস্টমারের কাছ থেকে পাওনা টাকা, এমনকি কোম্পানির ট্রেডমার্ক যদি কপিরাইট করা থাকে সেটা assets বা সম্পত্তির উদাহরণ। কিছু সম্পত্তি এক বছরের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলা যায়, আবার কিছু সম্পত্তি এক বছরের অধিক সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। যেমন নগদ টাকা, মালামাল এসব সম্পত্তি এক বছরের মধ্যে চাইলে ব্যবহার করা যায়। আবার জমি, বিল্ডিং কিংবা ফার্নিচার এক বছরের বেশী সময় ব্যবহার করা যেতে পারে। তো একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির এই দুই ধরণের ক্যাটাগরি আমরা পাচ্ছি, স্বল্পমেয়াদী সম্পত্তি, এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পত্তি। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সব সম্পদ তো আমাদের প্রতিষ্ঠানের, সেগুলো আবার ভাগ করে লাভ কী? এর উত্তর হচ্ছে, একটা প্রতিষ্ঠানকে দৈনিক, মাসিক, চারমাস অন্তর, বাৎসরিক, এরকম বিভিন্ন হিসাব লিপিবদ্ধ করতে হয়। যেমন একটা প্রতিষ্ঠান যখন আয়কর দেয়ার জন্য হিসাব করতে যাবে তখন তাকে নির্দিষ্ট বছরের কী পরিমাণ সম্পত্তি আছে সেটা বের করতে হয়। তখন সম্পত্তি কী স্বল্পমেয়াদী নাকি দীর্ঘমেয়াদী সেটা জানার দরকার পরে। আবার ফার্নিচার অথবা ফ্রিজ একবার কিনলে সেটা দীর্ঘমেয়াদের জন্য কেনা হলেও সেটা চিরস্থায়ী নয়। প্রতি বছর বছর তার ব্যবহার উপযোগিতা কমতে থাকে। আমরা পরবর্তী কোন অধ্যায়ে এই ধরণের উপযোগিতা নির্নয় করব।

    Liabilities বা দায় কী?

    একটা প্রতিষ্ঠানের দায়দেনা হচ্ছে তাই যা কোম্পানি আইনতঃ অন্যকে দিতে বাধ্য থাকে। যেমন ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করলে, কাস্টমারের কাছে কোন পণ্য বা সেবার জন্য অগ্রিম টাকা গ্রহণ করলে, প্রতিষ্ঠানের জন্য বাকিতে মালামাল কিনলে সেসব একটি প্রতিষ্ঠানের দায়। সম্পত্তির মত দায়দেনার স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদ আছে।

    Owners’ Equity বা মালিকানা স্বত্ব কী?

    সম্পত্তি থেকে দায়দেনা বাদ দিলে যা থাকে তাই মালিকানা স্বত্ব। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, দায়দেনা এবং মালিকানা স্বত্বের যোগফল হচ্ছে সম্পত্তি। মালিকানা স্বত্ব কোন বস্তু বা জিনিস নয়, এটি একটি সংখ্যা। আমরা আবার মূল সমীকরণটি দেখি:

    Assets (সম্পদ) = Liabilities (দায়/দেনা) + Owners’ Equity (মালিকানা স্বত্ব)

    এই সমীকরটি আমরা আরো বিস্তৃত করলে পাব:

    Assets (সম্পদ) = Liabilities (দায়/দেনা) + Company Stock or Capital (মূলধন) + retain earning ( মুনাফা)

    Company Stock or Capital (মূলধন) কী?

    একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য মূলধন অথবা ক্যাপিটাল অথবা পুঁজির দরকার হয়। সেই ক্যাপিটাল মালিকের নিজের পকেট থেকে আসতে পারে, অথবা বড় কোম্পানি হলে শেয়ার বিক্রি করে আসতে পারে। হ্যাঁ, এই শেয়ার আমি সেই শেয়ারের কথা বলছি যা আপনারা ধারণা করছেন। মানে শেয়ার বাজারে যে শেয়ার বেচাকেনা হয় সেটা আসলে একটা প্রতিষ্ঠানের ক্যাপিটালের জন্য। আপনি কোন কোম্পানির শেয়ার কিনছেন মানে সেই কোম্পানির সেই শেয়ার পরিমাণ মালিকানা পাচ্ছেন। এভাবে শেয়ার কেনার মাধ্যমে আপনি বেক্সিমো কিংবা মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানির মালিকানা লাভ করতে পারেন। আবার ছোট মুদি দোকান বা মাঝারি আকারের হোটেল, রেস্টুরেন্টের জন্য শেয়ার মার্কেট থেকে স্টক বিক্রয়ের মাধ্যমে পুঁজি জোগাতে হয়না। এটি ব্যক্তি নিজেই নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে জুগিয়ে থাকে।

    retain earning ( মুনাফা) কী?

    একটা প্রতিষ্ঠান যখন চলা শুরু করে, সেটা মুদী দোকান হোক, কিংবা টং দোকান হোক, অথবা হোক স্কয়ার ফার্মাসিউটিকাল এর মতো বড় কোম্পানি, তখন তার কর্মকান্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানে আয় আসতে শুরু করে। একে আমরা retain earning ( মুনাফা) বলি। প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বা রেভিনিউ থেকে খরচ-পাতি বাদ দিলে আমরা retain earning ( মুনাফা) পাই। শেয়ার বাজারে পাবলিক কোম্পানি তার শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণ করে, যা ডিভিডেন্ড নামে পরিচিত। এটিও retain earning ( মুনাফা) থেকে বাদ করতে হবে। যদিও অনেকে ভুল করে ডিভিডেন্ডকে খরচের সাথে গুলিয়ে ফেলে।

    রাজস্ব বা রেভিনিউ কী?

    একটি প্রতিষ্ঠান কোন পণ্য বিক্রি করে বা সেবা প্রদান করে টাকা আয় করে থাকে। একে রাজস্ব বা রেভিনিউ বলে।

  • The Brooklyn Bridge: An Architectural Wonder

    The Brooklyn Bridge: An Architectural Wonder

    The Brooklyn Bridge, which is the world’s first steel-wire suspension bridge, connects Manhattan and Brooklyn over the East River. The Brooklyn Bridge was one of its kind for many years, serving as a tourist attraction then as well as now. It has had a significant impact on the socioeconomic status of New York City. Not only did it impact the economy of New York City, but it also contributed to its uniqueness. This bridge has changed the demographics of the Brooklyn-Manhattan communication systems.

    Brooklyn is the largest borough of New York City and the most densely inhabited county in New York State. However, it is the most preferred place to live for New Yorkers due to its comfortable housing, vibrant yet calm lifestyle, and available commodities. Thanks to the Brooklyn Bridge, the face of Brooklyn has changed from about 150 years ago when it was nothing more than a mere cow town. After the Brooklyn Bridge was built, the demographics of Brooklyn changed dramatically. Although Brooklyn and New York are separated by only a few miles, people used to have to take a ferry to cross the East River to get to Brooklyn and vice versa. The ferry ride was dangerous, and in winter, the ferry could barely move when the river water froze. It could take more than an hour to get across. Essentially, Brooklyn was isolated from the mainland of New York, and the ferry was the only means of interconnection. Things began to change in 1852 when commuters finally decided to do something about it. A bridge was a possible solution to that problem.

    Enter John Augustus Roebling, a pioneering civil engineer who resolved to make the dream of the Brooklyn Bridge possible. Roebling was born in Germany. After graduating, he immigrated to the United States to pursue a career in engineering. Roebling became one of the leading suspension bridge builders in the U.S. McCullough wrote about the plan:

    “They met at his request on at least six different occasions, beginning in February 1869. With everyone present, there were just nine in all—the seven distinguished consultants he had selected; his oldest son, Colonel Washington Roebling, who kept the minutes; and himself, the intense, enigmatic John Augustus Roebling, the wealthy wire rope manufacturer of Trenton, New Jersey, and builder of unprecedented suspension bridges”.

    Roebling began building the bridge in 1869 after the discussion. Because of his professional skill and depth of knowledge, he was the perfect fit. Unfortunately, he did not live to complete the structure he designed. While working on the project, he met with a ferry accident that led to his death. After his demise, his son, Washington Roebling, began to work on his plan. It took 14 years until misfortune followed the Roebling family, as Washington faced the bends and became paralyzed, making his presence at the construction site impossible. From then on, his wife, Emily, took over. She started to oversee the creation of the bridge as Washington watched her from the window of his house. It was Emily who finally finished building the enormous conduit in 1883. And this sacrifice was worth it. This architectural wonder first opened to people in the same year, and trade across the East River sprang to life.

    Building a gigantic infrastructure like the Brooklyn Bridge demanded deep engineering knowledge, as John Augustus Roebling had. He knew his craft, and his plan was solid. However, despite his qualifications, there were many rumors and judgments about the bridge. Some suspected that the bridge could not be built, and some said it would shake too much, but the existence of the bridge proved them wrong. A project like the Brooklyn Bridge is a truly fascinating event, and people cannot be blamed if they did not think it could be built in reality, as no such architecture had been built before it. Stretching to about 1.1 miles, it was also the second-highest infrastructure of its time. Roebling was a master of suspension bridges and wire connections. Washington, who was also a civil engineer, fit into his father’s shoes perfectly after his death. Building this bridge was not easy. It was highly dangerous to work on its construction. “They wanted men to work underwater in the iron caissons of the Brooklyn Bridge, and they were paying from five to ten dollars a day… but the danger, if danger there was, appealed to me almost as much as the big pay…”. People worked there because the pay was good at that time, regardless of the risks involved.

    Roebling used groundbreaking techniques to build the bridge. He erected two gigantic towers with a nomadic caisson method, connected the towers with steel wires, and anchored the wires to the ground to prevent the towers from leaning inwards. Caissons are large wooden boxes that served as the foundation for the towers. They were submerged in the water in an upside-down manner, and when they hit the soil under the river, the workers entered them through holes on top. The caissons were then filled with compressed air, creating an airlock to prevent the entry of water. Those workers were known as “sand hogs”. They dug out the mud from under the river until they reached solid bedrock. Then the workers exited, and the caissons were filled with concrete. The caissons remained underwater as the foundation for the towers. They were wrapped with iron sheets to protect them from water. The process was necessary to build a strong foundation, but it caused many people to contract a disease called the Bends or Caissons disease due to the airlock system causing an imbalance in blood gases. The engineer Winston Roebling himself suffered from this and was crippled for life.

    Despite its death toll, this bridge became a matter of pride as it was the longest suspension bridge of its time. The bridge has a center span of 1,595.5 ft and side span of 933 ft. A gigantic project that can be seen from far and near; the more closely it is observed, the greater its magnificence becomes. The Brooklyn Bridge made New York City the most valuable commercial metropolis in the United States. By connecting Manhattan and Brooklyn, this bridge helped transform Brooklyn from an individual city into a borough of New York City. It helped increase Brooklyn’s population, as it allowed people to live in Brooklyn and commute quickly to jobs in the rest of New York City.

    It was the first example of how profoundly a suspension bridge could impact the lives of New Yorkers. The bridge is an example of human effort and ability. It not only uplifted the socio-economic condition of the people of Brooklyn but also brought them comfort, a safe passage to roam, and became a site of tourist attraction. The bridge helped flourish Brooklyn and its people. They could live in Brooklyn yet work in Manhattan effortlessly because of this bridge. This bridge is proof of the strength of the human spirit, the possibility of invention that arises from human needs, and a milestone in the development of human civilization.

  • নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

    নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

    নির্বাচনে জিতে আসার জন্য পৃথিবীর সব দেশ একই রুলস মেনে চলে। আর সেটা হচ্ছে প্রচুর টাকা ঢালো। তো এই টাকা আসবে কোত্থেকে? আপনারা যদি ২০১৬ ইলেকশনের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইনের কথা মনে করতে পারেন, প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল হিলারী ক্লিনটন জিতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী জেব বুশ প্রায় ১১৬ মিলিয়ন ডলার তুলেছে। এদিকে হিলারীও পিছিয়ে নেই। সব রুলস ভেঙ্গেচুরে ট্রাম্প নতুন ভাবে ক্যাম্পেইন দেখিয়ে দিলো। প্রথাগত ফান্ড রেইজের দিকে না গিয়ে সে শুরু করলো ব্যক্তি বা গোত্র আক্রমণ। ল্যাটিনো, আফ্রিকান আমেরিকান, আমেরিকান যুদ্ধবন্দী, মহিলা, ইমিগ্রেন্ট, এমনকি রিপাবলিকান স্টেইটম্যান ও বাদ গেলোনা তার আক্রমণ থেকে। এদিকে সে নিজের দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের ও মক করতে ছাড়লো না কারন তার মতে তারা পর্যাপ্ত মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছেনা। ক্যাম্পেইন শেষে এনালাইস করে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার সমমানের মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে ফ্রিতে, যার অধিকাংশই নেগেটিভ। এরপরও সে প্রাইমারির পর প্রাইমারি জিতে চলল। দলের অন্যান্য সদস্যদের ডিঙিয়ে সে নমিনেশন ও জিতে নিল। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্স-সেও প্রথাগত অনেক নিয়ম ভেঙ্গে প্রায় জিতে যাচ্ছিল ৪৩ ভাগ ভোট নিয়ে। জেনারেল ইলেকশনের আগে এনালাইজ করে দেখা গেলো হিলারী ৫১ ভাগ পপুলার ভোটে এগিয়ে, কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে সবাইকে নির্বাক করে দিয়ে ট্রাম্প জিতে নিলো ইলেকশন। উইস্কনসিন, মিশিগান, এবং পেনসেলভেনিয়া থেকে ৭৮০০০ ভোট (১২ মিলিয়ন ভোটের মধ্যে) আসলে হিলারী জিতে যেত।যাই হোক, আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকায় সবসময় কোন না কোনো ভোট হতেই থাকে। এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যাম্পেইন আসলে সামান্যই প্রভাব ফেলে নির্বাচনে। সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে অর্থনীতি এবং রানিং প্রেসিডেন্টের রেটিং ভূমিকা রাখে কে ইলেকশনে জিততে যাচ্ছে-কোন মিডীয়া হাইপ নয়। তবে ইলেক্ট্রোরাল আউটকামে ক্যাম্পেইন বিশাল ভূমিকা রাখে। ইউএস সিনেটর থেকে জাজ, মিউনিসিপাল ড্রেইন ইনস্পেকটর এরকম হাজারের হাজার ক্যান্ডীডেট নির্বাচনে দাঁড়ায় এখানে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো জাতির তুলনায় আমেরিকায় ভোট হয়। পুরো আমেরিকায় ৫২০,০০০ এর বেশী পদে নির্বাচন হয়। সংখ্যাটা চমকে উঠার মতো, তাইনা? নিচে নিউইয়র্কে যেসব পদ্গুলোর জন্য ভোট হয় তার তালিকা দিলাম।

    NATIONAL OFFICIALS

    • ইউ এস প্রেসিডেন্ট (১)
    • ইউ এস সিনেটর (২)
    • ইউএস হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ (২৭)

    NEW YORK STATE OFFICIALS

    • গভর্নর
    • লুটেনেন্ট গভর্নর
    • এটর্নি জেনারেল
    • কম্পট্রোলার
    • সেক্রেটারি অফ স্টেইট

    NEW YORK CITY OFFICIALS

    • মেয়র
    • বরো প্রেসিডেন্ট (৫)
    • সিটি কাউন্সিল মেম্বার (৫১)

    এবার এক পলকে দেখে আসি কীভাবে পলিটিকাল ক্যাম্পেইনে টাকা তোলা হয়। এই যেমন ধরেন অমুক পার্টি অফ বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক শাখা ইত্যাদি। তো, আমেরিকায় ও এরকম ডোনেশন গ্রুপ আছে। নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে অনেকে কমিটি করে চাঁদা তোলেন। এই ধরণের কমিটিকে বলা হয় পলিটিকাল একশন কমিটি বা প্যাক এসব প্যাকে কমপক্ষে ৫০ বা তার বেশি অনুদানকারী থাকে, এবং প্রতিজন ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত অনুদান দিতে পারেন। এর চেয়ে বেশী অনুদান দিতে চাইলে আসে সুপার প্যাক সুপার প্যাক চাইলে যেকোনো এমাউন্ট অনুদান তুলতে পারে। কিন্তু প্যাকের সাথে পার্থক্য হচ্ছে তারা সরাসরি ক্যান্ডিডেটের পক্ষে প্রচারনা চালাতে পারেনা। এর বাইরে ক্যান্ডিডেট বান্ডলিং এর মাধ্যমেও অনুদান পান। বিষয়টা অনেকটা এইরকম, প্রার্থী কোন একটা পার্টি বা সভায় গেলেন। সেখানে তার শুভানুধ্যায়ীরা চেকের মাধ্যমে একটা এমাউন্ট লিখে সেটা বান্ডীল আকারে প্রার্থীর হাতে তুলে দিলেন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে মজার লাগে ৫২৭ গ্রুপের কর্মকান্ড; এটি আইআরএস ৫২৭ সেকশনের আদলে গঠিত বলে এই নাম। এরাও যেকোনো এমাউন্ট তুলতে পারে-এবং ৫২৭ সেকশনের আন্ডারে ট্যাক্স এক্সাম্পট পায়। এদের কাজ মুলত অন্য প্রার্থীকে কৌশলী আক্রমন করা। যেমন একজন বিপক্ষের প্রার্থীকে নিয়ে একটা বিজ্ঞাপন দিলো তারা এভাবে, “সিনেটর জোনস একজন গাছখেকো যে কিনা পরিবেশবাদীদের ঘৃনা করে।“এই প্যাক, সুপার প্যাক, বান্ডোলিং, এবং ৫২৭ গ্রুপের বাইরে আরেক ধরণের উপায় আছে ক্যাম্পেইনে ডোনেশন তোলার, সেটা হচ্ছে পাবলিক ফাইনান্সিং। মানে কেউ যদি ২০টি স্টেইট থেকে ৳২৫০ বা তার কম এমাউন্তের চেক থেকে ৳৫০০০ ডলার তুলতে পারে, সে ফেডারেল ফান্ড থেকে সম-পরিমান এমাউন্ট ফান্ডিং পেতে পারে। কিন্তু এখানে একটা ক্যাচ আছে, কেউ যদি পাবলিক ফাইনান্সিং পায়-সে তার নির্বাচনী ব্যয় লিমিট করে ফেলতে হবে। এই বাধ্যবাদকতার কারণে এখন আর ক্যান্ডিডেটরা পাবলিক ফান্ডীং এ উতসাহিত হয়না।

  • কনগ্রেশনাল কমিটি

    কনগ্রেশনাল কমিটি

    সিনেট লিডারশীপ নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বলার নাই। তবে এই মুহুর্তে সিনেট প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। মুলত যদি এমন হয় যে ভোটাভুটিতে টাইব্রেকার লাগে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট দিয়ে সেই কাজটি করে থাকেন। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন সিনেট ১০০ মেম্বার নিয়ে গঠিত। এরমধ্যে সবচেয়ে লম্বা সময়ের জন্য সিনেটে যে সদস্য সার্ভিস দেয় তিনি প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোরা বলে বিবেচিত হন। নির্বাচনের কথা বলতে গেলে হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ ২ বছর পর পর, প্রেসিডেন্ট ৪ বছরের জন্য, সিনেট ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। তবে এই ৬ বছরের সব সিনেট একসাথে নির্বাচিত হন না, বরং এক তৃতীয়াংশ সিনেট ২ বছর পর পর নির্বাচনে নামেন। বলে রাখি, সিনেটের কর্মপদ্ধতি হাউজের চেয়ে চারগুণ বেশী কঠিন।

    তবে আমার আজকের আলোচ্য বিষয় কংগ্রেসনাল কমিটি। কমিটির কাজ মুলত আইন তৈরি করা। কমিটি তিন ধরণের-

    স্ট্যান্ডিং কমিটি-বা স্থায়ী কমিটি। এদের জুরিশডিকশন ফিক্সড। স্ট্যান্ডিং কমিটি আবার অনেকগুলো সাব-কমিটিতে বিভক্ত থাকে।

    সিলেক্ট কমিটি-কোন একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে গঠিত হয়, এবং তা সচরাচর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এই কমিটিকে স্পেশাল কমিটিও বলা হয়ে থাকে। উদাহরন দেয়া যেতে পারে লিবিয়ার বেনগাজির ইউএস এম্বেসিতে সন্ত্রাসী হামলায় তদন্তের জন্য করা কমিটি।

    জয়েন্ট কমিটি-হাউজ এবং সিন্টে দু-পক্ষ থেকে মিলে যে কমিটি গঠিত হয় তা জয়েন্ট কমিটি। এই ধরণের কমিটি এমনকি যুগ ধরে চলতে পারে, যেমন জয়েন্ট কমিটি অফ ট্যাক্সেশন ১৯৭১ সাল থেকে এখনো চলছে।

    এখানে কংগ্রেসের কমিটিগুলো দেখতে পাবেন Committees of the U.S. Congress | Congress.gov | Library of Congress

    কমিটি রিফর্ম করার জন্য যুগ যুগ ধরে প্রেশার থাকা স্বত্তেও নিজস্ব ইউনিক পথে এসব কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। এমনিতে কংগ্রসেরর কর্মপদ্ধতি যথেষ্ঠ জটিল, তবে কমিটি কিন্তু এখন পর্যন্ত সফল ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কমিটি পদ্ধতি কংগ্রেসের ব্যস্ত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা স্থানে এক্সপার্ট করে গড়ে তোলে। কমিটি সিস্টেম আমেরিকান আরেকধরনের চেক এন্ড ব্যালেন্স সিস্টেম। মানে এর লেজিসলেটিভ প্রসেস ধীর এবং সাধারণের পাবলিকের বুঝার তুলনায় কঠিন, এমনকি মিডিয়ার জন্যও। আমি ছবিতে ফরেন রিলেশনের একটি রেজুলেশন তুলে ধরেছি।

    এস রেস মানে সিনেট রেজুলেশন, পাশে নাম্বারটি সিরিয়াল অনুযায়ী দেয়া হয়, এবং ১১৮তম কংগ্রেসে এটি উত্থাপিত হয়েছে।

    নিচে সংক্ষেপে রেজুলেশনের বিবরন দেয়া হয়। স্পনসর হচ্ছেন কংগ্রেসের সে সদস্য এই রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন। এটি একজন সদস্যের জন্য বেশ মর্যাদার, কারণ বিলটি আইনে পরিনত হলে তখন সেটির পাশে সে স্পনসরের নাম ও উচ্চারিত হবে। তারপর কমিটির ঘরে উল্লেখ আছে এটি কোন কমিটি থেকে হচ্ছে। লেটেস্ট একশন এবং ট্রেকার সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই।

    এই কমিটি সিস্টেম কংগ্রেসঅকে অনেক এফিসিয়েন্ট করে। কিন্তু আমাদের তিতা সত্য ও মেনে নিতে হবে। এই কমিটির অনেক কর্মকান্ড যেহেতু পাবলিকের অন্তরালে হয়, যারা টাকা ঢালে তাদের পক্ষে কমিটি ম্যানুপুলেশন সহজ হয়। উদাহরন দেয়া যেতে পারে ট্যাক্স ব্রেক পাওয়া, কিংবা লবি করে গান কন্ট্রোলের উপর আইন আনতে না দেয়া।

  • হাউজ লিডারশীপ

    হাউজ লিডারশীপ

    আজকের পর্বে থাকবে হাউজ লিডারশীপ নিয়ে। হাউজে যে পার্টি বেশী ভোট পায় তারা মেজোরিটি পার্টি, অন্যদল মাইনোরিটি পার্টির ভুমিকায় অবতীর্ন হয়।

    ১৯৫০ সালে লিন্ডন জনসন সিনেট মেজোরিটি লিডার হলেন তখন তিনি তাঁদের তিমি “whales,” এবং পুটিমাছ “minnows,” দুটি গ্রুপে ভাগ করলেন, তিমি যাঁদের কাজ প্রধানত ল্যান্ডমার্ক লেজিসলেশনে প্রভাবিত করা, আর মাছের পোনাদের কাজ অন্যদের ফলো করা। তিমি বা পার্টির রাঘব বোয়ালেরা কমিটির গুরুত্বপুর্ন পদে বসে থাকে (তা আর বলতে?) সিনেট এবং হাউজ দু-পক্ষ একে অন্যের চেয়ে আলাদা ভাবে পরিচালিত হয়।

    নিজেদের মধ্য থেকে র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান দুদলেই তাঁদের পার্টি লিডার নির্বাচিত করে। যখন একটি নতুন কংগ্রেস শুরু হয় নির্বাচনের পরে (বেজোড় সালের জানুয়ারী মাসে), মেজোরিটি পার্টি ভোটের মাধ্যমে হাউজ স্পিকার নির্বাচিত করে। সর্বশেষ ৫ হাউজ স্পিকারের তালিকা দিলাম নিচে-

    Kevin McCarthy (117th Congress) – January 3, 2021 – present

    Nancy Pelosi (117th Congress) – January 3, 2019 – January 3, 2021

    Paul Ryan (115th Congress) – October 29, 2015 – January 3, 2019

    John Boehner (112th Congress) – January 5, 2011 – October 29, 2015

    Nancy Pelosi (110th Congress) – January 4, 2007 – January 3, 2011

    স্পিকার হাউসের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সে একই সাথে একজন প্রশাসনিক কর্মী, একজন রাজনৈতিক বক্তা, এবং একজন দলীয় নেতা। একজন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সে কমিটি মেম্বার ঠিক করে [কমিটি নিয়ে আরেক পর্বে আলাপের ইচ্ছে আছে], কমিটিতে লেজিসলেসন এসাইন করে। স্পিকার হাউজের এজেন্ডা ঠিক করে, এবং একই সাথে ঠিক করে কোন বিল আমলে নেয়া হবে। সে সিনেট এবং এক্সিকিউটিভ ব্র্যাঞ্চের মধ্যস্থতা করে।

    একজন মেজোরিটি পার্টির দলনেতা হিসেবে, পার্টি বিবেচনায় রেখে সে ইস্যু ঠিক করে। এসব দেখতে গিয়ে সে অপোজিশন পার্টির রোশানলেও পরে। বলা যেতে পারে স্পিকারের রোলটি বেশ কঠিন একটা কাজ।

    স্পিকারের পর পরই সেকেন্ড ইন কমান্ড হচ্ছে হাউজ মেজোরিটি লিডার। সে মেজোরিটি পার্টির ফ্লোর ম্যানেজার, এবং মধ্যস্থতাকারী । সে একই সাথে স্পিকার চোখ ও কান হিসেবে কাজ করে। মানে পার্টির মধ্যে কে কী আলাপ করছে তা সে স্পিকারকে জানায়।

    মেজোরিটি লিডারের পরবর্তী পদ হচ্ছে মেজোরিটি হুইপ। হুইপ শব্দের অর্থ হচ্ছে চাবুক। মানে পার্টিকে লাইনে রাখতে সে চাবুক চালায়। আক্ষরিক অর্থে তো কেউ কাউকে চাবকায় না, তবে সে যেটা করে, পার্টির এজেন্ডা সব সদস্যকে মানতে বাধ্য করে। তাদের অবশ্য উপায় নেই না মেনে, অন্যথায় নির্বাচনে ক্যাম্পেইনে পার্টি থেকে সাপোর্ট পাওয়া যাবেনা [নির্বাচনে ক্যাম্পেইন নিয়ে আরেক পর্বে লেখব]।

    মাইনোরিটি পার্টির ও একই স্ট্রাকচার, শুধু পার্থক্য হচ্ছে তাদের মধ্যে কোন স্পিকার নেই।

  • কংগ্রেস

    কংগ্রেস

    এর আগের পর্বে আমি আলোচনা করেছিলাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। আজকে আমি যে শাখাটি নিয়ে আলাপ করবো তা গুরুত্বপুর্ন। আর তা হচ্ছে কংগ্রেস। সামন্তরিকভাবে যে শাখাটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে তা হচ্ছে কংগ্রেস। অনেকের কাছে কংগ্রেসের ধারণা পরিষ্কার নয়। আশা করছি এই লিখাটি পড়ে আপনার কংগ্রেস সম্পর্কে একটা ক্লিয়ার ধারণা হবে। এরপরেও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোন মন্তব্য থাকে সেটা লিখতে ভুলবেন না।

    কোনো একটি বিল উত্থাপণ, পাস করে তা আইনে পরিণত করার কাজটি প্রধাণত কংগ্রেস করে থাকে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝামেলা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত তা আইনে পরিণত হবে কিনা তা নিয়ে। তবে কংগ্রেসে বেশ মজার মজার কান্ড ও ঘটে। আমি যথাসম্ভব কাঠখোট্টা বিষয়াদি বাদ দিয়ে মজার বিষয় নিয়ে কথা বলব।

    প্রথমে কংগ্রেস কী ধরণের ক্ষমতা রাখে বা চর্চা করে তা সংক্ষেপে-

    সংবিধানে কংগ্রেস হচ্ছে একেবারে মধ্যমনি এবং এতে চার ধরণের ক্ষমতা কংগ্রেসকে দেয়ার কথা উল্লেখ আছে।

    ফাইনান্সিয়াল পাওয়ার-এ জাতীয় দায়দেনা শোধ এবং সাধারণ ব্যয়ভার বহনের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসকে ট্যাক্স ধার্য এবং ডলার ধার করার ক্ষমতা দেয়া আছে। এছাড়া দুটি স্টেইটের মধ্যে অথবা অন্য দেশের সাথে আমেরিকার বানিজ্য কীভাবে সম্পাদিত হবে তা নির্ধারণ করে কংগ্রেস।

    লিগ্যাল পাওয়ার- এর মাধ্যমে সিটিজেনশিপ আইন বলবত করা, দেউলিয়া আইন নির্ধারন, ডলার ছাপানো, এবং জালনোট ছাপালে তার শাস্তির বিধান, প্যাটেন্ট সিস্টেম নির্ধারণ, ওজন এবং পরিমাপের মাপকাঠি নির্ধারন (কেজি না করে পাউন্ড করছে কে এইবার জেনে নেন), প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ভিত্তিতে আইন প্রবর্তন চর্চা করে থাকে।

    ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ার-জুডিশিয়াল এবং এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ অর্গানাইজ করা, পোস্টাল সিস্টেম নির্ধারণ করা, রাজধানী কোথায় হবে সেটা ঠিক করা এবং কন্ট্রোল করা কংগ্রেসের ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ারের মধ্যে চর্চিত হয়।

    ন্যাশনাল ডিফেন্স-আগেই বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছি কোন একটি দেশের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণার কাজটি কংগ্রেস করে থাকে। এছাড়া যুদ্ধবন্দীদের সাথে কেমন আচরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা ও তাদের কাজ। সেই সাথে ইউএস আর্মি, নেভি সহ সব ডিভেন্স ফোর্সের বেতন ভাতা দেখাশুনা করে থাকে কংগ্রেস।

    এই হচ্ছে মোটাদাগে কংগ্রেসের পাওয়ার। তবে এর পাওয়ার সবচেয়ে বেশী টের পেয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। যখন সে ওবামা কেয়ার এক্ট করতে যাচ্ছিল তাকে কংগ্রেস বুঝিয়ে দেয় কত ধানে কত চাল। যাই হোক, এবার এর কলেবর নিয়ে আলাপে আসি। কংগ্রেস দুই চেম্বার বিশিষ্ট-হাউজ অফ রিপ্রেসেন্টেটিভ (৪৩৫ জন) এবং ১০০ জনের ছোট দল নিয়ে সিনেট। এই দুই চেম্বার নিয়ে আরেক পর্বে বিস্তারিত আলাপ করার ইচ্ছে আছে। তবে বলেছিলাম মজার কিছু কথা বলব তা এখানে বলে ফেলি। এই হাউজ মেম্বারের মধ্যে আবার সিনিয়র জুনিয়র আছে। সবচেয়ে জুনিয়র মেম্বার ও চাইলে একটি বিল পাশ হওয়া থেকে প্রলম্বিত বা দেরী করিয়ে দিতে পারে। একে বলে লেজিসলেটিভ হোল্ড, ব্যাপারটা কিছুইনা, সে বলবে এই বিলটা অনেক বড়, আমাকে বাসায় গিয়ে গভীর ভাবে পড়তে হবে বিলটা সম্পর্কে। শুধু যে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দেরী করায় তা নয়। এমনকি পার্লামেন্টের মধ্যেও তারা মসকারি করে, এমন এক মসকারির নাম হচ্ছে ফিলিবাস্টার। সিনেটরদের অনেকে বিল পাশ করাতে না চাইলে বাইক্যা টাইম নষ্ট করার জন্য কবিতা, এমনকি বোরিং নোবেল পড়া শুরু করে দেয়। চিন্তা করেন ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে কেউ ইয়েলো পেইজ পড়ছে। এই থেকে পরিত্রানের জন্য আবার উপায় রাখা আছে। মেজরিটি সিনেট জোর করে বসিয়ে দিতে বাধ্য করতে পারে।

  • প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

    প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

    আমেরিকান তিনটা প্রধান শাখার মধ্যে চেক এন্ড ব্যালেন্স নিয়ে লিখেছিলাম। সে তিনটা শাখার একটি হচ্ছে এক্সিকিউটিভ ব্র্যাঞ্চ এবং সে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হচ্ছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। আমরা সবাই জানি ব্যক্তি হিসেবে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সবচেয়ে ক্ষমতাধর, কিন্তু সে আসলে কতটা ক্ষমতাধর? আজকে সেই বিষয়ে আলোকপাত করব। আমেরিকান সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট, জর্জ ওয়াশিংটন কীভাবে তেরোটি স্টেইটকে (শুরুতে আমেরিকায় মাত্র তেরোটি স্টেইট ছিল, সে গল্প আরেক পর্বে) এক করবেন এই নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তখন সে ভ্রমন শুরু করব প্রতিটি স্টেইটে, সাথে থাকত সহকারী, স্লেইভ, কুকুর, ঘোড়া ইত্যাদি। যখন যে রাজ্যে যেতেন, সেখানকার জনতা তাকে বিপুল সংবর্দনা দিতো। কী থাকতো না সেখানে, গান, বাদ্য বাজনা ইত্যাদি ইত্যাদি এবং সেই সাথে জনগণ নিজেদের রিয়েল আমেরিকান হিসেবে অনুভব করতো!

    আসল আমেরিকান আসলে কারা? প্রতিটি প্রেসিডেন্ট ভিন্নভিন্ন ভাবে এর উত্তর দিয়েছেন। আর কিছু না হোক, “মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন”, এই উক্তিটি আপনাদের মনে থাকবার কথা। প্রথম প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন পুরো জাতিকে এক করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সাথে দাস নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া কী সেই চিন্তাকে ভায়োলেট করেনা? তার প্রায় ২৩৪ বছর পর যদি আজকে বাইডেনকে দেখি, প্রতিবার একেকজন একেকভাবে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়েছে। বাইডেন যেমন সাসটেইনবেল এনার্জি নিয়ে কথা বলছে, কিংবা বিভিন্ন দেশে গনতন্ত্রের পুনঃবহাল নিয়ে একশনে যাচ্ছে এই সবই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে। আমরা যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ দেখি, তাহলে বলতে হবে মেক্সিকান বর্ডারে দেয়াল তুলে দেয়া কিংবা পেনডেমিকের সময় ইকোনমিক রিলিফ দেয়া এসব পরে। এর আগের প্রেসিডেন্ট এর পাওয়ার হিসেবে ওবামা নতুন ধারার একটি আক্রমনের সুচনা করেন। তা হচ্ছে ড্রোন স্ট্রাইকিং। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে কাউকে শেষ করে দেয়ার জন্য একটা লেজার গাইডেড বোম মেরে দিলেই হলো। এভাবে যত আগে যাওয়া যায় আপনারা প্রতিটি প্রেসিডেন্টের খতিয়ান দেখতে পাবেন। এই পোস্টে এখন পর্যন্ত সব প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অর্ডার দেখা যাবে- Federal Register :: Executive Orders

    মুলত প্রেসিডেন্ট তিনভাবে ক্ষমতা হাতে পায়।

    ১) এক্সপ্রেসড পাওয়ার-সরাসরি সংবিধানে লিখিত ভাবে।

    ২) ডেলিগেট পাওয়ার-কংগ্রেস থেকে প্রাপ্ত পাওয়ার।

    ৩) ইনহেরিট পাওয়ার অব প্রেসিডেন্ট- বা এক্সিকিউটিভ অর্ডার।

    এসব কঠিন কঠিন বাক্যের দিকে না গিয়ে আমরা দেখি আসলে প্রেসিডেন্ট কী কী করতে পারে। এর আগেই বলেছিলাম প্রেসিডেন্ট হচ্ছে কমান্ডার ইন চীফ। যদিও যুদ্ধ ঘোষণা করে কংগ্রেস, কিন্তু এরপর থেকে সে যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যায় প্রেসিডেন্ট। আবার এখানে কিছুটা লুপহোল আছে। ধরুন অন্যদেশ আক্রমনের আগে কংগ্রেস সভা বসিয়ে আলাপ আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আক্রমনটা যদি আমেরিকার উপর হয়? যেমন পার্ল হারবারে বম্বিং এর উদাহরণ দেয়া যেতে পারে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। এসব ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নিজেই যুদ্ধে সৈন্য নিয়োগ [ট্রুপ কল] দিতে পারে কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়েই। তবে শর্ত হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হবে, কারণ কংগ্রেস যুদ্ধের বাজেট ঠিক করে। আমেরিকার মিলিটারি বাজেট প্রায় ৭৭৮ বিলিয়ন, যেখানে ২য় স্থানে থাকা চীনের মিলিটারি বাজেট ১৯৩ বিলিয়ন এবং ভারত, ইউকে, এবং রাশিয়া যথাক্রমে ৬৪, ৬১, ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট নিয়ে ৩য়, ৪র্থ, ও ৫ম স্থান অধিকার করে আছে। এই বিশাল বাজেটের মিলিটারির সেনাপতি হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। এখানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, হোম ডিফেন্স ইত্যাদি বাজেট আসেনি। আপনারা টিভিতে বা ইউটিউবে প্রেসিডেন্টের ভিডিও যখন দেখেন দেখবেন তার আশেপাশে ব্রিফকেইস নিয়ে একজন লোক হাটছে। এই ব্রীফকেইসের নাম হচ্ছে দ্য ফুটবল, যা হচ্ছে নিউক্লিয়ার ওয়েপন লঞ্চিং কম্বিনেশন, যা শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের জানা। শুধুমাত্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট চাইলে এককভাবে নিউক্লিয়ার ওয়েপন লঞ্চ করতে পারেন। মানে প্রেসিডেন্ট মাত্র ২০ ফুট দূরে পৃথিবীকে কয়েকবার ধুলিস্যাত করে দেয়ার মারনাস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। এমনকি পুতিনের [Could Putin or Biden Launch Nuclear Missiles by Themselves? (bbntimes.com)] কিংবা কিম জনের ও এককভাবে নিউক্লিয়ার ওয়েপন ছোড়ার কম্বিনেশন নেই (কী জানে থাকলেও থাকতে পারে!)

    সেনাপতি হিসেবে ক্ষমতার কথা তো বললাম, এরপর আসে ডিপ্লোমেসি। প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ডিপ্লোমেট। এই ক্ষমতাটি এক্সপ্রেসড পাওয়ার, মানে সরাসরি সংবিধান কর্তৃক পাওয়া। এর আওতায় বিভিন্ন দেশে দুত নিয়োগের কাজটি সরাসরি প্রেসিডেন্টকে করতে হয়। এছাড়া তাকে স্টেইট অফ ইউনিয়ন (SOTU address) বা বাৎসরিক ভাষণ দিতে হয়। আগের পোস্টে বিলে ভেটো বা সাইন করার কথা উল্লেখ করেছিলাম। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের প্রধান ব্যুরোক্র্যাট। ক্ষমতা পাওয়া মাত্র দেখবেন প্রচুর ফেডারেল কর্মী ছাটাই হচ্ছে এবং নিয়োগ হচ্ছে। প্রতিটা প্রশাসন তার নিজস্ব লোকবল দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এবং এই নিয়োগ বা ছাটাই প্রেসিডেন্টকে করতে হয়। প্রেসিডেন্টের আরেকটি প্রধান ভূমিকা হচ্ছে সে প্রধান ইকোনমিস্ট, এবং হেড অফ স্টেইট। এছাড়া সে পার্টি লিডার ও বটে।

    এতসব দ্বায়িত্ব একজনের পক্ষে কী সামলানো সম্ভব? যেহেতু এইদেশে জন্মগ্রহণ করিনি তাই এইটা নিয়ে আমার না ভাবলেও চলবে। কারণ প্রেসিডেন্ট হতে হলে তার একটা রিকুয়ারমেন্ট হচ্ছে তাকে বাই বর্ন ইউএস সিটিজেন হতে হবে। একই কথা খাটে ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেও। ওবামার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ক্যাচাল লাগিয়ে প্রমান করতে ব্যর্থ হয়যে ওবামার জন্ম কেনিয়ায়! যাই হোক, দ্বায়িত্বের কথায় আসি। প্রেসিডেন্ট তার বিভিন্ন দ্বায়িত্ব পালনের জন্য আশেপাশে প্রচুর সাগরেদ বা বিশেষজ্ঞ পান। যেমন চীফ ইকোনমিস্ট হিসেবে সে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসরের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহন করেন। মানে কাজটা কঠিন না আবার সহজ ও না ধরণের আরকি।

  • চেক এন্ড ব্যালেন্স

    চেক এন্ড ব্যালেন্স

    যদি প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি কে? সবাই এক বাক্যে উত্তর দেবেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকায় যুদ্ধ ঘোষনা করে কে? এমনকি খোদ আমেরিকানদের অনেকে এই প্রশ্নের ভুল উত্তর দেবেন। অনেকে মনে করে থাকেন যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অন্য দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আসলে এই অনুমানটি পুরোপুরি ভুল। আমেরিকায় যুদ্ধ ঘোষণা করে কংগ্রেস, একই সাথে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য খরচাপাতি এবং মিলিটারি বাজেট ঠিক করে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন কমান্ডার ইন চীফ। আমেরিকায় কোন একটা পদের বা পদবীর সবচেয়ে বেশী ক্ষমতাধর হবার সুযোগ নেই। এই সিস্টেমকে বলা হয় চেক এন্ড ব্যালেন্স। আমেরিকার সংবিধানের এই চেক এন্ড ব্যালেন্স সবচেয়ে সুন্দর জিনিস। একে কেতাবি ভাষায় বলে সেপারেশন অফ পাওয়ার।

    আমেরিকায় মোটামুটি তিনটা প্রতিষ্ঠান একে অন্যকে চেক দিয়ে রাখে যাতে কেউ বেশী ক্ষমতা লাভ করে না ফেলে। এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে এক্সিকিউটিভ অথরিটি(প্রেসিডেন্ট, এক্সিকিউটিভ অফিসার, মন্ত্রীবর্গ, সরকারী এজেন্সি), কংগ্রেস/লেজিসলেটিভ (সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ), এবং জুডিশিয়ারী/বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ, ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট)। কংগ্রেস কোনো একটি লেজিসলেশন (আইন খসড়া) সংসদে উত্থাপন করে, কিন্তু সেই বিল আইনে পরিণত হতে প্রেসিডেন্টের সাক্ষর লাগে। প্রেসিডেন্ট চাইলে সেই বিলে ভেটো দিতে পারে। এই ভেটো দেয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্ট চেক দিল। আবার কংগ্রেস চাইলে প্রেসিডেন্টের সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে সিনেটে তিন ভাগের দুই ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই বিলকে আইনে পরিণত করতে পারে। এখানে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে চেক দিলো। যুদ্ধের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রেসিডেন্ট কমান্ডার ইন চীফ হলেও সে নিজে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেনা। এজন্য বাজেট এবং প্রয়োজনীয় ভোট দেয় কংগ্রেস। [এই মুহুর্তে ভাবছেন এই কংগ্রেস আসলে কী? বিস্তারিত আরেক পর্বে আলাপ হবে।]

    প্রেসিডেন্ট যেকোনো দেশের সাথে চুক্তি নেগোশিয়েসন করে প্রধান কুটনীতিক হিসেবে , কিন্তু সিনেট থেকে অবশ্যই সে চুক্তি দুই তৃতীয়াংশ ভোটে ভ্যালিডিটি পেতে হয়। তাছাড়াও প্রেসিডেন্ট মন্ত্রী এবং সুপ্রীম কোর্ট জাস্টিস ( সর্বোচ্চ বিচারিক) নিয়োগ দেয়, কিন্তু সেটিও সিনেট থেকে কনফার্ম করার পরে। কংগ্রেস সকল ফেডারেল অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ করে। হাউস চাইলে বিশ্বাসঘাতকতা, অসততা, এবং বড় অপরাধের অভিযোগে জুডিশিয়াল ব্রাঞ্চের কোন অফিসার বা এমনকি প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করতে পারে।

    অন্যদিকে জুডিশিয়াল সিস্টেম প্রেসিডেন্টের অর্ডার অথবা কংগ্রেসের প্রনীত আইন সংবিদানবিরোধী ঘোষনা করে তা বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

  • আমেরিকান ভিসার রকমফের

    আমেরিকান ভিসার রকমফের

    আজকে আমেরিকার ভিসা নিয়ে লিখছি। যদি প্রয়োজনীয় মনে হয় লিখাটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন। লিখাটি কপি-পেস্ট করতে নিরুৎসাহিত করছি। কিংবা করলেও আশা করছি শুধু Collected/কালেক্টেড লিখে ভবিষ্যতে আর কিছু লিখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করবেন না।

    আমেরিকান ভিসা প্রধানত দুই ধরণের হয়; ইমিগ্রেন্ট ভিসা এবং নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা। ইমিগ্রেন্ট ভিসায় সরাসরি আমেরিকার নাগরিক হওয়ার সুযোগ থাকে। আমি প্রথমে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা ক্যাটাগরি দিয়ে শুরু করছি।

    ভিজিটর ভিসা (B1-B2): সাধারণ স্বল্প সময়ের জন্য আমেরিকায় ভিজিট করতে হলে এই ধরণের ভিসা দেয়া হয়। বি-১ ভিসা বিজনেস ভিজিট, বি-২ ভিসা টুরিস্ট হিসেবে, কিংবা এক ঢিলে দুই পাখি মারার জন্য বি-১-বি-২ কম্বিনেশন ভিসা দেয়া হয়। বি-১ ভিসায় কোন বিজনেস এসোসিয়েটের সাথে কনসাল্ট করতে, অথবা বিজনেস কনফারেন্সে যোগ দিতে, অথবা আমেরিকায় এসে কোন চুক্তি নেগোসিয়েসন করতে চাইলে এই ভিসা দেয়া হয়। বি-২ ভিসা দেয়া হয় ভ্রমণ করার জন্য, চিকিৎসা সেবা নিতে, সামাজিক ইভেন্টে অংশ নিতে, খেলাধুলায়, কিংবা ছোট কোন কোর্সে অংশ নিতে, উদাহরণ স্বরুপ, ছুটি কাটাতে এসে দুই দিনের রান্নার ক্লাসে অংশ নেয়া। আবার এই দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে ও ভিসা দেয়া হতে পারে। জেনে রাখা ভাল, ভিজিটর ভিসায় এসে কেউ পড়াশোনা, চাকরী, পেইড পারফর্মেন্স (আগে থেকে টিকেট কেনা কোন দর্শকের সামনে কোন পারফর্মেন্স করা), কোন মিডিয়ায় (রেডীও, ফিল্ম, সংবাদপত্র, অথবা কোন তথ্যচিত্র) কাজ করতে পারবেন না। ভিজিটর ভিসায় এপ্লাই করার জন্য DS-160 ফরম পুরন করতে হবে, এবং এর ফি ১৮৫ ডলার। কেউ যদি এই ভিসায় এসে এখানে বিয়ে করে ইমিগ্রেন্ট ভিসায় নিজের স্ট্যাটাস চেঞ্জ করতে চায় তাকে সংশ্লিস্ট ওয়েবসাইটে বিস্তারিত পড়ে নেয়ার অনুরোধ রইল। অথবা পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় থাকুন।

    এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (J): এই ভিসা ক্যাটাগরির মাধ্যমে ডাক্তার (USMLE/ECFMG), সরকারী ভিজিট, ইন্টার্ন, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষার্থী, বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি পেশাজীবিগণ আমেরিকার টেম্পোরারি ভিসা পেতে পারেন। এই ভিসায় এপ্লাই করার জন্য ফি ১৮৫ ডলার এবং ফরম উপরে উল্লেখিত ডিএস-১৬০। এই ভিসায় আবেদনের জন্য যেসব ডকুমেন্ট লাগবে, পাসপোর্ট, পুরনকৃত ডিএস-১৬০ ফরম, ফি প্রদানের রিসিট, ছবি, এই ভিসায় যোগ্যতার সনদ (DS-2019), এবং ইন্টার্ন হিসেবে এলে DS-7002. উল্লেখ্য, এই ভিসায় আবেদনকারীকে সেভিস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

    বিশেষজ্ঞ ভিসা (H-1B): কোন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হলে তাঁদের এই ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান করা হয়। এই ভিসায় এপ্লাই করার পুর্বশর্ত হচ্ছে ডিপার্টমেন্ট অফ লেভার এবং ইউএসসিআইএসএ যোগাযোগ করা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকা এই ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধ্যতামুলক। এই ভিসার ফি হচ্ছে ২০৫ ডলার।

    এছাড়া মিডীয়া ও জার্নালিজম (I), মানব পাচারের ভিক্টিম (T) সহ আরো নানা ক্যাটাগরিতে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা প্রদান করা হয়। আমি মুলত প্রধান ক্যাটাগরিগুলোতে আলোকপাত করেছি। আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী পর্বে ইমিগ্রেন্ট ভিসা নিয়ে আলোকপাতের ইচ্ছে রেখে এখানেই লেখা মুলতবী রাখছি।