Category: Politics

  • কেন আমেরিকার রাজনীতি আপনার মূল ফোকাস হওয়া উচিত

    কেন আমেরিকার রাজনীতি আপনার মূল ফোকাস হওয়া উচিত

    আপনি যদি প্রবাসে থাকেন এবং বিশেষত যদি আপনি সিটিজেন হন, তাহলে সেই দেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবা উচিত যেখানে আপনি বর্তমানে বসবাস করছেন। যেমন, আপনি যদি আমেরিকার নাগরিক হন, তবে আপনার উচিত আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, কারণ সেই দেশের রাজনীতি সরাসরি আপনার জীবনযাত্রা, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু যদি আপনি সারাক্ষণ বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে এর পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক বা সাংস্কৃতিক কারণ থাকতে পারে।

    প্রথম কারণ হতে পারে আমেরিকার রাজনীতি বুঝতে কিছুটা কঠিন বলে মনে হওয়া। আমেরিকার রাজনীতি অত্যন্ত জটিল, বহুস্তরীয়, এবং নানা বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন ফেডারেল এবং স্টেট পর্যায়ের আইন, নানা ধরনের কমিটি ও সংস্থা, এবং নানা রাজনৈতিক দল ও আদর্শ। অনেক সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ ধরনের সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত না হওয়ায় এটি বুঝতে একটু সময় এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া, আমেরিকার রাজনীতি অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং তর্ক-বিতর্কপূর্ণ, যেখানে প্রতিটি ইস্যু নিয়ে বিতর্ক হয় এবং অনেক সিদ্ধান্তের পিছনে জটিল প্রক্রিয়া কাজ করে।

    দ্বিতীয়ত, আমেরিকার রাজনীতি অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত এবং পরিপক্ক। এই ধরনের প্রতিষ্ঠিত সিস্টেমে ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র পরিসরের পরিবর্তন করা অনেক কঠিন। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা হয়তো মনে করেন যে তাদের মতামত বা অবদান এই বড় সিস্টেমে খুব কম প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনীতি অনেকটাই অস্থিতিশীল এবং পরিবর্তনশীল, যেখানে মাঝে মাঝে খুব সহজে নতুন নেতা উঠে আসে এবং পরিবর্তন ঘটে।

    বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করা অনেক প্রবাসীর কাছে সহজ হতে পারে কারণ তারা মনে করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিস্টেম তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং এতে খুব দ্রুত ও সহজে পরিবর্তন আনা সম্ভব। যেমন, বাংলাদেশে কখনও কখনও নতুন নেতা বা সংগঠক খুব অল্প সময়ের মধ্যে খ্যাতি পায় এবং নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা হয়তো এই ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা গতিশীলতার দিকে আকৃষ্ট হতে পারেন, যেখানে তারা মনে করেন যে পরিবর্তন বা প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা বেশি।

    যেমন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা, যেখানে নাহিদ কিংবা আসিফ ৫ই আগস্টের আগে অজানা ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ তারা উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এই ধরনের দ্রুত উত্থান এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্রুত পরিবর্তন অনেকের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কারণ এটি অনেকের মনে আশার সঞ্চার করে যে তারা দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারেন।

    এর মানে হচ্ছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেক সময় মনে করেন যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করা এবং এতে অংশ নেওয়া সহজ এবং কার্যকর হতে পারে, কারণ এটি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং এতে তাদের নিজস্ব পরিচিতি বা মতামতের মূল্য আছে। অন্যদিকে, আমেরিকার রাজনীতি স্থিতিশীল এবং ধীরে পরিবর্তিত হওয়ায় এটি তাদের কাছে কম আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।

    এটি প্রায়ই ঘটতে পারে কারণ বাংলাদেশের মিডিয়া রাজনীতিবিদদের প্রচার করে এবং তাদের নিয়ে প্রচুর আলোচনা করে। এই কারণে, রাজনীতিবিদরা নিজেদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, এবং তাদের কথাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে, প্রবাসীদের মনেও এদের নিয়ে এক ধরনের চিন্তা বা আকর্ষণ তৈরি হয়, এবং তারা বাংলাদেশি রাজনীতির দিকে বেশি মনোনিবেশ করেন। তবে, বাংলাদেশের রাজনীতির বাইরেও অনেক স্টেকহোল্ডার রয়েছে, যেমন সিন্ডিকেট যারা দ্রব্যমূল্যের কারসাজি করে, বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যারা দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন স্তর নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যারা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন। এদের প্রভাব রাজনীতিবিদদের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কিন্তু এদের সম্পর্কে অনেকেই খুব কম জানেন বা বোঝেন।

    এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে যদি কেউ কেবলমাত্র রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয় না। রাজনীতিবিদরা দেশের একটি মাত্র অংশ, কিন্তু অর্থনীতি, সমাজ, এবং প্রশাসনের উপর নির্ভর করে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবা যতটা সহজ বা আকর্ষণীয় মনে হোক না কেন, এর বাইরের স্টেকহোল্ডারদের প্রভাব অনেক বড়, এবং এদের বোঝা সমানভাবে জরুরি।

    আমেরিকার রাজনীতি জটিল হলেও এতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি নিজের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন। আমেরিকার রাজনীতি অনেক বেশি খোলামেলা এবং সেখানে সবকিছু তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। আপনি চাইলে সরকারী নথি, আইন, এবং বিভিন্ন নীতিমালার রিপোর্ট খুব সহজেই পেতে পারেন। যদিও আপনাকে শুরুতে মনে হতে পারে যে আপনি একজন ক্ষুদ্র নাগরিক, এবং আপনার অবদান তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না, কিন্তু সত্য হলো আমেরিকায় প্রচুর বাংলাদেশি রয়েছেন যারা ঠিক আপনার মতোই ভাবছেন। তারা নিজেদের অবস্থানকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন না কারণ তারা মনে করছেন যে তাদের মতামত বা অবদান অপ্রাসঙ্গিক।

    কিন্তু আপনি যদি এই ধারণা বদলান এবং সক্রিয়ভাবে নিজেকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন, তাহলে আপনি এবং অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে বড় একটি শক্তি হয়ে উঠতে পারেন। যেমন, স্থানীয় নির্বাচনে বা নীতিনির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা, কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা করা এবং আরও অনেককে এই প্রক্রিয়ার অংশ করতে উদ্বুদ্ধ করা। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে আমেরিকার রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

    উদাহরণস্বরূপ, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি এমন একটি শক্তি হিসেবে গড়ে উঠছে যার প্রভাব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারী কর্মকাণ্ডে। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, সরকারি নথিপত্র এবং লিফলেটগুলোতে প্রায়শই বাংলায় অনুবাদ করা হয়। তবে সমস্যা হলো, এই অনুবাদগুলো প্রায়শই গুগল অনুবাদকের সাহায্যে করা হয়, যা আক্ষরিক অনুবাদের মাধ্যমে অনেক সময় ভুল বোঝার সৃষ্টি করে। এতে করে অনেক বাংলাদেশি সঠিকভাবে নীতিমালা বা সরকারি নির্দেশনা বুঝতে পারেন না, এবং তাদের সুবিধাগুলোও ঠিকভাবে নিতে পারেন না। এটি একটি ছোট সমস্যা মনে হলেও, এর সমাধান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা এনে দিতে পারে।

    এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য, আপনি এবং আপনার কমিউনিটির অন্যান্য সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করতে পারেন। আপনারা একসঙ্গে একটি দল তৈরি করে এই ধরনের অনুবাদের মান উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারেন। এটি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আলোচনা সভা, ওয়ার্কশপ, এবং বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে তাদের চাহিদা এবং সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলবেন।

    এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আপনি যেমন আমেরিকার রাজনীতির সম্পর্কে সচেতন হবেন, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও কার্যকর পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারেন। আপনার অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি, বড় ধরনের পরিবর্তনেরও সূচনা করতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তুলবে এবং আমেরিকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অবদানকে দৃঢ় করবে।

  • বিভাজনের সংস্কৃতি

    বিভাজনের সংস্কৃতি

    কেউ মেসির ভক্ত হতেই পারে, অথবা রোনাল্ডোর ভক্ত। কেউ ব্রাজিলের ফুটবল ফ্যান, আবার কেউ আর্জেন্টিনার। কেউ বিএনপি করে, কেউ আওয়ামীলীগ। এই ভক্তির জায়গাটায় বাংলাদেশীদের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে, ব্যাখ্যা করছি।

    আপনি যদি ব্রাজিল ভক্ত হোন, ব্রাজিলের ভালো খেলা আপনাকে আনন্দিত করবে। ব্রাজিলের খারাপ খেলা আপনাকে ব্যথিত করবে। যদি সুযোগ থাকে, আপনি ব্রাজিল কীভাবে আরো ভালো করতে পারতো এই নিয়ে মতামত দেবেন, আলোচনা করবেন। সচরাচর এইটাই আদর্শ প্র‍্যাকটিস ভক্তি শ্রদ্ধার। তেমনিভাবে আপনি যদি বিএনপি সাপোর্ট করেন, আপনার সচরাচর যেইটা করার কথা, বিএনপির ভালো কাজের প্রশংসা করা, খারাপ কাজের সমালোচনা করা, দলের সাথে থেকে মতামত দিয়ে বা কাজ করে আরো উন্নতি করা। আপনি আওয়ামী ভক্ত হলেও একই ধরণের কাজ করা হচ্ছে ভক্তি বা সাপোর্টার হিসেবে আপনার কমন দ্বায়িত্ব।

    আমরা কি এই প্র‍্যাকটিস দেখি? উত্তর হচ্ছে না। বরং যেইটা দেখি সেটি হচ্ছে এন্টি-ফ্যান বেইজড ধরনের সাপোর্ট। মানে আপনি ব্রাজিল সাপোর্ট করলে আপনার প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে পঁচানো। আওয়ামীলীগ করলে বিএনপিকে পঁচানো। আওয়ামী বা বিএনপির আভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড ইত্যাদি কীভাবে চলে সেইটা এডভান্সড লেভেলের জ্ঞান, আমি সে পর্যন্ত যাবোনা। কিন্তু বেসিকভাবে বলতে গেলে আপনাদের ভক্তি অন্ধভক্ত পর্যায়ের ও নেই। অন্তত অন্ধভক্ত হলে আপনি শুধু নিজের দল নিয়েই থাকতেন। যেমন গায়ক আসিফের অন্ধভক্ত শুধু আসিফের গান ই শুনবে, এরকম। কিন্তু এন্টি-ফ্যান বেইজড নিজের দলের ভালো মন্দের চেয়ে অন্যের দলের খারাপ নিয়ে পরে থাকে।

    নোম চমস্কি একটা ইন্টারভিউতে , ‘হিরোশিমা’ মুভিটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলছিলেন উনি মুভিটা দেখে হল থেকে বের হয়ে আধা ঘন্টা কোন কথা বলতে পারেননি যুদ্ধ এবং নিউক্লিয়ার বোমার ভয়াবহতা দেখে। এবং সেটি হয়েছি জাপানীদের বিরুদ্ধে। এই যে বিপক্ষ দলের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা, এই প্র‍্যাকটিসটা জরুরী। যে জাতি যতটা সভ্য সে জাতি তত এর চর্চা করে। বাংলাদেশীরা এই অভ্যাসটির ব্যাপারে বর্বর পর্যায়ের। এখন আমি আরেকটু বিশ্লেষণ করছি এই অভ্যাস কীভাবে আমাদের আরো পিছিয়ে দিচ্ছে।

    আপনি যখন অনবরত অন্যের দিকে আংগুল তুলে তৃপ্তি পাচ্ছেন, অন্যের গর্তে পরা দেখে মজা পাচ্ছেন, কিন্তু নিজের দিকে তাকাচ্ছেন না, এতে আপনার উন্নতি করার সময়টুকু আপনি নষ্ট করছেন। আপনি যখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বা ব্রাজিলের ৭ আপ নিয়ে ঠাট্টা করছেন তখন আপনি আপনার নিজ দলের খেলোয়ারদের নাম পর্যন্ত জানছেন না, ফুটবলের নিয়ম জানছেন না। আমি বারবার ফুটবলের উদাহরণ টেনে আনছি কারণ এটি আপনার এই সামগ্রিক এন্টি-ফ্যান বেইজকে চমৎকার ব্যাখ্যা করে।

    খেলা আপনার জীবনদের একটা অংশ মাত্র, কিন্তু আপনার পরিপুর্ন চরিত্র এটি দেখিয়ে দিচ্ছে। আমরা তেমনভাবে নিজেদের সমর্থিত রাজনৈতিক দলের দোষ বা গুণ দেখার বদলে অন্য দলের গর্তে পরা দেখে হাততালি দিই। এর প্রতিফলন ঘটে আমাদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রেও, সচরাচর দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা আরেকটা দল নিয়ে আসি ভোটে জিতিয়ে। ভাবি যে এই দল অন্য দলের চেয়ে কম খারাপ হবে। এথেকে উত্তরণের সহসা কোন লক্ষন আমরা দেখছি না। সময়ের সাথে গ্লোবালাইজেশন এর কারণে আমরা হয়তো শিখে যাব। তবে খোলা চোখে কিছু জিনিস চোখে পরেছে যা দিয়ে হয়তো পরিবর্তন শুরু করা যেতে পারে।

    আমাদের স্ট্যাটিসটিকস বা পরিসংখ্যান নির্ভর হতে হবে। আর সবকিছু ডাটা বেইজের আওতায় এনে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চট্টগ্রাম কত পার্সেন্ট অর্থের জোগান দিচ্ছে, বিনিময়ে কত পার্সেন্ট সুবিধা পাচ্ছে। দেশের ধনীক শ্রেনী কত ভাগ, ট্যাক্স কতজন দেয়। ইত্যাদি ভাবে তথ্য সংগ্রহ, বিচার বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্ত নিলে, সেইটা মুখবাজির চেয়ে বেশী ইফেক্টিভ হবে।

    তারপর আছে তর্ক আড্ডা যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে চন্দ্রিল ভট্টাচার্য, ডাক্তার কুনালদের মতো তার্কিকদের হাত ধরে। অথচ এখানে হয় টকশো, আনা হয় দুইদলের দুই রাজনীতিকদের যারা পরস্পর কাদা ছুড়াছুড়ি করে গঠনমূলক আলাপের বদলে। এইটা এমন হতে পারতো একজন রাজনৈতিক এবং সাথে আলোচক হিসেবে সেই ফিল্ডের একজন বিশেষজ্ঞ যিনি বিচার বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দেবেন উন্নতি কোথায় দরকার। দুই নেতা বা দুই বুদ্ধিজীবীর পরস্পরকে মুখবাজি করে হারিয়ে দিতে চাওয়ার প্রবণতায় আসলে পরিবর্তন হচ্ছে কোথায়?

    সেই সাথে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানোর যে প্র‍্যাকটিস এইটা খুব খুব জরুরী। এই ব্যাপারটা একেবারে আমাদের মধ্য থেকে উঠে গেছে। জাপানের সামুরাই যোদ্ধারা প্রতিপক্ষকে সম্মানের সাথে মৃত্যুর সুযোগ দিতো।

    আরেকটা বিষয় জরুরী যেইটা উপলব্ধি করার দরকার আছে। এই দেশটি এমনকি এই উপমহাদেশের ইতিহাস দেখলে দেখা যায় এখানে থেকে সবসময়ই মাইগ্রেশন হয়েছে। দেশ ভাগ হতে হতে এমনিতে ছোট একটা জায়গায় পরিনত হয়েছে, তারমধ্যে এই জনপদের মানুষ বৈচিত্র্য একেবারে পছন্দ করেনা। আরো স্পেসিফিক বলতে গেলে ঘৃণা করে। সেই তুলনায় পশ্চিমা দেশগুলো বৈচিত্র্যকে স্বাগত জানায়, কয়েকটি দেশ মিলে একটা প্যাক গড়ে তোলে। আমেরিকা যেমন পঞ্চাশটি স্টেইটের সমন্বয়ে গঠিত, যেটি শুরু হয়েছিল মাত্র তেরোটি স্টেইট নিয়ে। এবং আমেরিকায় নানা দেশ থেকে নানা কিসিমের মানুষ এসে এই ডেস্কে সমৃদ্ধ করেছে শুধু।

    আপাতত এই কয়টা জিনিস নিয়ে ভাবা দরকার। লেখা লম্বা হয়ে গেছে। পড়ে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

  • নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

    নির্বাচনী ব্যয় এবং ফান্ডিং

    নির্বাচনে জিতে আসার জন্য পৃথিবীর সব দেশ একই রুলস মেনে চলে। আর সেটা হচ্ছে প্রচুর টাকা ঢালো। তো এই টাকা আসবে কোত্থেকে? আপনারা যদি ২০১৬ ইলেকশনের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইনের কথা মনে করতে পারেন, প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল হিলারী ক্লিনটন জিতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী জেব বুশ প্রায় ১১৬ মিলিয়ন ডলার তুলেছে। এদিকে হিলারীও পিছিয়ে নেই। সব রুলস ভেঙ্গেচুরে ট্রাম্প নতুন ভাবে ক্যাম্পেইন দেখিয়ে দিলো। প্রথাগত ফান্ড রেইজের দিকে না গিয়ে সে শুরু করলো ব্যক্তি বা গোত্র আক্রমণ। ল্যাটিনো, আফ্রিকান আমেরিকান, আমেরিকান যুদ্ধবন্দী, মহিলা, ইমিগ্রেন্ট, এমনকি রিপাবলিকান স্টেইটম্যান ও বাদ গেলোনা তার আক্রমণ থেকে। এদিকে সে নিজের দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের ও মক করতে ছাড়লো না কারন তার মতে তারা পর্যাপ্ত মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছেনা। ক্যাম্পেইন শেষে এনালাইস করে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার সমমানের মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছে ফ্রিতে, যার অধিকাংশই নেগেটিভ। এরপরও সে প্রাইমারির পর প্রাইমারি জিতে চলল। দলের অন্যান্য সদস্যদের ডিঙিয়ে সে নমিনেশন ও জিতে নিল। অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্স-সেও প্রথাগত অনেক নিয়ম ভেঙ্গে প্রায় জিতে যাচ্ছিল ৪৩ ভাগ ভোট নিয়ে। জেনারেল ইলেকশনের আগে এনালাইজ করে দেখা গেলো হিলারী ৫১ ভাগ পপুলার ভোটে এগিয়ে, কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে সবাইকে নির্বাক করে দিয়ে ট্রাম্প জিতে নিলো ইলেকশন। উইস্কনসিন, মিশিগান, এবং পেনসেলভেনিয়া থেকে ৭৮০০০ ভোট (১২ মিলিয়ন ভোটের মধ্যে) আসলে হিলারী জিতে যেত।যাই হোক, আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকায় সবসময় কোন না কোনো ভোট হতেই থাকে। এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যাম্পেইন আসলে সামান্যই প্রভাব ফেলে নির্বাচনে। সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে অর্থনীতি এবং রানিং প্রেসিডেন্টের রেটিং ভূমিকা রাখে কে ইলেকশনে জিততে যাচ্ছে-কোন মিডীয়া হাইপ নয়। তবে ইলেক্ট্রোরাল আউটকামে ক্যাম্পেইন বিশাল ভূমিকা রাখে। ইউএস সিনেটর থেকে জাজ, মিউনিসিপাল ড্রেইন ইনস্পেকটর এরকম হাজারের হাজার ক্যান্ডীডেট নির্বাচনে দাঁড়ায় এখানে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো জাতির তুলনায় আমেরিকায় ভোট হয়। পুরো আমেরিকায় ৫২০,০০০ এর বেশী পদে নির্বাচন হয়। সংখ্যাটা চমকে উঠার মতো, তাইনা? নিচে নিউইয়র্কে যেসব পদ্গুলোর জন্য ভোট হয় তার তালিকা দিলাম।

    NATIONAL OFFICIALS

    • ইউ এস প্রেসিডেন্ট (১)
    • ইউ এস সিনেটর (২)
    • ইউএস হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ (২৭)

    NEW YORK STATE OFFICIALS

    • গভর্নর
    • লুটেনেন্ট গভর্নর
    • এটর্নি জেনারেল
    • কম্পট্রোলার
    • সেক্রেটারি অফ স্টেইট

    NEW YORK CITY OFFICIALS

    • মেয়র
    • বরো প্রেসিডেন্ট (৫)
    • সিটি কাউন্সিল মেম্বার (৫১)

    এবার এক পলকে দেখে আসি কীভাবে পলিটিকাল ক্যাম্পেইনে টাকা তোলা হয়। এই যেমন ধরেন অমুক পার্টি অফ বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক শাখা ইত্যাদি। তো, আমেরিকায় ও এরকম ডোনেশন গ্রুপ আছে। নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে অনেকে কমিটি করে চাঁদা তোলেন। এই ধরণের কমিটিকে বলা হয় পলিটিকাল একশন কমিটি বা প্যাক এসব প্যাকে কমপক্ষে ৫০ বা তার বেশি অনুদানকারী থাকে, এবং প্রতিজন ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত অনুদান দিতে পারেন। এর চেয়ে বেশী অনুদান দিতে চাইলে আসে সুপার প্যাক সুপার প্যাক চাইলে যেকোনো এমাউন্ট অনুদান তুলতে পারে। কিন্তু প্যাকের সাথে পার্থক্য হচ্ছে তারা সরাসরি ক্যান্ডিডেটের পক্ষে প্রচারনা চালাতে পারেনা। এর বাইরে ক্যান্ডিডেট বান্ডলিং এর মাধ্যমেও অনুদান পান। বিষয়টা অনেকটা এইরকম, প্রার্থী কোন একটা পার্টি বা সভায় গেলেন। সেখানে তার শুভানুধ্যায়ীরা চেকের মাধ্যমে একটা এমাউন্ট লিখে সেটা বান্ডীল আকারে প্রার্থীর হাতে তুলে দিলেন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে মজার লাগে ৫২৭ গ্রুপের কর্মকান্ড; এটি আইআরএস ৫২৭ সেকশনের আদলে গঠিত বলে এই নাম। এরাও যেকোনো এমাউন্ট তুলতে পারে-এবং ৫২৭ সেকশনের আন্ডারে ট্যাক্স এক্সাম্পট পায়। এদের কাজ মুলত অন্য প্রার্থীকে কৌশলী আক্রমন করা। যেমন একজন বিপক্ষের প্রার্থীকে নিয়ে একটা বিজ্ঞাপন দিলো তারা এভাবে, “সিনেটর জোনস একজন গাছখেকো যে কিনা পরিবেশবাদীদের ঘৃনা করে।“এই প্যাক, সুপার প্যাক, বান্ডোলিং, এবং ৫২৭ গ্রুপের বাইরে আরেক ধরণের উপায় আছে ক্যাম্পেইনে ডোনেশন তোলার, সেটা হচ্ছে পাবলিক ফাইনান্সিং। মানে কেউ যদি ২০টি স্টেইট থেকে ৳২৫০ বা তার কম এমাউন্তের চেক থেকে ৳৫০০০ ডলার তুলতে পারে, সে ফেডারেল ফান্ড থেকে সম-পরিমান এমাউন্ট ফান্ডিং পেতে পারে। কিন্তু এখানে একটা ক্যাচ আছে, কেউ যদি পাবলিক ফাইনান্সিং পায়-সে তার নির্বাচনী ব্যয় লিমিট করে ফেলতে হবে। এই বাধ্যবাদকতার কারণে এখন আর ক্যান্ডিডেটরা পাবলিক ফান্ডীং এ উতসাহিত হয়না।

  • কনগ্রেশনাল কমিটি

    কনগ্রেশনাল কমিটি

    সিনেট লিডারশীপ নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বলার নাই। তবে এই মুহুর্তে সিনেট প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস। মুলত যদি এমন হয় যে ভোটাভুটিতে টাইব্রেকার লাগে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট দিয়ে সেই কাজটি করে থাকেন। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন সিনেট ১০০ মেম্বার নিয়ে গঠিত। এরমধ্যে সবচেয়ে লম্বা সময়ের জন্য সিনেটে যে সদস্য সার্ভিস দেয় তিনি প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোরা বলে বিবেচিত হন। নির্বাচনের কথা বলতে গেলে হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ ২ বছর পর পর, প্রেসিডেন্ট ৪ বছরের জন্য, সিনেট ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। তবে এই ৬ বছরের সব সিনেট একসাথে নির্বাচিত হন না, বরং এক তৃতীয়াংশ সিনেট ২ বছর পর পর নির্বাচনে নামেন। বলে রাখি, সিনেটের কর্মপদ্ধতি হাউজের চেয়ে চারগুণ বেশী কঠিন।

    তবে আমার আজকের আলোচ্য বিষয় কংগ্রেসনাল কমিটি। কমিটির কাজ মুলত আইন তৈরি করা। কমিটি তিন ধরণের-

    স্ট্যান্ডিং কমিটি-বা স্থায়ী কমিটি। এদের জুরিশডিকশন ফিক্সড। স্ট্যান্ডিং কমিটি আবার অনেকগুলো সাব-কমিটিতে বিভক্ত থাকে।

    সিলেক্ট কমিটি-কোন একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে গঠিত হয়, এবং তা সচরাচর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এই কমিটিকে স্পেশাল কমিটিও বলা হয়ে থাকে। উদাহরন দেয়া যেতে পারে লিবিয়ার বেনগাজির ইউএস এম্বেসিতে সন্ত্রাসী হামলায় তদন্তের জন্য করা কমিটি।

    জয়েন্ট কমিটি-হাউজ এবং সিন্টে দু-পক্ষ থেকে মিলে যে কমিটি গঠিত হয় তা জয়েন্ট কমিটি। এই ধরণের কমিটি এমনকি যুগ ধরে চলতে পারে, যেমন জয়েন্ট কমিটি অফ ট্যাক্সেশন ১৯৭১ সাল থেকে এখনো চলছে।

    এখানে কংগ্রেসের কমিটিগুলো দেখতে পাবেন Committees of the U.S. Congress | Congress.gov | Library of Congress

    কমিটি রিফর্ম করার জন্য যুগ যুগ ধরে প্রেশার থাকা স্বত্তেও নিজস্ব ইউনিক পথে এসব কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। এমনিতে কংগ্রসেরর কর্মপদ্ধতি যথেষ্ঠ জটিল, তবে কমিটি কিন্তু এখন পর্যন্ত সফল ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কমিটি পদ্ধতি কংগ্রেসের ব্যস্ত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা স্থানে এক্সপার্ট করে গড়ে তোলে। কমিটি সিস্টেম আমেরিকান আরেকধরনের চেক এন্ড ব্যালেন্স সিস্টেম। মানে এর লেজিসলেটিভ প্রসেস ধীর এবং সাধারণের পাবলিকের বুঝার তুলনায় কঠিন, এমনকি মিডিয়ার জন্যও। আমি ছবিতে ফরেন রিলেশনের একটি রেজুলেশন তুলে ধরেছি।

    এস রেস মানে সিনেট রেজুলেশন, পাশে নাম্বারটি সিরিয়াল অনুযায়ী দেয়া হয়, এবং ১১৮তম কংগ্রেসে এটি উত্থাপিত হয়েছে।

    নিচে সংক্ষেপে রেজুলেশনের বিবরন দেয়া হয়। স্পনসর হচ্ছেন কংগ্রেসের সে সদস্য এই রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন। এটি একজন সদস্যের জন্য বেশ মর্যাদার, কারণ বিলটি আইনে পরিনত হলে তখন সেটির পাশে সে স্পনসরের নাম ও উচ্চারিত হবে। তারপর কমিটির ঘরে উল্লেখ আছে এটি কোন কমিটি থেকে হচ্ছে। লেটেস্ট একশন এবং ট্রেকার সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই।

    এই কমিটি সিস্টেম কংগ্রেসঅকে অনেক এফিসিয়েন্ট করে। কিন্তু আমাদের তিতা সত্য ও মেনে নিতে হবে। এই কমিটির অনেক কর্মকান্ড যেহেতু পাবলিকের অন্তরালে হয়, যারা টাকা ঢালে তাদের পক্ষে কমিটি ম্যানুপুলেশন সহজ হয়। উদাহরন দেয়া যেতে পারে ট্যাক্স ব্রেক পাওয়া, কিংবা লবি করে গান কন্ট্রোলের উপর আইন আনতে না দেয়া।

  • হাউজ লিডারশীপ

    হাউজ লিডারশীপ

    আজকের পর্বে থাকবে হাউজ লিডারশীপ নিয়ে। হাউজে যে পার্টি বেশী ভোট পায় তারা মেজোরিটি পার্টি, অন্যদল মাইনোরিটি পার্টির ভুমিকায় অবতীর্ন হয়।

    ১৯৫০ সালে লিন্ডন জনসন সিনেট মেজোরিটি লিডার হলেন তখন তিনি তাঁদের তিমি “whales,” এবং পুটিমাছ “minnows,” দুটি গ্রুপে ভাগ করলেন, তিমি যাঁদের কাজ প্রধানত ল্যান্ডমার্ক লেজিসলেশনে প্রভাবিত করা, আর মাছের পোনাদের কাজ অন্যদের ফলো করা। তিমি বা পার্টির রাঘব বোয়ালেরা কমিটির গুরুত্বপুর্ন পদে বসে থাকে (তা আর বলতে?) সিনেট এবং হাউজ দু-পক্ষ একে অন্যের চেয়ে আলাদা ভাবে পরিচালিত হয়।

    নিজেদের মধ্য থেকে র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী ডেমোক্রেট এবং রিপাবলিকান দুদলেই তাঁদের পার্টি লিডার নির্বাচিত করে। যখন একটি নতুন কংগ্রেস শুরু হয় নির্বাচনের পরে (বেজোড় সালের জানুয়ারী মাসে), মেজোরিটি পার্টি ভোটের মাধ্যমে হাউজ স্পিকার নির্বাচিত করে। সর্বশেষ ৫ হাউজ স্পিকারের তালিকা দিলাম নিচে-

    Kevin McCarthy (117th Congress) – January 3, 2021 – present

    Nancy Pelosi (117th Congress) – January 3, 2019 – January 3, 2021

    Paul Ryan (115th Congress) – October 29, 2015 – January 3, 2019

    John Boehner (112th Congress) – January 5, 2011 – October 29, 2015

    Nancy Pelosi (110th Congress) – January 4, 2007 – January 3, 2011

    স্পিকার হাউসের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সে একই সাথে একজন প্রশাসনিক কর্মী, একজন রাজনৈতিক বক্তা, এবং একজন দলীয় নেতা। একজন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সে কমিটি মেম্বার ঠিক করে [কমিটি নিয়ে আরেক পর্বে আলাপের ইচ্ছে আছে], কমিটিতে লেজিসলেসন এসাইন করে। স্পিকার হাউজের এজেন্ডা ঠিক করে, এবং একই সাথে ঠিক করে কোন বিল আমলে নেয়া হবে। সে সিনেট এবং এক্সিকিউটিভ ব্র্যাঞ্চের মধ্যস্থতা করে।

    একজন মেজোরিটি পার্টির দলনেতা হিসেবে, পার্টি বিবেচনায় রেখে সে ইস্যু ঠিক করে। এসব দেখতে গিয়ে সে অপোজিশন পার্টির রোশানলেও পরে। বলা যেতে পারে স্পিকারের রোলটি বেশ কঠিন একটা কাজ।

    স্পিকারের পর পরই সেকেন্ড ইন কমান্ড হচ্ছে হাউজ মেজোরিটি লিডার। সে মেজোরিটি পার্টির ফ্লোর ম্যানেজার, এবং মধ্যস্থতাকারী । সে একই সাথে স্পিকার চোখ ও কান হিসেবে কাজ করে। মানে পার্টির মধ্যে কে কী আলাপ করছে তা সে স্পিকারকে জানায়।

    মেজোরিটি লিডারের পরবর্তী পদ হচ্ছে মেজোরিটি হুইপ। হুইপ শব্দের অর্থ হচ্ছে চাবুক। মানে পার্টিকে লাইনে রাখতে সে চাবুক চালায়। আক্ষরিক অর্থে তো কেউ কাউকে চাবকায় না, তবে সে যেটা করে, পার্টির এজেন্ডা সব সদস্যকে মানতে বাধ্য করে। তাদের অবশ্য উপায় নেই না মেনে, অন্যথায় নির্বাচনে ক্যাম্পেইনে পার্টি থেকে সাপোর্ট পাওয়া যাবেনা [নির্বাচনে ক্যাম্পেইন নিয়ে আরেক পর্বে লেখব]।

    মাইনোরিটি পার্টির ও একই স্ট্রাকচার, শুধু পার্থক্য হচ্ছে তাদের মধ্যে কোন স্পিকার নেই।

  • কংগ্রেস

    কংগ্রেস

    এর আগের পর্বে আমি আলোচনা করেছিলাম প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। আজকে আমি যে শাখাটি নিয়ে আলাপ করবো তা গুরুত্বপুর্ন। আর তা হচ্ছে কংগ্রেস। সামন্তরিকভাবে যে শাখাটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে তা হচ্ছে কংগ্রেস। অনেকের কাছে কংগ্রেসের ধারণা পরিষ্কার নয়। আশা করছি এই লিখাটি পড়ে আপনার কংগ্রেস সম্পর্কে একটা ক্লিয়ার ধারণা হবে। এরপরেও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোন মন্তব্য থাকে সেটা লিখতে ভুলবেন না।

    কোনো একটি বিল উত্থাপণ, পাস করে তা আইনে পরিণত করার কাজটি প্রধাণত কংগ্রেস করে থাকে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝামেলা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত তা আইনে পরিণত হবে কিনা তা নিয়ে। তবে কংগ্রেসে বেশ মজার মজার কান্ড ও ঘটে। আমি যথাসম্ভব কাঠখোট্টা বিষয়াদি বাদ দিয়ে মজার বিষয় নিয়ে কথা বলব।

    প্রথমে কংগ্রেস কী ধরণের ক্ষমতা রাখে বা চর্চা করে তা সংক্ষেপে-

    সংবিধানে কংগ্রেস হচ্ছে একেবারে মধ্যমনি এবং এতে চার ধরণের ক্ষমতা কংগ্রেসকে দেয়ার কথা উল্লেখ আছে।

    ফাইনান্সিয়াল পাওয়ার-এ জাতীয় দায়দেনা শোধ এবং সাধারণ ব্যয়ভার বহনের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসকে ট্যাক্স ধার্য এবং ডলার ধার করার ক্ষমতা দেয়া আছে। এছাড়া দুটি স্টেইটের মধ্যে অথবা অন্য দেশের সাথে আমেরিকার বানিজ্য কীভাবে সম্পাদিত হবে তা নির্ধারণ করে কংগ্রেস।

    লিগ্যাল পাওয়ার- এর মাধ্যমে সিটিজেনশিপ আইন বলবত করা, দেউলিয়া আইন নির্ধারন, ডলার ছাপানো, এবং জালনোট ছাপালে তার শাস্তির বিধান, প্যাটেন্ট সিস্টেম নির্ধারণ, ওজন এবং পরিমাপের মাপকাঠি নির্ধারন (কেজি না করে পাউন্ড করছে কে এইবার জেনে নেন), প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ভিত্তিতে আইন প্রবর্তন চর্চা করে থাকে।

    ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ার-জুডিশিয়াল এবং এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ অর্গানাইজ করা, পোস্টাল সিস্টেম নির্ধারণ করা, রাজধানী কোথায় হবে সেটা ঠিক করা এবং কন্ট্রোল করা কংগ্রেসের ইনিস্টিটিউশনাল পাওয়ারের মধ্যে চর্চিত হয়।

    ন্যাশনাল ডিফেন্স-আগেই বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছি কোন একটি দেশের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণার কাজটি কংগ্রেস করে থাকে। এছাড়া যুদ্ধবন্দীদের সাথে কেমন আচরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা ও তাদের কাজ। সেই সাথে ইউএস আর্মি, নেভি সহ সব ডিভেন্স ফোর্সের বেতন ভাতা দেখাশুনা করে থাকে কংগ্রেস।

    এই হচ্ছে মোটাদাগে কংগ্রেসের পাওয়ার। তবে এর পাওয়ার সবচেয়ে বেশী টের পেয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। যখন সে ওবামা কেয়ার এক্ট করতে যাচ্ছিল তাকে কংগ্রেস বুঝিয়ে দেয় কত ধানে কত চাল। যাই হোক, এবার এর কলেবর নিয়ে আলাপে আসি। কংগ্রেস দুই চেম্বার বিশিষ্ট-হাউজ অফ রিপ্রেসেন্টেটিভ (৪৩৫ জন) এবং ১০০ জনের ছোট দল নিয়ে সিনেট। এই দুই চেম্বার নিয়ে আরেক পর্বে বিস্তারিত আলাপ করার ইচ্ছে আছে। তবে বলেছিলাম মজার কিছু কথা বলব তা এখানে বলে ফেলি। এই হাউজ মেম্বারের মধ্যে আবার সিনিয়র জুনিয়র আছে। সবচেয়ে জুনিয়র মেম্বার ও চাইলে একটি বিল পাশ হওয়া থেকে প্রলম্বিত বা দেরী করিয়ে দিতে পারে। একে বলে লেজিসলেটিভ হোল্ড, ব্যাপারটা কিছুইনা, সে বলবে এই বিলটা অনেক বড়, আমাকে বাসায় গিয়ে গভীর ভাবে পড়তে হবে বিলটা সম্পর্কে। শুধু যে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দেরী করায় তা নয়। এমনকি পার্লামেন্টের মধ্যেও তারা মসকারি করে, এমন এক মসকারির নাম হচ্ছে ফিলিবাস্টার। সিনেটরদের অনেকে বিল পাশ করাতে না চাইলে বাইক্যা টাইম নষ্ট করার জন্য কবিতা, এমনকি বোরিং নোবেল পড়া শুরু করে দেয়। চিন্তা করেন ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে কেউ ইয়েলো পেইজ পড়ছে। এই থেকে পরিত্রানের জন্য আবার উপায় রাখা আছে। মেজরিটি সিনেট জোর করে বসিয়ে দিতে বাধ্য করতে পারে।

  • প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

    প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

    আমেরিকান তিনটা প্রধান শাখার মধ্যে চেক এন্ড ব্যালেন্স নিয়ে লিখেছিলাম। সে তিনটা শাখার একটি হচ্ছে এক্সিকিউটিভ ব্র্যাঞ্চ এবং সে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হচ্ছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। আমরা সবাই জানি ব্যক্তি হিসেবে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সবচেয়ে ক্ষমতাধর, কিন্তু সে আসলে কতটা ক্ষমতাধর? আজকে সেই বিষয়ে আলোকপাত করব। আমেরিকান সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট, জর্জ ওয়াশিংটন কীভাবে তেরোটি স্টেইটকে (শুরুতে আমেরিকায় মাত্র তেরোটি স্টেইট ছিল, সে গল্প আরেক পর্বে) এক করবেন এই নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তখন সে ভ্রমন শুরু করব প্রতিটি স্টেইটে, সাথে থাকত সহকারী, স্লেইভ, কুকুর, ঘোড়া ইত্যাদি। যখন যে রাজ্যে যেতেন, সেখানকার জনতা তাকে বিপুল সংবর্দনা দিতো। কী থাকতো না সেখানে, গান, বাদ্য বাজনা ইত্যাদি ইত্যাদি এবং সেই সাথে জনগণ নিজেদের রিয়েল আমেরিকান হিসেবে অনুভব করতো!

    আসল আমেরিকান আসলে কারা? প্রতিটি প্রেসিডেন্ট ভিন্নভিন্ন ভাবে এর উত্তর দিয়েছেন। আর কিছু না হোক, “মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন”, এই উক্তিটি আপনাদের মনে থাকবার কথা। প্রথম প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন পুরো জাতিকে এক করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সাথে দাস নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া কী সেই চিন্তাকে ভায়োলেট করেনা? তার প্রায় ২৩৪ বছর পর যদি আজকে বাইডেনকে দেখি, প্রতিবার একেকজন একেকভাবে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়েছে। বাইডেন যেমন সাসটেইনবেল এনার্জি নিয়ে কথা বলছে, কিংবা বিভিন্ন দেশে গনতন্ত্রের পুনঃবহাল নিয়ে একশনে যাচ্ছে এই সবই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে। আমরা যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ দেখি, তাহলে বলতে হবে মেক্সিকান বর্ডারে দেয়াল তুলে দেয়া কিংবা পেনডেমিকের সময় ইকোনমিক রিলিফ দেয়া এসব পরে। এর আগের প্রেসিডেন্ট এর পাওয়ার হিসেবে ওবামা নতুন ধারার একটি আক্রমনের সুচনা করেন। তা হচ্ছে ড্রোন স্ট্রাইকিং। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে কাউকে শেষ করে দেয়ার জন্য একটা লেজার গাইডেড বোম মেরে দিলেই হলো। এভাবে যত আগে যাওয়া যায় আপনারা প্রতিটি প্রেসিডেন্টের খতিয়ান দেখতে পাবেন। এই পোস্টে এখন পর্যন্ত সব প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অর্ডার দেখা যাবে- Federal Register :: Executive Orders

    মুলত প্রেসিডেন্ট তিনভাবে ক্ষমতা হাতে পায়।

    ১) এক্সপ্রেসড পাওয়ার-সরাসরি সংবিধানে লিখিত ভাবে।

    ২) ডেলিগেট পাওয়ার-কংগ্রেস থেকে প্রাপ্ত পাওয়ার।

    ৩) ইনহেরিট পাওয়ার অব প্রেসিডেন্ট- বা এক্সিকিউটিভ অর্ডার।

    এসব কঠিন কঠিন বাক্যের দিকে না গিয়ে আমরা দেখি আসলে প্রেসিডেন্ট কী কী করতে পারে। এর আগেই বলেছিলাম প্রেসিডেন্ট হচ্ছে কমান্ডার ইন চীফ। যদিও যুদ্ধ ঘোষণা করে কংগ্রেস, কিন্তু এরপর থেকে সে যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যায় প্রেসিডেন্ট। আবার এখানে কিছুটা লুপহোল আছে। ধরুন অন্যদেশ আক্রমনের আগে কংগ্রেস সভা বসিয়ে আলাপ আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আক্রমনটা যদি আমেরিকার উপর হয়? যেমন পার্ল হারবারে বম্বিং এর উদাহরণ দেয়া যেতে পারে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। এসব ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নিজেই যুদ্ধে সৈন্য নিয়োগ [ট্রুপ কল] দিতে পারে কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়েই। তবে শর্ত হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হবে, কারণ কংগ্রেস যুদ্ধের বাজেট ঠিক করে। আমেরিকার মিলিটারি বাজেট প্রায় ৭৭৮ বিলিয়ন, যেখানে ২য় স্থানে থাকা চীনের মিলিটারি বাজেট ১৯৩ বিলিয়ন এবং ভারত, ইউকে, এবং রাশিয়া যথাক্রমে ৬৪, ৬১, ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট নিয়ে ৩য়, ৪র্থ, ও ৫ম স্থান অধিকার করে আছে। এই বিশাল বাজেটের মিলিটারির সেনাপতি হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। এখানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, হোম ডিফেন্স ইত্যাদি বাজেট আসেনি। আপনারা টিভিতে বা ইউটিউবে প্রেসিডেন্টের ভিডিও যখন দেখেন দেখবেন তার আশেপাশে ব্রিফকেইস নিয়ে একজন লোক হাটছে। এই ব্রীফকেইসের নাম হচ্ছে দ্য ফুটবল, যা হচ্ছে নিউক্লিয়ার ওয়েপন লঞ্চিং কম্বিনেশন, যা শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের জানা। শুধুমাত্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট চাইলে এককভাবে নিউক্লিয়ার ওয়েপন লঞ্চ করতে পারেন। মানে প্রেসিডেন্ট মাত্র ২০ ফুট দূরে পৃথিবীকে কয়েকবার ধুলিস্যাত করে দেয়ার মারনাস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। এমনকি পুতিনের [Could Putin or Biden Launch Nuclear Missiles by Themselves? (bbntimes.com)] কিংবা কিম জনের ও এককভাবে নিউক্লিয়ার ওয়েপন ছোড়ার কম্বিনেশন নেই (কী জানে থাকলেও থাকতে পারে!)

    সেনাপতি হিসেবে ক্ষমতার কথা তো বললাম, এরপর আসে ডিপ্লোমেসি। প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ডিপ্লোমেট। এই ক্ষমতাটি এক্সপ্রেসড পাওয়ার, মানে সরাসরি সংবিধান কর্তৃক পাওয়া। এর আওতায় বিভিন্ন দেশে দুত নিয়োগের কাজটি সরাসরি প্রেসিডেন্টকে করতে হয়। এছাড়া তাকে স্টেইট অফ ইউনিয়ন (SOTU address) বা বাৎসরিক ভাষণ দিতে হয়। আগের পোস্টে বিলে ভেটো বা সাইন করার কথা উল্লেখ করেছিলাম। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের প্রধান ব্যুরোক্র্যাট। ক্ষমতা পাওয়া মাত্র দেখবেন প্রচুর ফেডারেল কর্মী ছাটাই হচ্ছে এবং নিয়োগ হচ্ছে। প্রতিটা প্রশাসন তার নিজস্ব লোকবল দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এবং এই নিয়োগ বা ছাটাই প্রেসিডেন্টকে করতে হয়। প্রেসিডেন্টের আরেকটি প্রধান ভূমিকা হচ্ছে সে প্রধান ইকোনমিস্ট, এবং হেড অফ স্টেইট। এছাড়া সে পার্টি লিডার ও বটে।

    এতসব দ্বায়িত্ব একজনের পক্ষে কী সামলানো সম্ভব? যেহেতু এইদেশে জন্মগ্রহণ করিনি তাই এইটা নিয়ে আমার না ভাবলেও চলবে। কারণ প্রেসিডেন্ট হতে হলে তার একটা রিকুয়ারমেন্ট হচ্ছে তাকে বাই বর্ন ইউএস সিটিজেন হতে হবে। একই কথা খাটে ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেও। ওবামার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ক্যাচাল লাগিয়ে প্রমান করতে ব্যর্থ হয়যে ওবামার জন্ম কেনিয়ায়! যাই হোক, দ্বায়িত্বের কথায় আসি। প্রেসিডেন্ট তার বিভিন্ন দ্বায়িত্ব পালনের জন্য আশেপাশে প্রচুর সাগরেদ বা বিশেষজ্ঞ পান। যেমন চীফ ইকোনমিস্ট হিসেবে সে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসরের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহন করেন। মানে কাজটা কঠিন না আবার সহজ ও না ধরণের আরকি।

  • চেক এন্ড ব্যালেন্স

    চেক এন্ড ব্যালেন্স

    যদি প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি কে? সবাই এক বাক্যে উত্তর দেবেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকায় যুদ্ধ ঘোষনা করে কে? এমনকি খোদ আমেরিকানদের অনেকে এই প্রশ্নের ভুল উত্তর দেবেন। অনেকে মনে করে থাকেন যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অন্য দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আসলে এই অনুমানটি পুরোপুরি ভুল। আমেরিকায় যুদ্ধ ঘোষণা করে কংগ্রেস, একই সাথে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য খরচাপাতি এবং মিলিটারি বাজেট ঠিক করে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন কমান্ডার ইন চীফ। আমেরিকায় কোন একটা পদের বা পদবীর সবচেয়ে বেশী ক্ষমতাধর হবার সুযোগ নেই। এই সিস্টেমকে বলা হয় চেক এন্ড ব্যালেন্স। আমেরিকার সংবিধানের এই চেক এন্ড ব্যালেন্স সবচেয়ে সুন্দর জিনিস। একে কেতাবি ভাষায় বলে সেপারেশন অফ পাওয়ার।

    আমেরিকায় মোটামুটি তিনটা প্রতিষ্ঠান একে অন্যকে চেক দিয়ে রাখে যাতে কেউ বেশী ক্ষমতা লাভ করে না ফেলে। এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে এক্সিকিউটিভ অথরিটি(প্রেসিডেন্ট, এক্সিকিউটিভ অফিসার, মন্ত্রীবর্গ, সরকারী এজেন্সি), কংগ্রেস/লেজিসলেটিভ (সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ), এবং জুডিশিয়ারী/বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ, ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট)। কংগ্রেস কোনো একটি লেজিসলেশন (আইন খসড়া) সংসদে উত্থাপন করে, কিন্তু সেই বিল আইনে পরিণত হতে প্রেসিডেন্টের সাক্ষর লাগে। প্রেসিডেন্ট চাইলে সেই বিলে ভেটো দিতে পারে। এই ভেটো দেয়ার মাধ্যমে কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্ট চেক দিল। আবার কংগ্রেস চাইলে প্রেসিডেন্টের সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে সিনেটে তিন ভাগের দুই ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই বিলকে আইনে পরিণত করতে পারে। এখানে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে চেক দিলো। যুদ্ধের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রেসিডেন্ট কমান্ডার ইন চীফ হলেও সে নিজে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেনা। এজন্য বাজেট এবং প্রয়োজনীয় ভোট দেয় কংগ্রেস। [এই মুহুর্তে ভাবছেন এই কংগ্রেস আসলে কী? বিস্তারিত আরেক পর্বে আলাপ হবে।]

    প্রেসিডেন্ট যেকোনো দেশের সাথে চুক্তি নেগোশিয়েসন করে প্রধান কুটনীতিক হিসেবে , কিন্তু সিনেট থেকে অবশ্যই সে চুক্তি দুই তৃতীয়াংশ ভোটে ভ্যালিডিটি পেতে হয়। তাছাড়াও প্রেসিডেন্ট মন্ত্রী এবং সুপ্রীম কোর্ট জাস্টিস ( সর্বোচ্চ বিচারিক) নিয়োগ দেয়, কিন্তু সেটিও সিনেট থেকে কনফার্ম করার পরে। কংগ্রেস সকল ফেডারেল অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ করে। হাউস চাইলে বিশ্বাসঘাতকতা, অসততা, এবং বড় অপরাধের অভিযোগে জুডিশিয়াল ব্রাঞ্চের কোন অফিসার বা এমনকি প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করতে পারে।

    অন্যদিকে জুডিশিয়াল সিস্টেম প্রেসিডেন্টের অর্ডার অথবা কংগ্রেসের প্রনীত আইন সংবিদানবিরোধী ঘোষনা করে তা বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

  • আমেরিকান ভিসার রকমফের

    আমেরিকান ভিসার রকমফের

    আজকে আমেরিকার ভিসা নিয়ে লিখছি। যদি প্রয়োজনীয় মনে হয় লিখাটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন। লিখাটি কপি-পেস্ট করতে নিরুৎসাহিত করছি। কিংবা করলেও আশা করছি শুধু Collected/কালেক্টেড লিখে ভবিষ্যতে আর কিছু লিখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করবেন না।

    আমেরিকান ভিসা প্রধানত দুই ধরণের হয়; ইমিগ্রেন্ট ভিসা এবং নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা। ইমিগ্রেন্ট ভিসায় সরাসরি আমেরিকার নাগরিক হওয়ার সুযোগ থাকে। আমি প্রথমে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা ক্যাটাগরি দিয়ে শুরু করছি।

    ভিজিটর ভিসা (B1-B2): সাধারণ স্বল্প সময়ের জন্য আমেরিকায় ভিজিট করতে হলে এই ধরণের ভিসা দেয়া হয়। বি-১ ভিসা বিজনেস ভিজিট, বি-২ ভিসা টুরিস্ট হিসেবে, কিংবা এক ঢিলে দুই পাখি মারার জন্য বি-১-বি-২ কম্বিনেশন ভিসা দেয়া হয়। বি-১ ভিসায় কোন বিজনেস এসোসিয়েটের সাথে কনসাল্ট করতে, অথবা বিজনেস কনফারেন্সে যোগ দিতে, অথবা আমেরিকায় এসে কোন চুক্তি নেগোসিয়েসন করতে চাইলে এই ভিসা দেয়া হয়। বি-২ ভিসা দেয়া হয় ভ্রমণ করার জন্য, চিকিৎসা সেবা নিতে, সামাজিক ইভেন্টে অংশ নিতে, খেলাধুলায়, কিংবা ছোট কোন কোর্সে অংশ নিতে, উদাহরণ স্বরুপ, ছুটি কাটাতে এসে দুই দিনের রান্নার ক্লাসে অংশ নেয়া। আবার এই দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে ও ভিসা দেয়া হতে পারে। জেনে রাখা ভাল, ভিজিটর ভিসায় এসে কেউ পড়াশোনা, চাকরী, পেইড পারফর্মেন্স (আগে থেকে টিকেট কেনা কোন দর্শকের সামনে কোন পারফর্মেন্স করা), কোন মিডিয়ায় (রেডীও, ফিল্ম, সংবাদপত্র, অথবা কোন তথ্যচিত্র) কাজ করতে পারবেন না। ভিজিটর ভিসায় এপ্লাই করার জন্য DS-160 ফরম পুরন করতে হবে, এবং এর ফি ১৮৫ ডলার। কেউ যদি এই ভিসায় এসে এখানে বিয়ে করে ইমিগ্রেন্ট ভিসায় নিজের স্ট্যাটাস চেঞ্জ করতে চায় তাকে সংশ্লিস্ট ওয়েবসাইটে বিস্তারিত পড়ে নেয়ার অনুরোধ রইল। অথবা পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় থাকুন।

    এক্সচেঞ্জ ভিজিটর (J): এই ভিসা ক্যাটাগরির মাধ্যমে ডাক্তার (USMLE/ECFMG), সরকারী ভিজিট, ইন্টার্ন, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষার্থী, বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি পেশাজীবিগণ আমেরিকার টেম্পোরারি ভিসা পেতে পারেন। এই ভিসায় এপ্লাই করার জন্য ফি ১৮৫ ডলার এবং ফরম উপরে উল্লেখিত ডিএস-১৬০। এই ভিসায় আবেদনের জন্য যেসব ডকুমেন্ট লাগবে, পাসপোর্ট, পুরনকৃত ডিএস-১৬০ ফরম, ফি প্রদানের রিসিট, ছবি, এই ভিসায় যোগ্যতার সনদ (DS-2019), এবং ইন্টার্ন হিসেবে এলে DS-7002. উল্লেখ্য, এই ভিসায় আবেদনকারীকে সেভিস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

    বিশেষজ্ঞ ভিসা (H-1B): কোন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হলে তাঁদের এই ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান করা হয়। এই ভিসায় এপ্লাই করার পুর্বশর্ত হচ্ছে ডিপার্টমেন্ট অফ লেভার এবং ইউএসসিআইএসএ যোগাযোগ করা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকা এই ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধ্যতামুলক। এই ভিসার ফি হচ্ছে ২০৫ ডলার।

    এছাড়া মিডীয়া ও জার্নালিজম (I), মানব পাচারের ভিক্টিম (T) সহ আরো নানা ক্যাটাগরিতে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা প্রদান করা হয়। আমি মুলত প্রধান ক্যাটাগরিগুলোতে আলোকপাত করেছি। আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী পর্বে ইমিগ্রেন্ট ভিসা নিয়ে আলোকপাতের ইচ্ছে রেখে এখানেই লেখা মুলতবী রাখছি।